শ্যামল পত্রাবলী
১)
ঢেউয়ে ঢেউয়ে আমার
বিন্দু বিন্দু প্রেম লেখা
স্বপ্নমায়া লেখা
অকস্মাৎ রক্তে এত প্রাণ,
এত বায়ু, এত অগ্নি-জল
এত শুভেচ্ছা --
এ দেহ রক্ষায় কবে বলো
সামনে এসে দাঁড়াবে আমার
কবে সময় হবে প্রতিজ্ঞা রাখার?
কবে বল হাত লাগাব মাটির সংসারে?
২)
সেইদিন, প্রথম ক্ষণেই, অন্ধ হয়েছি
এমন ভুবনপালন রূপ নিয়ে
কেন এলে সত্যবহ?
এলে যদি তবে কেন ব্যপ্ত হলে না?
এখন আমার অন্ধচোখ
নির্লজ্জের সর্ববিদ্যায়
একদৃষ্টি হয়ে আছে... জাগতিক হয়ে আছে
শোনো বিপ্র, রিক্তহাতে নয়
এসো যজ্ঞকাষ্ঠসমেত
বিধিমতে মহাগৃহস্থ পূজা হোক
বেদিকাবক্ষে তুলে দাও জগতকমল
৩)
অখণ্ড, তোমাকে জন্ম নামে চিনি
কবি বলে ডাক দিলে
এ দুঃখময় সংসার উথলে ওঠে
সারাদিন যে মেঘরৌদ্র ভাব চলে
সন্ধ্যায় তারই পাখি গেয়ে ওঠে আনাড়ি সংগীত
অনেকটা ঠিক একতরফা মতো
তুমি তো বোঝো মন্মথ,
আকাশের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করে
কীভাবে হাতে হাত মেঘ ও বিজুরি
ক্ষণে ক্ষণে চমকে ওঠে
ভিজিয়ে দেয় প্রাণের উঠোন, দাওয়া
কিসের টানে আচমকা হয়ে ওঠে জীবনসঙ্গম
সত্য হয়ে ওঠে পরিচর্যা আমার?
৪)
মনে আছে দিনগুলো?
উঁচুনিচু ঢেউ ভাঙা পথের মাধুরি?
লণ্ঠন জ্বলেছিল বলে গাঢ় হল টান
নাকি টান এল আগে তারপর
ধীরেসুস্থে জ্বলে উঠেছিল বেলাসন্ধির আলো
টের পাইনি সেদিন কিছুই
আশ্চর্য মনে হয় সবকিছু
মনে হয় বহুপ্রকারে বিস্তৃত হয়ে আছি
সেদিনের সমস্ত কাজে কী কী সব বেহিসাব ছিল
এখন খাতা খুললে
মনে হয় তোমার দস্তখত নিতে ভুলে গেছি
কী যে দুশ্চিন্তায় আছি
শিলাবৃষ্টি অনবরত ঠোক্কর দিচ্ছে খাপরার চালে
৫)
হাওয়ায় হাওয়ায়
ভেসে বেড়াচ্ছে সঞ্জাত কথা
সে কথায় প্রেম আছে
আরাম নেই
খাঁচাটা খুলছে না কিছুতেই
ছটফটে পাখি
কত কী বলার আছে ভেবে
ঠুকরে ঠুকরে লাল করে ফেলল আকাশ
সংসারে যা অনিত্য
তাই যদি নিত্য জোটে কপালে
ভাঙা ঠোঁট নিয়ে পাখি কোথায় দাঁড়াবে?
শম-দম-দয়া ছেড়ে শেষে কি বৈরাগ্য পথ?
শেষে কি ছায়া হয়ে মিশে যাবে গূঢ় আঁধারে?
৬)
আমাকে চিনতে পারোনি শ্যাম,
গত জন্মে পড়শী ছিলাম তোমার
এজন্মেও সে গেরো কাটল না
প্রাণের দোসর হতে একাকী কুটির
রক্তপাতায় ছাওয়া
জপ-ধ্যান-সাধনায় কেটে যায় চান্দ্রমাসগুলি
সে তো শুধু এ জন্মে নয়
মনে করে দেখ কত কতবার
ঘুরেছি তোমার দ্বারে দ্বারে
সামান্য ক্ষুদকুড়ো সামান্য প্রসাদ
কী লজ্জা! কী লজ্জা!
অপেক্ষা ভিন্ন অন্য কোনো পথ
রাখলে না কুটিরে আসার!
এখনো বনে বনে বেজে উঠলে বাঁশি
মনে পড়ে প্রথম অভিসার
চৈতিচঞ্চল; যেন বা দৈব অভিপ্রায়
সে মায়ায় বিবশ আজও শ্যামল অন্তর






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান