গতকাল পর্যন্তও ছিল আকাশের মুখ গোমড়া। নানাবিধ বিষণ্নতায় ডুবে ছিল মন। আজ থেকে চারদিকে রোদ ঝলমলে আবহাওয়া। দিব্যি ফুরফুরে হাওয়া বইছে। আকাশ, বাতাস, মাটি, গাছপালা নিয়ে প্রকৃতি যেন সেজে উঠেছে। কার জন্য এই সাজগোজ?কার জন্য আবার? তিনি আসছেন যে ছেলেপুলেদের নিয়ে। শরৎ সূর্য কিরণে জারিত আনন্দরস নিয়ে জগজ্জননী আসছেন। প্রকৃতি যখন নিজে হাতে নিজেকে সাজায় তখন সে রূপ নয়নমনোহর। চোখ ফেরানোই দায়।
আমার কেবলই যেন মনে হয় মহালয়া হল বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব সমাবেশে প্রবেশের দ্বার। তাই সেই দ্বারকে সাজিয়ে তুলতে প্রকৃতি অকৃপণ। প্রকৃতির মনভোলানো সাজ দেখেই আমাদেরও সাজাতে ইচ্ছে হয় মা’কে। আনন্দময়ী আসছেন যে। তাঁর উজ্জ্বল আভা নিয়ে তিনি যেখানেই পা ফেলেন সেখানেই আলো হয়ে ওঠে। মহালয়ার দরজায় দাঁড়িয়ে তিনি সন্তানদের উদ্দেশ্যে দু’হাত প্রসারিত করেন। সন্তানের কন্ঠে বেজে ওঠে স্তোত্রগান। আলোর বেণুর সুর ছড়িয়ে পড়ে মাঠে-ময়দানে, শহরে-মফস্বলে, গ্রামে-গঞ্জে। হৃদয়ে থেকে হৃদয়ে তখন ভালোবাসার জোয়ার। যেন সংশয়ের বাদল বিদায়ের পর ধীরেধীরে স্বচ্ছ হয়ে এল প্রেমের চোখ। “প্রফুল্ল নবীন পৃথিবীর উপর শরতের সোনালি আলো দেখে মনে হয় যেন আমাদের এই নবযৌবনা ধরণীসুন্দরীর সঙ্গে কোন্-এক জ্যোতির্ময় দেবতার ভালোবাসা-বাসি চলছে — স্বর্গে মর্তে একটা বৃহৎ গভীর অসীম প্রেমাভিনয়। ” এ কথা সত্যি যে প্রেমের মহত্ব জাগতিক সমস্ত অনভিপ্রেতকেও তুচ্ছ করে দেয়।
১৪৩২ এর এই ‘স্মৃতিচারণে মহালয়া’ সংখ্যা নিয়ে তেমনভাবেই সেজে উঠেছে শিকড়। বাঙালির প্রাণের কথা, মনের কথা ধরা দিয়েছে মহালয়াকে কেন্দ্র করে। প্রত্যেকের লেখাই আপন মাধুরিতে সমুজ্জ্বল। প্রত্যেকেই ছাপিয়ে গেছেন নিজেদের। মজার কথা হল উপলক্ষ্য এক হলেও তেল-ঝাল-মশলার বিবিধায়নের ফলে পরিবেশিত স্মৃতিকথাগুলি হয়ে উঠেছে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের এবং সে স্বাদ মুখরোচক ও অতুলনীয়। সকলের প্রতি আমার অসীম কৃতজ্ঞতা মূল্যবান লেখা দিয়ে শিকড়কে সাজিয়ে তোলার জন্য। ওই সঙ্গে সকলের জন্য রইল শিকড় পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ, ভালোবাসা ও শারদীয় শুভেচ্ছা। আমি অত্যন্ত আশাবাদী পাঠকদের এই সংখ্যাটি আকৃষ্ট করবে নিজগুণেই।
পিয়াল রায়
সহসম্পাদক শিকড়
ভারত






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান