স্মারকগ্রন্থ ও ‘Ashes and Ink’ কাব্যগ্রন্থের পাঠউন্মোচনসহ শিকড় গ্লোবাল সাহিত্য ফোরাম অ্যান্ড পাবলিশার্স-এর কলকাতা অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও বহুভাষিক অনন্য সাহিত্যসন্ধ্যা.
























































গত ২৪ অক্টোবর ২০২৫, কলকাতার বালিগঞ্জস্থ কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত হলো শিকড় গ্লোবাল সাহিত্য ফোরাম অ্যান্ড পাবলিশার্স-এর কলকাতা অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং শিকড় স্মারকগ্রন্থ ও ‘Ashes and Ink’ কাব্যগ্রন্থের পাঠউন্মোচন।
সাহিত্য হচ্ছে এক সৃজনশীল শক্তি, যা মানুষের অন্তরে নীরব অথচ গভীর আলোড়ন তোলে, একটি শব্দ কখনো কখনো মহাবিশ্বের চিন্তার প্রবাহকে জাগ্রত করতে পারে।
কলকাতার বহু কবি, লেখক ও শিল্পমনস্ক দর্শকদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি পরিণত হয় এক বহুস্বরের উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক সমাবেশে।
১৯৯৮ সালে যুক্তরাজ্য থেকে শুরু হওয়া শিকড় জন্ম নিয়েছিল এক অনন্য স্বপ্ন থেকে: ভাষা, সাহিত্য ও মানবিক অনুভূতির মাধ্যমে মহাদেশ, সংস্কৃতি ও মননের মধ্যে সেতুবন্ধ নির্মাণ। সময়ের ধারায় এটি কেবল একটি সাহিত্য পত্রিকা নয়, হয়ে উঠেছে একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য-আন্দোলন, যেখানে বাংলাদেশের মাটি, ব্রিটিশ-বাংলার সৃজনশীলতা এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের লেখকদের কণ্ঠ একসূত্রে গাঁথা।
২৫ বছরের যাত্রাপথে শিকড় সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে হয়ে উঠেছে আস্থা, বিশ্বাস ও সৃজনশীলতার প্রতীক। ২০১৮ সালে Global Poet and Poetry প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শিকড় ইংরেজিভাষী ও বিশ্বের অন্যান্য ভাষীদের সাথেও সৃজনশীল সংলাপের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, এবং আজ এটি বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কবি, লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের এক আন্তর্জাতিক সাহিত্যমঞ্চ।
এই ঐতিহাসিক যাত্রার ধারাবাহিকতায়, কলকাতায় শিকড়ের নতুন অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হলো এক মনোজ্ঞ সাহিত্যসন্ধ্যার মাধ্যমে।
সাহিত্যসন্ধ্যার শুরুতে সঞ্চারী ব্যানার্জী স্বাগত সঙ্গীত পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত শ্রোতৃমণ্ডলীর মনোজগতকে উষ্ণ ও স্নিগ্ধ আবহে ভরিয়ে তোলে।
উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন শিকড় ও গ্লোবালের সহসম্পাদক কবি কাবেরী মুখার্জী। তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে শিকড়ের গৌরবময় অতীত, বর্তমান অবস্থান এবং আগামী দিনের স্বপ্ন। তিনি ঘোষণা করেন, কলকাতা অধ্যায় শিকড়ের বৈশ্বিক সাহিত্য-দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত করবে।
বিশেষ করে, শিকড়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক কবি ফারুক আহমেদ রনি শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তাঁর পাঠানো বার্তায় উল্লেখ করা হয়:
“শিকড় আজ এক বিশ্বপরিবার, যেখানে কবিতাই আমাদের আত্মার ভাষা। সাহিত্যই পারে মানুষকে যুক্ত করতে, আর সেই সংযোগের নাম শিকড়।”
উপস্থিত সদস্যরাও কলকাতা অধ্যায়ের প্রতি তাঁর গভীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
তাছাড়াও কলকাতা অধ্যায়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন কবি সৌম্যজিৎ আচার্য।
আলোচনাপর্বের মূল আকর্ষণ ছিল সাহিত্য-অনুসন্ধানী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
অতিথি ও আলোচনা পর্বের প্রধান আলোচকদের মধ্যে কবি প্রবাল কুমার বসু “ভারতীয় ধ্রুপদী ভাষা” বিষয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টিমূলক আলোচনা করেন।
তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে; ধ্রুপদী ঐতিহ্য, ভাষার বিবর্তন ও আধুনিক কবিতায় তার সৃজনশীল প্রতিফলন।
তাছাড়াও সাহিত্যিক ও অনুবাদক শ্যামল ভট্টাচার্য
Multiculturality in Eastern Indian Literature বিষয়ে ভাষা, ভূগোল ও সংস্কৃতির মিলন-প্রবাহ বিশ্লেষণ করেন। উভয় বক্তার যুক্তিনিষ্ঠ ও নান্দনিক আলোচনা উপস্থিত শ্রোতাদের গভীরভাবে সমৃদ্ধ করে।
তারপর ছিলো গ্রন্থ পাঠউন্মোচন, আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠউন্মোচন করা হয় কাবেরী মুখার্জীর কাব্যগ্রন্থ ‘Ashes and Ink’।
গ্রন্থটি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন; কবি নন্দিতা দে ও কবি মৌসুমী ভট্টাচার্য। তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে; নারীর অভ্যন্তরীণ যাত্রা, আত্মঅন্বেষণ, ভাষার সংবেদনশীলতা এবং কাব্য-চিত্রকল্পের গভীর সৌন্দর্য।
এছাড়া প্রিয়াঙ্কা ব্যানার্জি আলোচনা করেন ‘Poetry for Peace’ অ্যান্থোলজি নিয়ে, যেখানে কবিতার মাধ্যমে বিশ্বশান্তির বার্তা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
স্বরচিত অনুগল্প পাঠে অংগ্রহণ করেন; সৌম্যজিৎ আচার্য এবং রাজেশ কুমার এবং স্বরচিত বাংলা কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করেন যথাক্রমে কবি কল্লোল দত্ত, তাপস গুপ্ত, সোমা পালিত ঘোষ, অমিতাভ সরকার, উত্তম কুমার দাস, সঙ্গীতা মুখার্জি, অভিজিৎ দত্ত, তাপস রায়, সুমাল্য মৈত্র, নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, শঙ্কর বসু, দেবার্ঘ সেন, রঞ্জনা ভট্টাচার্য, এলা বসু, সোমা দত্ত, পিনাকী বসু, রাহুল দাশগুপ্ত, সুবিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, সংহিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবদাস রজক, অজয় ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে।
ইংরেজি কবিতা পাঠ করেন সোমদত্তা মিত্র, শুভেন্দু কর, নন্দিতা দে এবং পাঞ্জাবী কবিতা পাঠ করেন ভূপিন্দর সিং বাশর।
কবিতার গান: পরিবেশন করেন সহেলী চৌধুরী।
সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সাবলীল, গতিময় ও নান্দনিকভাবে সঞ্চালনা করেন শিকড়ের সহসম্পাদক পিয়াল রায়।
অনুষ্ঠানে মাধ্যমে সংগঠনের বার্তা ছিলো-
“সাহিত্য শুধু লেখা নয়, এটি অনুভবের সেতু, হৃদয়ের সম্পর্ক। শিকড়ের কলকাতা অধ্যায় এই বৈশ্বিক সাহিত্যবন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।”
ফারুক আহমেদ রনি
প্রতিষ্টাতা ও সম্পাদক
শিকড় ও গ্লোবাল পোয়েট এন্ড পোয়েট্রি
শিকড় গ্লোবাল সাহিত্য ফোরাম অ্যান্ড পাবলিশার্স
যোগাযোগঃ
shikor25th@gmail.com and globalpoetandpoetry@gmail.com
http://www.globalpoetandpoetry.com, shikor25th.co.uk









এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান