সেই মেয়েটি

তোমাকে ছুঁয়ে দিচ্ছি
তবু তা যথেষ্ট নয়, প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয়
তোমাকে ভালোবাসা যেন এক মহাকাশযাত্রা
অতল শূন্যতায় ভেসে বেড়াই আলোকবর্ষের পর আলোকবর্ষ,
তবু তোমার মনের এক কণা ছুঁয়ে শেষ হয় না এই যাত্রা।

তুমি গ্যালাক্সির মতো অসীম,
প্রতিটি স্পর্শে আমি নতুন গ্রহের সন্ধান পাই,
তোমার নিঃশ্বাসে সুপারনোভার উষ্ণতা,
তোমার হাসিতে ধূমকেতুর উজ্জ্বল অগ্নিপুচ্ছ!

আমরা কি তবে এক আকাশগঙ্গার দুই প্রান্ত?
যেখানে সময়ের রেখা মুছে গিয়ে
দুটি প্রাণ এক কেন্দ্রে নেমে আসে,
তুমি অন্ধকারে উজ্জ্বল নক্ষত্র,
আমি আলোর ঝরনা হয়ে ঘিরে থাকি তোমাকে।

ভেবে দেখো,
তোমার ত্বক কি মেঘের চেয়ে কোমল নয়?
তোমার চুলের ঘ্রাণ কি বায়বীয় ধূলিকণার চেয়ে পরিপূর্ণ কোনো স্মৃতি নয়?
আর ঠোঁট? যেন কৃষ্ণগহ্বর ডুবে গেলে আর ফিরে আসার উপায় নেই!

তবু যথেষ্ট নয়
প্রতিটি চুম্বন, প্রতিটি লোভাতুর স্পর্শ, প্রতিটি দৃষ্টি…
যেন মহাবিশ্বও আজ পরাজিত প্রেমের এই ক্ষুধার কাছে।

এই ক্ষুধার কারণেই মানুষ প্রথমে লিখল পাখির পালক ডুবিয়ে চিঠি
শত প্রতীক্ষার পর সেই কাগজে ভেসে আসত ভালোবাসার ঘ্রাণ,
তারপর এলো টেলিগ্রাম ছোট কথায় তীব্র আকুলতা,
ফোনে প্রথম শুনল প্রিয় কণ্ঠ সেসবও যেন তৃপ্তির আগুনে ছাই হয়ে গেল।

ফিরল ইন্টারনেট, মেইল, বার্তা
মুহূর্তেই পৌঁছে যায় শব্দ,
ভিডিও কলে চোখের সামনে চাঁদের মতো মুখ,
তবু পর্দার ওপারে হাত বাড়িয়ে ছুঁতে গিয়ে হাওয়া ছুঁই!
কত চেষ্টায় কত অ্যাপ, চ্যাট, ভার্চুয়াল আলিঙ্গন
তবু হৃদয়ের শূন্যতা ভরাতে পারে না কোনো প্রযুক্তি, কোনো মাধ্যম।

মানুষ কেবল একাকীত্ব কাটাতে খুঁজে চলে নতুন উপায়,
তোমাকে অনুভবের একান্ত প্রয়াসে
কত ডিভাইস, কত ডেটা, কত ব্যস্ততা,
তবু সেই শূন্যতা? সেই একাকীত্ব?
অজানা কৃষ্ণগহ্বরের মতোই শুধু বাড়তে থাকে, বাড়তেই থাকে।

কেন? কারণ একটাই
তোমার ছোঁয়ার মতো সত্যিকারের কোনো সংযোগ কখনো তৈরি হয় না।
ভালোবাসা?
সে তো আলোর চেয়ে দ্রুত, শব্দের চেয়ে গভীর,
তাকে ছুঁতে পারা সেই তো মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় অলৌকিকতা!



Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

One response to “জাসমিনা খাতুন”

  1. চমৎকার হয়েছে ।
    ধন্যবাদ ।

Muhammad Ashraful Alam Sohel এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল

Trending