আদুরে ভাত
চারপাশে ঝলমলে আলো,
চুল খোলা, টকটকে জিন্সে হাঁটে লক্ষ্মী প্রতিমা, দৃষ্টির তৃষ্ণা মেটে,
কিন্তু শিরায় শিরায় জ্বলে প্রচণ্ড ক্ষুধা,
নাড়িভুঁড়ির ভিতর হাহাকার।
মা, যদি পেতাম এক বাটি খিচুড়ি, এক মুঠো পান্তা,
তাহলে আমার হাসিটা সত্যিই ফুটত, হাসিটা মিথ্যে হতো না,
বাবুর বাড়ির প্রতিশ্রুতি মতো।
গিয়েছিলাম, কাঁপা কণ্ঠে চেয়েছিলাম
এক মুঠো ভাত, শুধু এক মুঠো নুন-ভাত..!
বাবুরা বলল, “দেবো, আগে আদর করি…”
আচ্ছা মা, আদর কি পেট ভরাতে পারে…?
তুমি তো রোজ চুমু আঁকো কপালে, চোখে, গালে,
তবুও কেন গাঢ় অন্ধকার ঘিরে ধরে, কেন এত ক্ষুধা..?
কেন শরীর কুঁকড়ে আসে, কেন দাঁড়াতে পারি না শিরদাঁড়া সোজা করে..?
কেন বুকের ভেতর এত শূন্যতা, কেন আমি উড়তে পারি না?
কেন আমার ডানাগুলো আগুনে পুড়ে ছাই হয়?
মা, তুমি বলো, ভাতের জন্য ভালোবাসা দিতে হয়..?
যে ভালোবাসা মিথ্যে..!
আমি তো সত্যি ভালোবাসি মা শুধু তোমাকে
তাহলে কেন প্রতিদিন ফিরে আসি শুধু ক্ষুধার অক্ষর বুকে নিয়ে?
এভাবে কি পৃথিবীর বুক থেকে হাজার প্রাণের স্বপ্ন নিভে যাবে?
নাকি ভাতের গন্ধে আদরের অন্ধকার মুছে যাবে?
আমরাই, অভুক্তরাই, তোমার ওই লক্ষ্মী প্রতিমার চোখ ভিজিয়ে দেবো মা,
ফুলের বদলে অঞ্জলি দেবো চোখের জলে,
ক্ষুধার্ত হাত তুলে প্রার্থনার মন্ত্র বদলে দেবো
“ভাত দে, মা, ভাত দে!”






অজ্ঞাত এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল