সাহিত্য এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে মানুষ একে অন্যের অন্তরে পরিভ্রমণ করেন। আর পরিভ্রমণের বাহন হিসেবে নন্দনতত্ত্ব তার ডানা মেলে ধরে। সুন্দরকে সেই ডানায় উড়িয়ে সাহিত্য শিল্প জায়গা করে নেয় প্রতিটি হৃদয়ে। তাই সুন্দর কে নিয়ে মানুষের উপলব্ধি কে নান্দনিক বোধ শব্দ টি দিয়ে চিহ্নিত করি। আর নান্দনিক অভিজ্ঞতা হলো সৌন্দর্য বা শিল্পের প্রতি মানুষের অনুভূত অবস্থা। নন্দনতত্ত্ব সৌন্দর্য, শিল্প এবং নান্দনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করে। আর নান্দনিকতা হলো, চেতনা সংশ্লিষ্ট অবেগী মূল্যবোধের অধ্যয়নের নাম। বস্তুত মানুষের দৃষ্টিভঙ্গীর নৈতিক অনৈতিক দিকের মূল্যায়ন।
নন্দনতত্ত্বে জীবন ও জগতের বিশেষ করে সাহিত্য, সঙ্গীত,চিত্র,ভাস্কর্য, স্থাপত্য, নৃত্যকলা ও চারুশিল্পের নিহিতার্থের স্বরূপ বিচার করা হয়, এবং এগুলো থেকে কি অর্জিত হয় সেই মূল্যবোধের ব্যাখ্যা করা হয়। এ ছাড়া ও নান্দনিক প্রত্যয়,প্রতিক্রিয়া, নান্দনিকধর্ম, নান্দনিক নীতি, সুখ,মূল্য, নান্দনিক মনোভাব, ক্ষেত্র, গুণ, নান্দনিক প্রত্যক্ষণ এবং নান্দনিক আদর্শ নিয়ে আলোচনা করে। এই বিচারে নন্দনতত্বের আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় সৌন্দর্য প্রদায়ক তত্ত্ব।
নন্দনতত্ত্ব ( Aesthetics) শব্দটি জার্মান দার্শনিক আলেকজান্ডার গটলিব বাউমগার্টেন প্রথম ব্যবহার করেন।
বস্তুত : মানুষের অন্তস্থিত বোধ ও রুচির প্রকাশই নন্দনতত্ত্বের মূল বিষয়।
কাব্যে অন্তমিল সহ ভাবপ্রকাশ হোক কিংবা উত্তরাধুনিকদের কাব্য সাহিত্যই হোক না কেন, নান্দনিকতা কে কেন্দ্র করেই তা আবর্তিত হয়। শব্দ এবং ভাষাকে পরিমার্জিত করে গড়ে ওঠে নান্দনিক বাক্যের ইমারত।
ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফর্মেটে বিভিন্ন ভঙ্গীমায় একজন কবি তার কবিতা টি রচনা করেন। কখনো কখনো আঞ্চলিক ভাষায় ও এর নান্দনিক প্রকাশ ঘটে। এ ক্ষেত্রে কবি সম্পূর্ণ স্বাধীনতা উপভোগ করেন। শিল্পে থাকে কখনো বুনো উন্মাদনা আবার কখনো পরিমার্জিত পরিশীলিত রূপ। আর এই বন্য ও মার্জিত বোধের মেরুদন্ডটি হল নন্দনতত্ত্ব। তাই দেখা যায় যে ভাষা, শিল্প সাহিত্য সবক্ষেত্রেই সুন্দর কে প্রতিষ্ঠা করার এক মগ্ন কারিগর হলো নন্দনতত্ত্ব।
সাদিয়া নাজিব
সহকারী সম্পাদক ( শিকড় ও গ্লোবাল পোয়েট এন্ড পোয়েট্রি)






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান