- Powered by
- WordPress
-
আলফ্রেড খোকন
পূর্বপরিচয়হীন একটি কোকিল কাহিনী একটি কোকিল উড়ে বসল আমার ডান হাতেপোষা টিয়ে পাখিটার মতবাম হাতকে আমি তখন কি করে বলব যেতার সাথে আমার কোনো পূর্বপরিচয় নাই! একথা কি বিশ্বাস করবে ওপাড়ার লোকে!আমিও তো তথাগতপুঁজিবাদীর বাড়িতে দাওয়াত খাই;যার সাথে আমার বিশ্বাসের কোনো মিল নাই! এখন ওই কোকিলটাকে বিক্রি করবউচ্চবিত্ত বন্ধুর প্রেমিকার কাছে- বারিধারায়সবজি বিক্রেতা যেমন পালং…
-
হাফসা ইসলাম
তোমার জন্য ভোরের রোদের নরম ছোঁয়ায়তোমার জন্য আলো হতে চেয়েছিলামভেজা বাতাসে শীতল স্পর্শস্নিগ্ধ আবরণে জড়িয়ে থাকাহৃদয়জুড়ে আন্দোলিত শিহরন। আমি শিশিরের কণা,তুমি আকাশের নীল বিস্তারস্নিগ্ধতার চাদর জড়িয়েবৃষ্টি হয়ে দুজনের গাঢ় অবগাহন।তুমি দমকা বাতাস,আমি নদীর স্রোত প্রবাহ, দুরন্ত উচ্ছ্বাস। কাছে এসেও দুজনার যোজন দুরত্ব,সময়ের অনন্ত ফাঁরাক,ভেঙেছে স্বপ্ন, শুধুই শব্দহীন আর্তনাদ।দুজন বয়ে চলেছি পাশাপাশিএকান্তে নিরবধিকিন্তু ছুঁতে পারিনি বুকের…
-
ফারহানা ইলিয়াস তুলি
শহরের জনজোসনায় আমাদের ভালোবাসা জেগে থাকে উড়ন্ত পাখির ডানায়বৃষ্টি নামে।পাতাগুলো জলে ভেসে যায়, ভাসে মানুষের চোখযে চোখ দিয়ে মানুষ পৃথিবীকে দেখে,অথবা কাঁদে,অন্যের ক্রন্দনের সহযোগী হয়।কবিতা জন্ম নেয়,সারি সারি দ্রোহের ভেতর। যারা বৃক্ষেরসারি দেখে এর ছায়াতলে-দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের প্রতিবিম্ব খুঁজেতারা জানে সাহসের অন্য নাম কবিতা, ত্যাগের অন্য নাম বেঁচে থাকার সংগ্রাম।আর কবিমূলত তার জীবন উৎসর্গ করে…
-
ফকির ইলিয়াস
যে জ্যোতিকে কালের সমীপে কে তুমি ঝড়ের বুকে লিখে যাও বিনয়ের গানফিরে পাওয়া জীবনের দুই তীরে সাজিয়ে বৈশাখঅধীনস্থ আলোগুলেো সেই সুরে বাজায় যে ঢাককে সাজে- কে সাজায়,জলঘোরে প্রেমের প্রমাণ।.চিরকাল ধরে রেখে যে জ্যোতিকে কালের সমীপেবলেছি,তুমিও থাকো পাশে পাশে বিজলী প্রভাতেহাঁটো,আর পথ চলো- সর্বজয়া স্মৃতিদের সাথেতোমাকে নিয়েই বাঁচি,যাই যদি অন্য কোনো দ্বীপে।.সেখানেও তোমাকেই ধারণের অভিজ্ঞান জেনেমহানন্দা…
-
শিহাব শাহরিয়ার
ছাপ্পান্নোর চিলচিলে আয়না ভিতরে বাজেআজও বাজে পাতার বাঁশিআজও নাচেশৈশব নাচে গাঙের কিনারেচোখের ভিতর রঙিন গামছাহাতে হাতে গুচ্ছ চুড়িকোথায় আমিকোথায় মেলাকোথায় হালখাতার খাতাটি? বৈশাখ কী এখন বটমূলে?নাকি চারুকলার দেয়ালে?‘এসো হে বৈশাখ’তা কী মধ্যবিত্তের আঁচলে? আমার বৈশাখ পড়ে আছেশাখা নদী, খোলা মাঠঘোড়দৌড়, গাঙ্গিখেলামুড়িমুওয়া, রোদ-বিকেলবাবার কাঁধ, ক্লান্ত পাআর ঘন সন্ধ্যার নিবিড়ে আহা মন শিরশির করাকৈশোরের প্রিয় বৈশাখ আমারআহারে…
-
জাকিয়া রহমান
গাজা! আমরা এখনো কবিতা লিখি চারদিক রক্তাক্ত! মানবতার হুমকি! চলছে মুণ্ডপাত!গাজার শিশুরা শিখলো না খেলা, ছড়া কি ধারাপাত! তবুও আমরা কবিতা লিখি!সূর্যাস্তে যখন আকাশ-রক্তিমা,সবার আঁখিতে জাগায় এক প্রেমের ছন্দ।মন ভাসে আজানা স্রোতের টানে,অনুভবে বাজায় রিনিঝিনিনিবিড়তার উপলব্ধি মৃদুমন্দ। গাজার আকাশে তখন কৃষ্ণ ধুম্রজাল- গর্জে বোমা,ভুলেছে সবাই পাখীর গান, নন্দিত গোধূলি রক্তিমা। তবুও আমরা কবিতা লিখি!পথে চলি…
-
তমিজ উদ্দীন লোদীর কবিতা
চারপাশে ঝুলে আছে লাজুক আকাশ চাপ এবং নাগরিক ক্লেদটুকু এড়িয়ে গেলেএই মেঘলা দুপুর বেশ উপভোগ্য – ব্যর্থতাগুলো নদীজলে ভাসিয়েকে ফেরাল ভালোবাসার অভিমুখমায়াপৃথিবীর এতোএতো মায়াকোথা থেকে খুব নিরিবিলি যেনবা স্বপ্নের ভেতরগায়ে এসে লাগছে মিহি পরাগের ছোঁয়াকানে এসে বিঁধছে বর্ষার ‘পিক’, বসন্তের ‘কুহু’চারপাশে ঝুলে আছে লাজুক আকাশ ! যেন এই মেঘলা দিন উড়ে যাচ্ছেসেই মেঘলা দিনের দিকেউড়ে…
-
সৈকত হাবিব
বৈশাখি কাব্য এই ঝড়ো জীবনআমাদেরতবু চাই ঝড়স্বপ্নমাখাসে ঝড় আসুকনতুন বৈশাখেতোমার আদর আরচুমোয় রাঙা
-
ফয়সল নোই
এক বর্ষা সন্ধ্যায় আজিজ মার্কেটের ঘটনা বারান্দা ছেড়ে ছোট্ট নর্দমা সৌখিন এক লাফে পার হয়ে—শেষ-মেশ একটি রিকশা পেয়ে গেল মেয়েটি;আঁধার বৃষ্টির সন্ধ্যা। মাঝপথে ক’ফোটা বৃষ্টি ধন্য হলোতাকে ছুঁতে পেরে! পিছে ভূত-চোখে চেয়ে আছে মুগ্ধ আজিজ মার্কেট দোকানের বইগুলো সুখে আছে আজ,জড়াজড়ি করে শুয়ে আছে র্যাকে। ঝড়-বর্ষার রাত, শাহবাগে বন্ধুরা কেউ নেই। মেসে ফিরে যেতে আজ…
-
শাহেদ কায়েস
হলুদ বিকেলের ঘণ্টাধ্বনি দেখি—অপরিচিত রাস্তার ধারেকিছুই না— শুধুই মানুষ… কণ্ঠে যন্ত্রের স্বর—বাঁ হাতের তালুতে অবশিষ্ট জীবনযেনবা হাওয়া-স্পর্শ শর্ষেফুল লাঙল চষা ফালা-ফালা মাটির কষ্টপড়ে থাকা একরাশ নীলউড়ে আসা একটা পাখি, হলুদ বিকেল দেখি—প্রবহমান রক্তের ভেতরকিছুই না, শুধুই জেদ…রোপিত নিভৃত শস্য, টায়ার-দলিত জন্মশবযাত্রার ফেলে যাওয়া ঘণ্টাধ্বনিতা-ও দেখি।
-
জান্নাতুল নাইম
এমনই তো হবার কথা ছিল কালো মেঘ দেখে ভেবে ভেবে অবাক হইবিচিত্র রংধনুর কী বিস্ময়কর সাতটা রঙ!সূর্যের পোলারাইজড আলোর ক্রমবিন্যাসেকিভাবে ভালোবাসারা উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে দেয়সুনির্মল আকাশের প্রান্তলাগা নিভৃত গায়। সেই মুহূর্তে সূর্যদেব যেন আলোক বিনয়ী হয়আর সদ্য স্নানরত বিনীত নম্র ভদ্র বায়ুমণ্ডলকেমন উৎসাহ নিয়ে তাতে শৈল্পিক সারা দেয়,রবির শিল্প দীপ্ত আলোর উৎসবমুখর খেলায়। নিত্য আমাদের এই…
-
মুজিব ইরম
দূর শহরের কবিতা ফুটেছে ম্যাগনোলিয়া বাগানে বাগানেপরের শহরে…ড্যাফোডিল এসেই যেন বলে গেলো যাই… কাঠগোলাপের দিনেচেরিফুল ফুটিবার দিনেআমারে পাঠিও ডাক শিমুলে পলাশে… তোমার শহরে আমি ফিরে যাবো একদিনজারুল ফোটার দিনেগেন্ডা ফুল ফুটিবার দিনে… তুমিও থাকিও ভালা এই আমি বিনেআমারে পাইবা তুমি পুষ্প ফোটা দিনে
-
হাফসা ইসলাম
অচেনাগল্পে… হাতে হাত রেখে হেঁটে যাবোআমাদের পথের জ্যোৎস্নায়,সুখের আঙিনায় যদি না হয় আশ্রয়দুঃখের ছায়ায়ই যেনো হয় ঠাঁই!কষ্টের রঙ ছড়িয়ে দেবো বাতাসে,চোখের জলে রাঙাবো আকাশ। কেন পুড়ে যাচ্ছো নিঃশব্দ অদৃশ্য অনলেহারিয়ে যাচ্ছো দুঃখের নীলাভজলে,নিজেকে দিচ্ছো জলাঞ্জলি?হারিয়ে যাচ্ছো অন্ধকারে,কেন ভেসে যাওয়া অজানার ঘূর্ণিপাকে?শোনো! তাকিয়ে দেখোরোদ্দুর ছুঁতে চায় আমাদের হাত,নতুন ভোরের আলোয়স্বপ্নেরা দরজায় কড়া নাড়ে,চলো হাতের মুঠোয় স্বপ্নপোষে…
-
জাকিয়া রহমান
চাঁদকে হাসতে দাও ঈদ আনন্দ মিশে আছে আজ,আগুন পোড়া গন্ধ হুতাসে।ছেয়েছে আকাশে বাতাসেআর আমাদের সবার নিঃশ্বাসে।তবুও ঈদের চাঁদ দেখ, হাসে –আনন্দের বারতা সকাশে,তোমার আমার ভুলে- এক হয়ে,কাঁধে কাঁধ মেলাবার উচ্ছ্বাসে। মিলি সব ঈদগাহে, মসজিদেদুহাত তুলে নামাজের শেষে,মোনাজাতে প্রতিজ্ঞা করি,ঘৃণা নয়, চলি ভলোবেসে। জানি ঘৃণা জন্ম দেয় ঘৃণার,সৃষ্টি করে হিংসা আর বিবাদ।সমাজ গোষ্ঠীতে আনে বিভেদ,নষ্ট করে…
-
মোস্তাক আহমাদ দীন
শেষ চুমুক পূর্ণ চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছেনিস্তরঙ্গ মাটির পেয়ালা।আকাশ-চাঁদের নিচে,গোল হয়ে বসে মনে হয়সমুদ্র নিকটে আরদূর-নক্ষত্রকে ডানাওয়ালা মাছেদের সাঁঝতারই মধ্যে কোনো কোনো মুখউঁচু-নিচু হয়ে চাঁদের আলোয় দেখি জ্বলেতখন গাছের পাতার ফাঁকে ঢেউগাছের পাতার ওপরনক্ষত্রের লাল লাল ফলমাটির পেয়ালা আর পাতা ও ফলের ছায়ায়আমার শেষতম রাতের চুমুক…
-
দ্বীনুজ্জামান চৌধুরী
ধর্ষণের চিৎকারে লেখনীর রক্ত ঝরে রাতে এখন ঘুমোতে পারি নাশিশুদের চিৎকারে ফাটল ধরা অন্তরআর্তনাদে কম্পিতসোনার বাংলার আকাশ পাতালরাজন, রাকিব, সায়মা, তনু, আছিয়াএমনকি কাশ্মীর থেকে ভেসেআসে আসিফার কন্ঠ“বাবা বাঁচাও… খেলা ঘরেরময়লা ফ্লোরে ভেঙে চুরমারসব রূপকথার গল্প;আমায় কোলে নাও বাবা…।খেলনায় লেগেছে রক্তের দাগনতুন খেলনা দাও না বাবা…” তন্দ্রা থেকে টেনে আনাএকটি Nightmare এর ভেতরজেগে আছিদু’চোখ বন্ধ করে…।আবার…
-
তৌহিদ শাকীল
স্বাধীনচেতা পিছিয়ে যাবো? কেনই বা ছিঁড়ে ফেলবো দিগন্তের আহ্বান?আমার তো অচঞ্চল প্রাণ!জানি আমি, সামনে এগোলেই মিলবে সেই কাঙ্ক্ষিত হিত,যে আলোর সন্ধানে ছুটেছি দুরন্ত স্রোতের বিপরীত,দগ্ধ পায়ের ছাপ রেখে কাঁপিয়ে এসেছি রুক্ষ প্রান্তরের ভিত। শূন্যতার নিঃশ্বাসে ভিজিয়ে দেবো প্রাণ? হেরে যাবো কোন বা ধোঁকায়?কোন ত্রাসে বলো আমার হৃদয় শুকায়?কেন তবে দাঁড়াবো বলো দ্বিধার গুহায়?আমি তো দেখেছি…
-
শিহাব শাহরিয়ার
কত দূর বাংলাদেশ? কত দূর আমার বাংলাদেশ?বঙ্গোপসাগরের কাছে কী?নাকি তেঁতুলিয়ার কাঁটাতার ঘেঁষামহানন্দার আয়নায় দেখা যায় তাকে? কত দূর আমার বাংলাদেশ?সুভলঙের নীল নির্জনে?নাকি সুন্দর বনের গোল গোল গোলপাতায়?তামাবিলের সবুজ আঁচলে?নাকি সোনাদিয়ার সোনালি পাখির পালকে? কোথায় আমার বাংলাদেশ?মহাস্থান, ময়নামতি, পাহাড়পুর নাকি চলনবিলে? কোথায় আমার বাংলাদেশ?বধ্যভূমি, স্মৃতিসৌধ নাকি শহীদ মিনারের লালবৃত্তে? বাংলাদেশ আমার মা।আমার মা লুকিয়ে থাকে—ব্রহ্মপুত্রের ঘুঙুরজলেতিস্তার…
-
জাকিয়া রহমান
স্বাধীনতা নামের এক রক্ত কুসুম বুকে তখন জন্ম নিয়েছে,‘স্বাধীনতা’ নামের এক রক্ত কুসুম!ধরার বুক কাঁপিয়ে- দোর্দণ্ড রোষে,উদয় হল দানবের দল-আকাশ-বাতাস করে ঝাঁঝরা প্রচণ্ড জুলুমহলো সূচনা – বিভাজিত করবে হৃদপিণ্ড বাঙালির-উপড়ে ফেলে করবে নিশ্চিহ্ন সে রক্ত কুসুম! সেই কুসুমের রেণুতে রেণুতে আপ্লুত,পাপড়িতে পাপড়িতে জয়গান রণিত-তোলে আরাধ্য ঝংকার, বাংলা আমার!রণিত কণ্ঠস্বর আকাশে বাতাসে তরঙ্গিতপদ্মা-যমুনায় উচ্ছলি উঠে হয়ে…
-
জাসমিনা খাতুন
চাপা স্বপ্ন ভগৎ সিং, লালা লাজপত রায়, চিত্তরঞ্জন দাসবিসমিল্লাহ খান, রানী লক্ষ্মীবাঈ ,যে যার গন্তব্যে হাসতে হাসতে মৃদুভাবে জ্বলছে।শহরের বাতি জ্বালিয়ে আমরাই ডুবে গেছি?আমরাই হারিয়েছি সেই স্বপ্নযার জন্য একদিন রক্তের দরিয়া পেরিয়েছিলাম?কথা ছিল এক স্বাধীন দেশের,যেখানে ক্লান্ত কৃষক মাঠের ধুলো মুছেশান্তিতে দু’মুঠো ভাত খাবে, বাড়ি ফিরে কাজ শেষে। কথা ছিল এক মেঘলা বিকেলে,পাঠশালা ফিরতি মেয়েবৃষ্টিভেজা…
-
কামরুন নাহার
বিজয় গৌরব বিজয় আমায় দিয়েছিলোএক ফালি বাঁকা চাঁদযার স্বল্প জোছনায়আমি স্বপ্ন বুনে যাই। কিন্তু হঠাৎ স্বপ্ন ভাঙে;কাকেদের কর্কশ স্বরেবাংলার ভুল উচ্চারণেবিজয়ের রাতেবিদেশী গানের সুরে। এভাবেই বুঝি বিজয়নিশ্চুপ হয়!আর হারাতে থাকে;তার স্বাধীনতা;বিজয় গৌরব গাথা।
-
আবু মকসুদ
অগ্নিবীণার রক্তপলাশ সে বাজায় বাঁশির কাঁথায় যুদ্ধের রাগিণী,প্রতিটি সুরে বেজে ওঠে বৃষ্টির গুলির শব্দ।গ্রামের পথ এখনো জানে তার ক্ষতের গল্পমুক্তির সুরে মিশে আছে ধ্বংসের ছায়াছবি। ‘লোকে বলে ভিখারি ও,’কিন্তু তার হাতের থালায় শুধু ভাত নয়জমে আছে মনু নদীর জলের ক্রন্দন,আর একা লাশের গন্ধে ভরা রাতের ডায়েরি।বাঁশির গায়ে লেগে থাকা সুর ফি-মল্লারেমাটিই জানে তার অর্থ: ফসফরাসের…
-
মোহাম্মদ ইকবাল
শব্দহীন ক্রন্দন, (স্বাধীনতা দিবসের কাব্য) আজকাল সবাই কথা বলে,ঝড় গর্জে ওঠে বলে “সবকিছু ভেঙে দেবো!”নদী বলে, “ভাসিয়ে নেবো কূল!”আগুন জ্বলে উঠে বলে “গ্রাস করবো সব!” ছায়ারাও নীরবতা ভেঙে ফেলে,রাতের আঁধারে সঙ্গোপনে বলে, ““আমরা আছি,“আমরাও দেখি!” পশুরাও থেমে নেই;শিয়াল কৌতুকে মেতে ওঠে,বাঘ হুংকারে কম্পিত করে,সাপ ফণা তুলে ফিসফিসিয়ে বলে, ““আমরা বিষে বাঁচি, মনে আছে তো?” শুধু…
-
সৈকত হাবিব
মহাশূন্য থেকে ফিরে এবং একুশ শ পঞ্চাশ সালে যখন আমিপৃথিবীতে পৌঁছলাম, তখন খাঁখাঁ রোদ্দুরআমি অচেনা, অজ্ঞাত কেউপৃথিবীতে কোনো দেশ নেই, গ্রাম নেইমানুষের স্মৃতি নেইমৃত্তিকার সাথে দেখা নেই বহুদিন, শূন্যেতাদের ঘরবাড়ি, শূন্যে বাগান; ছড়িয়েছেজীবন তাদের বহুদূর, এই মাটি ছাড়িয়ে-আকাঙ্ক্ষা ভোগপিপাসা ও আত্মরতির ভূগোলতারা জেনে গেছে গভীর প্রজ্ঞায়আর গড়েছে আবাস দূর দূর গ্রহে…আমি অচেনা, বিমূঢ়- আহা, এই…
-
নীলা নিকি খান
সন্তের শেষ কবিতা এড়িয়ে যেতে যেতে আড়াআড়ি বিঁধে গেছে তির মাঝপথে রাজপথের শেষ প্রান্তে যন্ত্রণার ভিড়।তোমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে সব শব্দ নিবিড় নীরব আলোয় ভেসে গেছে সে রেখে গেছে তিমির।সে এসেছিল কৃষ্ণচূড়ার রঙে রাঙাতে মাটির শরীর।সে এসেছিল শহীদ মিনারে জাগাতে বেদনা গভীর।সে কি আমারই মতো এড়িয়ে যায় প্রাচীর?সে কি প্রাচীর ভেঙ্গে হাতে হাত রেখে, উচ্চ করে শির?তার…
-
সাদিয়া নাজিব
আমাতে বহমান আমার হনূর হাড়ে ঝলসে ওঠে আর্যের তেজআর দুর্ধর্ষ চোখে চেঙ্গিসের লোহিত উতরোলনিশ্চিহ্ন করে ডরের দুর্বল বেদী।আমি প্রবল পরাক্রমে প্রতিরোধের মুখে হই ক্ষ্যাপা।আবার কখনো নূপুর নিক্বণে,নয় মুজরার রসে রাঙিয়ে তুলি আমার অস্থির।ধূর্ত শ্বাপদের নীল রক্ত আমার শিরায় বহমান।পারঙ্গম কৌশলে ভরতে ঝুলিঅন্যের ঐশ্বর্য – ধন।আমি কখনো মসিয়ে,কখনো মশাই,কিংবা জনাবসব ডাকেই দেই সাড়া।।একাধারে পাঠ করি অনর্গলসংস্কৃত…
-
শামীম আহমদ
সময়ের তর্জমা স্বপ্নগুলো ঢুকে যাচ্ছেরাত্রির পাকস্থলীতেআমি এখনো ভাতঘুমে আচ্ছন্ন নিঃশ্বাস ধীরলয়ে বয়সুদূরে রয়ে গেলো স্বপ্নের সিঁড়িআর কী হবে গো ফেরা মঞ্জিলে মকসুদ আত্মদ্রোহেদেবীঘরে বলি হয় অস্ফুট অক্ষরেরবায়ুপন্থে হারিয়ে যায় সময়ের তর্জমা ।
-
গোপা ভট্টাচার্য
হঠাৎই সেদিন হঠাৎই সেদিনদুচোখ ভরে উঠলঅভিমানী অশ্রুজলে ।নিজের অজান্তেইলুকিয়ে ফেললাম অন্তরালে ।বুকে জমে রইল মেঘ -রোদভুলে রইলাম শোক বোধ ।এমন বিষণ্ণ দিনের শেষেযখন আঁধার নেমে আসেমনে পড়ে যায় অবশেষে –তোমার উষ্ণ হাতের পরশেশুধু বৃষ্টি নামা বাকি ।
-
মোহাম্মদ ইকবাল
নৈশব্দের চিৎকার ঈশ্বর,ভুলেও এসো না আর বুড়িগঙ্গার জলে,শীতলক্ষ্যার ঢেউয়ে আজ কান্নার শব্দ,লাল বৃত্ত আঁকে রক্তমাখা শঙ্খচিলের ডানা।জলজ প্রাণীরা আজ নীরব নয়,তাদের চোখে জমে থাকা নোনাজলবিদ্রোহের আগুন হয়ে ওঠে প্রতিটি জোয়ারে। ঈশ্বর,মনে পড়ে সহাস্য তনুর কথা?তোমার আশীর্বাদে সে পরেছিল রাতের তারা,গায়ের গন্ধে ফুটেছিল শিউলি আর বেলিফুল।তবু একদিন নরপিশাচদের কালো হাতছিঁড়ে নিয়েছিল তাঁর সমগ্রতা,প্রাণপণে ডেকেছিল তোমাকে,তুমি আসোনি!চারপাশে…
-
ফারজানা শারমিন
কবিতার শিরোনাম এক নিঃশব্দ বিস্ফোরণ,চারপাশে ছড়িয়ে আছে বিদ্রোহের আগুন,রাতের নিস্তব্ধতা বুকে ধরে রাখেএক অজানা সুরের কান্না।ছায়াগুলো লম্বা হয়ে ছুঁয়েছে রাজপথ,যেখানে রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি।একটা বিবর্ণ ঝরাপাতা জানেমাটির কাছে সমর্পণ কতটা বেদনাদার?মানুষের হৃদয়ও ভাঙে ঠিক তেমনি,শব্দহীন, অথচ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, প্রবল শব্দে। জীবন কখনো এনে দাঁড় করায় এমন এক মোড়ে,যেখানে শব্দেরা বোবা পাথর হয়ে যায়,ভেঙেপড়ে মন, অনুভূতিরা ডুবে…
