এক জীবন বৃক্ষ
আমি যেন এক জীবন বৃক্ষ!
শীতের প্রচণ্ড প্রতাপে ঝিমিয়ে পড়া মনে-
বসে রই অধীর অপেক্ষায়-
শিশির ভেজা কিম্বা তুষার আচ্ছাদিত লতা গুল্মের
মৃতপ্রায় দেহ দেখে ভাবি আশঙ্কায়, আসবে তো আবার বসন্ত?
ফুটবে তো নার্সিসাস, ডেফোডিল, জাফরান ফুল,
যত ঘুমন্ত ফুল আছে ওই মাটির নিচে,
আর নিরাভরণ ডালে ডালে সাজবে পাতা আর ফুলের অলঙ্কার?
ভাঙবে কি ঘুম সবার? নাকি হারিয়ে যাচ্ছে চিরতরে?
আমি সত্যিই এক জীবন বৃক্ষ!
সময়ের পথে দাঁড়িয়ে এক ঠায় দিবারাত্র,
গেঁথে চলেছি ভিত্তি প্রস্তর সত্যের- শক্তিমান শেকড় জন্মাবে বলে।
বিতেছিলাম সময় শিখে শিখে কত নীতিকথার কাব্য-
একে একে সে সব কাব্য গাথা থেকে ঝরে পড়ছে শব্দ,
বৃক্ষের ঝরা পাতার মত– আজ মৃত্তিকায় লুটায়।
মানবতা, ন্যায় বিচার, মমতা, প্রেম, ভালোবাসা, বিশ্বাস
আর জীবনের মূল্য কি সমাহিত মাটির জঠরে?
এই জীবন বৃক্ষের হাহাকার-
ভাবনা প্রশ্ন করে, আশা স্বপ্ন যা কিছু বুনেছি,
জন্মেছে নৈতিকতা আর মানবতার যত মূল,
সব কি মাটি মায়ের বুক থেকে উপড়ে তুলছে ওরা?
আবার কি আসবেনা কোন এক সময়,
যখন মাটি ফুঁড়ে উঠবে সব?
নাকি এই হিংসার প্রচণ্ড ঝঞ্ঝা আর হতাশার কশাঘাত-
কেড়ে নেবে সব, মূলোৎপাটন করবে বিশ্বাসের ভিত্তির?
মানবতা, ন্যায় বিচার, মমতা, প্রেম-ভালোবাসা, বিশ্বাস
আর স্বাধীনতা নামের ফুল আর কি রইবে জীবন্ত বাংলার বুকে?
‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’ জন্মেছিল যে দেশ তা কি জাগবে না?
যেমন আমি, জাগব না আবার, আমার শেষ ঘুমের পর।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান