জাগরণী নারী

তুমি কি জানো,
তোমার ঠোঁটের শিরিষ পাঁপড়িতে
একটি দিকচক্রবাল আটকে আছে?
অস্পৃশ্য রোদের গায়ে লেগে থাকা
ভোরের স্বপ্নভূমি কি তুমি অনুভব করো?
তোমার নিঃশ্বাস—
এক আকাশজোড়া ধূসর সেতার
যা বেজে ওঠে অদৃশ্য কোনো উল্কার টানে।

তৃষ্ণা?
তুমি তো এক মরুসমুদ্রের কুয়াশা,
যার গর্ভে লুকিয়ে আছে
শাশ্বত জলের গুপ্তধন।
আমি সেই রহস্যের অতলস্রোত,
যার স্পর্শে তোমার দেহে
জেগে ওঠে এক বিস্মৃত মহাদেশ,
যার মানচিত্র আঁকা ছিলো
প্রাচীন কোনো অলিখিত নক্ষত্রগুচ্ছে।

তবু তুমি থেমে আছো,
সমাজের পাথুরে ঘূর্ণিতে?
ধর্মের বিমূর্ত দেয়ালে
তোমার ছায়া বন্দি?
তোমার অস্থিমজ্জায় জ্বলে ওঠা
আলো কি এক বিন্দু ভয়েও কম্পিত?

জেগে ওঠো, নারী!
তোমার শরীরের শিরায় শিরায়
এক মহাজাগতিক নদীর জোয়ার,
তোমার তৃষ্ণা তো
আলো আর অন্ধকারের সীমান্ত থেকে উঠে আসা
এক অমোঘ মায়াবী বিভাস!
তোমার চোখে জ্বলুক
সমস্ত মহাবিশ্বের আদিম লিপির অনুবাদ,
তোমার অস্তিত্বেই লিখিত হোক
এক নতুন সৃষ্টির প্রথম কবিতা!


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

“মোহাম্মদ ইকবাল” এ একটি মন্তব্য

  1. অপুর্ব ! জ্ঞানগর্ভ কথার ফুলঝুড়ীতে পরিপূর্ন একটি সৃষ্টি।

    শুধু এক জায়গায় আমার একটু আপত্তি আছে “ঠোঁটের শিরিষ পাপড়ির না হয়ে যদি “ঠোঁটের মায়াবী মধুতে লিখা হতো তাহলে কি কবিতার সৌন্দর্য্য হানি হতো ?

অজ্ঞাত এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল

Trending