ছবি 

ব্রতী মুখোপাধ্যায়

পলাশ বলল, ছবিটা দারুণ হয়েছে, না, মা?
প্রতিমা শুনল, তার মুখের মাংসপেশীতে চাপ পড়ল। একটু থেমে ভাবল কিছু। কী বলবে ভেবে পেল না। ছবিটির দিকেও ফিরে দেখল না। 

ছোট থেকেই ছবি আঁকে ছেলে। ঘরের মেঝে ঘরের দেয়াল, কোত্থাও বাদ দিত না। সূর্য, পাহাড়, গাছ, বেলুন, ঘুড়ি, নৌকা, পাখি। ছোট্ট ছোট্ট সব। বাপ কোনোদিন পছন্দ করত না। রং পেন্সিল কিনে দিতে চাইত না। স্কুলের জন্যে যতটুকু দরকার হত তার বেশি কিছুতেই না। এদিকে ছেলে স্কুল থেকে ফেরার পথে গাছের ছায়া যে আল্পনা সাজিয়ে রাখে তার দিকে তাকিয়ে থাকত। বাড়ি ফিরে স্কুলড্রেস না ছেড়েই রাফ খাতায় পেন্সিল নিয়ে বসে পড়ত। প্রতিমা ছেলের আবদার উড়িয়ে দিতে পারেনি। ড্রয়িং টিচারের কাছে পাঠাতে শুরু করে, তখন ক্লাস থ্রি।

পল্লবীও শুনল, তবে কাল রাতে যে নভেলটা ধরেছে তার ১৫৩ পৃষ্ঠায় সে এখন, সেখানেই মগ্ন রইল, অন্য দিকে মন দেয়ার ইচ্ছে নেই তার।

“হোয়াটসেপে ঝুমকি হঠাৎ দেখতে পেল ছবির পর ছবি। সুজনদা পাঠিয়েছে। মন্দারমণির সমুদ্রসৈকতে সূর্য রং ছড়িয়ে অস্ত যাচ্ছে। চুমকি। কাগজের ভাষায় যাকে বলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি। ঝুমকি ধরতে পারল সুজনদা ব্ল্যাকমেল করতে চাইছে। বোঝা যায়নি জানোয়ারটাকে। বোনের দিকেও থাবা বাড়িয়েছে।”
প্রতিমা আড়চোখে দেখল ছবির দিকেই ছেলের মুখ, উঠে পড়ল তারপর।

নতুন ছবি, শেষ করেছে কালই। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লক্ষ্য করছে গলার কাছে শেডটুকু নিখুঁত হয়েছে কিনা, ছবিটা কাল থেকে মাথায়, দাঁত দেখিয়ে হাসি,হাসিটি আরও খানিক ম্লান লাগলে ভাল। রোদের রং, শুকনো ছায়া। 
পলাশ তখনও ছবির দিকে চেয়ে। ভাল্লাগছে না। তুলিতে কি রং বেশি ছিল? হাতটা কি নড়ে গিয়েছিল? প্রতিমা জানে কিছুতেই তৃপ্ত হয় না ছেলে।সাধারণত এসব সময় প্রতিমাই ছবির তারিফ করে। বলে, দারুণ হয়েছে, পল। এখন কিছুই বলল না। ভিকিরি ভিকিরি বাচ্চা। পলাশ যদিও খুব শার্প করে তুলেছে। একেবারে জ্যান্ত। এমন লাগছে যেন প্রতিমাদের বাড়িরই অনেকখানি জায়গা দখল করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও ভিকিরি ভিকিরিই তো। 

পলাশের দাদুও পলাশকে পল বলে ডাকে। পাড়াতুতো দাদু। পলাশের ঘরের দেয়ালে ফ্রেমে বাঁধানো ছবি আছে দাদুর। মাথাভর্তি চুল। ঠোঁটে রহস্যময় হাসি। রহস্যের ছোঁয়া চশমাহীন চোখেও। ব্যাকগ্রাউন্ডে আবছায়া রং। 
“ঝুমকি ভাবছে আর ভাবছে। সুজনদার হাত থেকে চুমকিকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। শেষ অব্দি তার সঙ্গে সুজনদা কেমন আচরণ করবে ধরা যাচ্ছে না। ঝুমকির ভুরু দুটি কুঁচকে গেছে, ঘন ঘন নিশ্বাস পড়ছে। সে সুজনদাকে কল করল। কল ডিক্লাইন্ড সঙ্গে সঙ্গে।”

এইসময় জানলায় ছেলেটির মুখ। জানলায় ছেলেটি মুখ বাড়িয়েছে। নিজের হাতে জানলার পর্দা সরিয়ে মুখ বাড়িয়েছে। পলাশ তাকে ঘরের ভেতরে ডেকে নিল। চেয়ারে বসিয়ে মাকে বলল, দুটো মিষ্টি দাও। 

এই কথায় পল্লবীর মনোযোগে বিঘ্ন ঘটেছে। সে জানে ভাই কোন চুলো থেকে এটাকে জুটিয়েছে। সে নভেল থেকে মুখ তুলে বলল, আজ আবার এসেছিস? আগের দিন তো ক্রিম বিস্কুট খেলি। বড় লোভ, না?

খোঁড়া জমিদারের মজা পুকুর দক্ষিণের ন্যাশানাল হাইওয়ের দিকে, সেই অব্দি পল্লবীদের পাড়া। তারপর বাঁশঝাড় যার পেছন কয়েক ঘর ডোম। বাঁশ-বাখারির কাজ করে, দুর্গাপুজোয় কেউ কেউ ঢাক নিয়েও দিনকয়েকের জন্যে বায়না খাটতে বেরিয়ে পড়ে। কারো ঘরে হাঁস-মুরগি আছে, কারো ঘরে ছাগল। তবে এদের কেউ শ্মশানের ডোম না, মানে এদের কেউ মড়া পোড়ায় না। বাচ্চাটা সেখান থেকে আসে। আসে মানে ভাই-ই তাকে ডেকে আনে।ডেকে আনে মানে ছবি আঁকার জন্যেই ডেকে এনেছে। কী যে পেয়েছে ওই হাড়গিলে চেহারার ভেতর!

ছেলেটি এমনিতে কথা বলে না, মানে কমই বলে কথা।
প্রতিমার কথাগুলো ভাল লাগল না, এভাবে বলছিস কেন? বেচারা বিস্কুট নিতেই চায়নি। জোর করে হাতে গুঁজে দিয়েছি। 
পল্লবী থামল না, ভাইএরও বলিহারি। ছবি আঁকার আর সাবজেক্ট পেলি না?

পলাশ এসব শুনছিল না। ছবি রেখে ছেলেটির চিবুক তুলে ধরে চেয়ে রইল চোখদুটোর দিকে। চোখের তারা কালো। বড়ো মায়াবী চোখ। সময়সময় সজলও। 

পল্লবী আবার শুরু করল, আদিখ্যেতা থামা, ভাই। বস্তির বাচ্চা। জামাটা দেখ। নোংরা। বোতাম-টোতাম ছেঁড়া। 
পলাশ বলল, মা! ফ্রিজে তো মিষ্টি আছে?
ফ্রিজে মিষ্টি ছিল, গতকালই আনা হয়েছে। গতকাল একাদশী ছিল। প্রতিমাকে মেনে চলতে হয়। 
প্রতিমার ভ্রূ কুঁচকে গেল, এইবার কিন্তু বাড়াবাড়ি হচ্ছে। 

পার্থ হঠাৎ চলে যাবার পর এই সংসারের যাবতীয় দায়দায়িত্ব তার। পার্থ রেলে ছিল, রোজগার ভাল ছিল। এখন পেনশন আর মেয়ের টিউশিনি। মেয়ের বয়েস হয়েছে। সবসময় তিরিক্ষি মেজাজ। প্রতিদিন কিছু না কিছু নিয়ে। পার্থ পাত্রের সন্ধান করছিল। এক জায়গায় কথা এগিয়েছিল অনেকটা। মেয়ে রাজি হয়নি। প্রতিমা ছেলেমেয়ের ইচ্ছে-অনিচ্ছের ওপর জোর দিতে পারে না, কারো ওপরই জোর দিতে পারে না। 

পলাশের মুখের দিকে ছেলেটির চোখ। তার বড়ো অবাক লাগে। ভাবে কেমন করে শাদা কাগজে রং আর তুলি নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলা করতে পারে। সে নিজের ঘরের উঠানে কাঠি দিয়ে দাগ টেনে দেখেছে। হাঁস, মুরগি আনতে চেয়েছে। মন বলেছে এসেছে। চোখ বলেছে কিচ্ছুই হয়নি। একটি মোরগ তার বিশেষ পছন্দ। পছন্দ যে, তার মন বলে মোরগটিও বুঝতে পারে। ছুটে পালায় না। দেখতে এত সুন্দর— লাল, শাদা, খয়েরি, আর পা দুটোয় হলুদ লেগে। 

ছেলেটি খুব রোগা। সে এবার চেয়ার থেকে উঠে পড়ল। লম্বা লাগছে বেশ। পলাশ মনে মনে জরিপ করছিল। ভাবছিল ফ্রেমের ভেতর মাথাটা হয়ত একটু ছোট হয়ে গেছে। 

পল্লবীর এবার আরও ঝাঁঝ, তুই কেন জানলায় উঁকি দিস রে? মুখ খুলল ছেলেটি, ছবি।
ছবি? রং। ভাল লাগে রং। ছবি ভাল লাগে।

১৬৯ পৃষ্ঠার পর পল্লবীর আর পড়া হয় না, ইচ্ছে হয় না পড়তে। 
ভাল লাগে রং। ছবি ভাল লাগে। পল্লবী ভেতর থেকে চমকে ওঠে। এই কথাগুলি মৃন্ময়দার। এ বাচ্চা এসব কথা শিখল কেমন করে? মৃন্ময়দা রং-তুলির মানুষ না। কবিতা নিয়ে থাকে। বলে, কবিতায় না ছবি আছে। কবিতায় ছবি আছে পল্লবী বুঝতে পারে না। তার ভাবনা মৃন্ময়দার ছোট বোনটার বিয়ে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আশ্চর্য! বোনটার নাম ছবি। তবে সে খুব সুবিধের মেয়ে না। অ্যাথলিট। রানার। স্টেট মিটে পারফরমেন্স ভাল। চিন্নাইয়ার সঙ্গে ফেঁসে রয়েছে। চিন্নাইয়ারা তেলুগু। ছেলেটা তাকে ঝুলিয়ে রেখেছে। ছবি শাড়ি পরে না। সবসময় লাহেনগা, তেলুগু মেয়েদের ড্রেস। পল্লবী ১৬৯ পৃষ্ঠায় ময়ূরের পালক রাখে। মার্কার হিশেবে ব্যবহার করে ময়ূরের পালক। বইটা সাইডে রেখে দেয়। ভাইএর ছবিটা দেখবে বলে টিউব দুটো অন করে। তারপর বলে, কার না কার ছবি এঁকেছিস?
ছেলেটি বলে, আমার।
তোর? ধ্যাত! তোর সঙ্গে মিলই নেই।
না। আমার ছবি। আমার। 
ধ্যাত! তুই কিচ্ছু বুঝিস না। 

ছেলেটি পলাশের দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে অনেকক্ষণ। 

এমন সময় হাঁটতে বের হয় দাদু। সূর্য কলাইকুন্ডার স্কাই লাইন ছোঁবে ছোঁবে। জানলায় দুজনকেই দেখা যায়। দাদু বলে, এই যে পল! কদিন ধরে আসছো না। আসবে না, নাকি?
লোকটাকে পল্লবী সহ্য করতে পারে না। অপছন্দ তার স্বরে, পলকে আপনার কী দরকার? পল কেন আপনার ঘরে যাবে?
দাদুর ওই রহস্যময় হাসি, বলে, এমনিই
আস্তে করেই বলে। গলাটা কেমন মিইয়ে গেছে মনে হয়। 
পলাশ বলে, যাব।
পল্লবী চেঁচিয়ে ওঠে, যাবি না।
পলাশ বলে, কেন?
পল্লবী আর কথা বাড়ায় না। প্রতিমা জানলার কাছে আসে, যাবে। যায় তো। 

হার্ট অ্যাটাকের আগের রাতেও ছেলের সঙ্গে তুমুল হয়েছে, সারাক্ষণ ওই হাবিজাবি ড্রয়িং। কত করে বলছি সিরিয়াসলি পড়। বি টেকে কেউ সাপ্লি পায়?
তুমুল হয়েছে বটে, অমন তুমুল বাপ-বেটায় বহুবার হয়েছে। প্রতিমার মনে হয় হার্ট অ্যাটাকের কারণ আলাদা। 

পার্থ যেদিন থেকে জানতে পেরেছে পল্লবীর রিলেশনের কথা, ভেতরে ভেতরে আহত হয়েছে। প্রতিমাকে বলেওছে, ছেলেমেয়েকে এখন কিছু বলা যায় না। মৃন্ময় যেমন তেমন, ছোটখাটো সরকারি চাকরি। এখন তো দেখছি একটা পাঞ্জাবি ছেলে বন্ধু হয়েছে। পাঞ্জাবি ছেলেটার খোঁজ নিয়েছি। বাপের ধাবা আছে হাইওয়ের ধারে। কাকার পেট্রোল পাম্পের ব্যবসা। ফ্যামিলিতে লেখাপড়ার চল নেই। মেয়ে তোমার কী করবে ভেবে ভেবে আমার রাতে ঘুম আসে না। কারো বাড়িতে টিকতে পারবে না। সবকিছুই আলাদা। শ্যাডো শ্যাডো লাগে, ছবিটা একবারও স্পষ্ট দেখা যায় না। তোমার মেয়ের খামখেয়ালি ছেলেদের ফ্যামিলি সবসময় মেনে নেবে ধরে নেব কেন?

প্রতিমা চুপ করে শুনেছে। মেয়েদের আজকাল এইরকম রিলেশন হচ্ছে। কিংবা কিছুই বলা যায় না। মৃন্ময়ের সঙ্গে কি ব্রেক আপ হয়ে গেল? মৃন্ময় অনেকদিন আসেনি। পাঞ্জাবি ছেলেটি এসেছিল। তেজপাল। সুন্দর চেহারা। দাড়িগোঁফ নেই। মাথায় পাগড়ি নেই। মাথার চুল বাঙালিদের মতো। অনর্গল বাংলা বলতে পারে। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছে। যাবার সময় বলেছে, আপনাকে আমার মায়ের কাছে নিয়ে যাব। মার সঙ্গে কথা বললে আপনার নিশ্চয় ভাল লাগবে।

ছেলেটি ইজেলের দিক থেকে চোখ সরাচ্ছে না। সন্দেহ হচ্ছে তারই ছবি কিনা। পরক্ষণেই মনে মনে বলছে, আমার ছবি। আমার নয়ত কার আবার?আমিই তো উঠানে রোদের মধ্যে কতক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম, একটুও নড়িনি, আমাকে না নড়তে বলেছিল, দু-একবার উঠে এসে মুখটা সোজা করে দিয়েছে,আঙুল দিয়ে মাথার চুল এলোমেলো করে দিয়েছে, মাথার চুল ইলেকট্রিকের খাম্বার ওপর পাখির বাসার মতো লাগছে। তবে শাদা-কালো ছবি। লাল নীল রং দেয়নি, দিতে পারত নিশ্চয়। দিলে সে আরও চমকিলা লাগত। 
মিষ্টি মুখে দিয়ে ছেলেটি বলল, জল খাব।
জল?
পল্লবী যেন ভয় পেল। বলল, জল ঘরে গিয়ে খাবি যা।
তেষ্টা লাগছে।
বললাম তো ঘরে গিয়ে যত ইচ্ছে জল খাস।
মা বলে, কেউ জল চাইলে না বলতে নেই। বললে মরুভূমে…
শাট আপ!
পল্লবীর সহ্য হয় না।

পলাশ এক গ্লাস জল এনে দেয়। ছেলেটি গ্লাস হাতে নিতেই প্রতিমা বলে ওঠে, উঁচু করে খা।
ছেলেটি বলে, উঁচু করে খেতে পারি না।
প্রতিমার খুব রাগ হয়। ছেলেকে বলে, কী আরম্ভ করেছিস তুই?
চুমুক দিয়েই জল খায় ছেলেটি। পল্লবী বলে, তুই আর আমাদের ঘরে আসবি না।
ছেলেটি বলে, কেন?
কেউ উত্তর দেয় না। পল্লবীর প্রতিমার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, তুমি ভাইকে কিছু বলবে না?

পলাশ ছেলেটির হাত ধরে বেরিয়ে যায়। যায় পাড়াতুতো দাদুর বাড়ি। দাদু অবাক হয়, কাকে নিয়ে এসেছ, পল?
পলাশ জবাব দেয় না। ড্রয়িং রুমে গালচের ওপর বসে পড়ে। ছেলেটিকে বলে, দেয়ালে তাকিয়ে দেখ, ছবি।

বলার আগেই ছেলেটির চোখে পড়েছিল। ঘোড়া। সবুজ ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে ছুটছে, ক্ষুর থেকে ধুলো উড়ছে, লেজটা বাঁদিকে একটু বেঁকে, উজ্জ্বল খয়েরি রং, মুখে শাদা ফেনা, একটা পা সম্পূর্ণ দেখা যাচ্ছে না। ছেলেটি বলে, খুব জোরে ছুটছে, না?
পলাশ বলে, দাদু, তোমার কম্পিউটারে মাতিসের ছবিগুলো ওপেন করো। 
ইয়ং উওম্যান, হ্যাপি গার্ল, হ্যাপি ফ্রেন্ডস ইন সামারটাইম, দ্য ওপেন উইন্ডো… 
ছেলেটির চোখে বিস্ময়ের ঘোর। ছবির থেকে চোখ সরে না। দেখতেই থাকে। 

দাদু পলাশের কাছে এসে বসে, মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে তার গালে আলতো করে চুমু খায়। ছেলেটি লক্ষ করে, মুহূর্তটি তার মাথায় অল্পক্ষণই থাকে। তার মাথায় মাতিস— সবাই যেন ভেসে বেড়াচ্ছে, কথা বলছে, শব্দ হচ্ছে সম্ভবত, সম্ভবত আস্তে আস্তে কথা বলছে কেউ


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending