কবি শামীম আজাদ এক এবং অদ্বিতীয়

যখনই দেখি আকাশে মেঘ জমে
মনে হয় ওই তো আমার দেশের মেঘ,
ওই তো আমার মাঠের ওপার,
ওই মেঘের নিচে সবুজ ধানক্ষেত,
সাদা বকের দল উড়ে যাচ্ছে…
এই প্রবাসে কোথাও সেরকম নেই।
-শামীম আজাদ

স্বদেশ বলতে যে উদাসীনতা সেটা কেবল একজন প্রবাসীই বুঝতে পারেন। আমাদের প্রতিদিনের ক্লান্তি আর ব্যস্ততার মাঝে লালন করি দেশমাতৃকার অবয়য়, নস্টালজিয়ায় বিদগ্ধ সে আকুতি- আহা! আমার প্রিয় স্বদেশ। আমাদের কবিতা, গান, গল্প আর নাটক বলতে সর্বত্র জুড়ে আছে স্বদেশে ভাবনা আর অনুভূতি।

উপরের এই লাইনগুলো আমার প্রিয় কবি, স্বস্তির মায়াময় প্রশান্তির ছায়া, আমাদের সবার প্রিয় শামীম আজাদ। একবাক্যে পরম ভালবাসায় সিক্ত এবং একটি স্নিগ্ধ নাম, শামীমআপা। যাকে নিয়ে আমার এই লেখাটি। আজ শামীম আপার জন্মদিন তাই স্বল্প পরিসরে হলেও তবে পরম মুগ্ধতা নিয়ে ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় আপ্লুত বিমোহন খসড়া মাত্র। যার জন্য লেখাটিতে কোন ধারাবাহিকতা নেই, নেই শব্দখচিত সাহিত্যের উপস্থাপনা। যেখানে আবেগ সেখানে দাড়ি, কমা-র বিচ্যুতি থেকেই যায়। কারণ আমি আবেগ নিয়েই শুরু করছি যেমন; শামীম আপা ডাক দেন- -রনি রে… কই তুই! তোরে হারিয়ে ফেললাম বুঝি..! এমন আবেগ, এমন শব্দের সমাহার কেবল মাত্র মায়ের কাছেই পাওয়া যায়। আজ মাকে মিস করি, কিন্তু শামীম আপার কথা শুনলে মন ভরে যায়, আবেগাপ্লুত হয়ে যাই। তবে আমি আজকাল শামীম আপা থেকে দূরে থাকি, অনেক দূরে…। জিগ্যেস করবেন- কেন? সেটার কৈফিয়ত দিতে পারবোনা। আরে এই কৈফিয়ত দিতে পারিনা বলে দূরে থাকা। স্বভাবতই সামনে পেলে জড়িয়ে ধরতেন, এখন মনে হয় সামনে পেলে কান টেন ধরবেন। আমিও বুঝি শামীম আপার কি যে ক্ষোভ আমার উপর, আর আমিও তাঁর থেকে দূরে থাকি। কি এক অদ্ভুত বিষয়! সেটা কেমন কথা! হ্যাঁ, আমি তাঁকে গত কয়েক বছর অনেক জ্বালিয়েছি। তাঁর ফোন আসলে আমার হাত পা কাঁপতে শুরু করে। দ্রুত চেষ্টা করি তার বকাঝকা থেকে মুক্তি পেতে। কারণ ঐযে কৈফিয়ত, যেটা আমি তাঁকে দিতে পারিনা। আমাকে ফোনে না পেলে ফোন আরেকজনকে করবেন, আর সে হলো জেসি। তখন ক্ষোভ ঝাড়বেন তার উপর। যদিও অসুস্থতার জন্য নিজেকে অনেক কিছু থেকে গুটিয়ে নিয়েছি, এবং বন্ধু বান্ধবরাও অনেকটা সেখানে আমার বিষয়ে ছাড় দিয়েছেন। কিন্তু শামীম আপা! তাঁর কাছে, ঠিক মায়ের সাথে যেরকম আচরণ করতাম- কোন কৈফিয়ত দেবোনা!

শামীম আপা, এক অনবদ্য জীবন জীয়নের অক্সিজেনের মত। তাঁকে দেখলে মনে হয়ে জীবন আসলে থমকে থাকতে নেই, জীবন হচ্ছে ক্রিয়েটিভটির জন্য। জীবন বলতে- শ্বাস যতক্ষণ চলবে তোমাকে কাজ করতে হবে, কারণ জীবন খুবই সর্ট কিন্ত কাজ অনেক বেশি। এত কাজ করতে হবে, যার পরিসংখ্যান দেয়া যাবেনা। একটি কথা কাজ করতে থাকো…।

আশির দশকে আমরা তখন তরুণ। কাব্যচর্চায় আমরা একান্তই নবীন। বিচিত্রায় প্রথম কলাম পড়া বা শামীম আজাদ সম্পর্কে বুকের ভেতর একটা অনুভূতি কাজ করতো। একজন সুন্দরী শুধু না, টেলিভিশন পর্দায় প্রথম দেখে মনে হয়েছিলো, মায়া, যার কথা আর গল্পে যাদুময় প্রভাব আর তাঁর ব্যক্তিত্ব সব মিলিয়ে এক অসাধারণ চরিত্র।বলতে গেলেও তাঁর সাথে আমার বয়সের ফারাক প্রায় এক যুগেরও বেশি, কিন্তু শামীম আজাদের কাব্যপ্রেমের টানে মানুষটির প্রতি গোপনে জমা হতে থাকে শ্রদ্ধা আর অলৌকিক প্রেম। তখন আমরা শ্রীকান্ত পড়ছি। বুঝতেই পারছেন। সেই বিদগ্ধ প্রেম নিয়ে কেমন করে- উদাসীন তারুণ্য।

দুর্ভাগ্য কবি, লেখক, সাংবাদিক, কথাশিল্পী শামীম আজাদকে ধারণ করেই এক সময় ২০ বছর বয়সেই বিলেতে আগমন। তিনি বাংলাদেশেই, আমি প্রবাস-বিভূঁইয়ে হয়ে গেলাম। কিন্তু তাঁকে হৃদয় মন থেকে দূরে রাখার কোন উপায় নেই। বর্তমানের বাংলাটাউন মানে ব্রীকলেনের মডার্ন বূকস্টোর এবং সঙ্গীতার খোকন ভাই বাংলা সাহিত্যের কাগজ ও পত্রিকাগুলো থেকে আমাদের আলাদা হতে দেননি। লিস্ট করিয়েছিলাম যেন বিচিত্রাসহ অন্যান্য কাগজগুলো সপ্তাহ শেষে পেয়ে যাই। সেখানে ঠিকই শামীম আজাদ ছিলেন সঙ্গে।

বিরহের সময় বেশিদিন নয়। যাকে ২০ বছরেও সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি, দেখা হয়ে গেলো অকস্মাৎ এই লন্ডনেই। সম্ভবত ১৯৮৭ সালে পশ্চিম লন্ডনের হল্যান্ড পার্ক স্কুলের ওয়েটিং রুমে কাকতালীয় ভাবে তাঁর দেখা। তবে সেছিলো এক অবিশ্বাস্য এবং রোমাঞ্চকর মুহুর্ত্ব । আমার ছোট বোন পড়তো সেই স্কুলে। ঠিক আমার পাশে এসে বসলেন পরম কাঙ্ক্ষিত প্রিয় সেই মানুষটি, শামীম আজাদ। অবশ্য উনার লন্ডন আসার সংবাদটি জানতে পারি সাপ্তাহিক সুরমায় প্রকাশিত আমার আরেক প্রিয় মানুষ সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন ভাইয়ের একটি লেখা দেখে। বিলেতের সাহিত্যাঙ্গনে তরুণ ফারুক আহমেদ রনি তখন একটি পরিচিত নাম। আমাকে ঘিরে বসে আমার ছোট বোনের বান্ধবীরা তাদের কাছে আমি যেন এক বিশাল কবি ব্যক্তিত্ব। শামীম আপাকে দেখিয়ে তাদের বললাম উনার কাছে যাও তাড়াতাড়ি অটোগ্রাফ নাও, এমন মোক্ষম সুযোগ হয়তো পাবেনা।

সেই দেখা থেকেই সময় আমাদের মধ্যে একটা যোগ, একটা বন্ধন তৈরি করে দেয়। তারপর ১৯৯০ সালে স্থায়ীভাবে শিক্ষকতার চাকুরী নিয়ে চলে আসেন লন্ডনে। আর সেই তখন থেকে আমাদের অভিভাবক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যেন সকল বন্ধনের চেয়ে অকৃত্রিম এক শক্তিশালী বন্ধনে তাঁর পরম স্নেহের ছায়াতলে রেখেছেন আমাদের।

শামীম আজাদ নিয়ে লেখার বা তাঁর সম্পর্কে গল্পের শেষ নেই…। সে গল্প আমরা করবো, অবশ্যই শিগগির শিকড় তাঁকে নিয়ে করবে একটি বিশেষ আয়োজন। কারণ, শিকড়ের অনন্তকাল সাথী এবং শুধু শিকড় না বিলেতে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল বলতে শামীম আজাদ ।

শামীম আজাদকে নিয়ে বা তাঁর পরিচিতি নিয়ে বলতে গেলে বর্তমান সময়ে শুধু বাংলা সাহিত্যে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছেন তা নয় ইংরেজি সাহিত্যেও সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হিসাবে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করছেন, বলতে গেলে এককভাবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বিলেতে কয়েক শত বাংলাভাষী কবি সাহিত্যিকদের সরব উপস্থিতি থাকলেও বাংলাভাষায় চর্চার বাহিরে খুব অল্প সংখ্যকই আছেন যারা দুভাষীয় কাজ করছেন। আমরা রীতিমত আতংকিত বিলেতে বাংলা ভাষা-সাহিত্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে, কারণ বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম কতটা বাংলা ভাষা বা সাহিত্য নিয়ে কাজ করবে। বাংলা কবিতা কজন ছেলে মেয়ে পড়ছে বা পড়বে? শামীম আজাদ জানতেন আর সেই ভয়েই হাল ধরেছিলেন উভয় ভাষা নিয়ে কাজ করতে, যাতে তাদের কাছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে নিয়ে যাওয়া যায়। তাই করছেন, আমাদের প্রজন্ম শুধু নয় ইংরেজি ভাষার ভেতর দিয়ে বাংলা সাহিত্যের একটা শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। গল্পে, কবিতায়, ছন্দে অথবা নাটকের মাধ্যমে তিনি নিরলস কাজ করছেন দুই ভাষায়।

আসুন আমরা একজন শামীম আজাদকে তাঁর কর্মের ভেতর দিয়ে জানার চেষ্টা করি। বাংলা সাহিত্যের কবি, লেখক, ও নাট্যকার, যিনি দীর্ঘ প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখালেখি করছেন। জন্ম বাংলাদেশে হলেও তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং এখানকার সাহিত্যাঙ্গনে বাঙালি সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

শামীম আজাদের কর্ম, বাংলাভাষীদের সমাজ ব্যবস্থা ও জীবন আলেখ্যর অভিজ্ঞতাকে লালন করে তাঁর সাহিত্যের কল্প ভাবনা, শব্দ এবং ঢং বাংলিশ উচ্চারণে কবিতায় অনবদ্য শিল্পময় আবহে উপস্থাপিত হয়। তিনি সিলেটী আঞ্চলিক শব্দ, ইংরেজি শব্দ ও প্রমিত বাংলার শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হয়েছেন।। কিন্তু বাংলাদেশের মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার অবিচ্ছেদ্য ও অটুট সম্পর্ক এখনো বজায় রয়েছে। ব্রিটেনে সর্বাধিক জনপ্রিয় বাঙালি কবি হিসেবে শুধু নয় তিনি বাংলা ও ইংরেজি – দু’ ভাষাতেই পরিচিত।

তার জন্ম ১১ নভেম্বর ১৯৫২ সালে ময়মনসিংহ জেলায়। পৈতৃক বাড়ি বৃহত্তর সিলেটের মৌলভী বাজার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে অধ্যয়ন করেন, যেখানে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। আগেই বলেছি ১৯৯০ সাল থেকে তিনি যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হন এবং এখানে লেখালেখি, শিক্ষকতা, ও নানা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

তার সাহিত্যকর্মে প্রবাসী বাঙালি জীবনের অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক প্রতিটি বিষয়ই তাঁর লেখনীর ক্ষেত্র।

তিনি কবিতার জন্য সুপরিচিত, এবং তার কাব্যগ্রন্থগুলোতে প্রবাস জীবনের অনুভূতি, বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরে থাকেন। তিনি মানবিক অনুভূতি, রাজনীতি, সমাজ, ও অভিবাসনের নানা দিক নিয়ে লিখে আসছেন। তার গ্রন্থ সংখ্যা বাংলা ও ইংরেজি মিলে প্রায় ৪০টির মত। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কবিতা সংগ্রহ ১, কবিতা সংগ্রহ ২, নির্বাচিত কবিতা, শামীম আজাদের ১০০ প্রেম ও অপ্রেমের কবিতা, জিয়ল জখম, বিলেতের কথা, বংশবীজ, কইন্যা কিচ্ছা, অগ্নি ও জল, বিলেতের স্ন্যাপসট, রাণীর দেশে রঙিন বেশে, প্রিয়ংবদা, একলা জেগে রই, ওম, শূন্যস্থানে চুম্বন, মধু শিকারি ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থগুলোর মত তার গল্পগ্রন্থ, উপন্যাস সর্বত্র প্রবাস জীবনের অনুভূতি, বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য, মানবিক অনুভূতি, রাজনীতি, সমাজ, ও অভিবাসনের নানা দিক নিয়ে লিখেছেন। শামীম আজাদের বাংলা ও ইংরেজি কাব্যগ্রন্থগুলো তার লেখনশৈলীর বৈচিত্র্যময় দিকগুলো তুলে ধরতে সচেষ্ট।

শামীম আজাদ লন্ডনের বিভিন্ন স্কুলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্লাস করান এবং অভিবাসী শিশুদের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি আগ্রহ জাগাতে কাজ করেন। তিনি লন্ডনে “কবিতা ও গল্পের আসর” প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা একটি সাহিত্য ও সংস্কৃতির মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত। তার সাহিত্যের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতি ও ব্রিটিশ সমাজের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং তিনি সমানভাবে বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু ও শৈলীর মধ্যে তার কবিতায় প্রবাসী জীবনের বিচ্ছিন্নতা, একাকীত্ব এবং নতুন সমাজে খাপ খাইয়ে নেয়ার লড়াই ফুটে উঠে। শিকড়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ, যেখানে বাংলাদেশের গ্রাম, নদী, মানুষ এবং ঐতিহ্য নিয়ে লেখা কবিতাগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার কবিতায় মানবিক সম্পর্কের গুরুত্ব, প্রেমের সংবেদনশীলতা এবং গভীর আবেগ মূর্ত হয়ে উঠে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামের কথা তার কবিতায় প্রায়ই বড় একটি জায়গা দখল করে আছে, যা তার দেশপ্রেমকে উপস্থাপন করে। শামীম আজাদের কবিতায় চিন্তার গভীরতা এবং অনুভূতির নিবিড়তা পাঠকদের সাথে সহজেই সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে। তার কাব্যগ্রন্থগুলো বাংলাদেশের কবিতাপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত।

শামীম আজাদ দেশে ও বিদেশে নানা সম্মাননার মধ্যে বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ সম্মাননা বাংলা একাডেমীর পুরস্কারে ভূষিত হোন ২০২৩ সালে। সাথে সাথে তার সাহিত্যকর্ম ও সাংস্কৃতিক অবদানের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার কিছু উল্লেখযোগ্য সম্মাননার মধ্যে রয়েছে: কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশনের ফেলোশিপ: এই ফেলোশিপের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন দেশে ঘুরে তাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করার সুযোগ পান। চ্যানেল এস লিটারারি অ্যাওয়ার্ড, সংহতি সাহিত্য পুরস্কার ও রেইনবো পুরস্কার সহ তার লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হোন। শামীম আজাদ শিকড় সাহিত্য পত্রিকা বা সংহতি পরিবারের একজন অভিভাবক। এই দুই সংগঠন শুধু না বাংলা সাহিত্য পরিষদ, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র সহ যুক্তরাজ্য এমন অসংখ্য বাঙালি, অবাঙালি সংগঠনের সাথে জড়িত এবং পৃষ্টপোষতা করে আসছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তার চেতনাকে নতুন প্রজন্ম এবং অবাঙালিদের কাছে পৌঁছে দিতে গত দেড়যুগ আগে তিনি ‘বিজয়-ফুল’ নামের কর্মসূচি প্রবর্তন করেন। প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসব্যাপী ব্রিটেন সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পালন করা হয়ে আসছে বিজয় ফুল কর্মসূচি ।

শামীম আজাদের কবিতাগুলো সাধারণত মমত্ববোধ, দেশপ্রেম, স্মৃতিমেদুরতা, এবং মানবিকতা দিয়ে আবৃত, যা তাকে বাংলা কবিতার জগতে একটি অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে। কবিতায় প্রবাসী জীবনের একাকীত্ব এবং নিজের শিকড়ের প্রতি আকুলতা স্পষ্ট। কবিতায় একেবারে সাবলীলভাবে তিনি স্বাধীনতার মর্ম, আত্মত্যাগ এবং দেশপ্রেমের গভীরতা সহ তাঁর শৈশবের স্মৃতি এবং নস্টালজিয়ার অস্থিরতাকে উপলব্ধি করা যায় সহজেই।

শামীম আজাদের কিছু কবিতা পাঠকদের উপহার দিয়ে আমি তাঁর সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। বেচে থাকুন আমাদের মাঝে দীর্ঘদিন। শিকড় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দিন ও শুভ জন্মদিন।

ফারুক আহমেদ রনি
কবি ও লেখক


শামীম আজাদের একগুচ্ছ কবিতা

নিশ্চিত নির্ভর

সমস্তই টলে গেছে
ঝরে গেছে কত পুরাতন প্রাণ
ঝাপসা হইয়া গেছে
শ্যাষ হয়ে গেছে
সব সোনা সোনা ধান।

তবু কী আশ্চর্য
এত সব অযুত আঘাতের পরও
কী করে রয়ে গেছে
আস্ত দ্যাশ খান!
আর আছে

উচ্চস্বর-ক্রন্দন করিবার মত
মাথার উপরে স্থির বসে থাকা
বেয়াকুফ আসমান।

কখনো ছাড়েনা তারা
এই অভাগাদিগের,
ছুঁড়েনিতো কোনদিন,
করেনাই দিকদারী আর
অযাচিত ব্যাখ্যা ও বয়ান।

সর্বদাই রয়েছে সঙ্গে
এই পোড়া বিদেশেও
আজন্ম দাঁড়িয়ে আছে
যেন সন্তানের দোরের কাছে
আমাদের জননী ও জনক সমান।


এই শ্রাবণের পূর্ণিমায়

রৌদ্রপিণ্ড সরে গেছে কখন!
পায়ে পায়ে গলে গেছে আলোর আঙ্গুর।
প্রেমপন্থ বেগবান হয়ে উঠছে
বনের বাটিগুলো উপচে দিয়েছে ঘ্রাণ।

সেই কবে খসে গেছে
সন্তরণশীল হলুদ পা!
মগজে যে বীজগুলো পোঁতা ছিলো
তাতে ফলেছে অনন্ত উড়াল।
পূর্ণিমাও বোকা হয়ে গেছে
আর কোন বুজরুকি চলবে না।

মনে পড়ে একদিন
ঐ বেগুনী কুয়াশার চন্দ্রসিঁড়িতে
ভাসিয়ে দিয়েছিলাম
আমাদের নীল লাশ ?
সে বছর থেকেই দেখছি
তুমি চিন্তার থুতনিতে
ভর দিয়ে আছো।
আর কত একা একা
সয়ে যাবো ধৈর্যের কামড়?

কঠিন কর্তব্যের বাঁকে বাঁকে
সঞ্চিত আগ্রহের আবেশে
তৈরি করেছি প্রতিশ্রুতি,
নিয়তির বোতলে ফোঁটা ফোঁটা করে
সঞ্চয় করেছি উজ্জীবনের আলতা।

সে আলতা পায়ে
অপেক্ষার কুঞ্জে বসে আছি
আংটি পরাবো, এসো।


শিরোনামহীন

স্মৃতি ও প্রীতি আর যা কিছু অবশিষ্ট
ছিল পরিমিতি
মিলিয়ে দেখি,
যে এসেছিলো আর যে চলে গেলো-
তারা সমিল ছিল না।
এ ছিল আমূল অন্য কোন জন,
অচেনা অন্য কারো বীভৎস ওজন।

সে কী করে এত বদলালো
সেই একদিনের অমূল্য কথা
অলিক করে,
চিরদিনের দু:সহ স্মৃতি করে দিলো।

বলেছিলাম, পুরোটা না
একটু একটু ভাঙো
বদলাও, ঘষো নিজেরে
না হলে যে গল্প গরম রবে না-

স্পষ্ট মনে আছে
ব্যাংক ও বীমা এক করে
দুই জোড়া জিবরাইলের ডানা খেঁটে যাচ্ছিলাম
পতঙ্গকে পাখি ভেবে
পয়ারের পাহাড়ে পাহাড়ে আর
আকাশের অখণ্ড ধাতবের সমান্তরাল
উড়ছিলাম।

হয়তো ব্যথা জমছিলো
পালকের অগোচরে
ডানা ধরে এলো তার ভারে
বুঝিনি মানুষ দেবার কালটাই
রাখে মনে, নেবারটা না।

তুমিও কি জানতে না
যে লটকে ছিলে আমারেই ধরে
না হলে তুমিও কেন পড়ে গেলে!

মাটিতে পা গাঁথতে সময় নিলাম
পুরো দু’বছর
তারপর আজ বললাম,
কথা না দিয়েছিলে কথা রাখার?

তাকিয়ে বুঝি
কী বলছি একে এসব! যত্ত সব-
কথা দেবার সে লোক
আর কথা তুলে নেবার এ ব্লোক
তো একদম এক না।


বহু বিকল্প

আগস্টের বাসী আকাশ থেকে
অবশিষ্ট আপেল ফেটে পড়ছে
পাতার পাঁজর মট্‌ মট্‌ করছে
সন্ধ্যার চোখে চোখে অনাগত
শীত-কাফনের চৌরাস্তা।

তুমি হাঁটতে থাকলে
যে রাস্তা ওল্ডফোর্ড পেট্রল পাম্পের দিকে চলে গেছে।

ভেবেছিলাম চমকানো চুলগুলো দিয়ে
টাইফুন গিট বেঁধে
বাতাসের কোমর ধরে ফেলবো
শীত নিদ্রার আগেই আটকাবো
ভাবনা-ভালুকটাকে।

তার বদলে আমি এখন
তিনটি রাস্তা পেয়ে গেছি।
আর কোন পার্কিং প্যানাল্টি লাগবে না
গাছে গাছে উড়বে না বৃহন্নলার রোদ
এবং উদ্ধত ঊষা দাঁড়িয়ে থাকবে
যতক্ষণ লাগবে আমার।

তুমি যাচ্ছো, যাও-

কণ্ঠের কাঁটা তুলে নিলে
কে আর বসে থাকে?


সন্ধি সময়

কেন জ্বালাচ্ছ,
কোথাও তো আর যাই না এখন!
কিন্তু পায়ের নূপুরে রিং-টোন বাজলেই
চুরি মনে চলে যাই ঐ নাসপাতি তলে
যেখানে এ বিষম বয়স সন্ধির আগে
পানকৌড়ির রোম আর রোদ ছিল
বীজের ব্যাপক আকাঙ্ক্ষা ছিল
স্বাদু বিস্কুটের মতো ছিল তার সেন্ট
আর চা ছিল তরল অভ্যাস।

তখন তপ্ত দিনে
ঘামে আর কামে
মেজাজের মাঠা বানাতাম—
বোদলেয়ারের বালা পরে মধু মাসে
ব্যাঙ্কের বালুসাই, কফি কফি স্মৃতি,
বিট লবণে মাখা ঝালমুড়ি সংবাদ
সব নিয়ে পা বিছিয়ে বসতাম।
ক্রিসমাসে কবিতার ফুলক্রিম,
ঈদে বন্ধু ভাসা সেমাই,
পুজোয় বাগান বিলাসের নিচে
জলসার প্রাণমাখা টোস্ট এবং হানুকায়
প্রবাসী প্রিয়দের পাঠানো প্রেশারপিল খেতাম।

আসলে নিজস্ব ডি-টক্সই অভ্যাস ছিল।
ফিল্টার বিহীন সুখটানে মটকা মেরে
পড়ে থাকতাম অচেনা ঘণ্টার শেষ ফোঁটা পর্যন্ত।

এদিকে তিনি তখন পোর্সেলিন পিরিচে
ফুঁ দিয়ে দিয়ে পান করতেন আমাকে—
আর আমি নাশপাতির লকার খুলে
দৌড়ে এসে উইদাউট সুগারে তাহারে।


মালিকানা

এ এমন মাটি যে মমী গলে গলে
গাজর গজায়
ভোর বেলা পায়ে বাজে ঘাসের ঘুঙ্গুর
প্রতিবেশি পালং, বাতাসের বারিতে ফাটে হর্স চেস্টনাট
ওদিকে গহনাচেরী
আর যত বাগানের ফুল
একসাথে তুলে আনে জুন ও ফাগুন

পেছনের বাগানে বিজিলিজি, বেগুন টম্যটোর টাল
ইলফোর্ডে আমার ব্যাক ইয়ার্ড
সেই কবে লাল সেতু তীরে
নাও নিয়ে ভিড়েছিলাম…

চেলসির চঞ্চু চষে
ফরাসী বীজ থেকে বেড়ে ওঠা বসরাই ফুল,
রোজমেরী হার্ব— হৃদরোগ নিরামক রশুন
বর্ষার ঠিক আগে আগেই ব্রিকলেনের বোতাম খুলে
অনাবাসী তিমিরের
তিরতির করে বয়ে যাওয়া সুরমার তুন

তাতেই কি এ মাটি, এই সামার
রাত জাগা যত যত তারার খামার
সকলেরই প্রভু আমি

কিন্তু তা না হলেও
হয়তো গোলাপের মাপ আরো বড় হতো
পিটুনিয়া, পপি হয়ে যেতো সূর্যমুখী ছবি
অন্যকোন কবি
একদিন দৈব ভোরে
এভাবেই বা অন্যকোন ভাবে
এ পৃথিবীর স্নায়ু ধুয়ে দিতো
চাঁদের মলম দিয়ে মমতার এই মাঠে কবিতার ফুল ফোটাতো

জানিনা তখন এভাবে তারো কি মনে হতো
সেই ফুল সে বাগান
জলস্রোতে জলন্ত জোছনা
দ্বিপ্রহরের দারুচিনি ঘ্রাণ
সে শুধু তাহার সৃষ্টি-
সে শুধু তাহার


নিদ্রাকুসুম

দু’চোখে অসংখ্য ঘুমের
বীজ, চারা গজিয়েছে
রতিক্লান্ত শব্দমালা শুষেছে অগ্নি ও জল
বাহুদ্বয় বেদনা জরজর
ভরা বৈশাখ কেটে দিচ্ছে
কোমরের তাবিজ, তাগা ও হরিতকি ফল
তুমিকি একবার দুঃস্বপ্নের গুঁড়োগুলো গেলে দেবে?

এভাবে মাইলকে মাইল মৃত ড্যাফোডিল দেখে আর বাঁচা যায়না
সারারাত ডলফিন দেহ নিয়ে ডাঙায় বসে আছি
বালির বিছানা উড়িয়ে নিচ্ছে দেহাতীত দেহ
দূরদেশে সুখবতী কন্যা আমার ডুকরে কেঁদে উঠছে।

বৈশাখের বিশ্বাস ফাটিয়ে
কে আমাকে শুশ্রূষা দেবে?

বত্রিশ বছর কাঁচিতে হেলান দিয়ে আছি
বার বার পিঠ ফালি ফালি করে
কেটে গেছে অর্ধেক সাধ
কিন্তু এমন দমবন্ধ রাতে,
গরম ঘাম আর কাম
এভাবে যূথবদ্ধ হয়েছে কি কখনো!

এন্তার আলো এলায়ে পড়েছে
দুধ ধান মগজের আল ছিঁড়ে ছড়ে যাচ্ছে

প্রিয়, পাহাড়ের পৈথান থেকে
নিদ্রাকুসুমের একটি মাত্র পাপড়ি
বল দেবে কি!

আমার আতর
হে আমার লগ লয়
শাড়ির বাইঞ্জে বাইঞ্জে
তন্তু তারে তালিম দেয়
আমার কোমরর মাইঞ্জে।

আমি তারে না পুছলেও
হে আমারে পুছে
আমারে বানাইয়া মুরশিদ
আমার কয়লা মুছে।

কইলজাত আছলায় বন্দু আমার
অনকু কাপড়র মাজে
শাড়ি ছাড়া শামীম আজাদ
তোমারে পায় না যে!

কিতা গো শামীম কিতা
তোর মুরিদে কিতা কয়?
আমার জান ও যত দুক
তাহার নাহি সয়।।


কোন ব্যাপার না

ক্রমশ সংখ্যায় লঘু হয়ে যাচ্ছি
পদে পদে উষ্ঠা খাচ্ছি
তবু কিছু বলছি না
এদিকে দেশগেহ নাপাক করে
একের পর এক
কবিরাহ্ গুনাহ করেও
পার পেয়ে যাচ্ছে ওরা
দিনে দিনে গা থেকে খুলে নিচ্ছে
একাত্তরের রক্ষাকবচ
মানবতা, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি
বেআব্রু হয়ে যাচ্ছে
কুলকুচি করেও দাঁত থেকে
সংখ্যালঘুর দাগ ধু’তে পারছি না
তবে সনাক্ত করিয়া রাখতেছি
নিকৃষ্ট পাপিষ্ঠদিগের অবয়ব।
এখন শুধু সময়ের দরকার
যা কোন ব্যাপারই না।।


যুদ্ধ

যুদ্ধ মানে নিদারুণ গ্লানি ও ভয়
যুদ্ধে নেই কোনো নিরঙ্কুশ জয়
যুদ্ধ মানেই ক্ষয়,
মৃত্যু ও মানুষের প্রতি সংশয়
যুদ্ধে, পক্ষ-বিপক্ষ উভয়েই
ভয়ের কাছে নিরস্ত্র, সমান ভীত
বিনা শর্তে পরাজিত।

চুজ ইয়োর মেনু
আমার কিছু কবিতা যেন
বৃষ্টিজলে ভেজা
দু–এক খানা সিরাপ-ডোবা
মচমচে গজা।

দু–তিনজন বড়ই লাজুক
বসে থাকেন একা
ঘামে কামে মাখামাখি
দেন না তবু দেখা।

বিশ্বস্ত আছেন কজন
যেন বিয়ে করা স্বামী
ভিন্ন ভাষার জামা পরেন
বিশ্বলোকে দামী।

মাত্র কজন স্পর্শ করি
থাকি তাদের লইয়া
বাড়ির স্বামী ঘুমাই গেলে
করি পরকীয়া।

ক্ষিপ্ত হইয়া লেখা কিছু
আছে আজেবাজে বার্তা
ভাইরাল হওয়া আজাদীয়
তারা, শামীম-পিষ্ট ভর্তা।।


বিশ্রাম

এই যে দ্রাবিড় বাতাস
চারিদিকে যে অনার্য সাঁতার
তারই পাশে তোমাদের করমচা বাগান।

বাগানে বাহাত্তর বছর ধরে
জল শুষে নেওয়া হতভাগ্য
আকাশিয়ার ওপর
পড়ে আছে পতঙ্গের পাখাপোড়া দেহ
কিন্তু সেখানেই কামাক্ষ্যার দীর্ঘ ছায়া।

সবকিছু পার হয়ে সেখানেই
একফোঁটা বিশ্রাম রেখে যেতে চাই
রাখা যাবে কি?

সড়কের নিশানা জানি না—
কোথায় যে যাব জানি না
শুধু জানি, যেতে হবে
কোথাও তো নূপুর খুলে
কাচের নিক্কণসমেত
পায়ের বিশ্রাম তুলে রাখতে হবে।

ইত্যাকার এই সব কোথাও না কোথাও
রাখিতে হয়।

মাটির ফণায় বসা
ঘোমটাপরা তোমাদের সেই ঘনঘোর গ্রাম
কুটুমের সরপড়া নিথর বাড়ি ও উঠান
কামাক্ষ্যার ছায়া রায়া রায়া
সেইখানে রাখা যাবে কি!


চিহ্ন

নগরীতে বায়ুর বাগানে
বসে আছি শিথিল
শৈত্যে লিমেরিকে আর অন্ত্যমিলে
দেহখানি ঝুলে আছে দেশে
পলির আর নুনে।
পরিপূর্ণ এক আপেলের গ্রামে ঝুলিতেছি
প্রমত্ত ঝিনুকে জল কেটে কেটে
শ’য়ে শ’য়ে পাথর গলে
হয়ে গেছে পৌরাণিক মানব
সেই থেকে
বসে আছি মেঘের ওপর
দেহগত নুনে আর পলির ফাগুনে!
মানচিত্রে
দাগ বসিতেছি দুস্তর
খয়েরী শিশুদের
অনাবাসী আস্তর
রক্ত নুনে আর অবিমিশ্র পলির কারণে।
কুয়াশা ভেজা এই দু’খানা হাতে
এখনো সব্জী ফলে চন্দ্র কিরণে।


পুনরায় আক্রান্ত

জলস্রোতে জোছনা জ্বলছে
হাওয়াতে ঘাসের ঘুড়ি
ফণা হয়ে যাই…
চতুর্থ আকাশ থেকে পরী নেমে আসে
কিশলয় কবুতর ও পরিশ্রান্ত প্রজাপতি পাথর হয়ে যায়
আমি ফণা ভেঙে তাহাদেরে মেঘের মাজেজা বোঝাই
প্রকৃতি ও প্রবাদের দাঁতগুলো খুলে খুলে আগুনে বিছাই
এ এক দারুণ ঝড়ের ঝাঁড়
যুবতী জাফরান রাত আফিমের গলি দিয়ে চুল খুলে হাঁটে
গগনে গ্লেসিয়ার গলে
আমি আর স্বপ্নশব্দ খুলে বেরুতে পারি না


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending