লন্ডনে সফলভাবে সম্পন্ন হলো ১৪তম বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬

শিকড় | ৩ জুলাই ২০২৬

ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; একটি জাতির ইতিহাস, স্মৃতি, আত্মপরিচয় এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহক। আর প্রবাসে সেই ভাষাকে ধারণ করা মানে শুধু মাতৃভাষায় কথা বলা নয়, বরং বইয়ের পাতায়, কবিতার পঙ্‌ক্তিতে, শিল্পের সৃজনে এবং সংস্কৃতির নিরন্তর চর্চায় আগামী প্রজন্মের হাতে শেকড়ের পরিচয় তুলে দেওয়া।
সেই দায়বদ্ধতা থেকেই জন্ম নেয় এমন কিছু আয়োজন, যা সময়ের গণ্ডি অতিক্রম করে একটি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব তেমনই এক অনন্য উদ্যোগ, যেখানে বই কেবল প্রকাশনার বস্তু নয়, জ্ঞানের আলো; কবিতা কেবল শব্দের বিন্যাস নয়, আত্মপরিচয়ের ভাষা; আর সাহিত্য ও সংস্কৃতি কেবল বিনোদন নয়, বরং প্রবাসে বাঙালির অস্তিত্ব, ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের এক অবিরাম সৃজনযাত্রা।
এই চেতনা, দায়িত্ববোধ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গীকারকে ধারণ করেই সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, যুক্তরাজ্য-এর উদ্যোগে গত ২৭ ও ২৮ জুন পূর্ব লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ব্রাডি আর্টস সেন্টার, হোয়াইটচ্যাপেলে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো ১৪তম বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬।
যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাঙালিদের জন্য এই দুই দিন ছিল বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং আত্মপরিচয়ের এক অনন্য উদ্‌যাপন।
বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ, ব্রিটিশ বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষা ও শেকড়ের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি এবং দেশ-প্রবাসের সাহিত্যিক, শিল্পী, গবেষক, প্রকাশক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে একটি স্থায়ী সেতুবন্ধন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই উৎসবে যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লেখক, কবি, গবেষক, শিল্পী, প্রকাশক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিপুলসংখ্যক সাহিত্যপ্রেমী ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে পুরো মিলনায়তন পরিণত হয় এক প্রাণোচ্ছল সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।

উৎসবের উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বাচিকশিল্পী রূপা চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিশিষ্ট লেখক ও অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক শামীম আজাদ। ২৭ জুন সকালে অতিথিবৃন্দ, আয়োজকবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে বর্ণিল বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল এবং সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর দুর্জয়-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে দুই দিনের এই মহোৎসব নান্দনিক পরিকল্পনা, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং আন্তরিক আতিথেয়তায় হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত বাংলাদেশ বইমেলা আজ প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অন্যতম বৃহৎ এবং মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এটি কেবল বই বিক্রির একটি পরিসর নয়; বরং নতুন বইয়ের সঙ্গে পাঠকের পরিচয়, লেখক-পাঠকের সংলাপ, সৃজনশীল চিন্তার বিনিময়, গবেষণা, সাহিত্যচর্চা এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক মুক্ত মঞ্চ। প্রতি বছরই এই উৎসব প্রমাণ করে ভৌগোলিক দূরত্ব বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে ম্লান করতে পারে না।

এবারের বইমেলায় বাংলাদেশ থেকে আগত নয়টি প্রকাশনা সংস্থাসহ মোট দশটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থাগুলো হলো;ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল), ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, পরিবার পাবলিকেশন, অনিন্দ্য প্রকাশ, অন্বেষা প্রকাশন, কবি প্রকাশনী, বাসিয়া প্রকাশন, অভ্র প্রকাশ এবং বুনন। তাঁদের স্টলে স্থান পায় সমকালীন বাংলা সাহিত্য, গবেষণা, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, ইতিহাস, শিশুসাহিত্য এবং অনুবাদ সাহিত্যের বিপুল সম্ভার। প্রবাসী পাঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং লেখকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ বইমেলাকে একটি প্রাণবন্ত সাহিত্যিক উৎসবে পরিণত করে।

এবারের বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয় ৪৩টি নতুন গ্রন্থ। এর মধ্যে ১৬টি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয় আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে। মূল মঞ্চে প্রোজেক্টরের সাহায্যে বইগুলোর প্রচ্ছদ, লেখক পরিচিতি এবং প্রকাশনা-সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়, যা দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। বাংলা বইয়ের প্রচার ও উপস্থাপনায় প্রযুক্তির এই সৃজনশীল প্রয়োগ প্রবাসের বইমেলায় নতুন মাত্রা যোগ করে।

উৎসবের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘অনুবাদ ও বাংলা সাহিত্যের আন্তর্জাতিকতা’ শীর্ষক সেমিনার। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট অনুবাদক আনিসুজ্জামান। আলোচনায় অংশ নেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অবনী অনার্য, কবি মিল্টন রহমান, এবং ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষা সচিব ও শিক্ষাবিদ গৌরাঙ্গ মোহন্ত। বক্তারা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন, অনুবাদের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য অঙ্গনে বাংলা ভাষার সম্ভাবনা নিয়ে মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন।

দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত ‘সাহিত্যে অনুধ্যান’ শীর্ষক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আনিসুজ্জামান, কিংস কলেজের অধ্যাপক কেতন শেখ, অধ্যাপক অবনী অনার্য, লেখক ও সাংবাদিক সায়েম চৌধুরী, চলচ্চিত্র নির্মাতা মিনহাজ কিবরিয়া এবং চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সোনিয়া। আলোচনায় সমকালীন সাহিত্যচর্চা, অনুবাদের চ্যালেঞ্জ, চলচ্চিত্রে সাহিত্যের প্রভাব, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিকাশ এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করার নানা দিক গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

উৎসবজুড়ে প্রতিদিনই ছিল কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, সংগীত, নাট্য পরিবেশনা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ব্রিটিশ বাংলাদেশি পোয়েট্রি কালেকশন (বিবিপিসি)-এর বিশেষ আয়োজনে বিলেতের অনেক দ্বিভাষী কবি ও মুল ধারার ইংরেজ কবিরাও তাঁদের স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে উৎসবে বিশেষভাবে মঞ্চস্থ করা হয় সংগঠনের সভাপতি কবি মোহাম্মদ ইকবাল রচিত দিকনির্দেশনামূলক নাটক ‘শেকড়ের খোঁজে’। নাটকটি দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পায় এবং প্রবাসী শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ভাষা, পরিচয় ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবনার অনুপ্রেরণা জোগায়।

এবারের উৎসবের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ব্রিটিশ বাংলাদেশি তরুণদের সৃজনশীলতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা ও মতবিনিময় পর্ব। পাশাপাশি সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রভিত্তিক নতুন সংযোজন উৎসবকে দেয় সমকালীন মাত্রা, যা দর্শকদের কাছেও ব্যাপক প্রশংসিত হ
প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় সাহিত্য, গবেষণা, সংস্কৃতি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরও সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, যুক্তরাজ্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করে।
এবার ‘সাহিত্য পদক’ লাভ করেন বিশিষ্ট কবি মাশুক ইবনে আনিস। বাংলা সাহিত্য, গবেষণা এবং ইতিহাসচর্চায় দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘গুণীজন সম্মাননা’ প্রদান করা হয় বিশিষ্ট গবেষক ও ইতিহাসবিদ ফারুক আহমদ-কে।

সংগঠনের কার্যক্রমে নিষ্ঠা, নেতৃত্ব এবং নিরলস অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বেস্ট পারফর্মিং মেম্বার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয় বিশিষ্ট সংগঠক ও টেলিভিশন উপস্থাপক হেনা বেগম এবং নূরজাহান শিল্পী-কে। এছাড়া বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ‘ডিস্টিংগুইশড ফ্রেন্ডস রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয় লেখক ও সাংবাদিক শেবুল চৌধুরী-কে।

উৎসবের সমাপনী দিনে পূর্ণদর্শক মিলনায়তনে একক সংগীত পরিবেশন করেন সোয়াস (SOAS), ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন-এর অধ্যাপক এবং প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ড. শাহানা বাজপেয়ী। রবীন্দ্রসংগীত, লোকসংগীত এবং আধুনিক গানের নির্বাচিত পরিবেশনায় তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। তাঁর সুরেলা পরিবেশনা দুই দিনের সাহিত্য ও সংস্কৃতির মহোৎসবকে এক আবেগঘন সমাপ্তির দিকে নিয়ে যায়।

উৎসবজুড়ে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস সেন্টার ছিল দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর। বইপ্রেমী, কবি, লেখক, গবেষক, শিল্পী, প্রকাশক, সংস্কৃতিকর্মী এবং বিভিন্ন প্রজন্মের ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। দর্শকদের উৎসাহ, অংশগ্রহণকারী শিল্পী-সাহিত্যিকদের আন্তরিকতা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস পরিশ্রম এবারের উৎসবকে সাফল্যের এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিদায়ী সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব আমাদের কাছে কেবল একটি বইমেলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়। এটি প্রবাসের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ, চর্চা এবং উত্তরাধিকার রক্ষার এক চলমান সাংস্কৃতিক আন্দোলন। আমাদের লক্ষ্য সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী সাধারণ মানুষ, ব্রিটিশ বাংলাদেশি নতুন প্রজন্ম এবং ব্রিটিশ মূলধারার সাহিত্য-সংস্কৃতির মধ্যে একটি সৃজনশীল ও স্থায়ী সেতুবন্ধন গড়ে তোলা।”
তিনি আরও বলেন,
“বাংলাদেশের প্রকাশনা সংস্থাগুলোর সহযোগিতা ছাড়া এই আয়োজনের ধারাবাহিক সাফল্য সম্ভব হতো না। বাণিজ্যিক লাভের হিসাবকে গৌণ করে তাঁরা প্রতিবছর প্রবাসে বাংলা বই, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে নিজেদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই অংশগ্রহণ করে আসছেন। তাঁদের এই আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের অনুপ্রাণিত করে, আমাদের দায়িত্ববোধকে আরও গভীর করে।”

সাথে সাথে তিনি অংশগ্রহণকারী সকল প্রকাশনা সংস্থা ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, পরিবার পাবলিকেশন, অভ্র প্রকাশ, অন্বেষা প্রকাশন, অনিন্দ্য প্রকাশ, কবি প্রকাশনী, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল), বুনন এবং বাসিয়া প্রকাশন এর প্রতি সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, গভীর শ্রদ্ধা এবং অকুণ্ঠ ভালোবাসা জানান।
একই সঙ্গে তিনি উৎসবকে সফল করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করা সকল কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, শিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, সংগীতশিল্পী, প্রকাশক, অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক, শুভানুধ্যায়ী, গণমাধ্যমকর্মী এবং হাজারো দর্শনার্থীর প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর দুর্জয় বলেন;
“এই উৎসবের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের অংশগ্রহণ। দেশ ও প্রবাসের সাহিত্যিক, প্রকাশক, গবেষক, শিল্পী এবং সংস্কৃতিকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আজ বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে। আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের আরও সক্রিয় সম্পৃক্ততা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী বিস্তারের লক্ষ্য নিয়েই সংগঠন তার পথচলা অব্যাহত রাখবে।
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির এই যৌথ অভিযাত্রা কোনো একদিনের নয়, কোনো এক প্রজন্মেরও নয়। এটি উত্তরাধিকার, দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের এক নিরন্তর অঙ্গীকার। সেই বিশ্বাস থেকেই সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, যুক্তরাজ্য দৃঢ়ভাবে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে যে দেশ ও প্রবাসের সম্মিলিত সহযোগিতা, সৃজনশীল অংশীদারিত্ব এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনই আগামী দিনে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।“


দুই দিনের উৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটেছে; কিন্তু শেষ হয়নি তার অনুরণন। বইয়ের প্রতি ভালোবাসা, কবিতার প্রতি মমত্ব, সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মাতৃভাষার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা নিয়ে এই যাত্রা চলমান থাকবে আগামী দিনেও। কারণ, একটি বইমেলা শেষ হতে পারে, কিন্তু বাংলা ভাষার আলো, সাহিত্যচর্চার স্পন্দন এবং সংস্কৃতির অভিযাত্রা কখনো শেষ হয় না। সেই আলোর পথ ধরেই এগিয়ে যাবে নতুন প্রজন্ম, এগিয়ে যাবে বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য এবং বিশ্বজুড়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মন্তব্য করুন

Trending