
সাহিত্য-সংস্কৃতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন
কলকাতার সাহিত্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হলো এক নতুন দিগন্ত। গত শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫, কলকাতায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হলো যুক্তরাজ্য (ইউকে) ভিত্তিক দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে প্রকাশিত দুটি বহুল প্রসিদ্ধ সাহিত্য পত্রিকা- ‘শিকড়’ এবং ‘গ্লোবাল পোয়েট অ্যান্ড পোয়েট্রি’-কে কেন্দ্র করে শিকড় গ্লোবাল সাহিত্য ফোরাম ও পাবলিশার্স, ভারত শাখা। বাংলা সাহিত্যপ্রেমী ও আন্তর্জাতিক কাব্যাঙ্গনে আগ্রহী পাঠকদের জন্য এই উদ্বোধন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
পত্রিকা দুটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক কবি ফারুক আহমদ রনি-র সুদূরপ্রসারী ভাবনা ও সৃষ্টিশীল প্রয়াস বহু বছর ধরেই বিশ্বজুড়ে কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মিলনস্থল তৈরি করে আসছে। ভারত তথা কলকাতা শাখার উদ্বোধন বাংলা সাহিত্যকে আরও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি প্রদান করবে এবং আন্তর্জাতিক কবিতার সাথে স্থানীয় সাহিত্যচর্চার এক নতুন মেলবন্ধন গড়ে তুলবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব প্রবালকুমার বসু এবং শ্যামল ভট্টাচার্য। তাঁদের উপস্থিতি মঞ্চকে যেমন আলোকিত করেছে, তেমনি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বহু গুণ বৃদ্ধি করেছে।
ইউকে শাখার সহ-সম্পাদক কাবেরী মুখার্জি-র প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও সংগঠনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। গান, গল্প, স্বরচিত কবিতাপাঠের মধ্য দিয়ে সেদিনের পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দময় ও আত্মিক আবেশে পরিপূর্ণ। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য সহেলি চৌধুরীর সুরেলা গান, যা অনুষ্ঠানস্থলকে রাঙিয়ে তোলে এক মায়াবী সৃষ্টিশীলতার মোহনায় তাছাড়াও অসাধারণ স্বাগত সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিকড় পরিবারের সদস্য সঞ্চারী ব্যানার্জী।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কাবেরীর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘Ashes and Ink’-এর মোড়ক উন্মোচন।
বিশিষ্ট কবি নন্দিতা দে এবং মৌসুমি ভট্টাচার্য তাঁদের সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে বইটির সাহিত্যগুণ ও গভীরতা সম্পর্কে আলোকপাত করেন, যা উপস্থিত সকলের আগ্রহকে আরও বৃদ্ধি করে।
সংগঠনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য প্রিয়ঙ্কা ব্যানার্জি আলোচনা করেন বহুল আলোচিত সংকলন ‘Poetry for Peace’ নিয়ে, যেখানে ৪৬টি দেশ থেকে ১৭৬ জন কবির কবিতা স্থান পেয়েছে।
এবছর পত্রিকা দুটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আরও একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক অ্যান্থোলজি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। অনুষ্ঠানে একটি সুন্দর স্মরণিকাও প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠান চলাকালীন ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ শাখার সহ-সম্পাদক সাদিয়া নাজিব এবং অনার্য শান্ত।
প্রতিষ্ঠাতা ফারুক আহমদ রনি সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কবি-সাহিত্যিকরা যোগাযোগ রেখেছিলেন এই সূচনাপর্বের সঙ্গে, যা কার্যত এই আয়োজনকে আন্তর্জাতিক সাহিত্য-উৎসবে পরিণত করে।অনুষ্ঠানটির সফল আয়োজনের ক্ষেত্রে সৌম্যজিৎ আচার্য-র ভূমিকা অনস্বীকার্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পরিকল্পনা, প্রচেষ্টা এবং আন্তরিকতায় অনুষ্ঠানটি সফলতা লাভ করেছে।
এছাড়া উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথি, কবি, সাহিত্যিক এবং দর্শকদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
যদিও সময় স্বল্পতার কারণে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি, কিন্তু আগামী দিন তিনটি শহরে লন্ডন, কলকাতা ও ঢাকা, জুড়ে ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে। সময় মতো তার বিস্তারিত ঘোষণা জানানো হবে।
এই উদ্বোধন আবারও প্রমাণ করল- এই নতুন পথচলা ভারতের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে।
পিয়াল রায়
সহ-সম্পাদক, শিকড়
ভারত































































অজ্ঞাত এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল