মুক্তিযোদ্ধা কখনো মরে না
এই সময়কে ধিক্কার,
এই সমাজকে ধিক্কার।
যে সময় একজন মুক্তিযোদ্ধাকে
দিনের আলো থেকে কেড়ে নিয়ে
মধ্যরাতের অন্ধকারে দাফন করতে শেখায়,
সেই সময়কে ধিক্কার।
যে সমাজে
একজন ৮৭ বছরের বৃদ্ধের লাশ
ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকে,
আর প্রতিবেশী যুবকেরা কোদালের বদলে
মুখ ফিরিয়ে নেয়,
সেই সমাজকে ধিক্কার।
কোথায় ছিলে তোমরা,
হে গ্রাম?
কোথায় ছিলে তোমরা,
হে ইতিহাসের উত্তরাধিকার?
যখন তিনজন নারী —
একজন স্ত্রী, একজন কন্যা, একজন বোন —
কাঁপা হাতে মাটি খুঁড়ছিলেন,
তখন তোমাদের পুরুষত্ব কোথায় ছিল?
তোমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোথায় ছিল?
তোমাদের মসজিদ-মন্দিরের মাইক কোথায় ছিল?
তোমরা যারা তাকে ‘ভুয়া’ বললে,
তোমরা কে?
কে দিলো তোমাদের সার্টিফিকেট দেওয়ার অধিকার?
একাত্তরে তোমরা কোথায় ছিলে?
তোমাদের জন্মেরও আগে যে লোকটি
গুলি আর আগুনের সামনে দাঁড়িয়েছিল,
তাকে বিচার করার স্পর্ধা তোমরা কোথায় পেলে?
রাষ্ট্র,
তোমাকেও ধিক্কার।
তুমি একজন বীরকে
দিনের আলোয় গার্ড অব অনার দিতে পারলে না।
তোমাকে পুলিশের পাহারায়,
চোরের মতো, রাত দেড়টায়
তোমার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে মাটি দিতে হলো।
এ লজ্জা মানিক পশারীর নয়,
এ লজ্জা আমাদের।
এ লজ্জা এই সময়ের,
এ লজ্জা এই সমাজের।
মাটি তাকে নিয়েছে,
কিন্তু ইতিহাস তাকে ছাড়বে না।
তিনি সাক্ষী ছিলেন,
তিনি সাক্ষ্য দেবেন
আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা
কখনো মরি না,
একদিন না একদিন জেগে উঠবো
জয় বাংলার কাক ডাকা ভোরে।





মন্তব্য করুন