এক আকাশমুখী তর্জনী

সেই কবে তর্জনী হয়েছিলো আকাশমুখী নভোচর।
মাঠ থেকে মাঠ ছেয়েছিলো দ্রোহের মিছিলে,
প্রান থেকে প্রান মিশেছিলো অভিষ্ট প্রনয়ের দ্বিপে,
কন্ঠ থেকে কন্ঠে বেজেছিলো মুক্তির অবারিত গান।

সেই সুঠাম তর্জনী লক্ষ কোটি চোখে এঁকেছিলো-
স্বপ্নিল নক্সীকাঁথার মাঠ, গর্বের শহীদ মিনার,
সূর্‍্য্য সকাল আর সবুজের অপূর্ব মানপত্র,
এঁকেছিলো বুকের ভেতর রেশমী সুতার এক নতুন চাদর।

মুক্তির পায়রা উড়লো উন্মত্ত সুনামীর পর,
চোখের জল আর বুকের খুন হলো পতাকার রং,
এক সোনার বাংলার স্বপ্ন নিয়ে ফিরে এলে
বাংলা মায়ের আঁচলতলে।

মানুষগুলো ছিলো-
তোমার পায়জামা পাঞ্জাবীর মতোই শুভ্র-সফেদ
ওদের মন ভেসেছিলো এরিনমোরের মিষ্টি ধুঁয়ায়,
তুমি হলে সম্রাট, হৃদয়ের শাশ্বতঃ অধিপতি।

এক অভিশপ্ত রাতে-
শকুনেরা ঝাপটা দিলো ৩২ নম্বরের কবুতর খোপে,
সিড়ির শরীর বেয়ে রক্ত বানে প্লাবিত হলো-
আগুন-পুড়া এই হতভাগী ব-দ্বীপ, তোমার সোনার বাংলা।
জাতি হলো পিতাহীন, এক উদ্ভট উটের সোয়ারী-
আর তুমি হলে ইতিহাস।

এখানে-
এই বৈরী বাতাসে নেই তোমার কন্ঠের সেই বজ্র নিনাদ,
নেই সেই মিছিলের লক্ষ কোটি মুষ্টিবদ্ধ হাত।
নেই অকাল বোধনের নীল পদ্ম-পুজা।

ওরা কিন্তু সবাই আছে- চিরকালের মতো,
আছে ঘরবেদী বিভিষন, মোস্তাক, মিরণ।
শুধু তুমি নেই।
নেই সেই রেসকোর্স ময়দান,
নেই সেই দিক দিশারী আকাশমুখী তর্জনী।

মৃত্যু তোমায় করতে পারেনি আড়াল,
আড়াল হয়েছে প্রেতাত্মা দুর্বৃত্ত।
বাংলার মাটি, ধুলিকনা, জল তমাল,
বঙ্গবন্ধু! তোমায় স্মরিবে নিত্য।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

One response to “মজিবুল হক মণি”

md amanat ullah manik এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল

Trending