উইপোকা
ততদিন তিনি কবিতা লিখতেন
যখন দামাল ছেলের দল
বৃষ্টির দিনে কাদামাটিতে ফুটবল খেলতো হুলুস্থুল,
আর সন্ধ্যাবেলায় মায়াবতী মেয়েরা
হাতের মুঠো খুলে ওড়াতো জোনাকি।
লাউয়ের মাচা থেকে গড়িয়ে পড়া শিশিরে
পিছলে পড়তো পিঁপড়েরা
কবি তখন লিখতেন কবিতা।
বাজারের থলেতে উঁকি দিতো পুঁইডাঁটা আর
কচুরমুখির গায় লেপ্টে থাকা কুচোচিংড়ি।
উনুনে জ্বলতো গৃহস্থ্যের গল্পের প্রদীপ
মা আউশ চালের হাড়িতে দিতেন দু’একটা
কজলা বেগুন আর মিষ্টি কুমড়ার ফালি
কবিতার খাতায় নেমে আসতো তখন
তারার চেয়ে ও উজ্জ্বলতর শব্দগুচ্ছ
সেই আলোতে দাদী অনাগতের জন্য সেলাই করতেন
কইতা ফোঁড় আর বিছাফোঁড়ের অপূর্ব নকশীকাঁথা।
কলিমগঞ্জের হাট থেকে রাবারের জুতায় মসমস শব্দে
হেঁটে আসতেন বিমলকাকা।
তার টর্চের আলোয় তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে থাকতেন লেনিন
খাতার সব কবিতা মুখস্থ করেছিলেন চে’গেভারা।
তখন তিনি কবিতার পর কবিতা লিখতেন।
কিন্তু বাড়িতে নিমগাছ লাগানো হয়নি
কবি চিনতেন না Fipronil, Imidacloprid এইসব
তাই মাটির ডোয়ায় অগোচরে বাসা বাঁধে উই।
কবিতার খাতাটি বাঁচাতে তিনি যখন এইসব চিনলেন
তখন কবি লিখতে ভুলে গেলেন জীবনের কবিতা।







এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান