আমাদের শান্তিকুঞ্জ
তেত্রিশ বছর ধরে স্বপ্নে প্রাপ্ত এই কবিতাটি
আমি লিখছি এক অদৃশ্য আলোর পথে ছুটতে ছুটতে
শূন্যতার দাবানলে পুড়তে পুড়তে আমি লিখে যাচ্ছি
মানব বিনাশী এক দানবিক রাহুর বিরুদ্ধে ;
আপনি মানুষ হলে কবিতাটি একবার পড়ুন।
বিশ্বাস করুন, এটা কোনো গল্প কিংবা কল্পকথা নয়–
আমার আত্মার মর্মে ধর্মমূলে অবিরাম চলা
লেলিহান আগুনের এক অন্তহীন সত্য রূপ:
একই পাতিলে রান্না করা ভাত-মাছ- মাংস খেয়ে
ওরা তিনজন এক খাটে এক বিছানায় শুয়ে
কী বন্ধনে পরস্পর জড়িয়ে ধরেছে! অপরূপ
চিত্রকল্পে কী সুন্দর মধুরতা! ওরা তিন শিল্পী
ঘুমের ভেতরে এক হয়ে অভিন্ন স্বপ্নের জন্য
কাল থেকে মহাকালে অবিচল গভীর প্রত্যয়ে
ঘুমিয়ে ভেতরে ওরা ধর্মকুঞ্জে গুঞ্জরিয়া গায়
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই —
মানুষ যদিও মরে মানবতা কখনো মরে না।
বাইরে তখন বজ্রধ্বনি – – তুমুল বৃষ্টির মধ্যে
মুহুর্মুহু মেঘের গর্জনে কেঁপে ওঠে বাড়ি-ঘর ;
বিপন্ন সুন্দর যেন ভয়ংকর ধ্বংসের সম্মুখে ;
ঘুম ভেঙে গেলে পর আসন্ন মৃত্যুর কথা ভেবে
আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওরা পরস্পর আঁকড়ে থাকে–
ওরা তিনজন : ডান পাশে শ্রীবুদ্ধের অনুসারী,
বাম পাশে শ্রীকৃষ্ণের সনাতনী একান্ত প্রেমিক,
আর মাঝখানে? — চির শান্তিপ্রেমী দ্বীনের ফকির।
তখনো গভীর ঘুমে তিনজন ঘুমিয়ে রয়েছে ;
সুবেহ-সাদিকে আস্তে আস্তে বৃষ্টি ঝড় থেমে আসে;
হঠাৎ রুটিন মেনে পাশের মসজিদ থেকে
মুয়াজ্জিন আজান ফুকারে; দুজনকে দু’ পাশে
আলতো করে সরিয়ে মাঝের বেনামাজি মুসলিম
অন্ধকারে একা নীরবে বিছানা ছেড়ে উঠে এসে
নামাজে দাঁড়ায়; যথাযথ নিয়মে নামাজ শেষে
আবার নিঃশব্দে এসে শুয়ে পড়ে স্নিগ্ধ বিছানায় ।
ওরা তিনজন তিন পথে এক স্বর্গ খুঁজতে খুঁজতে
অতঃপর তৈরি করে একটা শ্বাশত শান্তিকুঞ্জ।





Leave a Reply