১) দুর্গাপুর
শীতঘুম দুপুরে আমি বা এই ঘুপচিশহর
পাতা উল্টে ছুঁয়ে দেখেনি কেউ কাউকে
মাঝে পাতা এক মজবুত নাগরিকবেড়া
জমে জমে ক্রমে অজেয় দুর্গ রচে গেছে
রাতশেষে সে অন্যের রোমাঞ্চনগরী হবে
আমি কেবলই যথাযথ স্নেহার্ত উত্তরসূরী
অলি-গলির চকমকি টানে উচ্ছন্নে যাওয়া
আধোগল্প এই আয়ুর রেখায় বাঁধা পড়েনি
ইঁদুরছুট বিকেলঘ্রাণ সাবাসীর আড়ালে
বিটনুন-জামে চাখা ভুলের অবকাশটুকু
উপড়াচ্ছিলো পরমতৃপ্ত নৃশংসতায়
শুভাকাঙ্খীবৃন্দের সহবত তর্জনি-নিচে
কিছু জখম তবু কি অনিবার্য ছিলো না!
খন্দপীড়িত রাস্তারা জানে সেই সব আঁচড়েরা
ফেটে পড়তে পারে বিষাক্ত কার্বাঙ্কলের মতো
যে কোনো মূহুর্তে, পৌরসভার নিকাশিতন্ত্র
ঠোঁটে-আঙুল ইশারায় যা ঠেকায় প্রাণপণ
আর সম্পর্কবটের শিকড়ে
নিজেদের নিংড়ে দিতে দিতে
এই শহরতলী ও আমি শপথ করি
একে অন্যকে জাপটে ধরবো না আমরা
কক্ষনো
২) শিরোনামহীন
মেষপালক দলবল নিয়ে ফিরে গেলো
এ প্রান্তে আঁধার ঘনাতে এখনও দেরি
সমীক্ষায় উপেক্ষিত কিছু সংখ্যা
ল্যান্ডমাইনে সাজানো সীমান্ত
বেয়ে বেয়ে ঘরে ফেরে রোজ
ফেরেনা কখনো
নবযুবার আত্মাভিমানের চেয়েও ভঙ্গুর সে পথে
এদের দেহরস, লোহা নয় বারুদে রচিত,
রক্তের বেশি বন্যাপ্রবণ
ধূসর তারায় ঝিকমিক করে পেলেটের ক্ষত
গ্রামে গ্রামে ধোঁয়া ওঠা মকাই রুটির উনোন জ্বললো
পড়শি নদী রোষসলিলে তখনও ফুঁসছে
কিছু পরে এই উচ্ছ্বাসেই ভাঙা চাঁদ
আরো ভেঙে ভেঙে আলোয় আঁকা জাফরি হবে
আর নগরীর অলি-গলি কান ও নাক উপচে
আসবে ঘোলাটে, শিকড় উপড়ানো জল
এ সবই মনগড়া বায়বীয় প্রবণতা
হাঁটুজল ভেঙে থমকানো এক অন্য আকাশতলে যারা নিজেদের ভেসে যাওয়া লাশে খুঁজে চলেছে
তারা আজও চিৎকার করে বলতে পারেনা
ভাষাহীন মুখে বিভ্রান্ত ভাঙনের নাম বিতস্তা





অজ্ঞাত এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল