আড়ালের আড়ালে সত্যের খোঁজ
কি বলবো—
শব্দেরা ঠোঁটের কপাটে এসে পাথর হয়ে যায়,
ভাষা ডুবে যায় নিজেরই অনুবাদহীন গহ্বরে,
যখন দেখি…
আড়াল এক আয়না,
যেখানে আলো নয়, প্রতিফলনেরই উৎসব।
হিজাব—
একসময় ছিল নীরব নক্ষত্রের মতো,
আত্মার আকাশে সংযমের ক্ষীণ দীপ্তি,
এখন তা ভাসে
দৃষ্টির জলে ভাঙা চাঁদের মতো
অস্থির, বহুরূপী, অধরা
এক গোপন আগ্নেয়গিরি।
মাথায় কাপড়—
কিন্তু চোখ দুটি উন্মুক্ত জানালা,
যেখানে হাওয়ার সঙ্গে ঢুকে পড়ে অগণিত দৃশ্য,
ঢাকার ভেতরেই জন্ম নেয় উন্মোচনের বৃক্ষ,
পাতায় পাতায় ঝুলে থাকে দেখানোর আকাঙ্ক্ষা।
হাঁটা, একটি নদী,
যার স্রোতে যদি না থাকে গভীরতার নীরব টান,
চোখ, একটি আকাশ,
যেখানে যদি না জমে সংযমের মেঘ,
তবে কি এক টুকরো বস্ত্রই
হতে পারে দিগন্তের সংজ্ঞা?
সাজগোজ—
ভাঙা আয়নার অরণ্য,
প্রতিটি টুকরোয় জন্ম নেয় আলাদা মুখ,
আর আসল মুখটি
পাতালজলের মতো সরে যায় অদৃশ্য স্তরে।
নম্রতা, এখন এক উচ্চারিত শব্দ,
সরলতা, অলংকারে মোড়া এক নীরব ছদ্মবেশ,
সবকিছু যেন আলো হতে চায়,
কিন্তু কেউই শিখতে চায় না জ্বলার শুদ্ধতা।
বাহিরে শান্ত, ভিতরে সংযমের লাভা,
যেখানে বিস্ফোরণ মানে নয় প্রদর্শন,
বরং নিজেকে গলিয়ে ফেলা আলোর ভেতর।
তাই, বাহির নয়,
অন্তরের গুহায় আগুন ধরাও,
প্রদর্শন নয়, নিমজ্জনের গভীর জল স্পর্শ করো,
আর আড়ালের আড়ালে
নিজেকেই খুঁজে নাও
একটি নিঃশব্দ সত্য,
যার কোনো অলংকার নেই, শুধু অস্তিত্ব।






এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান