বিকল্প মেনু
ক।
খন্ড কিংবা খুচরোই হোক,
হোক তা নখের সমান তবু
আহারের নামে এই প্রাণ ও প্রাণবীজ সংহার
যে কোন মুহুর্তেই বন্ধ করা যেতে পারে।
অভ্যাসের বিকল্প হয়
বিকল্পে অভ্যাসও হয়।
ফলসে-রঙা ফলারের রস,
পূর্ণিমাপাল-তোলা সংগীতের মীরও
হতে পারে নতুন এক বিকল্প মেনুর সন্ধান।
খ।
বর্তমান বায়ুপ্রবাহেরও বহু আগে
ভিন্ন উপাচারই তো পুষ্ট করেছে মানবাত্মার মঠ,
সমৃদ্ধ করেছিলো ভোজনালয়ের পট।
আমরা রাখিনি তার সন্ধান,
বুঝিনি মৃন্ময়ীকেও দিতে হয় বিশ্রাম।
অতএব সামান্য ক্ষুধায়
দু’একটি জুঁই বা কামিনীর ঘ্রাণ,
বুলবুলির বিহব্বল গান নিয়ে
বসে দেখাই যাক না একবার।
গ।
অর্গানিক-আহার আরাধ্য হ’লে
হয়তো বা বন্ধ হবে সকল বলি ও জবাই
চৌপর ভোজনে কিংবা নির্জনে
শোনা যাবে না চৌকস চাপাতির ভয়াবহ শব্দ,
কিংবা নিরুপায় পশুর ক্রন্দন।
সে সুযোগে পশু-শাবকেরা পাবে
পশুমাতার মায়ের দুধের ন্যায্য হিস্যা,
পুষ্পে-ফলে-শ্বাসে বাতাস দেবে নতুন দিক-নির্দেশণা
মানুষেরা হবে দীর্ঘ, আয়ুষ্মান।
বন্ধ হবে আরও কাহারো কাহারো
মাংসের তেজারতি,
ঝলসানো, ভুনা, রেজালা ও দধি-মিষ্টান্নের কারবার।
গ।
এ বাঁক বদলে বেঁচে যাবে ঝাঁকের কই,
জালে পড়বে না আটকা
কোন কুটিমুটি নতুন জাটকা,
বেড়াতে এসে গুলিবিদ্ধ হবে না
বাংলাদেশের অতিথি পাখি।
এ ব্যপক পরিবর্তনে মানুষ নিষ্পাপ হলে
একদেশ থেকে আরেক দেশে যেতে
তাদের পাখির মতই আর লাগবে না ভিসা-পাসপোর্ট।
সবাই মহানন্দে খুনহীন মববিহীন
চতুর্থ আসমানে প্রবেশ করে আমনগন্ধজলে স্নান সেরে
ভেজা চুলে এ্যাপেটাইজারের গল্পগুলো সূর্য-সানকিতে ভাঁপিয়ে
শিশিরসিরাপে ভিজিয়ে, আসনপিড়ি হয়ে বসবে ।
তারপর খসড়াসুরগুলো ভেজে
শরতের ঝরাপাতার ঝালরের পাশে তুলবে
প্লেটভরা পরাগ
কাগজী-কবিতা থাকবে অন্যপাশে-
সুগন্ধে ম ম করবে চারদিক।
ঘ।
আমি তখন মৃৎপাত্রে গড়িয়ে নেবো
দু’এক খানা সুশ্রী বাগেশ্রী বা ইমন-কল্যাণ।
মনোহরা উপাচার সমূহ
আমার বোঁজা-চোখ ও তৃপ্ত মুখোমন্ডল ছুঁয়ে
মিটিয়ে দেবে আমার সকল খিদে।
পরিত্রাণ পাবে বহুদিনের পরিশ্রান্ত দাঁত,
চোয়ালগুলো পাবে নতুন ভরসার হেলান।
ঙ।
ভরা বাদলে থেমে যাবে
চারিদিকের হাপুস হুপুস শব্দ
পৃথিবীতে একটি পিঁপিলিকাও
আর কোনদিন কাঁদিয়া কাঁদিয়া ফিরিবে না।।
Leave a Reply