‘আকাশগঙ্গা’

শ্রীবিষ্ণুর পদপ্রান্ত হতে উতসৃতা আকাশ-গঙ্গা, প্রবল শক্তিতে ধাবিত হলে অপরূপ আলোতে দশ দিকের অন্ধকার ঘুচে গেল, তার উল্লাল বিহঙ্গে দেবকুল বিমোহিত হলো!। তার উন্মত্ত বেগ এবং অসীম শক্তি স্বর্গের অক্ষয় ভূমিকে কোন ক্ষতি করতে না পারলেও, এই তটিনী যখন প্রবল শক্তি একত্রিত করে এবং সকল সৌন্দর্য নিয়ে মর্তলোকে প্রবলভাবে আছড়ে পড়বে তৎক্ষণাৎ মর্তভূমি শত বিভক্ত হবে এ বিষয়ে কোন দ্বিধা নাই।! পৃথিবীতে ঘটে যাবে মহাপ্রলয়।! এই বিষয় বুঝতে পেরে দেবগন দেবাদিদেব মহাদেবের শরণে এলেন।
‘…দুই হস্ত প্রসারিত করে মহাদেব বলিলেন,অয়ি গঙ্গে! আমি তোমাকে গ্রহণ করিলাম। আইসা আমাতে আশ্রয় লও।’
দেবাদিদেব মহাদেব নিজের জটায় প্রবল গঙ্গাকে বন্দী করিলেন। পরবর্তীতে মহাদেব দ্বারা গঙ্গা বিবাহিত হলেন। সহসা গঙ্গা ভাবতে আরম্ভ করলেন, যে তিনি কোথাও হতে এসেছেন যাবেনই বা কোথা, সর্বোপরি তিনি বন্দি কেন?
‘…অতএব গঙ্গা, জল দেহভার রেখে স্বরূপে শিবের মুখোমুখি হয়ে বললেন— স্বামী! আমাকে বন্দী করলে কেন? প্রবাহই আমার ধর্ম। গতি আমার প্রবৃত্তি। আমাকে মুক্ত কর।!
দেবাদিদেব মহাদেব বলিলেন, ‘…কল্যাণি!তোমাকে বন্দী করি নাই। সাময়িক তোমাকে ধারণ করিয়া তোমার গতিপ্রাবল্য রোধ করিলাম।তুমি চিরমুক্তা। তুমি স্বচ্ছন্দা।স্বাধীনা।… ”…তুমি কলুষনাশিনি। সকল পাপ তুমি শোধন করিবে। তোমার বল অমিত। শক্তি অপরিমিত। পৃথিবী বড় অশক্ত। বড় দুর্বল। তোমার পূর্ণ শক্তি উহাতে প্রয়োগ করিয়ো না। সংযতা-প্রবাহিনী হও। রাজা ভগিরথের গভীর তপস্যাবলে তুমি আনীতা।অতএব, অয়ি গঙ্গে,তুমি আজি হইতে ভাগীরথী হইলে।… ‘
গঙ্গা ধরাধামে এলেন পূজিতা দেবীরূপে।

জাতীয়-আন্তর্জাতিক-প্রাদেশিক- উপমহাদেশিক-জেলাভিত্তিক কোনোভাবেই, কোন নির্দিষ্ট দিনকে ‘নারী দিবস’ বলে বর্ণনা করা যায় না। আমি যার লেখা ধার নিয়ে, আমার নিজের কলমের খসখসানি শুরু করলাম তিনি শ্রীমতি তিলোত্তমা মজুমদার। প্রসিদ্ধ লেখিকা। তাঁর ‘রাজপাট’ উপন্যাসটি আমাকে যিনি উপহার দিয়েছেন ডক্টর রীমা রায় এবং যার হাতে বইটি আমার জন্মদিনের উপহার স্বরূপ দিয়ে যান তিনি স্বর্গীয়া ছবি বসু। এবং যার উপমা দিয়ে লেখাটি শুরু হল তিনি পুজিতা ‘মা গঙ্গা’।ব্যকরণগত ভাবে গঙ্গা এবং ভাগীরথী, স্ত্রীলিঙ্গ । সুতরাং এখন পর্যন্ত ধাপে ধাপে যে ক’জনের নাম এল প্রত্যেকেই মহিলা।

এখন তবে, আমার ক্ষুদ্র মাথার স্থূলবুদ্ধি দিয়ে বিজ্ঞান এবং অবিজ্ঞানের মিশ্রণে বানিয়ে ফেলি একটি জগাখিচুড়ি ধরনের লেখার মণ্ড। সাদা কাগজ, ঝরনা কলম, কালির দোয়াত সামনে আছে, ফ্ল্যাস্কে আছে লাল চা আর হাতে আছে সময়!প্রসঙ্গত বলে রাখি, চা যিনি বানিয়ে দিয়েছেন তিনি আমাদের বাড়ির সহকারি সন্ধ্যা মাসী।আমার অগোছালো খাট-টেবিল, সকালে যিনি পরিষ্কার করে দিয়ে গেছেন তিনি আরেক সহকারি ঝরনা দি।এবার হালকা করে বোঝার চেষ্টা করুন, আমি (বা আমরা), ‘পুরুষ’ হয়েও আমার অস্তিত্বটি ঠিক কোথায়?

আসুন গল্পের ছলে একটু বোঝার চেষ্টা করি ‘আমি’ কে? স্বর্গীয়- পবিত্র -প্রাকৃতিক- পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মিলনের সময় নারী তলায় থেকে, কোনভাবেই তার অস্তিত্বকে ছোট করেন না বরং স্নেহশীলা হয়ে, পুরুষের সমগ্র কামুক এবং উত্তেজনার ভারকে, এসরাজের তরঙ্গের মতন প্রবল আনন্দে সাথে নিজের শরীরে গ্রহণ করেন।! এক্ষেত্রে ‘পুরুষ’ হচ্ছে ‘বীজ’ এবং ‘নারী’ হচ্ছে ‘প্রকৃতি’ বা ‘মাটি’। বস্তা বস্তা উপযোগী বীজ থাকলেও মাটি ছাড়া কোনভাবেই একটিও গাছেরও জন্ম সম্ভব নয়! এটি আমাদের চতুর্থ শ্রেণীর সাধারণ জ্ঞানে শেখা। সুতরাং বীজের দাম্ভিকতা না দেখে -মাটির গর্বের অহংকার দেখাটাই শ্রেয়!

সমগ্র প্রাণীকুল জন্মগতভাবে প্রথমে ‘মা’ উচ্চারণ করে কেন বা ‘মা’ বলে ডাকে কেন? তা আজও বিজ্ঞানের অজানা! যে সমস্ত বিজ্ঞানীরা এই জীবতত্ত্ব নিয়ে কাজ করছেন তারাও জন্মের পরে সর্বপ্রথম ‘মা’ই বলেছেন। দার্শনিক মতে তার কারণ, মাতৃজঠরে মায়ের শরীরের সাথে এক হয়ে বেঁচে ছিল এই ভ্রুণটি, ভূমিষ্ঠ হয়ে সেটি হল, ‘নারীর- নাড়ি কাটা ধন।

একটি মজার কথা শোনাই আপনাদের, আমার এক আত্মীয় কর্মসূত্রের বাইরের প্রদেশে আছেন।তার বাচ্চাটির প্রথম শ্রেণীর ইংরেজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একটি প্রশ্ন ছিল :(English)
‘আমার মা …১.রান্না করেন, ২.ঘর গোছান, ৩.বাগান করেন, ৪.ছুতোর মিস্ত্রি। ‘
বাচ্চাটি হতভম্ব হয়ে লিখে আসে, ‘No,My mother is a teacher’.। ব্যাস ঘ্যাচাং ফু! নাম্বার তো কাটাই গেল উপরি পাওনা গার্ডিয়ান কল! এটি বলার একটিমাত্র কারণ, আজও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ মানতেই পারছেন না যে, বাড়ির মহিলা রা, বাড়ির কাজ ছাড়া, বাইরে কোন পেশার সাথে যুক্ত হতে পারেন!আশ্চর্য!

আমি আজকাল প্রায়ই শুনি, ‘…আরে সেই দিন দেখলাম, রিয়া আর তার এক বন্ধু টালিগঞ্জ মেট্রোর বাইরে দাঁড়িয়ে,এক হাতে চা নিয়ে লম্বা করে সিগারেট টানছে।’ ‘… আরে ধুর! এ আবার এমনকি!সেদিন বাইপাসের ধারে ফপুং-সাং বারে গিয়ে দেখি, কটি ছেলের সাথে চারটি মেয়ে দাপিয়ে বিয়ার খাচ্ছে।দেখে মনে হল পাশের আই.টি অফিসে চাকরি করে…।’ আমি নিজে নেশা করলেও আমি কোন ভাবে নেশাকে সমর্থন করি না। কিন্তু আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমি নিজে যদি পাড়ার মোড়ের মাথার একটি চায়ের দোকান থেকে চা খেয়ে, গোল্ড ফ্লেক্ সিগারেট ধরাতে পারি তো,আমার বান্ধবী-প্রেমিকা, বউ, বোন শালিকা পারবে না কেন? পলাশ যদি বারে গিয়ে বা তার বাড়িতে বসে তিন পেগ রয়েল-স্ট্যক খেতে পারে তো, তার অর্ধাঙ্গিনী পারবেন না কেন? নেশা মাত্রই ক্ষতিকারক।!তবে তা পুরুষ মানুষ করলে সম্মানের হয় কেতাদুরস্ত হয়! আর তা মহিলারা করলেই তা, অত্যন্ত নিন্দনীয়, ঘৃণ্য এবং প্রচন্ড মুখরোচক আলোচনার বিষয়! (এটি মাত্র একটি উদাহরণ) এই ধরনের বিবাদের কারণ আমরা নিজেরাই এবং আমাদের সমাজ।

কোন ‘সমাজ’ বা কোন ‘আমরা’ র কথা আমি বলছি? যাক এই লেখার মধ্যে দিয়ে অন্তত,নিজের কিছুটা আত্মগ্লানি উগড়ে এসে আমার অনুতপ্ত মনটা কে একটু বেটারড্রিন মলম লাগাতে পারবে।আমার স্ত্রী অধ্যাপিকা। এবং পড়াশুনাতে আমার থেকে তিন ডিগ্রী উপরে। তিনি সকালবেলা তার কর্মস্থলে বের হন এবং ফেরেন কোনদিন আমার ফেরার পরে বা আগে । আমি একটি বহুজাতিক বেসরকারি সংস্থায় কাজ করি। কিন্তু আমার কাজের থেকে তার কাজের পরিধি এবং গুণগতমান অনেক উঁচু, এ কথা স্বীকার করতে আমার বিশেষ কোনো অসুবিধা নেই। সংসারে গুরু ভার প্রায় তার উপরে! কিন্তু আমার পুরুষ পন্থী মন, মাঝে মাঝে হুংকার দেয়, স্ত্রীর পরিপূর্ণ সেবা পাওয়ার জন্য। আগে এই এলার্জির চুলকানি টা বেশি পরিমাণ ছিল কিন্তু সময় এবং আচরণের ওষুধে সেই চুলকানিটা বর্তমানে বেশ প্রশমিত ! কিন্তু ‘পৌরুষ’ নামক পুরুষের এলার্জিটি এখনো বিদ্যমান! ডাক্তারি মতে ‘এলার্জি’ জাতীয় রোগ কে সমূলে নির্মূল করতে নেই,তাতে অন্যরোগ বাধে।তবে বর্তমানে আমাদের সংসারে ‘পুরুষ এলার্জি’ টি ‘স্ত্রী নামক মহাঔষধি’ সাথে মোটামুটি ভাবে সহবস্থান করে!আমি নিজে আমার ১২ বছরের ছোট বোনের উপর কম দাদাগিরি ফলাইনি! একদিন স্টেশন চত্বরে বাজার ভর্তি লোকের সামনে চড় পর্যন্ত মেরেছি।আজ সেই বোন আমার দিদি হয়ে উঠেছে। আমার চরম দুঃখ- সুখে, বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়ে আছে সদা হাস্যমুখে।

আমার আরাধ্যা দেবী মা দক্ষিণা কালী -মা দুর্গা। তিনি শক্তি, আদি এবং অনন্ত। কাল কে (সময় এবং শক্তি) যিনি ধারণ করেছেন তিনিই কালী।তিনি আমাদের ‘মা’।প্রথমেই নারী। দেশ জন্মভূমি মাতৃভূমি, আমাদের ‘মা’।নারী। দশ মাস দশ দিন অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে, হাসিমুখে যিনি আমাকে পৃথিবীর আলো দেখালেন তিনি আমার জন্মদাত্রী মা। নারী। বোন বা দিদির রূপে স্নেহশীলা যাকে পেলাম, তিনিও নারী। অর্ধাঙ্গিনী হিসাবে যিনি আমার জীবনে চূড়ান্ত সময় এলেন এবং আমৃত্যু সাথে চলার অঙ্গীকারবদ্ধ হলেন, তিনিও নারী। কন্যা রূপে বা পুত্রবধূ রূপে, যে মা লক্ষী ঘরে এলেন, তিনিও নারী। এগুলির প্রত্যেকটি বাস্তব এবং অতীব বাস্তব!
বঙ্গ তথা ভারতীয় সমাজকূলে যিনি বিভেদহীনভাবে সাম্যতার আলো এনেছিলেন, তিনি শূদ্রকন্যা রানী রাসমণি। নারী। প্রাণিকুলের ব্রহ্মময়ী স্বরূপা আশ্রয়দাত্রী মা সারদা। নারী। ঈশ্বরের দূত হিসাবে মানুষের সেবার জন্য নিজেকে উজাড় করলেন মাদার টেরেজা।নারী। ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈ, মাতঙ্গিনী হাজরা,সরোজিনী নাইডু, কল্পনা চাওলা, ইন্দিরা গান্ধী, মেরি কম, মিতালী রাজ(বাকি নাম গুলো ধরে নিন)। নারী। পদার্থবিদ্যা এবং রসায়ন বিদ্যায় দুবার নোবেল জয়ী মাদাম কুরি। নারী। সদ্য উড়ে যাওয়ার চন্দ্রযানের প্রথম শ্রেণীর বিজ্ঞানীদের তিনজন নারী। সাক্ষাৎ যম স্বরূপ ‘কোভিড 19’,ভাইরাসের প্রতিশেধক আবিষ্কারক, প্রধান বিজ্ঞানী দলের চারজন নারী। বর্তমান সমাজের উন্নয়নের একজন অন্যতম কান্ডারী সুধা নাইডু, নারী।
প্রাচীন সমাজের দিকে একটু তাকানো যাক। জ্যোতির্বিদে অসম্ভব মেধার জন্যে, রাজা বিক্রমাদিত্য, মিহিরের স্ত্রী বিদুষী খনা কে তার রাজসভার দশমরত্ন মনোনীত করেছিলেন। চরম আপত্তি জানান, মিহিরের পিতা খনার শ্বশুর মশাই, নবরত্নের একরত্ন বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ, বরাহ। বাকি পুরুষরাও তা মেনে নিতে পারেনি। খনার পরিণতি হয় নির্মম! কে এই খনা,একজন নারী?কে তাকে শেষ করলো,’পুরুষ সমাজ ‘।আনুমানিক পনেরশো বছর আগেকার সমাজ এবং বর্তমান সমাজের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই।
নটি বিনোদিনীর কথাই বা আমরা ভুলি কি করে?

আব্রাহামিক ধর্মের কথা অনুযায়ী, আদম এবং ঈভ হলেন বিশ্বের প্রথম পুরুষ ও নারী। তারা পূজিত। সৃষ্টির আদিকাল থেকেই পুরুষের সাথে নারী, বা নারীর সাথে পুরুষ ছিলেন। বিজ্ঞান বলছে, এছাড়া প্রাণীকুল সৃষ্টি হতো না বা হবে না। পার্থিব -পবিত্র -স্বাভাবিক, স্বর্গীয়, শারীরিক -সুখের মিলনেই নতুন প্রাণের সঞ্চার। তবে বিভেদ কেন?!?

আমাকে দয়া করে কেউ ‘ফেমিনিস্ট’ বা ঐ ধরনের কিছু ভাববেন না। আমি বেশ ঝগড়ুটে। কে বড় কে ছোট, কে ভুল কে ঠিক, কার দোষ, এসব নিয়ে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। এইসব নিয়ে প্রায় নিয়ম করেই সারাদিনে অন্তত এক ঘন্টা আমার স্ত্রীর সাথে আমার ঝগড়া হয়েই থাকে। বান্ধবী, প্রেমিকা, বোন, স্ত্রী,কাকিমা, মা, জেঠিমা,কাজের জায়গাতে, থিয়েটারের মঞ্চে, বাসে ট্রামে,ট্রেনে, মেট্রোতে বা বাড়িতে, আমাদের প্রত্যেকেরই প্রায় কমবেশি কিছু না কিছু ঝগড়া জাতীয় জিনিস হয়েই থাকে,এটি স্বাভাবিক! সমাজব্যবস্থার কথা তুলতে গিয়ে বিদুষী খনার প্রসঙ্গে এনেছি।এবার একটু অন্য দিক বলি,বর্তমান সমাজের ছোট্ট কিছু ঘটনা। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, বাসে,ট্রেনে, মেট্রোতে কিছু সিট, কিছু জায়গা কিছু কূপ, ‘মহিলা বা লেডিস’ বলে সংরক্ষিত থাকে। স্বাভাবিকভাবে সেখানে মহিলারাই উঠবেন চড়বেন এবং বসবেন। এই সংরক্ষণ কেন?কারণ প্রমাণ করার জন্য যে মহিলারা দুর্বল,তাদের সংরক্ষণের প্রয়োজন! তাই তো? গত কয়েকদিন আগে আপ ডায়মন্ড হারবার লোকালে মহিলা কামরায় একজন মাঝবয়সী ছেলে উঠে পড়ায়,তাকে কিছু মহিলা ট্রেন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। ভাগ্যবশত ট্রেনটি প্ল্যাটফর্ম ছাড়ছিল গতি কম ছিল সুতরাং ছেলেটি চোট পায় কিন্তু প্রাণহানি হয়নি!এইরকম ব্যবহার কি উচিত? আমারি পাড়ার এক বোন শিয়ালদাগামী মাতৃভূমি লোকালে নিউ গড়িয়া যাচ্ছিল, কিছু মহিলার সাথে তার তর্ক বাধে ওঠা নামা নিয়ে, সেখানেই মহিলারাই -মহিলাকে এমন মাথায় আঘাত করেন যে তাকে পিয়ারলেস হসপিটালে ভর্তি করতে হয়েছিল। ভাবুন তো উপরের দুটি ঘটনাই ঘটিয়েছেন মহিলারাই,যা নিন্দনীয়!।মহিলাদের দুর্বল প্রমাণ করে সংরক্ষণে প্রয়োজন আছে কি? আমার মূল যাতায়াত মেট্রোপথে। আমি মাঝপথ থেকে উঠি বা নামি কাজমাফিক। প্রায়শই দেখি, লেডিস লেখা সিটগুলি খালি পড়ে থাকলেও, কিছু মহিলারা তাদের পুরুষ বন্ধুদের সাথে জেনারেল সিটে বসে আছেন এবং এমন কথাবার্তা ও ভাবভঙ্গিমা করছে যেন বিশ্বের সব প্রেম তারা আজকেই ৪৫ মিনিটের মেট্রোর এ.সি জার্নিতে সেরে নেবেন!সেখানেই সেলফি বা ইত্যাদি ইত্যাদি চলছে!অথচ চোখের সামনে বাপ-দাদাদের বয়সী লোকেরা দাঁড়িয়ে আছেন। হাস্যকর! কিছু বলতে গেলেই ঝগড়া অশান্তি! যদি প্রতিবাদ করবেন তিনি হঠাৎ নারী বিরোধী হয়ে উঠবেন! এটিও উচিত কি?

আমি কি ভেবে যেন লেখাটা শুরু করেছিলাম! ও: মনে পড়েছে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’!একটু হালকা করে চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক ইতিহাসের দিকে।১৯৭৭ সালের ৮ই মার্চ, ‘ইউনাইটেড নেশনস’ প্রতিবছরের এই দিনটিকে ‘বিশ্ব নারী দিবস’ হিসাবে স্বীকৃতি দিল। বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীতে নানান দেশে নানান ভাবে ৮ই মার্চ দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসাবে পালন করা হয়। কিন্তু এর ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। উনিশ শতকে গোড়ার দিক থেকেই, যখন সারাবিশ্বে শিল্পের প্রসার বাড়ছে তখন দাবি ওঠে কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের সাথে নারীদের ও সমান অধিকার এবং প্রাধান্য দেওয়া হোক। ১৯০৮ সালে প্রায় ১৫,০০০মহিলা মিছিল করেন নিউইয়র্ক সিটিতে,কাজের সময়সীমা কমানোর জন্য, উন্নত পারিশ্রমিক জন্য,কর্মক্ষেত্রে ভোট দিয়ে মতামত জানানোর অধিকারের জন্য। পরের বছর ১৯০৯ সালে, ‘সোশ্যালিস্ট পার্টি অফ আমেরিকা’,ঘোষণা করেন প্রথম ‘জাতীয় নারী দিবস’,২৮ শে ফেব্রুয়ারি। যা সমগ্র ইউনাইটেড স্টেটস এ পালিত হয়।১৯১০ সালে ঘটে যায় এক বিপ্লব, কোপেনহেগেনে কর্মরত মহিলাদের দ্বিতীয় মহা সম্মেলন বসে। ক্লেরা জেটকিন ছিলেন, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি জার্মানির উইমেন্স অফিসার’র লিডার।তিনি ১৯১০ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রস্তাবনা আনেন।উদ্দেশ্য ছিল প্রতি বছর একই দিনে বিভিন্ন দেশে যাতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয় এবং তাদের যৌক্তিক চাহিদাগুলোর উপর আলোকপাত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, প্রথম নির্বাচিত তিন সংসদ মহিলা এবং আরো বিভিন্ন ১৭টি দেশ থেকে আসা ১০০ জন নেত্রী।১৯১১ সালে কোপেনহেগেন,ডেনমার্কর মহাসম্মেলন থেকে এটি স্বীকৃতি পায়। অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক,জার্মানী এবং সুইজারল্যান্ড থেকে লক্ষাধীক নারী ও পুরুষ সম্মেলনে উপস্থিত হন তাদের, কর্মক্ষেত্রের যোগ্য কিছু দাবি নিয়ে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মহিলারা যেন কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পান। দিনটি ছিল, ১৯শে মার্চ। দুর্ভাগ্যবশত, ২৫শে মার্চ নিউইয়র্কে ঘটে যায় দুঃখজনক এবং ভয়ানক এক অগ্নিকাণ্ড, প্রায় ১৪০ জন কর্মরতা মহিলা প্রাণ হারান তারা ছিলেন ইহুদি এবং ইতালির পরিযায়ী শ্রমিক।এই ঘটনাটি ভয়ংকর ভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করল কর্ম পরিবেশের উপর।ইউনাইটেড স্টেটস প্রথম দেশ হিসাবে কর্মপরিবেশ উন্নতির জন্য বিল পাশ করল।১৯১১ তে দেখা যায়, ‘উইমেন্স ব্রেড এন্ড রোসের প্রচার’।২৩/০৩/১৯১৩,রাশিয়া তে প্রথম জাতীয় নারী দিবস পালিত হয়।প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, ১৯১৩ সাল অবধি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ রবিবার জাতীয় নারী দিবস পালিত হতো।১৯১৪ সালে,সমগ্র ইউরোপের মহিলারা যুদ্ধ বিরোধী প্রচার শুরু করেন। ১৯১৭ সালে,লক্ষাধিক রাশিয়ান যোদ্ধাদের বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ যাওয়ার প্রতিবাদে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ রবিবার রাশিয়ান কর্মরতা মহিলারা হরতাল ডাকেন,’ রুটি ও শান্তির ‘ দাবীতে।এর মাঝে ঘটে যায় নানান ঘাত- প্রতিঘাত। ১৯৭৫ সালে ইউনাইটেড নেশন্সের কাছে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রস্তাবনা আসে। এবং ১৯৭৭ সালে এটি স্বীকৃতি পায়। প্রতিবছর ৮ই মার্চ, বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে সম্মানের সাথে পালন করা হয়।
১৯৯৬ তাহলে প্রথমবার ইউনাইটেড নেশনস শুরু করল ‘কেন্দ্রীয় ধারণা’ বা ‘অ্যানুয়াল থিম’।১৯৯৬ এর থিম ছিলো, ‘Celebrating the past, Planning for the future’.।
১৯৯৭, ‘Women’s at the peace table’.।
১৯৯৮,’Women and human Rights ‘.।

প্রতিবছরই একটি করে থিম ইউনাইটেড নেশন ঘোষণা করে সেই মতোই সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়।
২০২৫, ‘অ্যানুয়াল থিম’ হল, ‘Accelerate Action’.।

১৯৯৯,’World free of violence against Womens ‘.।
আশ্চর্য থিম! এ আবার হয় নাকি? ইতিহাস সাক্ষী, জন্ম লগ্ন থেকে মহিলারা হচ্ছেন ভোগ্য বস্তু,হিংসার শিকার, উগ্র বর্বর কামনা বাসনা মেটানোর নির্লজ্জ আখ্যান,মাত্র ! যদিও এটি কাম্য নয়! লেখাটি বাড়িয়ে লাভ নেই। শুধু দু একটি পরিসংখ্যান দিই:

সরকারি হিসাবে প্রতিদিন ৯৬ জন নারী ধর্ষিতা হচ্ছেন ভারতে। বিশ্বের সংখ্যাটি কল্পনার বাইরে। আবার বলছি সরকারিভাবে যেগুলোর মামলা রুজু হয়। এই বর্বর কাজের প্রথম দশটি দেশ হলো, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র , দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, ভারতবর্ষ, ইউনাইটেড কিংডম,জার্মানি, কানাডা,শ্রীলংকা ও ইথিওপিয়া। (Google,আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সোনালী নিউজ,০৫/০২/২০১৮)। ‘২০১৮-২০২৪’,মন থেকে চাইবো সংখ্যাগুলি কমুক,কিন্তু তা কখনোই কমার নয়!তবে এটি ভাবার কোন বিষয় নেই যে, কেবলমাত্র নারীরাই ধর্ষিত হচ্ছেন।বেশ কিছু ক্ষেত্রে পুরুষরাও ধর্ষিত হচ্ছে। ৯৮:২।
যাই হোক, আমার এই লেখাটি এই সম্পর্কিত নয় তবে প্রশ্ন হচ্ছে এই বর্বরতা থামবে কবে?

অপার্থিব- বর্বর -হিংস্র-উন্মত্ত, উত্তেজনা কমানোর জন্য সামনেই তো ‘পতিতা পল্লী’ আছে।সেখানকার সমস্ত মহিলাদের আমি প্রনাম এবং সম্মান জানিয়েই বলছি, তারা এই বিষয় টিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন এবং সেখান থেকে সসম্মানে উপার্জন করে তাদের সংসার চালাচ্ছেন,দায়িত্ব পালন করছেন। সন্তানকে পড়াচ্ছেন অথবা পঙ্গু স্বামীর চিকিৎসা করছেন। তিনিও ‘নারী’!

আমার এই লেখাটি তালগোল পাকানো একটি কালির মন্ড মাত্র । আমি চাই একটা সাদা কাগজের উপরে শিরোনামে শুধু লেখা থাকবে ‘নারী ‘…আর শুধুমাত্র ‘প্রশ্নচিহ্ন’ তে জুড়ে থাকবে সারা পাতাটা…আর শেষে শুধু লেখা থাকবে, ‘উত্তরের আশাতে’….

এই আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দাবি কি কি ছিল:
১.নারীর অধিকার,সমতা এবং ক্ষমতায়ন;
২.লিঙ্গ সমতা ;
৩.নারীদের প্রতি হিংসা ও নির্যাতনের বিরোধিতা ;
৪.নারীদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ ;
৫.কর্ম ক্ষেত্রে নারীদের ভোটাধিকার ;
পালনকারী বিশ্বব্যাপী নারী ও পুরুষ। একই রকম ভাবে পালিত হয় ‘জনসচেতনতা দিবস’, ‘নারী দিবস’,’ কন্যা দিবস’।

সবই তো হচ্ছে, কিন্তু আসল ‘সুরক্ষা’ কোথায়?
সেটি যে নেই তা আমি, আপনি এবং আমরা সবাই জানি। আমার মতে মেয়েদের আতুপুতু করে খেলনা বাটি দিয়ে না খেলিয়ে,প্রতিটি কন্যা সন্তানকে শারীরিক কসরত এর মধ্যে দিয়ে গড়ে তুলতে হবে। নিজেকে এবং অন্যকে রক্ষা করার মতন প্রশিক্ষণ দিতে হবে। মিনি স্কার্ট পড়ে হেঁটে যাওয়া মেয়েটির দিকে তাকাতে যেন সমাজ ভয় পায়! প্রতিটি বিদ্যালয়,ক্যারাটে, কুংফু সাঁতার ইত্যাদি প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত! প্রতিটি বিদ্যালয় ‘কোএড’ করে দেয়া উচিত। পাঠক্রমে যৌন শিক্ষা,শারীরিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। আমরা প্রত্যেকেই জানি,নারীর ‘কোমল হৃদয় ‘!হৃদয়ের কোমলতা তার নিজের জায়গাতে থাক। শরীর গড়ে উঠুক বজ্র কঠিন, মানসিকতা হোক লৌহ সম। সংরক্ষণ তুলে দেয়া হোক!

আমার ঠাকুরমা ১৯৫০ সালে দাদুর সাথে ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় আসেন। লম্বা,ছিপছিপে,ফর্সা গড়নের মানুষটি ছিলেন রাশভারি।তিনি তখনকার দিনের আই. এ পাস ছিলেন! পাঁচ ছেলে মেয়েকে তিনি মানুষ করেন, অভাবের সংসারের মধ্যেই থেকে। এবং আশেপাশের অনেককেই তিনি পড়াশোনা করাতেন। তার একটা ছোট্ট লোহার সিন্দুক ছিল আমিও দেখেছি। আশেপাশে মানুষজন তার কাছে টাকা গচ্ছিত রাখতেন এবং প্রয়োজন মতোন টাকা নিতেন, আমি তাঁর একটি লেখায় তার প্রমাণ পেয়েছি।(শুধুমাত্র সুরক্ষিত রাখার জন্য) অর্থাৎ তিনি ছিলেন তাদের ব্যাংক। তাকে সবাই দিদিমণি বলে ডাকতেন। তিনি নারী!

আমার মা। গরীব ঘরের মেয়ে, সুন্দরী ছিলেন, ১২ ক্লাস অব্দি পড়াশোনা। বাড়ির মেজো বউ। সংসার সামলেছেন, শ্বশুর শাশুড়ি, দেওর, ননদ।বাবা ছিলেন অত্যন্ত রাশভারি। প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন মেজ বৌদি। বাড়িতে নিত্য লোকের যাতায়াত,ভিড় এবং অনুষ্ঠান। সব তিনি হাসি মুখে সামলেছেন। ২০০৫, বাবা গত হলেন। অথৈ জলে পড়লাম আমরা। কিন্তু, মা দাঁত দাঁত চেপে লড়াই করে সংসারটি বাঁচালেন। আমাদের মানুষ করলেন,ঠিকঠাক ভাবে দাঁড় করালেন। ২৬/১১/২০২৪,এ ৬৪ বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন পরলোকে।লড়াই তিনি দেখিয়ে গেছেন। তিনি নারী!

আমার বোন। বাবা গত হবার পরে সংসারের বেহাল অবস্থা, আমার সামান্য রোজগার । বোন টিউশন পড়াতে শুরু করল। নিজের খরচা ও সংসারের জন্য।যদিও আমাদের ছোট কাকু নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করে গেছেন দীর্ঘ বছর! পলিটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতকোত্তর হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।পরে আবার নতুন করে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা এবং সেখানে স্নাতকোত্তর।বর্তমানে নামি একটি বেসরকারি স্কুলে সে পড়ায় সসম্মানে । পাশাপাশি গড়ে তুলেছে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। বৌদি সহচর্যে এখন সে পি.এইচ ডি করার কথা ভাবছে। ইনি নারী!

বাবা চেয়েছিলেন ডাক্তারি পড়াতে, ডাক্তার হবেন মেয়ে।প্রস্তুতিও চলছিল। বছর যাতে নষ্ট না হয় সেই জন্য তিনি একটি কলেজে, জার্নালিজম এন্ড মাস কমিউনিকেশন নিয়ে ভর্তি হন। বিষয়টির প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। ব্যাস আর ডাক্তারি পড়া হলো না। বাবার স্বপ্নভঙ্গ হল,বাবা দু’বছর মেয়ের সাথে কথা বললেন না। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করলেন প্রথম বিভাগের প্রথম হয়ে।পি.এইচডি করলেন। বর্তমানে তিনি, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি প্রসিদ্ধ কলেজের বিভাগীয় প্রধান। ঘর -বার হাসিমুখ গুছিয়ে সামলাচ্ছেন, আমার স্ত্রী! ইনি নারী!

এই চার অনুচ্ছেদ আমার বাড়ির কথা। আপনাদেরও নিশ্চয়ই আছে এমন প্রচুর প্রচুর কথা।

কোন একটি দিন কি ‘নারী দিবস’ হতে পারে? আমার মতে,প্রতিটি দিন -ঘন্টা -মিনিট -সেকেন্ড, অনু- পরমানুই হচ্ছে নারী এবং পুরুষ একত্রিত সময়। তবে হ্যাঁ,বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ পালন করা অবশ্যই উচিত।! সেটি হোক উদযাপনের এবং আনন্দের দিন! ০৮/০৩।!।
নারী পুরুষ সবাইকে একসাথে হাতে হাত ধরে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে, সমাজের উন্নতির জন্য নিজেদের উন্নতির জন্য! সেটি কাম্য এবং উচিত! বিশ্বকে পার্থীব রসায়নে সঠিকভাবে চালনা করার জন্য নারী– পুরুষকে একে অন্যের সাথে এক হয়ে বাঁচতে হবে এবং সেটাই বাস্তব এবং কর্তব্য।

মহাকাব্য মহাভারতের বন পর্বে গঙ্গার আখ্যানে আছে :
“শরীরে জর্জরিভুতে ব্যাধিগ্রস্ত কলরবে।
ঔষধম জাননবী তোয়ম বৈদ্য নারায়ণো হরি।। “

ব্যাধিগ্রস্ত শরীরে, গঙ্গা তুমি ঔষধ।আর শ্রী হরি স্বয়ং বৈদ্য ।।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Trending

Discover more from শিকড় (Shikor)

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading