রক্তে লেখা সভ্যতা
হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হয় লাবণ্যের সিঁড়ি
লোহার শরীরে দৃশ্যমাণ শ্রমিকের অভিশপ্ত
ক্ষুধার চিকচিকে মুখাবয়ব
অগ্নিগর্ভ নিঃশ্বাসে টেনে নেয়
কার্বনিক ধোঁয়ার কৃষ্ণজল;
আর সভ্যতা, দহনচক্রের মতো,
ঢুকে যায় ক্ষয়িষ্ণু ফুসফুসের ভেতরে।
বুর্জ খলিফা, ক্লক টাওয়ার,
মার্দেকা অথবা সাংহাই টাওয়ার
প্রতিটি উচ্চতার গভীরে জমে আছে
অন্তর্ভেদী ঘাম, রক্ত,
আর মৃত্যুর বিবস্ত্র গন্ধ।
এত দহন, এত ক্ষয় ভেদ করে
শ্রমিকেরা বোনে মহাজাগতিক স্বপ্ন;
সভ্যতার উজ্জ্বল কাচের নিচে
স্বপ্নগুলো যেন নিঃসঙ্গ শীতবৃক্ষ
দাঁড়িয়ে থাকে পত্রহীন, নির্বাসিত।
রাত্রি নামলে
ফুসফুসে জমেওঠে ধোঁয়ার কৃষ্ণচাঁদর,
আর আলোকিত অট্টালিকাগুলো
মহাশূন্যে ঝুলে থাকা বাজপাখির চোখ,
তাকিয়ে দেখে বিপন্ন অর্থবাজার।
কেউ দেখে না
শ্রমিকের হাড়ের গভীর থেকেও
কীভাবে ধীরে ধীরে উঠে আসে
এই সভ্যতার পাথুরে মিনার;
একটি নির্মম সভ্যতার ভিত্তি,
মানুষের রক্তে লেখা
এক অন্তহীন শূন্যতার বিধ্বস্ত ইতিহাস।





এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান