Powered by
WordPress
  • জাসমিনা খাতুন

    সেই মেয়েটি তোমাকে ছুঁয়ে দিচ্ছিতবু তা যথেষ্ট নয়, প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয়তোমাকে ভালোবাসা যেন এক মহাকাশযাত্রাঅতল শূন্যতায় ভেসে বেড়াই আলোকবর্ষের পর আলোকবর্ষ,তবু তোমার মনের এক কণা ছুঁয়ে শেষ হয় না এই যাত্রা। তুমি গ্যালাক্সির মতো অসীম,প্রতিটি স্পর্শে আমি নতুন গ্রহের সন্ধান পাই,তোমার নিঃশ্বাসে সুপারনোভার উষ্ণতা,তোমার হাসিতে ধূমকেতুর উজ্জ্বল অগ্নিপুচ্ছ! আমরা কি তবে এক আকাশগঙ্গার দুই…

  • জাকিয়া রহমান

    নারী দিবসের কথা ‘মা’ থাকে জীবন জুড়ে চিরকাল!কবরের কাছে মাথা ঠেকে, অশ্রুতে একাকার কতজনসে মা! সেও এক নারী!মায়ের কথা মনে করেপুরুষেরা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে না নাকি?সেটা কি শুধু একটিই দিন? প্রিয়তমা সেও তো এক নারী!মন জুড়ে থাকে, দেহের সাথে আত্মা লেপটিয়ে-যতদিন সে পৃথিবীর বুকে চলতে পারে, নয় কি?প্রতি প্রহরে মুহূর্তে সে এক বিশ্বস্ত সঙ্গী,তোমার স্ত্রী…

  • খাতুনে জান্নাত

    স্বরূপ বিষণ্ণতা বড়ি ছাড়া ঘুম আসে না।কতোজন উপদেশ দেয় অভিজ্ঞান ঝুলি ঝাড়েআমি যেন ছোট সোনানেমে গেছি পুকুরে প্রথম শিখতে সাঁতার!বাধ্য-খুকু শুনে যাইলিখে রাখি নাম আপন খাতায় । কেন অধীনতা ঘুমের বড়ির কাছে? স্বাধীনতা স্বাধীনতা করেসমাজ নদীর জল কম করিনি তো ঘোলা! নারীত্বের অধীনতা ভেঙে ভেঙেমানুষ বাকল জড়িয়েছি গায়।মাড়িয়েছি আঙ্গুল ইশারাধমকে দেখাতো যারা পথতাদের পথের মুখে…

  • জান্নাতুল নাইম

    সাধারণ জ্ঞান এ বোধ তো কঠিন কিছু নয়।কমন সেন্স আর স্বাভাবিক মাত্রার জ্ঞান মাত্র।তুমি তো বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী নারী।এতোটুকু বুঝতে না পারার মতো অবোধ তুমিহতে পারোনা এই ডিজিটাল যুগে। দেখো তোমারই আন্তঃশক্তির প্রজ্বলন ঘটছে কারো অন্তরে,কারো স্নেহ-বেদনায়, কারো প্রণয় আকাঙ্ক্ষায়।মানবিক কারণের চতুর্মুখী আবর্তনে তোমার জ্বালানীতুমি না বুঝেই ব্যবহার করছ যত্রতত্র।তুমি প্রজনন ক্ষমতার হিরো প্রসব ব্যথার…

  • গৌতম যুথিপুত্র

    হত্যা-লগ্ন সম্ভূত চলছে আমার বিচারসভা, অনেক গুণীজনের ভীড়,কর্ণ কেন নীরব যখন টানছে কাপড় দ্রৌপদীর!কর্ণ কেন নীরব ছিল! নয় কেন সে প্রতিবাদে!রাজপরিবার উল্লসিত যাজ্ঞসেনীর আর্তনাদে।নীতিকথার জ্ঞানসাগরে বীর-মহাবীর সবাই চুপ,সেই সভাতেই দেখছে ভারত, যাজ্ঞসেনীর নগ্ন রূপ!কর্ণ কেন নীরব ছিল! মৃত্যু শ্রেয় তার চেয়েও…উঠে দাঁড়াই বিচারসভায়,কর্ণ আমি, রাধেয়।বিচার করুন হে গুণীজন, বিচার করুক এই সমাজ,নারীর কাছে কী পেয়েছে,…

  • সায়ীদা শামসী

    লক্ষ্মণরেখা ‘এর বাইরে যাবে নাভাঙবে না নিষেধের বেড়াজাল ‘এভাবেই কবে কোন শৈশবেলক্ষ্মণরেখা আঁকা হয়েছিলচারপাশে তার!তারপর থেকে আজ অবধিপরেনি পা কোনো সবুজে! সঙ্গীবিহীন সময়ে নিজেইনিজের সঙ্গে কথা বলা অবিরাম!বইয়ের পাতায় পাতায় কল্পকাহিনিরএক একটা প্রিয় মুখপ্রিয় বন্ধু হতো তার!সারাদিন কেটে যেতো তাদের সুখ দুঃখে! জানালার গ্রিলে মাথা ঠেকালেবাড়ির পাশে দীঘিটি দেখা যেতো!প্রায় বিকেলে একটি কিশোরদিঘীর স্বচ্ছ জলে…

  • সাদিয়া নাজিব

    ভাঙি অচলায়তন এসো আমরা কিছু পাথর ভাঙিভাঙি অচলায়তন ।দাঁড়াই যুগের সন্ধিক্ষণে ।জীবনের তরকারিতে স্বাদবর্ধক নুন ছিটিয়েপরিবেশন তো কম হলো না!এবার নাহয় একটু অন্যভাবে খাই ।নিজেকে পরিবেশন না করেএসো পরিবেশ বানাই ।অনেক তো হলো পুষ্পবন্দনাএবার নাহয় পুষ্পবনের আগাছা করি সাফমারি কিছু বিষধরবাহুতে রজ্জুর মতো ঝুলিয়ে রাখিগোখড়া কিংবা কেউটে ।আমরা তো প্রাচীন চাষীচাষ-বাস , ক্ষেতখামারির আদিম রক্ত…

  • সর্বানী পাল

    তুমি অনন্যা প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি তুমি হে নারীতুমিই বলতে পার, আমি সব পারি।অসম সাহসী হয়ে দাও পাড়ি মহাকাশেপাহাড় চূড়ায় বিজয় পতাকা ওড়াও অনায়াসে।তোমার হাতে কখনো দেশের শাসন ভারবিজয়িনী তুমি কিছুতেই মানো না হার।নির্ভয়ে তুমি মহাসাগর সাঁতরে হয়েছ পারকোনো বাঁধাই রুখতে পারেনি গতি তোমার।শিক্ষিকা হয়ে তুমি জ্বালাও জ্ঞানের প্রদীপখানিসমাজসেবিকা হয়ে দূর কর সমাজের গ্লানি।চিকিৎসা ক্ষেত্রে তো…

  • অরুণ কুমার দাঁ

    আমি চাইনি মেঘ তুমি কাঁদছো কেনআমি তো বৃষ্টি চাইনি। রোদের মধ্যে বড় হচ্ছে আমাদের যৌবনফুটপাতে পাতা আছে শতরঞ্জিবুকের মধ্যে পাথর নিয়ে কেটে যাচ্ছে দিন। ফুল ফোটার শব্দে ঘুম ভাঙেতবুও ফুলকে নিজের মতো করেপাইনি আজও! উদার-আকাশে যারা ওড়ে,সব কিন্তু পায়রা নয়শকুনও জ্বেলে রাখে চোখ!

  • ইয়াসিন আশরাফ

    তার কান্নার ধ্বনি শিশিরও শুনেছে তার কান্নার ধ্বনি।কেঁদে কেঁদে শুধিয়েছে, সাঁকোগুলো ভেঙে কী করে ডুবিয়েছিল অজস্র শোণিতে!তারাদের রূপে আগল লাগিয়ে করেছিল চুরিঘরের ভিতরে সযত্নে গুছিয়ে রাখাঅতলান্তিক মণি মুক্তোগুলো।বেশি দূরে কেন যাওকাছেই তো রয়েছে দূরের জানালানিজের ভেতর থেকে সরিয়ে দাও পাথরগুলোসে জেগে জেগে দুঃস্বপ্নের ভেতর স্বপ্ন দেখার পাঠ নিয়েছে রোদ্দুর থেকেআর তাকে ঘিরে রচিত হয়েছেআরেক জীবন্মৃত…

  • রানা জামান

    নারী পুরুষ পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নারী দিবসমার্চের তারিখ আট,নারীর প্রবেশ অবাধ করতেখুলো সকল ঘাট। নারী মাতা ভগ্নি বধূরক্ষা করে ঘর,উন্নয়নে নারীর সম্মানহাতটা টেনে ধর। নারী থাকলে পিছে পড়েপিছে থাকবে দেশ,এমন ভাবে চলতে থাকলেদেশের ভাগ্য শেষ। দেশের কাজের সকলে স্তরেনারী বসে যাক,উন্নয়নের জোয়ার বইতেসকলে কাজ পাক। নারী পুরুষ পাশাপাশিকরবে সকল কাজ,আসুন সবাই দৃঢ় হাতেশপথ করি আজ।

  • শিকড় সাহিত্য পত্রিকার কবি পুত্ররা লাভ করলেন এবার সমধারা সাহিত্য পুরস্কার

    লন্ডন থেকে শিফন মিয়া আগামী বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় রাজনীতি, অর্থনীতি ও সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ। ’’কবিতার শক্তি, কবিতায় মুক্তি’’ এ শ্লোগানকে ধারণ করে সাহিত্যের কাগজ সমধারার উদ্যোগে সম্প্রতি বাংলাদেশের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান মিলনায়তনে ‘ইপসা-সমধারা ১১তম কবিতা উৎসব-২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে সদ্য প্রয়াত কবি হেলাল হাফিজকে। উৎসবে দেশের ২ শত জন অগ্রজ ও অনুজ কবি-লেখক…

  • কবি আতিকা হাসান এবং গ্রন্থিত প্রহর

    কামরুন নাহার কবি আতিকা হাসান বর্তমান সময়ের একজন প্রতিভাবান লেখক যার লেখায় উঠে আসে জীবন যাপনের নানা গল্প। যিনি যাপিত জীবনের নানা গল্প ও জীবনকে দেখার নানা দৃষ্টিভঙ্গি তুলে আনেন তাঁর শক্তিশালী কলমের খোঁচায়। তিনি বহুদিন ধরে কবিতা লিখছেন, এ বছরই তাঁর প্রথম গল্পের বই ‘গ্রন্থিত প্রহর’ প্রকাশিত হলো এবং তিনি কথা সাহিত্যিক হিসেবে বাংলা…

  • “আমি”- সংক্ষিপ্ত পাঠ প্রতিক্রিয়া

    কবি আতিকা হাসান আলোচক: মোহাম্মদ ইকবালভূমিকা; আতিকা হাসানের কাব্যগ্রন্থ “আমি” তারুণ্যের দীপ্তিতে দীপ্ত, জীবনবোধের সূক্ষ্মতা ধারণকারী এবং আধুনিক বাংলা কবিতার এক সার্থক সংযোজন। কবিতাগুলোতে গভীর জীবনবোধ, ব্যক্তিক এবং সামাজিক অনুভূতির সংমিশ্রণ রয়েছে, যা পাঠকদের আবেগে আলোড়িত করে। কবির শব্দচয়ন, উপমা এবং ভাবনার গভীরতা তার কবিতাগুলোকে সাধারণ মাত্রা থেকে উচ্চতর শিল্পমানের স্তরে নিয়ে গেছে। এই গ্রন্থের…

  • ফকির ইলিয়াস

    অন্য গ্রহের গোলাপ আরেকটু বুক ঘেঁষে দাঁড়াও। আরেকবার স্পর্শকরো সংরক্ষিত পাঁজর। নির্মাণের আগুন নিয়েআমি পাড়ি নিতে চেয়েছি যে সমুদ্র, তুমি সেইজাহাজের সহযাত্রী ছিলে। ছিলে মৌন প্রহরী।পাখিরা যেমন সূর্যগুলোকে পাহারা দেয়-চাঁদকে যেমন গল্প শোনায় মেঘপালকেরা,ঠিক তেমনি পাশাপাশি হেঁটেই আমরা পাড়িদিয়েছি দীর্ঘ পথ। আর পাশের পর্বতগুলোকেপড়ে শুনিয়েছি আমাদের প্রাত্যহিক রোজনামচা। জীবন বর্ণময় এক অভিধানের নাম।পাতাখুললেইযে স্কেচচিত্র আমাদের…

  • সালমা বেগম

    ফাগুনে এক নতুন রঙ আজি ফাগুনে হঠাৎ পেলাম তোমায়,রঙে রঙ তাই ফুল বাতাসে দোলায়। আজি ফাগুনে এই প্রথম নতুন কোকিল ডাকে,বসন্ত তাই এলো বুঝি এই স্বপ্ন নদীর বাঁকে। পলাশ শিমুলের রঙে ধরেছে এই পিপাসু মনে,বসন্ত বাতাস দোলায় যেন আমায় ক্ষণে ক্ষণে। আমি তো ছিলাম কোন সে আঁধার পুরে,আচমকা এক সুবাহ রশ্মি ভরে দিগন্ত জুড়ে। আমার…

  • তমিজ উদ্‌দীন লোদী

    ভাষা , নদীর স্রোতের মতো ভাষা , নদীর স্রোতের মতোপ্রাচ্য থেকে প্রতীচ্যে বহমানযেমন মধ্যযুগের কবি আলাওলআরাকানের রাজসভায় বৃত হয়েছিলেন সৈয়দ সুলতানের পথে হেঁটেআরাকান জয় করেছিলেনবায়ান্নের ভাষাশহীদেরারক্তস্নাত পথে হেঁটে অনবদ্যবিশ্বে বৃত হলেন প্রতীচ্যের পথে পথে আজ বাংলা দৃশ্যমানট্রেনে , বাসে , বিদ্যালয়ে এবং সরকারি দপ্তরেবাংলা দীপ্যমান যেন শহীদদের অনাবৃত বুক থেকে গড়িয়ে পড়ারক্ত থেকে শত ফুল…

  • মজিবুল হক মণি

    একুশের গান ভাষার বিজয় বাংলা মা’কে দিলে তুমি উপহার,বিশ্বমাতার কন্ঠে পরালে রক্ত ঋনের হার।তুমি যে অমর চির ভাস্বর দুরন্ত দুর্বারভাষার বিজয়……..হার। কে বলে তুমি নেই আজ শুধু, ফুল সেজে আছো মিনারে,কে বলে তুমি আছো শুধু সেই প্রভাত ফেরীর বেনারেতুমি আছো আজ কোটি হ্রদয়ের গর্ব অহংকার।ভাষার বিজয়……. হার। তুমি যে বন্ধু শত জনমের শত কীরিতির মোহনা,তোমাকে…

  • তৌহিদ শাকীলের কবিতা

    এবার বলুন দেখি বাংলা ভাষা তাদের কাছে বিমাতা বা সতিন—ইংরেজীটাই সহজ আপন, বাংলা নাকি কঠিন!বাংলা ভাষার রীতিনীতি বাধায় নাকি গোল!তাই তারা চান পাল্টে দিতে বাংলা মায়ের বোল! অথচ এই বাংলা অধিক বিজ্ঞানসম্মত।ইংরেজীতে হাজার দ্বন্দ্ব বিরোধ কত শত!প্রমাণ যদি চাও কথাটা সত্য না কি মেকি,উদাহরণ কয়েক তবে চলো ঘেঁটে দেখি: believe এবং receive, দুটি শব্দে যদি…

  • সুরাইয়া চৌধুরী

    কৃষ্ণচূড়া ক্রন্দন সেই এক দিন ছিল কৃষ্ণচূড়া লালআকাশে উড়ত ঘুড়ি মেঘেদের পালরক্তলাল কৃষ্ণচূড়া পাতা বর্ণমালামাটির শক্ত শিকড় গাছ ডালপালাশব্দ অক্ষর বাক্যে প্রাচ্য কথামালা।চৈত্র আসার আগে এলো তো ফাগুনক্ষোভের শুকনো পাতায় জ্বললো আগুনঅশুভ শকুনচোখ বিষকালো হাতছড়ায় রক্তবৃষ্টি রোদজ্বলা পথেমায়ের মধুর বোল কণ্ঠরোধেরাজপথ লালে লাল মধ্যদুপুর।আমাদের প্রাণপ্রিয় তরুণ যুবাদুর্বার প্রতিরোধ কঠিন শপথতছনছ ছিড়েফেলে শিকল বাঁধনচলে গেল ছিন্নভিন্ন,…

  • জাসমিনা খাতুন

    আদুরে ভাত চারপাশে ঝলমলে আলো,চুল খোলা, টকটকে জিন্সে হাঁটে লক্ষ্মী প্রতিমা, দৃষ্টির তৃষ্ণা মেটে,কিন্তু শিরায় শিরায় জ্বলে প্রচণ্ড ক্ষুধা,নাড়িভুঁড়ির ভিতর হাহাকার। মা, যদি পেতাম এক বাটি খিচুড়ি, এক মুঠো পান্তা,তাহলে আমার হাসিটা সত্যিই ফুটত, হাসিটা মিথ্যে হতো না,বাবুর বাড়ির প্রতিশ্রুতি মতো। গিয়েছিলাম, কাঁপা কণ্ঠে চেয়েছিলামএক মুঠো ভাত, শুধু এক মুঠো নুন-ভাত..! বাবুরা বলল, “দেবো, আগে…

  • আতাউর রহমান মিলাদ

    এক রাতের যাত্রা শহরের অভিজাত ক্লাবে ঢুকে দেখিকোন মানুষ নেই,চতুর শেয়ালেরা ঝিমোয় টেবিলে,দিনকে বিক্রি করে যারা রাত্রি সাজায়।ব্যর্থতার গুচ্ছ গুচ্ছ অন্ধকার জমা,নির্জন,নীরব নির্বাসন। রাতের হিংস্র চোখে বাতি জ্বলে আর নিভেজ্যোৎস্নার শিশুরা ভাসে নিয়নের নিচে রাত্রি গাঢ় হলে,সময় ঠাহর করে রাস্তায় বেরিয়ে দেখি,ভগ্ন দালানের গায়ে হেলান দিয়ে শহরে নেশার ঘোর।পরিত্যক্ত ঘুম,ক্লান্ত কোলাহল,নিস্তেজ পরিবেশ।রাস্তার ওপারে ফুটপাথে শুয়ে…

  • শাহেদ কায়েস

    বিয়োগ চিহ্ন কেবলই শূন্য হচ্ছি, সময়টা এমনইআমার চেয়ে যেদিন লম্বা হবে আমার ছায়াবুঝতে হবে সূর্য না, অস্ত যাচ্ছি আমি বিচ্ছেদ থেকে বিচ্ছেদে যেতে-যেতেদূরের সম্পর্কে বিঁধে রয় অস্তগামী সূর্যসাতরঙ রোদ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে মনে কিছুই না, দূরে কোথাও বিয়োগ চিহ্ন উড়ে যাচ্ছ জলকণা, শ্রাবণের―ভাসমান দৃশ্যমান বিনীত স্ফটিক…পায়ের তলায় থাকুক আমার ছায়া।

  • খাতুনে জান্নাত

    খুঁজে নাও হে অমৃত শিল্পের শহরে আমি একা চোরাগোপ্তা কবিতা চরণতুমি আমাকে খুঁজছো চলমান বাতিস্টেজের শোবিজ, পত্রিকার সাহিত্য সংসারেআমি আজও অনিন্দ্য মুখর গ্রামের সরলপথে প্রান্তরে বাতাসের ঐকতানপাঠশালার মুখরতায় নামতার উচ্ছ্বসিত শিশুবেলাহাঁটতে হাঁটতে জমা করেছি শরীরভরা কাঁটার দগ্ধ উচ্চারণকদলী পাতার মতো নুয়ে আসে চোখ-গণতান্ত্রিক উল্লাসে হত্যায় উন্মত্ত জনতার হিংসায়আমাকে খুঁজো শব্দের সহিষ্ণু ব্যাকরণেপৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় জমানো শস্যের…

  • পিয়াল রায়

    কাঁটা কাঁটা থেকে খুব যত্নেফুলগুলো বেছে বেছে ফেলিএত টাটকা, এত তাজা দাঁত ফুলেরকিছুতেই যেন সন্ত্রাস ছড়াতে না পারেআমার নীল হৃদয়ে, সতর্ক থাকিআমার বিবেক কাঁটার যন্ত্রণায় বেঁচে থাকেসৃজনশীল থাকে… ব্যবসা তুলে আনে ঘরেধূপ, দীপ, নৈবেদ্যে তার প্রজাপতি ওড়েসমস্ত পাপ দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠেজানু পেতে দিইজবুথবু জ্যোৎস্নার ভিতর মহা কলরোল, মহা আড়ম্বরসোনার জলে ভেজা কাঁটার…

  • মোহাম্মদ ইকবাল

    লালসবুজের আলো দিনের আলোর মতোই মা বললেন,“ফিরিস সন্ধ্যার আগে,সময়টা ভয়ঙ্কর — যেনো বাতাসেরও প্রাণ নেই।”তাড়া থাকা সত্ত্বেও সন্ধ্যা ছুঁয়ে গেল হাটে।হাতে তখনও টুকরো টুকরো আলো;তড়িঘড়ি বাড়ি ফেরার পথে,নদীজলে কাঁপছিল চাঁদের রূপালী বিভা। চাঁদ — যেনো অনন্ত কোনো পাথরের ছায়া,তার নিচে ভেসে যাচ্ছেমানুষের ছিন্নভিন্ন দেহ।নদীর বাঁকে আটকে থাকা লাশ,তাকে ছিঁড়ে খাচ্ছে কটি বেওয়ারিশ কুকুর।দেখি,মৃত শরীরের স্মৃতিরাও…

  • কামরুন নাহার

    স্বাধীন বাংলাদেশ নীরব আঁখি পটে বেদনারা হাসেস্বামী হারানো নতুন বধূমেহেদির সাজে-জেনে যায় বিরহের সুরযেন এক ক্লান্ত বিবশ চোখে। কতটা স্মৃতি কাঁদালেমা কাঁদতে ভুলে যায়;তবু বিজয় উল্লাসেপতাকার সাজে নিজেকে সাজায়! কতটা পথ গেলে পরেকুঞ্জের দেখা মেলেযেথায় মালতী ঘরেপ্রিয়ার কবরে আজও ফুল সেজে রয়! কতটা কান্না এলে পরেমন মুছে দেয়পিতা হারানোর শোক। কতটা অশ্রুতেজামা ভিজে হয় একাকারসাথে…

  • সাদিয়া নাজিব

    একটি লাল উল্কি গণেশ পাইন যে চাঁদটিকেছুঁয়ে ছিলেন তুলিতেসে টি ছিলো আকাশের ও অধিক উচ্চতায়রমণীর ভ্রুযুগলের মধ্যভাগেপ্রজ্জ্বলিত এক আশ্চর্য প্রদীপ। পাললিক সভ্যতার নীলখামেএক ধূসর চিঠি উড়ে এলো যখনসাঁইজী অন্বেষণে নামলেন মনের মানুষের।হাত রাখলেন একতারায়চাইলেন অন্তরাকাশে। যুগ পরাহত চাঁদ কখনো কোনঠাসাকখনো নজরবন্দী।আট কুঠুরি নয় দরোজা বিভ্রান্তআয়নামহলেস্রষ্টা দর্শনে। আমি লক্ষণ রেখা টেনে দিয়েছিশিল্পের অবকাঠামোতে,ভাষার লালিত্যে এবং আবহমান…

  • রমিত দে

    মারাসিম ১ অনেকটা দূর থেকে কথা হয়েছিল আমাদের। অনেকটা দূর… এই ধরো, যেখান থেকে একটা ব্যাঙ অর্ধেক জলে পা ধুতে ধুতে ধুতে ধুতে বৃষ্টি হয়ে গেল। আমি ঠিকানা দিইনি জলবন্দী গেরস্তের, এখন দশমাস, ফুসফুসের ভেতর সব পা হারানো দিন এখন দশমাস অনেক দূর থেকে কথা হবে আমাদের। ২ ফিরে যাচ্ছে তুমুল নদী ফিরে যাচ্ছে কেমন…

  • অভিজিৎ দত্ত

    অভিজিৎ দত্ত’র দুটি কবিতা বোধ অপেক্ষার বদলে আমিবসাই ‘উপেক্ষা’ শব্দটিকে। আকাশ সচ্ছল,তার চতুর্দিকে নীল রংঘষে ঘষে ফিকে করে তুলি। হে প্রিয়, সমস্তই ভুলি,শুধু শব্দের মিতুল সখ্যেআমৃত্যু থেকে যেতে চাই সেই বোধ: জলহীন পরিখাপেরিয়ে এসেযেন আমাকে পোড়াতে পারেঅগ্নি নয়, সবুজ তৃণশিখা! পাগল হাওয়া ওই যে পাগল পাগল হাওয়ায়লাফিয়ে উঠছে কৃষ্ণচূড়ামনে হয় তুমিই আসছ। ওই যে ছাপিয়ে…