শিকড়ের পঁচিশ বর্ষপূর্তি: সাহিত্য-ভুবনের এক নীরব বিপ্লবের জয়যাত্রা
শিকড় সাহিত্য পত্রিকার জন্ম ১৯৯৮ সালে যদিও তার বয়স ২৭ পেরিয়ে এসেছে। কিন্তু নানা জটিলতায় ২৫ তম বার্ষিকী উদযাপন সময়মত করা সম্ভব হয়নি। তাই আমরা এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছি আগামী বছর ধরে নানা কর্মসূচীর ।
শিকড় সাহিত্য পত্রিকার জন্মলগ্ন ১৯৯৮ সালের জুলাই মাস। সময় যেন নিরবধি বহমান স্রোতের মত। তেমনই এক স্রোতের আবেগময় সন্ধিক্ষণে জন্ম নিয়েছিল শিকড় সাহিত্যপত্রিকা। শিকড় এক চেতনাপ্রবাহ, এক শিল্প-আন্দোলনের নাম। কালের স্রোতে সে ইতোমধ্যে সাতাশ বসন্ত অতিক্রম করেছে, কিন্ত কোভিড সহ নানা বাস্তবতা ও জটিলতার কারণে যথাযথ সময়ে পঁচিশ বছরপূর্তির উৎসব উদযাপন সম্ভব হয়নি।
আমরা এবার শ্রদ্ধাভরে উদযাপন করতে চলেছি শিকড়ের পঁচিশ বছরপূর্তির গৌরবোজ্জ্বল মাহেন্দ্রক্ষণ। আমরা আগামী বর্ষব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য বিষয়ক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই মাহেন্দ্রক্ষণকে মর্যাদায় অভিষিক্ত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
নব্বই দশকের শেষভাগে বাংলা সাহিত্যে এক নবজাগরণের আবাহন ঘটিয়েছিল শিকড়। একদল উদ্যমী, সৃজনপ্রেমী তরুণ ও অভিজ্ঞ সাহিত্যসাধকের সম্মিলিত প্রয়াসে শিকড় হয়ে উঠেছিল সাহিত্যের একটি প্রাজ্ঞ মঞ্চ, যেখানে শব্দের শরীরে ধরা দিত সময়ের আর্তনাদ, হৃদয়ের আহ্বান ও জাতিসত্তার আত্মদর্শন। সে সূচনার পথে যাঁরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তাঁদের মধ্যে উজ্জ্বল হয়ে আছেন: ফারুক আহমেদ রনি (সম্পাদক), মোস্তাফিজ শফি (সম্পাদক, বাংলাদেশ), লোকমান আহমেদ, মুজিব ইরম, ফয়সল নোই, আলফ্রেড খোকন, দিলু নাসের, ফকির ইলিয়াস, সাইফ উদ্দিন আহমেদ বাবর, ফারিদা ইয়াসমিন জেসি, কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার, দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, বদরুল চৌধুরী, টোকন ঠাকুর, আবুল কালাম মাহমুদ, শাহ আল মামুন, শাহ আল মাসুদ রানা, মাশুক ইবনে আনিস, আবু মকসূদ, আসাদ মান্নান, আতাউর রহমান মিলাদ, শিহাব শাহরিয়ার, শামিম শাহান, কাজল রশিদ, সরকার আমিন, শোয়াইব জিবরান, কবি দিলওয়ার, জফির সেতু, শাহনাজ মুন্নি, সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, আবদুল গাফফার চৌধুরী, নাজমুল হোসেন, শামীম আজাদ, সালেহা চৌধুরী, চন্দনকৃষ্ণ পাল, মোস্তাক আহমদ দীন, তমিজউদ্দিন লুদি, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, জিয়া উদ্দিন, মাহবুব লীলেন, ইকবাল হোসেন বুলবুল এবং আরও অনেকে, যাঁদের নাম একে একে সংযোজিত হবে শিকড়ের কালেরএই মহাকাব্যে।
উল্লেখ্য যে, শিকড়ের উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন প্রয়াত আবদুল গাফফার চৌধুরী ও সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। বর্তমানে শিকড়ের সাথে যুক্ত হয়েছেন আরো অনেক কবি ও সাহিত্যিক, আর তাদের মধ্যে অন্যতম সাদিয়া নাজিব, কাবেরী মূখার্জী, পিয়াল রায়, আতিকা হাসান, কামরুন নাহার, নাজমুল হেলাল, সাহেদ কায়েস, মজিবুল হক মণি, জান্নাতুল নাইম, হাফসা ইসলাম, তিথি আফরোজ, মোহাম্মদ ইকবাল, শামীম আহমদ, খাতুনে জান্নাত, রুমকী আনোয়ার, শাহনাজ পারভীন, মধুমিতা দত্ত, তপন রায়, মিলি দাশ, জাসমিনা খাতুন, ফারহানা খানম, রওশান হাসান, প্রিয়াংকা বন্দোপাধ্যায়, জাকিয়া রাহমান, নীলা নিকি খান, সালমা বেগম, দেবাশীষ চক্রবর্তী, ফারজানা মোসুমি, মাশরুরা লাকী, ধনঞ্জয় দাশ, সেলিনা আখতার খান, জুয়েল রায়হান, শামীম আহসান আহমেদ কবির, ফয়জুর রাহমান ফয়েজ, নাজনীন খলিল, উদয় শংকর দূর্জয় ও জুয়েল রায়হান।
এই সাহিত্যমঞ্চের অঙ্গনে যে আন্তঃপ্রজন্ম সংলাপের দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল, তা অদ্যাবধি বহমান বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, ইউরোপ তথা বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষী কবি ও সাহিত্যিকদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন নির্মিত হয়েছিল, যা শিকড়ের অন্যতম সাফল্য।
আদি সম্পাদকীয়…
প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ আর ওপার বাংলা বলে খ্যাত ভারতের পশ্চিম বঙ্গের পরে সবচে’ বেশি বাংলা ভাষাভাষি মানুষের বসবাস আমাদের এই বিলেত ভূমিতে। এপার ও ওপার বাংলার পরে আমাদের অনুভবে ও বিশেষণে যা এখন ‘তৃতীয় বাংলা’। বাঙালি এখানে শক্ত শিকড় গেড়েছে সুদীর্ঘকাল। আর এবার আমাদের হাত দিয়ে অভিষেক হলো আরেকটি শিকড়- এর।শিকড় প্রোথিত হলো বিলেতের বাংলা সাহিত্যের জীর্ণতাক্রান্ত অস্থিমজ্জায় শক্তি ও সাহস যোগানোর অনিবার্য ভূমিকায়। প্রবাসে নানা প্রতিকূলতা আর বিভিন্ন…
বাদের সমস্যার সংগ্রামে, সমাজ, সংগঠন জরাগ্রস্থ বিবেক আর বৈষম্যের ভেতর দিয়ে শিকড় তার মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরবে প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হয়ে। অর্থ সময়ের সাথে টেক্কা দিয়ে আমরা বিবেকবান, সচেতন পাঠকের হয়ে আজ এবং সুন্দর আগামীর অঙ্গীকারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বদেশ মাটির টানে নুয়ে পড়া আত্মার ঐশ্বর্যই হচ্ছে শিকড়।আমরা এ বোধেই পত্রিকাটি প্রকাশে অনুপ্রাণিত হয়েছি। কতটুকু সফল হতে পারবো সে বিচার পাঠকেরাই করবেন। পাঠকেরাই নির্ণয় করবেন শিকড়ে- এর ভবিষ্যৎ এবং কোনদিকে প্রসারিত হবে এর শাখা-প্রশাখা। আমরা আমাদের দপ্তরে এ ব্যাপারে উন্মুক্ত মতামত পাঠানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
শুরুতেই আমাদের প্রয়াস রয়েছে শিকড়ের মাধ্যমে বিলেতের সাথে স্বদেশভূমি বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি সংযোগ সেতু স্থাপনের। তাই প্রথম সংখ্যার একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে স্বদেশের লেখা। যা সম্পাদিত হয়েছে ওখান থেকেই। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের অবস্থানরত বাঙালিদের সাথেও আমাদের সংযোগ সেতু স্থাপিত হবে। সে প্রয়াসও নেয়া হয়েছে প্রথম সংখ্যাতেই।
আমরা আশা করছি, বিলেতে বিলেতে সৃজনশীল পাঠক এবং লেখক সৃষ্টিতে শিকড় একটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে। আমরা এই সাহসী আয়োজনে ব্রতী হয়েছি বিশেষ করে শক্তিমান লেখক ও সাহিত্যকদের অনুপ্রেরণায়। একইভাবে শিকড় এর প্রাণ ছুঁয়ে আছেন প্রতিশ্রুতিশীল নবীন এবং উদীয়মান লিখিয়েরাও
যাত্রা শুরুতেই আমরা ঘোষণা দিচ্ছি শিকড়- এর ইন্টারনেট প্রকাশের। শিগগিরই আমরা অনলাইন ওয়েভের মাধ্যমে প্রতিমাসে বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষিদে ঘরে পৌঁছে দেবো শিকড়- এর বিশেষ বিশেষ লেখাগুলো।
সকল প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে শিকড় যাতে সৃজনশীল পাঠক ও লেখকের চাহিদা পূরণে সচেষ্ট হতে পারে, সকল টানাপোড়েন ডিঙিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে- সেইজন্যই আমরা সকল মহলের কাছে সহযোগিতা চাইবো। শুভেচ্ছা – সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি নিষ্ঠাবান সকল মানুষ, বিজ্ঞাপনদাতা, লেখক -যাদের জন্য আমাদের যাত্রা হলো শুরু।
ফারুক আহমেদ রনি
সম্পাদক






অজ্ঞাত এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল