যে দেশে মানুষ অন্ধ

না, আর হলো না দেখা সোনালী যুগের ওই নদী —
যে নদী পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে যায়
ফসলের মাঠে আর চুল খোলা বঁধুয়ার খাটে।

না, আর হলো না ফেরা সুফি রবীন্দ্রনাথের গানে —
যে গানে ধানের শীষে সুর তুলে দক্ষিণা হাওয়া
ঘরে ঘরে জনে জনে বিলি করে নবান্নের ঘ্রাণ।

না, আর হলো না গান বসন্তের সবুজ জোছনার;
যে জোছনার আলো মাখা অন্ধকারে নীরবে দাঁড়িয়ে
‘ও আমার দেশের মাটি! তোমার পরে ঠেকাই মাথা ‘
প্রাণ খুলে গলা ছেড়ে এই প্রিয় গান গাইতে গাইতে
আবার নতুন আলো চোখে জ্বেলে কবরখানার
ভূতুড়ে গ্রামীণ পথে বাড়ি ফিরে মায়ের আঁচলে
পরম নিশ্চিন্তে শুয়ে নিরাপদে একদিন ঠিকই
পৌঁছে যাবো নাম গোত্র বর্ণহীন শান্তির বাড়িতে।

না, আর তোমার জন্য লিখতে গিয়ে প্রেমের কবিতা
আমি কি বোকার মতো প্রশ্ন লিখে এমন ভাষায় —
যে দেশে মানুষ অন্ধ সেই দেশে সূর্য কেন ওঠে,
মানুষ কিসের টানে ঘর ছেড়ে বেশ্যালয়ে ছোটে,
অন্ধ কেন লাঠি হাতে পুষ্পরথে বৃন্দাবনে যায় ?
জেলে বসে লিখতে যাবো আমার না লেখা সেই অসমাপ্ত
আত্মকথা খোলা চিঠি কয়েদির নিষিদ্ধ বচন!

আমার হলো না আর পথে নেমে তোমাকে পাওয়া,
যে তুমি রক্তের দেশ তক্ত দোষে নিরুদ্দেশে হাওয়া !


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Trending