
লুম্পেন
লুম্পেনের পর লুম্পেন শুয়ে আছে ঠাণ্ডা মর্গে
বাইরের পৃথিবীতে এদিকে
খেলা চলে পাশের বাড়ির দোতলা আর একতলার মাঝে
কিন্তু
আসলে কি হয় লুম্পেন?
বারোয়ারি বেশ্যার ভিটেতে মদ খেয়ে বাওয়ালিতে যখন
আমার ভেতরে তুফান তুলছে শরীরের টান
তখন আমার ভেতর নিংড়ে বেরোচ্ছে বন্দে মাতরমের রক্ত
আস্তে আস্তে এসে গ্রাস করে আমাকে আমার
সব ব্যাপারের প্রোটাগনিস্ট সত্ত্বা
জানো কবি, লুম্পেনদের জানো।
দূরে পুলিশের ব্যারিকেডে লেগে থাকা প্রতিবাদ আসলে
প্রতিরোধের রক্ত,
নকশাল থেকে বামপন্থী ডিপো ঘুরে কংগ্রেসি আগ্রাসন
সবটাই দেখেছি আমি শুধু কোলকাতা ঘুরে,
আমার মতো কল্লোলও ঘুরেছে, এই বাংলা, মহানগরী।
গ্রাম দিয়ে শহরকে ঘেরার কারিগরি শিখেছিলো সে কৈশোরে
ঘুরে বেরিয়েছে সে ওই বয়সেই নকশালবাড়ি, ময়নাগুড়ি বেল্ট, জঙ্গল-মহল
যতো ঘুরেছে ততো বেশি শ্যামাপোকার মতোই আকৃষ্ট হয়েছে
লাল ঝান্ডার অতি বাম রাজনীতির দিকে,
মাওকে নিজের আদর্শ বলতো সে,
লোকের বিপদে ছুটে যাওয়া ছিলো তার কাজ
এর জন্য পুরো রাজ্য ঘুরেছিলো সে,
আর শেষে
একদিন গড়ের মাঠে পিঠে সরকারি গুলির শিলমোহর নিয়ে
মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে ছিলো একা রক্তস্নাত কল্লোল,
সরকারের ভাষায় সে ছিলো এক উগ্রপন্থীর লাশ।
আমায় পার্থক্য করতে শিখিয়েছে আমার আদর্শ
সরকারি ভাষার উগ্রপন্থী আর সামাজিক লুম্পেনের মধ্যে,
আসলে দশকটা তো ছিলো সত্ত্বর
তাই আমি জানি কল্লোল কলেজে পড়তো
ও খুব ভালো ছাত্র ছিলো, উগ্রপন্থী নয়
বরং লুম্পেনই ছিলো আমার নিজের ভাই।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান