লক্ষ্মণরেখা

‘এর বাইরে যাবে না
ভাঙবে না নিষেধের বেড়াজাল ‘
এভাবেই কবে কোন শৈশবে
লক্ষ্মণরেখা আঁকা হয়েছিল
চারপাশে তার!
তারপর থেকে আজ অবধি
পরেনি পা কোনো সবুজে!

সঙ্গীবিহীন সময়ে নিজেই
নিজের সঙ্গে কথা বলা অবিরাম!
বইয়ের পাতায় পাতায় কল্পকাহিনির
এক একটা প্রিয় মুখ
প্রিয় বন্ধু হতো তার!
সারাদিন কেটে যেতো তাদের সুখ দুঃখে!

জানালার গ্রিলে মাথা ঠেকালে
বাড়ির পাশে দীঘিটি দেখা যেতো!
প্রায় বিকেলে একটি কিশোর
দিঘীর স্বচ্ছ জলে পা ডুবিয়ে
উদাস হয়ে বসে থাকতো!
এই একটি দৃশ্য
হৃদয়কে এমনভাবে নাড়িয়ে দিতো
হাহাকার করে উঠতো সমস্ত অন্তরাত্মা!
কোনোদিন এভাবে জলে
পা ডুবিয়ে বসা হয়নি!
সদ্য কৈশোরে পা দেয়া মেয়েটি
নিজেরই অজান্তে কিশোরের মায়ায় জড়িয়েছিল!

সেই কিশোর কখনো জানেনি
তার পথে হাঁটতে, কাছাকাছি যেতে
নিজেকে অতিক্রম করে যাবার লড়াইয়ে
মগ্ন ছিলো একজন!
কতো বিকেলের দীর্ঘশ্বাস শুধু তার কথা ভেবে!
কোনোদিন জানা হয়নি তার!

যতো দিন গিয়েছে,জীবনের জটিলতা
দুজনকে নিয়ে গিয়েছে
পৃথিবীর দুই প্রান্তে!
কোনোদিন দেখা হয়নি মুখোমুখি
কোনোদিন বসা হয়নি পাশাপাশি!
বাস্তবতায় ম্লান হয়ে যায় সময়ও!
আজও হৃদয়ে সেই বেদনাবোধ
ফিরে আসে কখনো!
আজও সেই অনুভবে নিজের মনে
হাজার প্রজাপতির উড়ে চলা টের পায়!


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

“সায়ীদা শামসী” এ একটি মন্তব্য

Samiran Mandal এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল

Trending