চিঠি
তোমার দেওয়া নীল কাগজে প্রথম চিঠিটা আজও আমি কাপড়ের ভাঁজে রেখে দিয়েছি।
চিঠিটা আমার যৌবনের প্রথম ভালোবাসার দলিল।
চিঠিটার প্রতিটি ছত্রে রয়েছে তোমার গায়ের গন্ধ, তোমার নিঃশ্বাস,হাতের স্পর্শ ও প্রশান্ত ভালোবাসা।
ভালোবাসার প্রথম পূজোয় কাশবনে তোমার কাছে নিজেকে প্রথম আত্মসমর্পণ।
শরতের ভোরের কুয়াশা, সবুজ ধানের নুয়ে যাওয়া শিস, পদ্মের পাঁপড়ি এসব তো তোমার কাছ থেকেই পাওয়া।
তোমার সেই উড়নচণ্ডী এলো চুলে কতবার আমি নাক ঘষেছি।
মালো পাড়ার ঝিলের ধারে কতবার তোমার বুকে পিঠ রেখে বসেছি ,
আর তুমি আমার কপালে শান্ত ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দিয়েছো।
কলেজ পালিয়ে যেদিন ঘোষেদের বাগানে গিয়েছিলাম,
একটা প্রজাপতি এসে আমার গায়ে বসেছিল।
তুমি প্রজাপতিটা ধরে নিজের গায়ে বসিয়ে নিয়ে বললে, “শুধু একা তোর বিয়ে হলে আমি বাঁচবো কী করে?”
কিংবা সরস্বতী পূজার দিন নদীতে নৌকা চড়ার সময়,
খোঁপায় একটা কাঁঠালী চাপা গুঁজে মাথায় ঘোমটা টেনে বলেছিলে চিরজীবন তুই আমার বৌ হয়ে থাকবি।
আমি লজ্জায় মুখ নিচু করে ছিলাম।
তারপর তুমি আমাকে বুকের মধ্যে টেনে নিলে।
কী প্রশান্তি !
সারারাত ঘুমাতে পারনি।
আর এখন শেফালীর গন্ধ, কাশফুল,নদীর পাড়, কাঁঠালী চাপা, প্রজাপতি সবই জীবন থেকে হারিয়ে গেছে।
উচ্চতর ডিগ্রি লাভের আশায় বিদেশ গিয়ে বিদেশিনীর গন্ধে বিদেশের নদীতে সাঁতার কাটলে।
আমার আশার প্রদীপ দিনে দিনে আঁধার ঘনাতে শুরু করল।
যৌবনের কুসুম ধীরে ধীরে শুকিয়ে ঝরে পরতে লাগলো।
তিন কুড়ি বয়সের কাটাকুটিতে অবিশ্বাস আর প্রতারণা এখন নিত্য সঙ্গী।
দিনান্তে সূর্যের আলো ছোট ছায়া হয়ে মাটিতে হারিয়ে গেছে।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান