নারী
তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায়
যেভাবে দেখেছি, তার থেকে বেশি দেখা যেত বুঝি?
যে-চোখ জেনেছে স্রেফ রতিমুগ্ধতার
দৃশ্য, আর যে-দৃশ্যের কুয়ো
গাঢ় অন্ধকার হয়ে ধরে আছে মৃত, শান্ত নারী,
তাকে পার করা যেত দেখা না-দেখার খেলা বেয়ে?
বলা সোজা নয়, যাকে ভূমি ভেবে কৃষিপরিসর
সবল পুরাণ জুড়ে লিপিবদ্ধ করেছে আদিম,
যাকে সমীক্ষার নীচে বারবার পেয়ে
কখনও বা মাতৃগর্ভ, কখনও বা স্ত্রী-বিরাগ, আয়ু,
কখনও বসন্তসেনা নির্মাণের মৃচ্ছকটিকম্
হয়েছে বিপুল, আর, মুহুর্মুহু মুহূর্তের মোহ
ধরে নিয়ে গেছে শব্দ; স্তব্ধতার ডিঙিনৌকা তাই
বয়ে যাচ্ছে, বয়ে যায়…
দৃশ্য জানে দ্রষ্টা তো সীমিত।
যেটুকু জেনেছি, তার থেকে বেশি জানা যেত আর?
কেউ তাকে প্রমা বলে, কেউ বলে অপরা, অথচ
সে তার রন্ধনশালা থেকে উঠে যেই
গিয়েছে হাওয়ায়, আর সারা ব্যোম ঘি-এর সুবাসে
জ্বলে গেছে; বৃষ্টি হয়ে গাঢ় অন্নজল যেই আজ
প্রবল নেমেছে, মাথা ভিজে গেছে কোটি পুরুষের।
আর প্রজ্ঞা ক্ষুধা হয়ে জরাকাল করেছে আবৃত।
বলো, এর চেয়ে বেশি বোঝা যেত, জানা যেত আর?
নরক কোথাও নেই, নেই কোনও স্বর্গীয় বাগান।
শুধু অধোগতি, শুধু ঈশ্বরের হাস্যকর ভ্রমে
শূন্যে খসে পড়ে আছে আদমের অতিরিক্ত হাড়।





এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান