কাঁটা

কাঁটা থেকে খুব যত্নে
ফুলগুলো বেছে বেছে ফেলি
এত টাটকা, এত তাজা দাঁত ফুলের
কিছুতেই যেন সন্ত্রাস ছড়াতে না পারে
আমার নীল হৃদয়টাতে, সতর্ক থাকি
আমার বিবেক কাঁটার যন্ত্রণায় বেঁচে থাকে
সৃজনশীল থাকে… ব্যবসা তুলে আনে ঘরে
ধূপ, দীপ, নৈবেদ্যে তার প্রজাপতি ওড়ে
সমস্ত পাপ দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে
জানু পেতে দিই
জবুথবু জ্যোৎস্নার ভিতর মহা কলরোল, মহা আড়ম্বর
সোনার জলে ভেজা কাঁটার মুকুট যেন নেমে আসে
অন্তরীক্ষ থেকে
সমস্ত ভয় আমার তখন নিমেষে অন্তর্হিত
এখন চাইলেই আরাম আসে
এখন চাইলেই শান্তি আসে ঘোলাটে আবহাওয়ার
এখন বাজারের দুঃসহ ঘ্রাণ
আমাকে টলাতে পারে না আর আগের মতো
ঠেলেঠুলে উঠে পড়ি শেষ কামরায়
এখন কাঁটাকে বুঝতে পুরোপুরি
আমি আরো দশবার মানুষ জন্ম চাই

শিকার

বুকের ভিতর হাল্কা একটা মাছ হয়ে আছি
ডুবতে শিখিনি
বয়ে যেতেও না
ওপর ওপর সাঁতার কাটি সারাদিন
ছুটির দিনে যখন কিছু করার থাকে না
ঘাসের ছোট্ট ডগা দিয়ে সুড়সুড়ি দিই
অনেক উঁচু তাকে লুকিয়ে রাখা রাঙা শাল
নেমে এসে বাহাদুরি করে নাম রাখে অনুরাগ
যেন এখনি কেউ গালে বুলিয়ে দেবে হাত
যেন এখনি সেলাম ঠুকে শুভ মহরৎ হবে
উনুনে চাপিয়ে কেউ ভুলে গেছে আমায়
এক পিঠ কাঁচা অন্য পিঠ পুড়ে ছাই,
সে আজ কতকাল হল
এসব দেখে আড়ালও ঠাট্টা করে
হাসি তামাশা করে
ব্যঙ্গ করে উন্মুক্ত করে নিজের নিজের সুখ
আগাগোড়া ফাঁপিয়ে তোলে, ঘনিয়ে তোলে
আবারও শুরু থেকে শুরু করার ইচ্ছায়
বুকের ভিতর
শিকার সেজে বসে থাকি

আলোর নিচে একা অন্ধকারে

নিয়ম মেনে ভাঙছি তোমার নিয়ম যত
চাঁদের ওপর মেঘ জমেছে সাধ্য মত
রাস্তা ভাঙি রাস্তা গড়ি নিষাদসাথের
আর কতকাল থাকবো পড়ে এ ফুটপাতে
অনেক রাতে খেয়াল করে বিছনা সরাই
মুখের ভিতর মুখগুলো সব যত্নে পোড়াই
দোষের মধ্যে দোষ ছিল এক ব্রহ্মভোরে
মৃত্যু ছেড়ে ভালোবাসার নেশার ঘোরে
ছুটছিল জল জলের পথে পাথর ভেঙে
পাহাড় ভেঙে বাদার ভেঙে সাগর ভেঙে
নকল কথায় লুকিয়ে আসল ঠিকানাটার
কী যে হলো, অষ্টাবক্র জ্বর এলো তার
পিটপিটে চোখ বাক্যহীনের আদল নিয়ে
পালিয়ে গেল ইত্যাকারে পা মিলিয়ে
মাসের পরে মাস গেল, ঠিক বছর ঘুরে
তোশক, বালিশ বাষ্প হল,গেল উড়ে
আলোর নিচে একাই সেসব অন্ধকারে
হিসেব কষি শনাক্তহীন অঙ্গীকারের
কী ছিল সব, কেনই বা তা, বুঝছি না ঠিক
সহজাত বর্বরতা? গিঁটের ভিতর আরেকটা গিঁট?
খারাপ এসব আবহাওয়ায় এখন মাপি
নিরক্ষরের বৈরিতাকে নিয়মমাফিক

দ্রোহের আগুন জ্বালো

আমরা ঠিক ভয়ে নেই
আমরা একটু কুঁকড়ে আছি
বুকের ভিতর একটুখানি গুমরে আছি
না, না,বাচাল হচ্ছি না
আমরা একটু তুবড়ে আছি
হাত গুটিয়ে ঘরে মুখথুবড়ে আছি
না হে আমরা মরছি না
একটু আমরা শান্ত আছি
এদিক সেদিক ঠুকরে জলজ্যান্ত আছি
সময় হলে আসব ঠিক
কাঁপবে মাটি, কাঁপবে তোমার দিগ্বিদিক
রাষ্ট্র যতই তোমার শক্তি তোমার সুখ
আমরা ততই চাইবো মুক্তি বাঁধব বুক
এরপরেও আমরা একসঙ্গে খেতে বসব
এরপরেও আমরা মাথা মুড়িয়ে
একসঙ্গে বেড়াতে যাব বেলতলায়…


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

“পিয়াল রায়” এ একটি মন্তব্য

  1. দারুণ কবিতা।পিয়াল রায় বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অন্যতম মুখ।

অজ্ঞাত এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল

Trending