
নির্বাসিত হিজরতের পদচিহ্ন
তুমি কি ভুলে গেছো আমাকে, মিথিলা
আমার বক্ষ বিদীর্ণ দীর্ঘ সময়ের উপকুল
অযুত রজনীর সাতারকাটা পূর্ণিমা
অথবা
বর্ষার ঘ্রাণ নিয়ে ভেজাপথে বিছানো কদমফুল?
তুমি কি ভুলে গেছো, বাড়ির পথে
ফিরে ফিরে দেখা অপরাহ্ণের বিগলিত প্রহর?
আজ বেলা শেষের বিদগ্ধ স্মৃতিচারণ
তন্দ্রাঘোর বিষণ্ণ সময়,
আজ খুব মনে পড়ছে;
উদভ্রান্ত বাড়ির আঙিনা,
চঞ্চল, বিচলিত এবং উদাসীন অপেক্ষা
রঙিন খামে গোলাপ পাপড়ি মোড়ানো
চিঠি নিয়ে আসবে বাহক।
শুনেছি সেই বাহক ইহজগৎ থেকে প্রস্থান করছে
বছরকয়েক আগে।
আহারে, আমাদের ভালবাসার একমাত্র গোপন সাক্ষী!
কত জ্যোতির্ময় সূর্যের গর্ভবতী দুপুর
হেমন্তের অপেক্ষার দ্বিখণ্ডিত বিকেল, এরকম
কত ক্লান্তসময় পেরিয়ে গেছে,
যখন রক্তিম বিকেলের পালক ছেড়ে অন্ধকার নামে
ততক্ষণে দূরে, অনেক দূরের পাহাড়…
জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠতো শিলংয়ের উদরে
ঝুলন্ত ডাউকি বাজার।
আমার আত্মা কঙ্কাল রেখে মাঝে মাঝে পালিয়ে যায় মৃতপ্রাণ স্মৃতির উঠোনে, যেখানে ধুলোকণায়
মিশে আছো তুমি।
বৃক্ষ যতই বড় হোক, প্রাণ তার শিকড়ে,
তাই বারবার ছুটে যেতে যাই, যেখানে
বিধ্বস্আত্মা পুতেরাখা নাড়ির শরীর।
এতটা দেরি হবে বুঝতে পারিনি, মিথিলা
স্মৃতির করাত বুকের হাড় বিচ্ছিন্ন করছে
আমার ধ্যানের প্রায় চল্লিশটি বছর…
ঘড়ির কাটায় তিন লাখ একান্ন হাজার ঘণ্টা
বদলেছে পৃথিবীর আদল, গ্রামের সেই মেঠোপথ,
যেমন আমার বর্ণ ও সময়ের উনুনে পোড়াদেহ
এমনকি কার্পাস তুলো ওড়াওড়ি বুনোবাতাস।
বিষণ্ণতায় ঢাকা ফ্যাকাসে কাঙ্গাল সময়,
যে তোমাকে প্রতি ঘণ্টায় বেধে রেখেছিলো
সময়ের সুতোয়, পায়ের নূপুর, ক্লান্ত বিকেল
আর বিভাজনে কুয়াশাভেজা শরীর।
আজ শুধু বিচ্ছেদের আগুনজলে অঙ্কুরিত
দেব-রাইয়ের অলিখিত কোন এক প্রণয় কাহিনী।
মিথিলা, আজ সুপারি গাছের শিকড় সাক্ষ্য দেবে,
সাক্ষ্য দেবে পুকুরের স্বচ্ছজল
ভাসমান হংসমিথুন আর স্নায়ুর ভেতর দিয়ে
বয়ে চলা কুশিয়ারার উত্তাল যৌবন
অথবা
তোমার হেটে যাওয়া ক্লান্তপায়ের
সেই প্যাচানো পথ, যে পথে
তোমার আমার নির্বাসিত হিজরতের পদচিহ্ন।
আজ সেই পথের বাঁকে বাঁকে স্মৃতির প্রাচীর।
অভিমানী কুশিয়ারার ভাটায় পড়া শুষ্কবুক
জল শুকিয়ে গেছে শুধু রেখে গেছে
ভেসে উঠা বালুচর,
যেখানে গড়ে উঠেছে অনন্তস্মৃতির
এক বিপন্ন অলিক নগর।






অজ্ঞাত এর জন্য একটি উত্তর রাখুন জবাব বাতিল