খাতুনে জান্নাত

কবি শামীম আজাদ। বিলেতে বসবাস করেন আর বাংলাদেশে থাকেন। অর্থাৎ হৃদয়ে বাংলাদেশ ধরে আছেন। লিখেন ইংরেজি, বাংলা ও সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায়। তাঁর কবিতা শিল্পের জারকরসে আবৃত শতদল। বিষয়, ভাব, শব্দ ও বর্ণনায় নতুন মাধুর্য ও ব্যঞ্জনায় অনন্য বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বলতর নক্ষত্র।
একজন লেখককে সবার আগে হতে হয় একজন সত্যদ্রষ্টা। তারপর স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি জাগতিক জগতের মধ্যে থেকে মহাজাগতিক নিরবচ্ছিন্ন ধ্যানে আবিষ্ট হবেন। তারপর সময়কে ধারণ করে পার হবেন সময়ের নদী। শেষমেশ লেখক তৈরি করবেন সময়। লেখক হবেন সকল সৃষ্টির ঊর্ধ্বে সমুজ্জ্বল। ধারণ করবেন পার্থিব- অপার্থিব সৌম্যতা। দুঃখ ভেঙে ভেঙে আকরিক। নিজেকে ভেঙে ভেঙে আরশি। লেখক ভুল করতে পারেন। সে ভুলের ক্ষত থেকে সৃষ্টি হবে জাদুময়ী রূপকল্প। লেখক কাঁদতে পারেন কান্না থেকে তৈরি হবে জ্বালাময়ী উপমা। লেখক স্বদেশ ভালোবাসবেন কিন্তু তিনি হবেন বিশ্বজনার মানবিক অলঙ্কার। তাঁকে হতে হবে তৃণসম ক্ষুদ্র আবার সকল সসীমের অসীম। শামীম আজাদ নিজেকে পীর মনে করেন। ওহী নাজিল হয়। গভীর ধ্যানের ভেতর ধ্বনি ও শব্দের জাগরণ তা তো এক অর্থে ওহী অথবা সুফিজমের নিহিত অর্থের অনুভবে অনুপম স্রষ্টা কবি নিজেই। শরীর ও মন একীভূত হয়ে মনুষ্য জীবনচক্র। দেহবিহীন আত্মা নেই কিংবা আত্মাবিহীন দেহ। একে অপরের পরিপূরক।
শামীম আজাদ সাহিত্যের মূর্তিময়ী মানবী। কবিতা, গদ্যে অনন্য রূপময়ী। প্রেম ও মানবিক ধারার কবি। তিনি বসবাস করেন সাহিত্যে, হৃদয়ে লালন করেন সংস্কৃতি ও জাতির ঐতিহ্য। শব্দের জ্যোতি, ছন্দ ও অলঙ্কার ছড়িয়ে দিয়েছেন জীবনের স্তরে স্তরে। নতুনের চেতনায় প্রগতি ও প্রেরণার আলোয় উদ্ভাসিত। তিনি কবিতায় থাকেন। কবিতাময়ী জীবন চালনা করেন। সদা সচল বিশ্ব সাহিত্যের গতিময় উঠোনে। তিনি ভালোবাসেন, ভালোবাসতে শেখান। জীবনের রস ছেঁকে ছেঁকে পান করেন সাহিত্য সুরা। অগনিত পাঠক ঋদ্ধ হন। শব্দ চয়নে কবির অসাধারণ নৈপুণ্য, ভাষার অভিনবত্ব ও ছন্দের আবর্তন জাগায় ঘোর। তিনি লিখেন প্রগাঢ় দার্শনিক বোধ থেকে, “তৃণের উচ্চতায় লেপ্টে আছে ক্ষণ/ বৃক্ষ ও বধির বালিকণা/ শিশিরের সভ্যতায়/ নিদ্রার ভেতর/ অনুমুখী।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘গণমানুষকে জাগিয়ে তোলার জন্য কবিতা একটি অস্ত্র ‘। শামীম আজাদের কবিতা হৃদয় ও শরীরকে মথিত করে ঘোরে নিয়ে যায়। ভাবায়, জাগায়। কবিতার অন্তঃস্বর চেতনাকে শাণিত করে। শরীর ও তার অন্তঃশীল ফল্গুধারার দ্যোতনা সম্বলিত কাব্যগ্রন্থ ‘ওম’-এ নিজস্ব শব্দ ও চিত্রকল্প উপস্থাপনা করেছেন। প্রথম কবিতা ‘কর্পূর শরীর’ এ “স্ট্রবেরি অধরা/ ফলদেহে গাঁথা তূর্য/ সংযমের অমরা/ বাসন্তী ড্যাফোডিলে আমি বৃষ্টি পরবাসী/ ধানের সৈকতে লাল তুলসীমালা দাসী।” প্রকৃতি কন্যা নিঃশেষিত প্রকৃতিতে। স্বভূম থেকে পরভূমে। শরীর অভিযোজিত হয় রঙে ও কলায়। কিম্বা, কবিতা অনিশ্চিত-এ “কখনো কি এসেছিলে/ চোরা পাতা ভুলে/ কাঁচা রোদ নতুন কার্বন/ পাটভাঙ্গা মেঘের কৌশলে/ দীর্ঘ দাঁড়িয়ে ছিলে/ বিরহবৃক্ষ নদে/ হে আমার তৃষ্ণাভঞ্জন!” প্রেমের গভীর মন্ত্র উচ্চারণ। খুব সরল অথচ খুব শান্ত। প্রেম ও ইন্দ্রিয়চেতনা কবির মগ্নতার অনেকাংশ জুড়ে আছে। প্রেমীর জন্য চিরায়ত প্রতীক্ষা। কবিতায় মুগ্ধবান।
ঠোঁটের ব্রহ্মাণ্ডে বসা মৌলিক মেঘ/ উষাকালে শস্যের কাণ্ডারী/ নিদ্রাতূণে সাবালক চাঁদ/ পাখি-পাড়া জাল নিয়ে/ নিত্য ব্যস্ত ব্যবসায়নে- দিনে/…আমাকে ছুঁয়ে যায় তার সাতরঙা হাত।” কবির কবিতা প্রেম প্রার্থনায় নত। তার বাক্য পরিমার্জিত রূপে রূপক অনুসন্ধানরত। কবিতা পাঠের পর পাঠক স্থিত হন। ভাবনার অনুগমনে প্রবেশ করেন। নতুন চিন্তা ও চিত্তের অনির্বচনীয় অনুভবে ডুবে যান। কবির প্রতিদিনের গৃহস্থালি কাব্যময়, হৃদয়ের অলিন্দ হয় সুষমাময়। কবির তারুণ্য অতলস্পর্শী।
শামীম আজাদের কবিতায় নারী কখনো করুণা নয়, বরং স্বাধীন সত্তা। তাঁর ‘ওম’ গ্রন্থের একটি কবিতায় নারী নিজের পরিচয় ঘোষণা করে—
“আমি নারী,
আমার গর্ভে জন্ম নেয় প্রশ্ন,
আমার স্তনে দুধ নয়, জন্ম নেয় দার্শনিকতা।’
[নারী]
এখানে নারী কেবল জীবনের ধারক নন; তিনি জ্ঞান, সৃষ্টি ও প্রতিরোধের প্রতীক। এই কবিতাগুলোই তাঁর নারীবাদী চেতনার গভীর প্রতিফলন। ‘ওম’ কাব্যগ্রন্থে কবি দেহ ও আত্মার সম্পর্ককে এক দার্শনিক স্তরে নিয়ে যান। দেহকে কেবল ভোগের নয়, জ্ঞানের উৎস হিসেবে দেখা হয়েছে। এখানে নারী ও পুরুষ, দেহ ও আত্মা—সবকিছু মিশে যায় এক অস্তিত্বে। কবিতার মুগ্ধ চরণে রূপকল্প, উপমা, প্রতীক, অলঙ্কার
উজ্জ্বল ও সজীব। তিনি সাহিত্যের মূর্তিমান রূপ, শব্দ ও বোধের আলোকরেখা।
কোনো সৃষ্টিকর্মের ভেতরের চেতনাকে এক জায়গায় স্থির করা যায় না। সৃষ্টি কখনো বাঁধা পড়ে না নামের বেড়াজালে, আবার তার স্রষ্টাকেও কোনো নির্দিষ্ট খাঁচায় আটকে রাখা যায় না। অনুভব ও চেতনার জগৎ সবসময় খোলা আকাশের মতো—অসীম, বিক্ষিপ্ত, অথচ গভীরভাবে জীবিত। হয়তো কোনো স্রষ্টার ভেতরকার দরোজা একদিন বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তার সৃষ্টির আলোক কখনো নিভে না। কারণ সত্যিকারের সৃষ্টিকর্ম সময়ের সীমা ভেঙে কালোত্তীর্ণ হয়ে ওঠে, এমন কিছু হয়ে যা মানুষ নিজে হতে পারে না।
এই উপলব্ধির তাড়না থেকেই হয়তো শামীম আজাদ তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘জিয়ল জখম’ উৎসর্গ করেছেন এই অদ্ভুত ও তীক্ষ্ণ কথাগুলো দিয়ে—
“ভোঁ ভোঁ শবের বিছানায় / পরাজিত মানুষরা / মাছি হয়ে যায়…”
এই পংক্তিতে আছে এক নির্মম বাস্তবতা। যারা নিজের চেতনা হারায়, যাদের অন্তর্গত আলো নিভে যায়, তারা আসলে সমাজের মৃত জীব—মূল্যহীন পতঙ্গের মতো। কিন্তু কবি নিজে এই নিস্তব্ধতার বিপরীতে দাঁড়ান, যেখানে উপলব্ধি ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিভা মিলেমিশে তৈরি হয় জীবনের কবিতা।
‘পৌরাণিক মানব/ সেই থেকে বসে আছি মেঘের ওপর/ দেহগত নুনে আর পলির আগুনে।’
[চিহ্ন]
‘জিয়ল জখম’-এর কবিতায় বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়েও কবি যেন এক অদৃশ্য স্বপ্নরাজ্য তৈরি করেন। তাঁর কবিতায় ক্ষুধা, ভয়, মৃত্যু—সবই বাস্তব, কিন্তু সেই বাস্তবতাকে ছুঁয়ে যায় এক অলৌকিক আভা।
‘ক্ষুধার্ত হবার আতংক আর ভয়/আকণ্ঠ ব্যস্ত হয়ে থাকা/ তিনশ পয়ষট্টি দিন/ নিরন্তর উদযোগ আর আকুলতা/ তারো সন্নিকটে এক্ষুণি লাফিয়ে পড়বে বলে/ মৃত্যু দম নিয়ে আছে/ আমি কি প্রস্তুত? [ছায়াগুচ্ছ]। এখানে মৃত্যুভয় আসলে জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। কবি ভয় পান না; বরং সেই ভয়কেই অনুভবের অংশ করে তোলেন।
এরকম ‘অসম্ভব বয়স বাড়ে/ পূর্ণ হয় দেহজ অঞ্চল/ অঙ্গরাজ্যে যুদ্ধ করি/ ব্যাপক হয়রানি তুলি’ [আকাঙ্ক্ষা]
বইয়ের অনেক কবিতায় দেহ, কাম, এবং অনুভব মিলেমিশে আছে একরকম গোপন জাদুর মতো।
‘অনুপান’ বা ‘মনোবাঞ্ছা’-য় আমরা দেখি— “ভিন্ন রুচি ঘাম ও কামের কৌশলে / ভানুমতি কলা হবে…”
কাম সৃষ্টির শক্তি। দেহরস থেকে বেরিয়ে আসে কবিতার প্রাণরস। কবির কাছে তাই যৌনতা মানে বেঁচে থাকার তীব্রতার আরেক নাম।
”সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন/হউক দূর অকল্যাণ সফল অশোভন।” – শেখ ফজলল করিম
তাই কি শামীম আজাদ বলেন,
“যে ভালোবাসা আমি হারাই, সে-ই ফিরে আসে অন্য নামে।/যে অপ্রেম আমাকে ভাঙে, সে-ই গড়ে তোলে নীড়।”(অপ্রেমের ছায়া)
‘জন্মান্ধ জুপিটার’ বইয়ের কবিতাগুলি যেন এক অনন্ত ঘূর্ণির ভেতর দপদপে জ্যোতির শিখা। এখানে সময়ের ভগ্নাংশ, শরীরের ধ্বনি, এবং মহাজাগতিক বোধ — সব একসাথে মিশে যায়। কবি একাধারে নক্ষত্র ও নারী, বীজ ও বিস্ফোরণ, স্মৃতি ও আগুনের ভাষায় কথা বলেন।
“স্মৃতি -জলকণা দূরত্বে/দমবন্ধ দাঁড়িয়ে আছ প্রিয়ংবদা রাত…
ফড়িংরা স্বপ্নমোদে মগ্ন।”
[তাপ]
এক অন্তর্লীন মানসিক উত্তাপে সময় ও ভালোবাসার সংঘর্ষ। কবি এক অদৃশ্য দূরত্বে জমে থাকা বেদনা অনুভব করেন।
ফড়িংয়ের স্বপ্নমগ্নতা প্রকৃতির মায়া; কিন্তু এর নিচে লুকিয়ে আছে মানুষের একাকিত্ব ও নিঃশব্দ পোড়ন। “প্রিয়ংবদা রাত” মানে এক অতীত, এক হারানো রমণী বা সময়। কবির ভাষা রূপক এবং সুররিয়াল–যেখানে তাপের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি, বিলয় ও পুনর্জন্মের চিহ্ন জেগে ওঠে।
“গুহা ধীরে বলে পড়ছে নজরানা
হে পবন কণা, হে আকাশ সামিয়ান…/ঠোঁটেরা উড়িয়ে দিচ্ছে রক্ত ভাঙ্গা ও গান।” [অঙ্গার]। নিজেকে মিথ ও দহন-জগতের মাঝখানে স্থাপন করেন। মেঘ, পাখি, কৃষ্ণচূড়া, ধান—সবই রক্ত, বৃষ্টি, দগ্ধতা ও জীবনের প্রতীক।
“রক্ত ভাঙা ও গান” — এটি এক দ্বান্দ্বিক প্রতীক। ধ্বংসের মধ্যেও সৃষ্টি, ব্যথার মধ্যেও সংগীত।
অঙ্গার হয়ে ওঠে জীবনদর্শনের অনিবার্য ভাষা—সবকিছুই জ্বলছে, কিন্তু সেই আগুন থেকেই কবিতা জন্ম নিচ্ছে। “বাদক এখন তোমারও যে বংশ গেল…/তোমাকে তো ভাবিনি মানব, /ভেবেছি অভিজ্ঞান।” [শাশ্বত]। সরাসরি সময় ও উত্তরাধিকারের প্রশ্ন তোলে। “বাদক” স্রষ্টা বা শিল্পী যার বংশ নিঃশেষ হলেও তার অভিজ্ঞান (legacy) বেঁচে থাকে। কবি প্রশ্ন করেন: সৃষ্টির শিকড় কোথায়?
মানব বা ঈশ্বর নয়—কবি শিল্পকেই ‘অভিজ্ঞান’ হিসেবে কল্পনা করেন।
ভাষা এখানে দার্শনিক ও প্রতীকী; প্রতিটি শব্দ যেন অগ্নি-অপরাহ্নের কণ্ঠস্বর।
“মাছের সভ্যতা ছেড়ে চলে এসেছি
তৃণের এপারে/ পিচ্ছিল অন্ধকারে… /অসংখ্য গোলাকার ঠোঁট।” [বিবেচনা]
মানবজাতির বিবর্তন ও চেতনার ট্র্যাজিক রূপ উন্মোচিত।
“মাছের সভ্যতা” ইঙ্গিত করে জীবনের প্রাথমিক রূপ থেকে মানুষের উত্তরণ। কিন্তু সেই উত্তরণও পরিপূর্ণ নয়—“অন্ধকারে বসে আছি ধকধকে ঘা নিয়ে সূর্যালো পাশাপাশি।” “অসংখ্য গোলাকার ঠোঁট” — জীবনের লালসা, পুনর্জন্ম ও কামনার রূপক।
আবে রওয়া (রিজিয়া রহমানকে উৎসর্গিত) কবিতা।
“কামকোষে কর্ষণ করছি তীব্র ত্যাগ ও তরবারি…/ওরে আবে রওয়াঁ, জটাবাঁশকুল/ আর পাথরের বন/
নেত্রকোনা থেকে নিমতলী, হারানো/ হরপ্পা নগর…” নারীর শরীর, ইতিহাস ও ভাষার পুনর্নির্মাণ। কাম ও কর্ষণ পাশাপাশি দাঁড়ায়—প্রেমের ভেতরেও শ্রম, সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়।
কবি নিজের দেহকে “হারানো হরপ্পা নগর” বলেন—যেখানে ইতিহাস, লিঙ্গ, ও মিথের সংমিশ্রণ ঘটে।
রিজিয়া রহমানকে উৎসর্গ করার অর্থই এই: নারী-লেখন, স্মৃতি, ও মাটির ধারাবাহিকতা। শেষে “মেষদের সাদা সাদা পা” — এক নিষ্পাপ কিন্তু ত্যাগময় প্রতীক—জীবনের চূড়ান্ত সমর্পণ।
এ গ্রন্থের কবিতাগুলির ভাষা চিহ্নভিত্তিক, বহুরূপী ও দগ্ধ। এখানে যৌনতা, প্রকৃতি, মৃত্যু ও মহাজাগতিক প্রতীকের মধ্য দিয়ে কবি জীবনের গভীরতর অর্থ খোঁজেন। তিনি নারী ও মানব—উভয়ের কণ্ঠে কথা বলেন। তাঁর কবিতায় সময় হলো আগুনের সময়, শরীর হলো সৃষ্টির ভাষা, আর শব্দ হলো আত্মার প্রতিধ্বনি।
শামীম আজাদের কবিতায় শব্দ এক জীবন্ত সত্তা, যার ভেতর দিয়ে তিনি তৈরি করেন অর্থ, সুর ও অনুভবের জগৎ। তাঁর শব্দের বৈশিষ্ট্য হলো পুনরাবৃত্তি ও প্রতিধ্বনি—যা কবিতাকে দেয় সংগীতধর্মী আবহ। শব্দ কখনো আগুনের মতো জ্বলে, কখনো জলের মতো বয়ে যায়। তিনি শব্দকে শুধু যোগাযোগ নয়, এক প্রকার ধ্যান ও উপাসনা মনে করেন। পুনরাবৃত্ত শব্দের ভেতর দিয়ে জন্ম নেয় ছন্দ, আর ছন্দে মিশে যায় তাপ, প্রেম, ও মহাজাগতিক বিস্ময়। তাঁর কবিতা তাই শব্দের ভেতরেই খুঁজে ফেরে আত্মার ভাষা।
শামীম আজাদ সেই কবি, যিনি প্রবাসের মেঘের নিচে থেকেও বাংলাদেশের রোদ্দুর বহন করেন। সহাস্য, সদালাপে মগ্ন থেকেও ধ্যানের গভীরতায় গিয়ে জ্যোতির্ময় শালুক কুড়ান। তাঁর কবিতা মানবিকতার অক্ষরে লেখা জীবনপত্র। নারী, প্রেম, দেশ ও ভাষা—এই চার উপাদানের সমবায়ে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সাহিত্যভুবন।
“ভালোবাসা মানে পৃথিবীর সমস্ত দুঃখকে বুকের ভেতর রাখার সাহস।” এই সাহসই তাঁর সাহিত্যকে মহীয়ান করে, মানবিক করে। তাঁর জন্য অনন্ত শুভকামনা। তাঁকে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও লেখার ইচ্ছে জাগরুক রইলো।






অজ্ঞাত এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল