ও স্বপ্ন ও স্কিজোফ্রিনিয়া

পর্ব ১

মহিনের ঘোড়াগুলি:মাৎসুর চিৎকার

তারপর অনেক চেষ্টা করলাম। চেষ্টা করলেই যে কেউ একজন সফল হবে এমন নয়। কিছু টাকা তোলার দরকার ছিলো ভাবলাম ব্যাঙ্কে গিয়ে তুলি। ব্যাঙ্কে পা তুলে বসে বাইকের হেলমেটটা রাখলাম।হেলমেট বাইরে রাখলে কেউ নিয়ে গেলে মুশকিল।হেলমেটটা পাশেই বেঞ্চে রাখলাম।

হেলমেটটা রাখতেই আমার রুক এর কথা মনে পড়লো।
প্রেম যে কখন আসে বলা মুশকিল। হঠাৎই। অথচ ক্লাস সিক্সে উঠে রিয়ালাইজ করলাম আমি ওকে কখন থেকে পছন্দ করি মনে নেই। কোন অবচেতনে এইসব ভাবনা বয়ে বেড়াচ্ছি। হেলমেটটা সরে গিয়ে বেঞ্চ থেকে নিচে পড়ে গেল। কিছুক্ষণের জন্য চোখ বন্ধ হয়ে গেছিল।এবং এতদিন ধরে আমি যা ভাবছিলাম খুঁজছিলাম সেটা আর হয়ে উঠছিলনা। একটা পাপবোধ অদ্ভুত ভাবে গ্রাস করেছিল।কুকুরের বাচ্চাদের দেখলাম। মহিনের ঘোড়াগুলি। ঘোড়াগুলি এসে আমার চোখের সামনে হাসছিল। ঘোড়ার হাসি যেমন নির্বোধ হয়। মাৎসুর চিৎকারের মতো হেলমেটটা নিচে পড়ে গেল তার শব্দে আমার বোধি জাগলো আমি বুদ্ধ হলাম। আমার হেলমেটটাকেই মনে হল মুক্তির আঁধার আমি ঘোড়াগুলোকে বললাম তোমরা চলে যাও। আমার জার্নি এখানে শেষ হলো। তোমাদের সওয়ারি করার প্রয়োজন নেই। আমি এখন নির্জনে থাকতে চাই।

বাড়ি ফিরে তমালকে ফোন করলাম। সে জিজ্ঞেস করলো আজকেই কি টাকাটা দিবি?
হ্যাঁ। তুলেছি ব্যাঙ্ক থেকে
আজকে মাল খাবিনা?
বললাম না মাল খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি।
কি বাবা কি বলিস!
বললাম হ্যাঁ বউয়ের জন্য শাড়ি কিনেছি। ওইজন্য আট হাজার দিচ্ছি বাকিটা পরে নিস।
শেষমেশ রুকসানাকে ভুললি তাহলে?
না তাকে আর মনে করার প্রয়োজন নেই। মনে আসলেও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক থাকছে। প্রেসার হাই হচ্ছেনা। ঘোড়াগুলোকে মহিনকে দিয়ে এসেছি। মহিনের ঘোড়াগুলো কিমাকার ডাইনামোর মাঠ ছেড়ে পাহাড়ে চলে গেছে। ওসব জীবনবাবুর ঘোড়া। আমি রিয়ালাইজ করলাম চায়ের পেয়ালা ক’টা বেড়ালছানার মতো ঘুমে ঘেঁয়ো কুকুরের অস্পষ্ট কবলে।
তমাল বললো তাহলে আলহামদুলিল্লাহ।
হ্যাঁ। জয় শ্রীরাম।

পর্ব ২

অর্ধবৃত্ত:স্বপ্নে পাওয়া বাদল হাওয়া

টেক ওয়ান:

তুই এখানে এসেছিস বিড়ি খেতে?
হ্যাঁ দাদা। দিননা।
জামাকাপড় পরে তো আসবি?
ও আচ্ছা ভুলেই গেছি জামাকাপড় পরতে।
তারপর তাকিয়ে দেখলাম আমার শরীর। বুকে চুল। সামনে শরীর। পুরুষ শরীর। কোনো কাপড় শরীরে নেই। নেশাগ্রস্ত কতটা হতে পারে মানুষ। বিড়িতে টান দিতে দিতে একটা বাড়িতে ঢুকলাম।বাড়িটা তমালদের।দোতলায় রুকসানা টিউশন পড়ছে। ওর বিয়ে হয়ে গেছে নক্সালবাড়িতে।তারপরও ও এখানে মাধ্যমিকের টিউশন পড়তে এসেছে। কেন এসেছে জানিনা। সেকথা ঘোড়াগুলো বলতে পারতো কিন্তু তাদের আমি ছেড়ে দিয়েছি। ওরা চলে গেছে অনেকদিন হলো।ভাবলাম একটা স্যাড সং করি। আমি যখন কৈশোরে রুকদের বাড়ির সামনে দিয়ে দৌড়াতাম গান করতাম। ভোরে ওকে সিগনাল দেওয়ার জন্য। এখন ইচ্ছে হচ্ছিল একটা স্যাড সং গাই যেটা ওকে আমার কথা মনে করিয়ে দেবে।
বালি উমরিয়া
শুনিরে ডগরিয়া
যোবন বীতো যায়ে
হ্যায় রাম
ইয়াদ পিয়া কি আয়ে

টেক টু:

তুই আমাকে বলিসনি।
কি বলব?
তুই আমাকে ভালোবাসিস?
হ্যাঁ বলেছি। আমার জীবনে মহিনের ঘোড়াগুলি ছাড়া আর কোনো বিপর্যয় নেই।
ঘোড়া কি জিনিস?
ঘোড়াই ইম্পর্ট্যান্ট।
কি ফালতু বকছ?রুকসানা বললো।
আমি চুপচাপ আছি।রুকসানা আবার বললো
বিয়ে করেছ শুনলাম?
হ্যাঁ।
তুমি কি আমাকে ভুলে গেছ?
হ্যাঁ। আমি ভেবেছিলাম সারাজীবন তোমার বিরহ আমাকে বইতে হবে। কিন্তু না। সেদিন হেলমেটটা পড়ে যাওয়ার পরে থেকে আমি আর তোমাকে ভালোবাসিনা।
কিসের হেলমেট?
হেলমেট মানে সুরক্ষাকবচ তোমার স্মৃতিকে এতদিন আঁকড়ে ছিলাম। সেগুলো নিরাপদে ছিল।স্ত্রী সন্তানদের কাছ থেকে সেফ করে রেখেছিলাম। আমি আর তোমাকে নিয়ে ভাবতেও চাইনা।ভাবনা আসলেও আমার কোনো ফিলিংস হচ্ছেনা। আসলে ঘোড়াগুলো নেই এখন আর।
রুকসানা আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
দ্যাখো আজ আমি তোমাকে ভালোবাসি। ভালোবাসি বলেই এলাম। নক্সালবাড়ির রাস্তা আলোর গতিতে অতিক্রম করে এলাম।
আচ্ছা।তাই। আমি বাড়ি যাবো। বাড়ি যেতে হবে আমাকে শিউলির জন্য কেনা শাড়িটা আমার হাতেই আছে। যদিও আলিঙ্গনাবদ্ধ আমাদের রাস্তার লোক দেখছে।
রুকসানা বললো আজ আমি তোমায় ভালোবাসি কুড়ি বছর পরে আমি তোমার ভালোবাসা অনুভব করলাম।
আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম ঘোড়াগুলো নেই। চায়ের পেয়ালা নেই। জীবনবাবু নেই। কুকুর নেই।
ঘোড়াগুলোর হাসিও আর দেখতে পাচ্ছিনা।
রুকসানা তুমি বাড়ি যাও।ছাড়ো।আমিও বাড়ি যাবো।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending