শামীম আজাদ
যা অবস্থা এখন ভালো ঘুম হয় না। শুধু স্বপ্ন দেখি। কয়েক বার উঠি। কিন্তু আজ ঘুম ভেঙেই অবাক হয়ে যাই এ কী করে সম্ভব। আস্ত একটা গল্প দেখে উঠলাম!
মারে মা!।একদম চমকে উঠার মত গল্প। মাঝে একবার উঠে বাথরুমেও গেলাম। তাহলে শেষাংশ নিশ্চয়ই প্রক্ষালণ থেকে ফিরে আসার পর দেখেছি। শুধু তা না, দেখেছি যেখানে রেখে ঘুম ভেঙেছিলো সেখান থেকে এক্ষুনি এ স্বপ্ন-গল্প না বললে যা হয়, ভুলে যাবো। তাই মুখ না ধুয়েই লিখতে বসেছি।
দেখি কি,আমি লন্ডনে নয় বাংলাদেশে থাকি। বয়স এখনকার চাইতে অনেক বেশি। হবে প্রায় পঁয়ষট্টি। ছেলের সঙ্গেই থাকি। বাড়িটা নাতি নাতনীতে ভরপুর। ওদের দাদা অনেক আগেই প্রয়াত। সেটাই আমার বিলেত ত্যাগের কারণ। বছরে একবার বিলেতে যাই পেনশনের টাকা তুলতে। তখন ছেলেও সঙ্গে যায়। সেও ব্রিটিশ নাগরিক। তখন আমি এনেইচ এর কল্যানে আমার পুরানো জিপির কাছে যাই। রক্ত, কিডনী এসব পরীক্ষা করাই। আর প্রত্যেক বারই নিকোলাস উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ আর ভিটামিন ডি থ্রি দিয়ে বলেন, ইউ আর ইন এক্সেলেন্ট হেলথ মিজ। অনলি ইউ গট টু থিংক এ্যাবাউট নী রিপ্লেসমেন্ট।
সিলেট শহরতলীর নেসারাবাদে একটি ছোট্ট টিলার উপর এ বাড়ী। টিনের আটচালা ছাদ, ক’খানা সুনসান ঘর। আমার ঘরের মেহগিনি কাঠের জানালার হুড়কো খুলে ডান দিকে তাকালে দেখা যায় আমার শ্বশুরের লাগানো কোমর বাঁকা আমগাছটি। ওটা নাকি পাকিস্তানী আমগাছ। তিনি সংসদে যোগ দিতে ইসলামাবাদ থেকে এনেছিলেন। কি যে মধুর মত মিষ্টি এ গাছের আম। এর ত্বক বড় মসৃন ও কাগজের মত পাতলা। একাত্তরে তার শ্যালককে পাকিস্তানীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে খবরটা শুনে ক্ষিপ্ত শ্বশুরমশায় ভেতর থেকে একটা কুড়াল নিয়ে অনবরত কুপাতে থাকেন। সেদিন শাশুড়ি মাতা এসে না পড়লে এ গাছটা আজ থাকতো না। আম্মার, আহা গাছের কি দোষ… গাছের দোষ নাই চিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে তাকে আটকায়। তাতেই গাছের কোমর আজও বাঁকা। গাছের কাছেই সিমেন্টের সিঁড়ি উঠে গেছে বহির্বাটির পাকা টয়লেটে।
টয়লেটের পেছনে বাঁশঝাড় ও মাথা বন্ধ মলিন একটি খাল শুয়ে থাকে। সামনে ছাউনী দেয়া ছোট ছোট চা বাক্স মার্কা ছোট্ট একটি খোলা ঘর। ঘাসই তাদের ফ্লোর। খেলতে খেলতে বৃষ্টি এলে বাচ্চারা গিয়ে দাঁড়ায়, অজানা পথিক মাঠের এদিকে খেজুর গাছের নিচে গাড়ি পার্ক করে জিরায়। কোরবানীর সময় গরু, খাসী জবাইর পর মুরুব্বীরা কাঠের চেয়ারে বসে চা ও পান খেয়ে খেয়ে মাংস কাটাকাটি দেখেন। এত ডিটেলস কিন্তু আমি দেখিনি। এখন লিখতে বসে মনে এসে যাচ্ছে। আর হয়তো একটা বাস্তবধর্মী স্বপ্ন-গল্প।
আমি বহুদিন বিলেতে ছিলাম তার উপর এখন বয়স হয়েছে তাই পুত্র রাকিব আমার স্নানঘর আর টয়লেটটি ভেঙে কমোড ও শাওয়ারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। রান্না ঘরের সামনে যেখানে চাল ডালের বস্তা ঠিক তার পেছনেই আমার স্নানঘর। মেঝেটা আগের মত সিমেন্টেড ও লাল।
কিন্তু জানেন তো স্বপ্নের কোন মাথামুন্ডু থাকে না। তাই এই যে বাচ্চাদের কথা বললাম তাদের নিয়ে তখন কিছু দেখলাম না। আমার শুধু মনে আছে বাড়ি থেকে সবাই বেড়িয়ে গেছে শপিং এ, আমি স্নান করবো বলে তৈরী হচ্ছি। একে বুড়ো হয়েছি আর বাংলাদেশে অনেক গরম লাগে বাড়িতে মানুষ না থাকলে আর ব্রা পরি না। শাওয়ার নিয়ে গায়ে কোকো বাটার দেবো বলে যেই না মাথার উপরের র্যাকের দিকে হাত বাড়িয়েছি ঠিক তখুনি অচেনা মানুষের শব্দ পেলাম। কলিং বেল নেই। কড়া নাড়ার নিয়মিত শব্দ আমি চিনি। ওভাবেই গায়ের উদলা অংশ কোনমতে শাড়িতে গা ঢেকে দরোজা খুলে আমি বলে উঠি ও মাই গড্ উইলিয়াম! ইউ? বলে দুর্বল লতার মত পড়ে যাচ্ছিলাম। সে তার বাহুতে আমাকে আগলে ধরে ফেলে। আমি কেঁপে উঠি আর নাকে আসে পরিচিত সেই আফটার শেইভের সুগন্ধ। আমার চোখ বুঁজে আসে। আমাকে জড়িয়ে ধরে থাকে সেই বাহুদ্বয়, থ্যাঙ্ক গড ইউ আর এলাইভ! আমি চোখ খুলি। সত্যিই উইলিয়াম! আমার সেই সাহেব প্রেমিক! সেই নীল চোখ, তেমনি কপালে ভাঁজ, গায়ে ব্রাউন লেদার জ্যাকেট, প্যাডেড বুট, হাতে একটা বই। শুধু বয়স আগের চেয়ে কমে গেছে। যেন এক সম্ভ্রান্ত কেন্টিস। এ যে এক অত্যাশ্চর্য ঘটনা।
বিলেত ছাড়ার আগে শুনেছিলাম ওর হৃদপিন্ডে দুটো আঙটি লাগানো হয়েছে কিন্তু দেখে যে মনে হয় না। আমি মহা বিব্রত বোধ করতে শুরু করি। আমার গায়ে পোশাক নেই বলে নয়। ওর বয়স কমেনি বলে নয়। আর আমার সে উন্নত স্তনযুগল অবনত হয়ে গেছে বলেও নয়। আমার চেয়ে তাকে অনেক বয়ঃকনিষ্ঠ লাগছে বলে। লাগে যেন আটষট্টি নয় আটান্ন।
অপার সৌন্দর্যের সমুখে মানুষ কেমন অসহায় হয়ে যায় না! আমি তাই হলাম। কোথা থেকে দেহে সেই হারিয়ে যাওয়া স্রোত এসে যায়। কানে কানে মৌমাছি জ্জজ্জজ্জজ্জজ্জ করতে থাকে। বাংলাদেশে তখন এপ্রিলের একশ ভাগ গরমের সবটুকু ঢালা। উইলিয়াম আমাকে আদরে আদরে আস্তে আস্তে কোনার দিকের কাঁচের আলমারির সামনের বেতের সোফাটায় বসালো। আমি বিলেতের উষ্ণ এপ্রিল শাওয়ারে ভিজে যেতে থাকলাম । কত কাল আমাকে এমন করে কেউ আদর করেনি।
সে কার্পেটে বসে স্লিপার খসিয়ে আমার পা’জোড়া কোলে তুলে নিল। আমার প্রজন্মের বাংলাদেশী মেয়েরা সেভাবে কখনো যত্ন বা সেবা পায় না। চায়ও না। জানেও না। নিজে যে কত কেজো তা জীবনের অন্তিম কিন্তু অপারগ মূহুর্তে এসেও প্রমাণ করতে থাকে। সে আর সবার জন্য কাজ করেই যায়। বাংলাদেশের ছেলেরা ইসলামি মতে সব কিছুই করে কেবল বিবি খাদিজা ও হযরতের বিয়ের বয়সের সুন্নত মনে রাখে না। তাদের চেয়ে কম বয়সী নারীকে বিয়ে করে যাতে সে আস্ত একটা অকর্ম্মন্য হয়ে গেলে তার স্ত্রী তাকে দেখাশোনা করতে পারে। স্বামী গত হলে সে বৃদ্ধা তখন ছেলের বা মেয়ের বাড়ির সব রান্না বান্নার তদারকি করেন, নিজের জন্য রাখেন কম। আমার বেলায়ও তাই হয়েছে। শীলা ও রাকিব দু’জনেই কাজ করে বলে নাতি নাতনীকে আমিই স্কুলে দিই, স্কুল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসি। হোক না ড্রাইভারের পেছনে গাড়িতে বসে যাওয়া-আসা। কিন্তু এই যে সব কাজ ফেলে তৈরী হওরে, ভাল কাপড় পররে, ঘরে চাবি লাগাওরে! সেটাওতো কম কষ্ট না। আবার বাচ্চাদের বাবা-মা’র ফেরার আগে আদরের এই নাতি- নাতনীদের কত আবদার রাখতে হয়। -নানু আজ তোমার বিলেতি স্ক্রাম্বল্ড এ্যাগ আর টোস্ট খাব – শেফার্ডস পাই খাবো ডিনারে!
উইলিয়াম কার্পেটে বসে আমার পা জোড়া কোলে তুলেছেতো তুলেছেই । নামাবার নাম নেই। আমার কড়ে আংগুলটা খুব বিচ্ছিরি। মিনি একটা গুঁজাবুড়ি যেন। সে সেখানেই হাত বুলাতে বুলাতে যা বল্লে তার বাংলাটা এরকমঃ বাংলাদেশের ডাক্তাররাতো কত নামকরা। বিলেতেও তারা জিপি, কনসালট্যান্ট, সার্জন কত কিছু… তোমাকে একটু দেখাও না কেন? সে মমতায় মনে হল আমার ঐ রোঁয়া ওঠা অন্তহীন সন্তরনরত পা জোড়া যেন তাদের আরামের বাড়িতে ঢুকে গেছে। কোন নড়নচড়ন নেই। ভেজা কুকুর আরাম পেয়ে কুঁই কুঁই করতে থাকে। আর আমি চলে গেলাম অক্সফোর্ডে উইপিং উইলো বসা ক্যানালের ধারে। আমার লুপ্ত বসন্তে। গাছে গাছে গোলাপী খইর মত থোকা থোকা ব্লসম। খালের নৌকায় উৎফুল্ল মানুষ প্যান্টিং করে চলেছে। আমি আর সে এদিকে মাঠের দিকের ঢালে শুয়ে আছি।। আমার পা জোড়া ওর কোলের উপর।
তখন পায়ের যত্ন নিতাম। রাতে গ্লিসারিন আর গোলাপ জল দিতাম আর নখে ন্যাচারাল রঙ। সেদিন পরেছিলাম ধানি রং শাড়ি, এক পায়ে চিকন সোনালি চেইন। ছবিতে দেখেছি ককেশিয়ান প্রেম কাতর পুরুষ মেয়েদের পা নিয়েই খেলে। উইলিয়ামের সঙ্গে ভাব হলে দেখলাম সত্যিই তাই।
তখন ওর বয়স আটাশ। আর আমার ত্রিশ। আমি অক্সফোর্ডের ছোট্ট এক নামহীন কলেজ লাইব্রেরিতে এক বছরের জন্য এথনিক মাইনোরিটির উচ্চশিক্ষা অর্জনের উপর সার্ভের করছি। সেদিন আমরা ওর হারলি ডেভিডসন বাইকে, আমরা যাকে মোটর সাইকেল বলি আরকি সেটায় চড়ে মাথায় হেলমেট পরে সারা অক্সফোর্ড ভেজে তবে খাল পাড়ে এসেছি। বাইকটা পার্কিং এ রেখেই পাঁচ ফুটের এই আমিকে সোজা কোলে তুলে সোনালি ড্যাফডিল ঢাল বেয়ে এই বার্চ ও উইলো গাছের নিচে এসে সে তবে ছেড়েছে।
প্রথম প্রথম আমার পায়ে হাত দিলেই চমকে উঠে ওকেই সালাম করতে যেতাম। সংকোচ হত কারন আমাদের কাছে তো বাঁ হাত, চরণযুগল, সময় সবইতো অপবিত্র আচ্ছুত। বাঁ’হাতে শৌচ কার্য আর খালি পায়ে হাঁটলে তাতে রাস্তার ময়লা ও ধুলো লাগে বলেই হয়তো ব্যাপারটা এমন ঘটেছে। কিন্তু এখনকার দুনিয়ায় টয়লেট পেপার আর পায়ে জুতোর ব্যবহার হলেও আমাদের চমকানো সারে নি। আমি যখনই এসব বা আমাদের পুরাণের গল্প করেছি, সে মুগ্ধ হয়ে শুনেছে। দেখো একদিন আমি বাংলাদেশে যাবো। সেদিনটা যে আজকেরই এদিন হবে আমি জানতাম না।
আজ প্রায় চার যুগ পরে সে আমাকে খুঁজে ঠিকই বাংলাদেশে এসে গেছে।আমার চোখ জলে ভরে উঠলো। সে কথা বলেই চল্লো ইংরাজিতে- আমি শুনলাম বাংলায়। ‘ভাবছো এই বয়সে কি করে এতটা পাড়ি দিলাম? হুম। ঐ কারণেই পারলাম। পায়ে গাউট হয়েছে আর লাল মাংস খেলে রক্তে প্রায়ই ইনফেকশন হচ্ছে। আগের চেয়ে এসব ঝামেলা একটু বেড়েছে। যখন দু’দুটো স্টেন্ট হার্টে লাগানো হল ভাবলাম আর ক’দিন পরতো কিছুই করতে পারবো না। প্লেনেও অত লং জার্নি সইবে না। তাই।
-কিন্তু তোমাকে যে একদম আগের মত লাগছে, বরং বয়স যেন আরো কমে গেছে।‘ শুনে সে হেসে নীল চোখের ডানা ছড়িয়ে বলে, ইটস অনলি ইন ইয়োর আইজ হানি।
ও আর আমাদের পুরানো বন্ধু ড্যারণ একসাথে বিশ্ব ভ্রমনে বেরিয়েছে। উঠেছে জলডুবি হোটেলে। সিলেটের সঙ্গে লন্ডনের এমন যোগ যেন টুইন সিটি। সে যখন এখানে এল ড্যারণ তখন তার টাওয়ার হ্যামলেট্স এর পুরানো বন্ধু আওয়ামী লীগ লোকাল লিডারকে দেখতে গেছে।
এতক্ষনে আমার মনে ভদ্রতা জাগলো, তুমি খেয়েছো ? আজ আমি বাড়ীর সবার জন্য অনিয়ন ভাজি আর সাতকড়া কারি করেছি। ঠিকাছে, ওরা আসুক পরিচয় হোক তখন খাবো। সংকোচে বলি, না না উইলিয়াম। ওরা আসার আগেই তোমাকে চলে যেতে হবে। লোক জানাজানি হলে আমার উপায় থাকবে না। এমন কি খবরের কাগজেও উঠে যেতে পারে।-মাই গড কি বলো এসব! আমি তোমার পুরানো বন্ধু না? সেই ইংল্যান্ড থেকে এসেছি।- না না না উইলিয়াম। আমাদের সমাজ অনেক অদ্ভুত। আমি খাবার আনি, তুমি খেয়ে বিদায় নাও, ভাগো। সে ঘর কাঁপানো হাসিতে বলে, ইউ রিমেইন্ড মিস্টেরিয়াস লাইক ইন ইংল্যান্ড।
কোন কাজের লোকই দেখি না, গেল কই এরা? চুলোতে খাবার জল সেদ্ধ হচ্ছে। একটা সাইড প্লেটে দু’টো অনিয়ন ভাজি তুলতে না তুলতেই বাইরে গাড়ি থামার শব্দ হল। তার সঙ্গে বাচ্চাদের দিদা দিদা চিৎকার। এত তাড়াতাড়ি ছুটির দিনের বাজার শেষ? তাকিয়ে দেখি আমার হাতের প্লেট কাঁপছে। কোনক্রমে সেটা ছুঁড়ে আসি বসবার ঘরে। আমার ফ্যাকাসে মুখ দেখে উইলিয়ামই বলে উঠে, ইটস ওকে। গিভ মি টু মিনিটস। আমি গায়ের সাদা কাপড়টা টেনে বোকার মত দরজা খুলতে গেলাম। রাজ্যের শপিং নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়লো রেফা ও সেফা। এখনো স্নান করিনি বলে বৌমার বকা খেয়ে আমি ঢুকলাম বাথরুমে। পৃথিবীর মধ্যে সব চেয়ে শান্তির জায়গা। কিন্তু সেখানেতো আর সারাজীবন থাকা যায় না। ভাবি কি করে বেরিয়ে গেল উইলিয়াম? যে যার মত মজা করে রাতের খাবার খেল। আর আমি গলা দিয়ে কিছুই নামাতে পারলাম না। বাচ্চাদের স্কুলের কারনে কাল অনেক ভোরে উঠতে হবে তাই দ্রুত সবাই বিছানায় চলে গেল। আমি একটু তেঁতুলের শরবত হাতে নিয়ে বারন্দায় বেরিয়ে এলাম।
চারিদিক সুমসাম। দিনের তাপ কমেছে। কিন্তু একি! ঐ দূরে খেজুর গাছের নিচে একটা মোটর বাইক না! ও মাই গড! তাহলেতো সে বাড়িতেই কোথাও লুকিয়ে আছে। এখন আমি কি করি? গলা শুকিয়ে আসে। মাথাটা টলে উঠে। ব্লাড প্রেসার পিল খেয়েছি কি?দ্রুত হেঁটে ওষুধ আনতে যাবার আগেই রান্না ঘরের সামনের বস্তাগুলোর দিকে চোখ যায়। আর কিছু বোঝার বাকি থাকে না। তারপর একদম গোয়েন্দা নাটকের মত বড় বস্তাটি এই ক্ষীণ দেহে টানা হ্যাচড়া করে কোমরে ব্যাথা পেয়ে কোন মতে সিটিং রুমে দরজার কাছে এনে ছেড়ে দিই। কোথা থেকে ঐ ভূতের বল গায়ে এলো আল্লাহ মালুম!
গল্পটা এখানেই শেষ। জেগে দেখা স্বপ্ন মানুষ ভোলে না কিন্তু ঘুমের স্বপ্ন কাউকে তক্ষুনি না বললে সেটা ভুলে যায়। তাই আপনাদের বললাম। এখন আমি আমার বো রোডের বাড়ির বারান্দায় বসে চা খাবো। লক ডাউন না হলে রোমান রোডে হেঁটে আসতাম ।।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান