রুহ্ ও রূপম শব্দেরা -৫
অভি সমাদ্দার
কিছু তো ফলবেই নাদান
সব কালে যেমন ফলেছে
ফলত বেকুবও বনে যাবে
যখন শহর মরে যাচ্ছিল জ্যান্ত সব মানুষের ভেতর
অশ্রু ধোওয়া প্রতীক্ষার ভেতর
সে কেন ফিরে এল না !
এই সপ্রশ্ন ভাঙা বুকের জলধারার ভেতর
তখন আমাদের সকলের চোখের সামনে
শহরের স্বচ্ছ সব ছুরিকার আড়ালে আড়ালে
জেগে রইল কত শত হত্যাচিহ্নের আদল
আমরা দেখলাম।
শহর মরে গেলেও
তার ন্যূন নরম আত্মার রক্তাভ হাসি
বোধহয় আরও কিছুকাল বেঁচে থাকে !
বেঁচে থাকে এক সপ্রশ্ন !
সে, কেন, ফিরে এল না-
আর প্রতিবার রক্তজালিকায়
দানা বাঁধে
আর ধীরে ধীরে পোড়ে
সেইসব পোড়া দাগ
বহন করতে করতেই
আমরা জানলাম
আমরা রুহ্ হত্যার ছুরিকা
ছুঁয়ে ছুঁয়ে জানলাম–
শহর গড়ে ওঠে বোবা সব কান্নার ভেতরে ভেতরে !
রুহ্ ও রূপম শব্দেরা- ৬.
এক ফাঁকে ডেকে নিচ্ছে সন্ধে
টং হয়ে বাড়ি ফিরছে মহাশয়
মাঝখানে
এক মাতোয়ারা
মাধবীর জমানো থেকে মাধবীর খরচ অব্দি
চুঁইয়ে পড়ে-
তাহার মনের ভাঙাচোরা
তাহার মেরামতের সমাজ
এই মেরামতে তখন আর তো কিছু
করার থাকে না
থাকে শুধু রটনাবহুল হাওয়া
থেকে থেকে সেও ঝাপটা-মারে এসে
সেসব ঝাপটা-দোদুলে তিনিও
কিছুটা মাথা ঘামিয়ে ফেলেন
জমিয়ে ফেলেন কিছু কিছু ছোঁয়া আত্মের টুপটাপ
তাহাতে কিছুই হয় না
শুধু নিজেরই রক্তপাতে
নাদান আত্মা ভিজিতে থাকে
কিম্বা মাথার ভেতরে যেসব রঙিন
কুয়াশা ঘটে চলে
ঘটে চলে যেসব মেহেক-মদিরা
তাহাকে জ্ঞান করিতে করিতে
টং-আত্মার মুচকি মেখে
সেই এক মহাশয় জ্বালিয়ে রাখেন
দোলা দোঁহার সেই তার
জ্বলা নেভার টুনিজীবনী !






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান