মায়ার গভীরে অঙ্কুর
তোমার পায়ের কাছে নতজানু অনুশোচনার বিষাদ,
জরির নকশা আঁকা আঁচল ছুঁয়ে ভিখারির মতো কাঁদে নিঃসঙ্গ প্রহর;
রক্তাক্ত শিলাখণ্ডের ক্রোধ থেকে তোমাকে আড়াল করতে
আমি বাষ্প হয়ে উবে গিয়েছিলাম অনন্তের নীলিমায়।
মৃত কি জীবিত—তা নয়,
শুধু তোমার অন্ধ গহ্বরে ধ্বনিত স্পন্দনটুকু শুনতে চেয়েছি;
কার গলিত কঙ্কাল ভাসিয়ে দিলে বিস্মৃতির নর্দমায়?
কার পদচিহ্ন মিলিয়ে গেল গোধুলির অগ্নিচুল্লিতে?
রাজবংশগুলো এখন জেগে ওঠে তাদের পুরাতন পাথুরে সিংহাসন ছেড়ে।
আমি তো রৌদ্রতপ্ত বেদির পাশে
শরীরহীন এক কামনাহীন পুজোয় মেতেছিলাম,
অনুভব করেছিলাম ভূগর্ভের শিকড়ে শিকড়ে
চেতনার পা ডুবিয়ে দেওয়ার ধূসর হাহাকার।
তবু তোমার সম্মোহনে জেগে উঠে
নক্ষত্ররোগের মতো ছড়িয়ে পড়ছে আমার বিষণ্ণ রক্ত।
কারাগারের চার দেয়ালে এখন আমার অপেক্ষা,
জ্বলে থাকা দুই করতলে ঢেকেছি নিদ্রাহীন লজ্জা;
একবিন্দু শিখার সামনে রেখে জুড়িয়ে নিতে চাই ক্লান্ত স্নায়ু।
আমি এক আদিম, শ্যামল অবয়ব—
অন্ধকার অলিন্দে রক্তলোভী পরাগের মতো
তোমাকে আত্মস্থ করতে উদগ্রীব;
তবু অনন্ত মুক্তি পাই, যখন তোমার পলকে জ্বলে ওঠে রূপের সাগর।
তোমার অভিশাপে জীর্ণ আমার অস্থিমজ্জা,
তুমি নিশ্চল, নিথর রক্তমাংসের দেবী—
তোমার উর্বরতায় আমার প্রণতি, তোমার স্তনবৃন্তে রেখেছি ওষ্ঠের আশ্রয়।
আমি তো বিশ্বাস করেছিলাম অবিনশ্বর আত্মায়,
তাই জ্যোৎস্নার শীতল রাতে চিবুকে চিবুক ছুঁয়ে
উদ্দাম জলতরঙ্গে তোমাকে ভাসিয়ে দিয়ে বলেছিলাম:
গর্ভ থেকেই প্রতিটি মানুষ সমান, চিরন্তন এক পরিচয়ে লীন।





মন্তব্য করুন