দূরত্বের জ্যামিতি

দূরত্ব কখনও কখনও
সম্পর্কের ভেতর কাচের আয়না বসিয়ে দেয়।
তখন মানুষ একে অপরকে
রক্তমাংসের ক্লান্তিতে নয়,
আলোর ভেতর দেখে।

একটি নক্ষত্র
তার আলোকবর্ষ-দীর্ঘ নিঃসঙ্গতাকে
গোপনে পরিয়ে দেয় মহাবিশ্বের আঙুলে,
আমরা তাকে বলি সৌন্দর্য।

চাঁদ কখনও পৃথিবীর কপালে ঠোঁট রাখেনি,
তবু জোয়ারেরা তার অনুপস্থিতির ভাষায় কেঁপে ওঠে।

পর্বতশৃঙ্গেরা জানে
অতিরিক্ত নৈকট্য মানেই
শিলার ভেতর কাদা জন্মানো।
তাই তারা মেঘের সাথে সম্পর্ক রাখে,
মানুষের সাথে নয়।

স্পর্শ আসলে
এক ধরনের ধ্বংসপ্রবণ ব্যাকরণ,
যেখানে পবিত্রতা ধীরে ধীরে
ত্বকের আর্দ্রতায় পচে যায়।

আমরা যারা দূরে থাকি
তারা একে অপরকে দেখি
অসমাপ্ত আলোর মতো।
কোনো নাম নেই,
কোনো অধিকার নেই,
শুধু অনন্ত অদেখার উপর
স্বচ্ছ এক নান্দনিকতা ঝুলে থাকে।

হয়তো প্রেম নয়,
হয়তো পবিত্রতার অন্য নামই দূরত্ব।
কিছু সম্পর্ক কাছে এলে নয়, দূরে গেলেই পূর্ণ হয়।

তাই
তোমাকে ছুঁই না।

কারণ ছুঁয়ে ফেললে
তুমি মানুষ হয়ে যাবে,
আর আমি হারিয়ে ফেলবো
তোমার দেবদূতের জ্যামিতি।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Trending

Discover more from শিকড় (Shikor)

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading