একটি দাঁড়কাক ও কাকতাড়ুয়া
একটি দাঁড়কাক বসে আছে কাকতাড়ুয়ার ফসিল মস্তকে,
শূন্য মাঠজুড়ে নেমে আসে নিঃশব্দ ধূসর বিকেল,
মাটির গায়ে লেগে থাকে সময়ের শুকনো ক্লান্তি,
দিগন্ত যেন ভাঙা আয়নায় প্রকৃতির বিকৃত মুখ।
ঘাসের ফাঁকে জমে থাকে অদেখা দিনের অবশিষ্ট নিঃশ্বাস,
হাওয়ায় পোড়া স্মৃতির গন্ধ, পুরোনো ঋতুর ছাই,
কেউ আর হাঁটে না এই পথ ধরে; পথই হারিয়েছে গন্তব্য,
প্রহরগুলো থমকে যাওয়া বিধ্বস্ত ফসলের মতো নিস্তব্ধ।
সময় এখানে আর প্রবাহিত হয় না, শুধু জমে থাকে স্মৃতি,
একেকটা মুহূর্ত পাথর হয়ে চেপে ধরে পরবর্তী মুহূর্তের আদল,
বৃষ্টির প্রতিশ্রুতি শুকিয়ে যায় আকাশের ভেতরেই,
আর সূর্য ওঠেনা, শুধু অন্ধকারে প্রতিশ্রুত বিস্ময়!
তবু দাঁড়কাক বসে থাকে, এক অনড় সাক্ষী,
তার চোখে প্রতিফলিত প্রতিদিনের অনন্ত সীমানা,
কাকতাড়ুয়া দাঁড়িয়ে আছে নিজেরই শূন্যতার পাহারায়,
আর বাতাস লিখে রাখে পরিত্যক্ত পৃথিবীর নিঃশব্দ ইতিহাস।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান