নেশার নামগুলো আসলে তোমারই প্রতিশব্দ

তোমাকে প্রথম ডেকেছিলাম
মারলো;
নাকি সেটাই ছিল আমার জিভের ভেতর
ধীরে গলে যাওয়া এক লাল অন্ধকার?

শ্যার্দনে;
এই নামের ভেতর তুমি কতটা ছিলে
আর কতটা ছিল আমার ভুলে যাওয়া শরীর
তা আজও নির্ণয় করতে পারিনি।

হুইস্কি;
আমি এই শব্দটি উচ্চারণ করি না,
শুধু গিলে ফেলি,
যেমন গিলে ফেলেছিলাম তোমার নীরবতা,
এক শীতল আগুনের মতো।

শ্যাম্পেন;
তোমার হাসি নয়,
বরং ভেঙে পড়া কাচের ভেতর আটকে থাকা
বুদবুদের আর্তনাদ!
যা ফেটে ওঠার আগেই মৃত্যুকে অনুশীলন করে।

অ্যাবসিন্থ;
সবুজ এই শব্দটি আমার চোখের ভেতর জন্ম নেয়,
যখন তুমি বাস্তবতা থেকে সরে গিয়ে
একটি বিভ্রমের বিছানায় শুয়ে পড়ো।

আমি এখন আর নামগুলো মনে রাখি না,
নামগুলো আমাকে মনে রাখে।

প্রতিটি উচ্চারণের নিচে একটি করে শরীর চাপা পড়ে আছে,
কেউ নারী,
কেউ নেশা,
কেউ কেবল অনুপস্থিতির দীর্ঘ ছায়া।

রাত গভীর হলে
আমি নিজের ভেতর ঢেলে দিই একটি অনুবাদহীন পানীয়,
তুমি সেটিকে ভালোবাসা বলে ডাকো,
আমি বলি;
এটা কেবল ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাওয়ার আরেকটি কৌশল।

সকাল হলে
আমাদের ঠোঁটে কোনো স্বাদ থাকে না,
শুধু কিছু ভাঙা শব্দ,
যেগুলো একসময় ছিল;
মারলো, শ্যার্দনে, হুইস্কি, শ্যাম্পেন, অ্যাবসিন্থ
এখন তারা আর কিছুই নয়,
শুধু তোমার দিকে না-পৌঁছানো আমার অসম্পূর্ণ উচ্চারণ।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending