আমি যখন দিলু নাসেরের পুরস্কার প্রাপ্তির আনন্দের খবরটি শেয়ার করতে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই আমাকে শুনতে হলো প্রিয়জন মিলু ভাইয়ের প্রয়াণের সংবাদ। যদিও তিনি গত ৩/৪ দিন ধরে হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তবুও তাঁর চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না।
মিলু কাশেম ও দিলু নাসের পরিবারের সঙ্গে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক সেই আশির দশক থেকে। মিলু ভাই ছিলেন একান্তই ভদ্র, আন্তরিক ও প্রাণবন্ত সাহিত্যের মানুষ। তিনি ছিলেন একজন খ্যাতনামা ছড়াকার, সাংবাদিক ও ভ্রমণলেখক। বাংলা ছড়ার জগতে তিনি এক উজ্জ্বল নাম। তাঁর লেখনীতে শিশুরা যেমন আনন্দ খুঁজে পেত, তেমনি বড়রাও পেতেন হাসি, ব্যঙ্গ ও ভাবনার খোরাক।
ছড়ার সহজ-সরল শব্দচয়ন ও ছন্দের মধ্য দিয়ে মিলু কাশেম সমাজ, সংস্কৃতি, প্রকৃতি, শিক্ষা এবং শিশু-কিশোরের জীবনকে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর ছড়ায় ছিল মজা, হাস্যরস, আবার অনেক সময় গভীর সামাজিক বার্তাও। শিশুতোষ সাহিত্য সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
মিলু কাশেম শুধু ছড়াকার নন, তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকও। সংবাদপত্রে কাজ করতে গিয়ে সমাজের নানা দিক তুলে ধরেছেন তাঁর লেখায়। তাঁর লেখনীতে সততা ও নিষ্ঠা ছিল স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন প্রকৃত ভ্রমণপ্রেমী। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি এবং সেই অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছেন ভ্রমণকাহিনিতে। তাঁর লেখা ভ্রমণগল্প পাঠকদের নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ দিয়েছে, পরিচয় করিয়েছে ভিন্ন সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে।
তাঁর প্রকাশিত অসংখ্য গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: লাল সবুজের হাসি দেশকে ভালবাসি, পদ্মপাতায় প্রীতির নাম, চলো যাই গ্রামে ফিরে, স্মৃতির সিলেট, ঘুরতে ঘুরতে ইউরোপ, দূরের দেশ কাছের দেশ, ইউরোপ থেকে বাংলাদেশ ইত্যাদি।
উক্ত গ্রন্থগুলোতে তিনি ছড়া, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিচারণের মাধ্যমে পাঠকদের জন্য এক ভিন্ন জগতের দরজা খুলে দিয়েছেন।
তাঁর অকাল প্রয়াণ বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। ছড়া, ভ্রমণকাহিনি ও সাংবাদিকতায় তাঁর অবদান আমাদের সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। মিলু কাশেম বেঁচে থাকবেন তাঁর লেখা ও সৃষ্টির ভেতর দিয়ে।
শিকড় পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।






অজ্ঞাত এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল