
হত্যা-লগ্ন সম্ভূত
চলছে আমার বিচারসভা, অনেক গুণীজনের ভীড়,
কর্ণ কেন নীরব যখন টানছে কাপড় দ্রৌপদীর!
কর্ণ কেন নীরব ছিল! নয় কেন সে প্রতিবাদে!
রাজপরিবার উল্লসিত যাজ্ঞসেনীর আর্তনাদে।
নীতিকথার জ্ঞানসাগরে বীর-মহাবীর সবাই চুপ,
সেই সভাতেই দেখছে ভারত, যাজ্ঞসেনীর নগ্ন রূপ!
কর্ণ কেন নীরব ছিল! মৃত্যু শ্রেয় তার চেয়েও…
উঠে দাঁড়াই বিচারসভায়,কর্ণ আমি, রাধেয়।
বিচার করুন হে গুণীজন, বিচার করুক এই সমাজ,
নারীর কাছে কী পেয়েছে, সূতপুত্র কর্ণ আজ!
নারী কেবল শুধুই নারী! তুমিই জানো কুন্তীমাতা,
ভাসিয়ে কেন দিলে সেদিন পূণ্যতোয়া খরস্রোতায়!
কেন সেদিন দুধের শিশু পায়নি খুঁজে মায়ের স্তন!
তার কাছে আজ চাইছে নারী আব্রু ঢাকার আবরণ!
সেদিন তুমি কুন্তীমাতা ঢাকতে নিজের অভিসার…
হত্যা করলে আমায় তুমি, নীরব ছিল এ সংসার!
বিচারসভার হে গুণীজন, বলুন সে কার পাপের ফলে,
কর্ণ হ’ল অনাহূত —বংশপরিচয়ের ছলে!
সেদিন তুমি যাজ্ঞসেনী, হাতের মালা রাখলে হাতে,
স্বয়ম্বরে আমিও পারি মাছের চোখে তীর বিঁধাতে!
সেই পাপে আজ তুমিও সামিল,অর্জুনমাতা হে পৃথা,
পাঁচআত্মজ যার মহাবীর, তারই কূলবধূ ধর্ষিতা!
তবুও চলছে বিচার আমার, অন্ধ রাজার মসনদে,
জন্ম যাহার হত্যা-লগ্নে, প্রত্যাখ্যাত প্রতিপদে।
কর্ণ কেন হেসেছিল! নারী যখন অসহায়!
উপেক্ষিত কর্ণ কেন একাই নেবে সকল দায়






অজ্ঞাত এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল