Powered by
WordPress
  • খাতুনে জান্নাত

    আত্মগত নিদ্রাকে চুমু দাওও তোমাকে প্রশান্ত রাখেনিরপেক্ষ স্বপ্নওগুলো মনে করোদিনের আলোয় শুকিয়ে নিও ভেজা চোখগুটিপোকার মতো জীবনের ডানা ওড়াওসুখ তোমাকে ছুঁতে আসছেঅলঙ্কারে ভর করোপলায়নপর দুঃখের দিকে তাকিও নাওখানে উত্তরাঞ্চলের ধুলো হয়োনা ফারাক্কা বাঁধলোভের একচেটিয়া উদ্যত্ত ভাঙোতোমার কোনো ভয় নেই মেঘে ভাসাও ইচ্ছাহৃদয় একটা তারানিজেকে চুমু দাওও তোমার দিকে চেয়ে আছে

  • গল্পঃ পরিযায়ী

    আতিকা হাসান সাইবেরিয়ার তুন্দ্রা অঞ্চল থেকে প্রায় চারহাজার পথ পাড়ি দিয়ে এক ঝাঁক বুনো সারসদের সঙ্গে কিছুক্ষণ আগে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়া হাওরে পৌঁছালো পিনুজ সারস দম্পতি। পথিমধ্যে সাইবেরিয়ার উড়াল পর্বত থেকে আসা এক ঝাঁক পিনাটেইল, তিব্বত উপত্যকা থেকে এক ঝাঁক বালিহাঁস, হিমালয়ের পাদদেশ থেকে আসা আরো একঝাঁক সারস এবং ভারতের লাদাখ অঞ্চল থেকে এক ঝাঁক চুকার…

  • ওয়াহিদার হোসেন

    এক গুচ্ছ ধান  ১. ঘাস ছিলো আমাদের যাতায়াতের পথে বিছানো  অনেকগুলো দীর্ঘশ্বাস পাড়ি দিয়ে দেখি  আমরা হেঁটে চলেছি সমান্তরাল রাস্তায়  আমাদের আর কোনোদিন দেখা হবেনা ২. মেঘমালা  পাহার নদী  উপমা গুলো হারিয়ে যায়  যখন তোমার হারিয়ে যাওয়া ভাবি ৩. দূরে সমুন্দর ভাঙা ঢেউ  মাস্তুলে নোনা গান  আরও অনেক নোনা সমুদ্র পার হয়ে  যেদিন দেখা হবে …

  • মানস চক্রবর্তী

    একটি কবিতা জল ভেঙে ডাঙা উঠে এলোডাঙা মানে বনথানমহীরুহ কিচিরমিচিরে নিঝুমশীতকাতুরে ঘাসের গায়েআশ্বিন শাদা আমাদের ভাঙাচোরা যতকিছুমৈপীঠ কৈকালী ঝড়খালী নুন মাটি মুখনেবে যাওয়া কুমীরের মতোচোখ ছেড়ে যায় মুখশ্রী তেমননেশা নামে জলকে চলআমৃত্যু দুলুনি ফোনের ওপাশে নিঃশ্বাস শ্রবণ ভিজিয়ে দেয়এই তো আমি বলেঅস্থির হরিণী শিঙ ছুঁড়ে ছলাৎএতটা কাছে থেকে দূর মেপে দেখিনিকষ কালো নিয়ে শুয়ে আছেসম্ভ্রান্ত…

  • জাকিয়া রহমান

    এরিনে শরৎ অনেক দূরের দেশ, বলে থাকি সদাই-     সাত সমুন্দর তেরো নদীর পারে সবুজের এক ঠাই।যেথা বর্ষা ঋতু নেই ক্যালেন্ডারের পাতায়,  মেঘলা সারা বছর, মেঘের খেলা আকাশ জুড়ে-রঙ বাহারি কত আঁকিবুকি সারা দিন,  এই বৃষ্টি কিংবা একটু রোদের চমক। বেলা কেড়ে নিতে পারে যদি শুরু করো কথোপোথন,   তাদের তুলির ভঙ্গিমার নাচনে।    সূর্যটা অলস গেঁয়ো! পাঁচ মাস তার মুখ দেখা পাওয়া…

  • গৌতম চৌধুরী

    হাতচিঠি আকাশপাতাল অমানুষিক বৃষ্টিতে অপরাধী মুখচ্ছায়াগুলি কেঁপে কেঁপে ওঠে। কোনও স্পষ্ট ইতিহাস নেই হয়তো। বা, মনে পড়ে না। পুকুরের জলনীলিকায় রোদ্দুর সবুজ হয়ে গড়িয়ে পড়ার মতো, শুধু টের পাওয়া যাচ্ছে –  কোথাও একটা আকাশ রয়ে গেছে আজও। তেম্নি অত্যন্ত সংক্ষেপে ফাতনা নড়ে উঠছে। টোপ ঠুকরে পালাচ্ছে অভিজ্ঞ – যাঃ, বঁড়শি গেঁথে গেল বলতে বলতে! ধড়ফড়িয়ে উঠল প্রাণ। কী যেন, কোথায় যেন, অবহেলা জমে আছে কুচি কুচি, টুকরো টুকরো উপেক্ষার ক্ষত। ঠিকরে পড়ছে বৃষ্টির…

  • কাবেরী মুখোপাধ্যায়

    মহালয়ার স্মৃতিচারণ মহালয়া নামটি শুনলেই আমার কানে ভেসে আসে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গম্ভীর চণ্ডীপাঠ। হয়তো বাঙালিদের অনেকের কাছেই মহালয়া মানে এ-ই সুর। সেই সুরেই দেবীপক্ষের সূচনা, সেই সুরেই আমার ছোটবেলার স্মৃতি বাঁধা। মহালয়া মানেই তখন রেডিও, আর ভোরের অদ্ভুত এক জাদু। শৈশবে আমরা থাকতাম মহারাষ্ট্রের এক দূরবর্তী ফ্যাক্টরি এস্টেটে—ভরাঙ্গাঁওয়ে। মহালয়ার আগের দিন বাবা যত্ন করে রেডিওর…

  • অনার্য

    মহালয়া হুবহু এমনই এক ভোর – বেতারের কণ্ঠ ছিঁড়ে নেমে আসছে করুণ মন্ত্রোচ্চারণ। খোলা চোখে নিস্তেজ গঙ্গা, ভাসছে ফ্রিজার-শীতল হাড়। ঘাড়ে ঝোলানো অশ্বত্থপাতা, প্রিয়ংবদার বারান্দায় ধূপের ছাই গড়াচ্ছে – কাকে ডাকাছো গো ? কে ফিরছে পুনর্জন্মের মিছিলে? শঙ্খভরা শব্দে ভিজছে শুকনো লজ্জাবতী, ঈশ্বরের অচেনা পা পলক ফেলছে ভোরের বারান্দায়… পূর্ণাঙ্গ প্রভাতে, এমনই এক চণ্ডীপাঠ –…

  • সম্পাদকের টেবিল থেকে

    গতকাল পর্যন্তও ছিল আকাশের মুখ গোমড়া। নানাবিধ বিষণ্নতায় ডুবে ছিল মন। আজ থেকে চারদিকে রোদ ঝলমলে আবহাওয়া। দিব্যি ফুরফুরে হাওয়া বইছে। আকাশ, বাতাস, মাটি, গাছপালা নিয়ে প্রকৃতি যেন সেজে উঠেছে। কার জন্য এই সাজগোজ?কার জন্য আবার? তিনি আসছেন যে ছেলেপুলেদের নিয়ে। শরৎ সূর্য কিরণে জারিত আনন্দরস নিয়ে জগজ্জননী আসছেন। প্রকৃতি যখন নিজে হাতে নিজেকে সাজায়…

  • পুষ্পিত মুখোপাধ্যায়

    স্মৃতির বাক্স… এই জীবন সায়াহ্নে বসে স্মৃতির বাক্স হাতড়াতে গিয়ে দেখি প্রায় সবই মলিন হয়ে গেছে,নাহয় মুছে গেছে। তাই স্মৃতি হাতড়াতে বা পিছনে হাঁটতে কষ্ট হয়। অ্যাতো ঝড় তুফ়ান পেরিয়ে এসেছি বলার নয়। তবুও ঝলমলে শরৎ কাল এলে,ভালো লাগে,মনটা কেমন উৎসব গন্ধ মুখী হয়ে ওঠে,আবার ভয়ও হয়। যখন স্ত্রী বলে ‘ বুঝেছো,ভাদ্র মাস শেষ হতে…

  • জয় গঙ্গোপাধ্যায়

    মহালয়ার সেই ভোর আজও শরতের আকাশে তুলোর মতো মেঘ ভেসে উঠলে আমার মনে পড়ে যায় ছোটবেলার সেই দিনগুলো। পাঁচ বছরের আমি—পাপু—অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি নীল আকাশের দিকে। তখনো জীবন এত জটিল হয়নি, চোখে শুধু বিস্ময়ের রঙ। কল্পনায় দেখি, সিংহের পিঠে চেপে অসুরদলনী মা দুর্গা এগিয়ে যাচ্ছেন মেঘেদের প্রাসাদ ভেদ করে। বাতাসে ভাসছে তাঁর আগমনের বার্তা।…

  • কৌশিক সেন

    [আকাশবাণী কলকাতার সদ্য অবসর প্রাপ্ত ঘোষক] মহালয়া একটি তিথি এই তো সেদিনের কথা। পাশের বাড়ির মুখুজ্যেবাবু জানলা থেকে মুখ বাড়িয়ে জানতে চাইলেন “হ্যাঁগো, তোমাদের ওই রেডিওতে মহালয়া অনুষ্ঠানটা মোবাইল ফোনে শোনা যাবে?” আমি তাঁকে আশ্বস্ত ক’রে বল্লাম “এনড্রয়েড ফোনে অ্যাপ ডাউনলোড করলেই শুনতে পাবেন। তবে মহালয়া তো একটা তিথি। সেই প্রভাতে কলকাতা বেতার থেকে প্রচারিত…

  • মধুমিতা দত্ত

    বাজলো তোমার আলোর বেণু মহালয়ার ভোর মানেই প্রকৃতির বুকে এক অনন্য আবেশ, এক অন্যরকম আলো-আঁধারের খেলা। শরতের আকাশ তখন কাশফুলের মতো সাদা, তবে ভোরের শিশিরে ভেজা হাওয়ায় মিশে থাকে এক অদ্ভুত পবিত্রতা। পূব আকাশে ধীরে ধীরে সূর্যের লাল আভা ফুটে ওঠে, যেন অশ্রুসিক্ত চোখে আনন্দের প্রথম ঝিলিক। চারদিক নিস্তব্ধ, শুধু দূরে কোথাও শিউলি গাছের নিচে…

  • জয়তু মন্ডল

    মহালয়ার ভোর ও স্মৃতিচারণ আজকাল অভ্যাসমতই ভোরের আকাশ দেখার সুযোগ তেমন খুউব একটা হয়ে ওঠেনা কেবলমাত্র শুটিং ছাড়া। তবে আজ… ঘুমিয়ে থাকা অভ্যস্ত জীবনের মোড়ক খুলে চোখের পাতা খুললো…  মোবাইল টা হাতে নিয়ে জানলাম সময় এখন ভোর 3.58 । একরাশ অস্বস্তি নিয়ে এ-পাশ থেকে ঘুরে ও-পাশ ফিরে চোখ বন্ধ করে পুনরায় ঘুমানোর চেষ্টা । ব্যর্থ…

  • অংশুমান কর

    সকলে প্রত্যেকে একা ছেলেবেলায় আমাদের মহালয়া শুরু হয়ে যেত মহালয়ার অনেক আগেই। মহালয়াকে শুভ বলা হবে নাকি অশুভ–সেসব নিয়ে তখন আমাদের মাথাব্যথা ছিল না। দিনটি যে পিতৃতর্পণের দিন, তাও জানতাম না। জানতাম যে, মহালয়া এল মানেই পুজো শুরু হয়ে গেল। আর সাত দিন পরে দুর্গাপুজো। আর এই জন্যই আমাদের মহালয়া শুরু হয়ে যেত অনেক আগে।…

  • সোমা কাজী

    নারী নারী, পুরুষ কি দেবতা সমতুল্য!তবে নৈবেদ্য ভেবে কেন উৎসর্গীকৃত করা হয় তোমাকে?নারী, তুমি কি মেনে নেয়া আর মানিয়ে নেয়া গল্পের মূল প্রতিপাদ্য?তবে কেন –তোমার নামে অসুর নিধন করতে গিয়ে –অসুর ও গেয়ে উঠে বিকৃত কোরাস!নারী-দাবি আদায়ে যদি হও সোচ্চার তবে কেন বলা হয় তোমায় সৈরাচার?নারী –অধিকার আর অনধিকার চর্চা যখন চিহ্নিত করা হয়-তবে কেন…

  • মুকুল ম্রিয়মাণ

    কোথা যাস অবিনাশ? কোথা যাস অবিনাশ?ফু দিয়ে পা ফেলাস-কাটায় মোড়ানো যাপনের চারপাশ,ফু দিয়ে পা ফেলাস। কালের আলজিভ তুলছে ফণা- অজানা ভয়ের ঢেউ খেলা সমুদ্র,বাহিরে নাচছে গাইছে লাবণ্যের সুবর্ণ মুদ্রা,কৃত্রিম প্রেম-কোথা যাস অবিনাশ?ফু দিয়ে পা ফেলাস। ভালোবাসার নামে কেউ তোকে ধরিয়ে দেবে কমলা রঙের বিষ,নিছক বেদনার ছাইপাঁশ,পুরোনো দীর্ঘশ্বাসের বিকলাঙ্গ কঙ্কাল-শিরার রক্তে টেনে আনবে অকাল জোয়ার।তারপর দেখবি…

  • সম্বুদ্ধ সান্যাল

    পুজোর ডায়েরি এখন রাত্তিরবেলা। আমার ঘুম আসছে না এক্টুও কাল সোষ্টি যে কাল বাড়ি যাবো আমি আর বাবা। বাবা এখোনো প্যানডেল থেকে নামেনি। ওই যে বাইরে ওই কত উচু প্যানডেলটা ওটাই তো আমার বাবা তৈরি করছে। বাবা তো হেড মিস্‌তিরি। আরো কতো মিস্‌তিরি আছে রুণু কাকু, হরেন জেটু বাবলা কাকু সবাই বাবাকে দাদা বলে অত…

  • মণিশঙ্কর

    আমার শরৎ : আমার মহালয়া আমার গাঁয়ের পাশ দিয়ে নদী বয়নি কখনও। বালুচর জুড়ে ঢেউ তোলেনি কাশের ঢল। তিনদিক ঘিরে শাল-পিয়াল-কেঁদ-ভুড়ের বন। একদিকে ধাপে ধাপে উঠে যাওয়া ধানক্ষেত। তাতে গাঢ় সবুজের দোলা। আলে আলে দু-চার ঝাড় কাশ। তাতে বৃষ্টিধৌত রোদের চিকনাই। মাথার উপর নীল আকাশ। পুয়ানি বাছুরের মতো সাদা মেঘের চাঞ্চলতা– এই তো ছিল আমার…

  • চয়ন ভৌমিক

    অরুণ বীণায় সে সুর বাজুক “আশ্বিনের শারদপ্রাতে জেগে উঠেছে আলোকমঞ্জীর” – সবে আকাশ ফিকে, দেবীপক্ষ এলো আস্তে আস্তে নুপুর পায়ে, হালকা ঘুমের মাঝে কানের কাছে নিক্কন, মায়ের গলার স্বর, বড় ঢাউস রেডিওটায় কার পুরুষ কন্ঠে যেন ফুঁড়ে উঠছে নিক্কন আর হিম পড়ার হালকা শব্দের ভিতর, ক্রমশঃ ছেয়ে যাচ্ছে চেতনা, আধো অন্ধকার ঘর, আমাদের পাড়ার গলি,…

  • স্মৃতিচারণে মহালয়া

    নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় মহালয়ার ভোরে রেডিও তে, মানে বেতারে মহিষাসুর মর্দিনী প্রোগ্রাম শুনছি শৈশব কাল থেকেই । বাড়িতে একটি রেডিও সেট ছিল ফিলিপস কোম্পানি এর , তাতেই শুনতাম। পাছে মিস্ না হয়ে যায় তাই এলার্ম ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে শুতাম । মা এবং আমরা দুই ভাই বোন । মহিষামর্দিনী আলেখ্য টির রচয়িতা বানী কুমার , মূল স্তত্র…

  • পিয়াল রায়

    বঙ্গবন্ধু আপনাকে বলছি আপনি এখন কোথায়?  কবরের মাটি সরিয়ে একবার নিজের জন্মভূমির দিকে তাকান যে মাটিকে পবিত্র করার শপথে মা ডেকেছিলেনসেই মাটি আজ রৌরবনগ্ন প্রেতাত্মার আগুনে আগুনে মায়ের শরীর ঝলসে উঠেছে, তার দু’চোখে অসহায় অন্ধতা আপনি কোথায় বঙ্গবন্ধু? কবরের মাটি কি এতই কঠিন এতই হৃদয়হীন যে আপনিও পাষাণ হলেন? চোখ খুলে একবার দেখতেও কি চান…

  • স্বপন পাল 

    বঙ্গবন্ধু মুজিবুর কখনো আকাশে একটি বিশেষ তারাউজ্জ্বল হয়ে ওঠে দিক দেখাবে বলে,কখনো পাহাড় চূড়ায়মায়াবী বরফ জমে ওঠে,রঙের ছটায় ধন্য করে তোলে শীর্ষদেশ।মানুষের জীবনের রাত কেটে গেলেকখনো দিনের দেখা অনির্দিষ্ট হয়ে ওঠে,মশাল জ্বালতে হয় সেই ঘন অন্ধকার দিনে।তখন তো মানুষের পথ ভুল  হতে পারে,তখন তো পরিচয় খোয়া যেতে পারে,সেই সব ক্লীব-দিনে একটি তারার দেখাএকটি মশাল ধরা…

  • অঙ্কন মাইতি

    মুখজবানের লড়াই পলকের উল্কার মুহূর্ত আলোদৃঢ়তার কথা সারা পৃথিবীকে জানালো মায়ের ভাষায় বলা মিঠে কথাচাপিয়ে দিতেই, লড়াই ছড়ালো অযথা উচ্চশির রক্তযুদ্ধ তর্জনী আকাশেজনগণ মন জানে, কখন কে ছিল পাশে একমাত্র, কখনই সংগ্রাম জেতেনাঅজস্র মুজিব তাই লড়াকু, চেতনার সেনা বাতাসে উচ্চস্বর, বুকেতে স্লোগানমানবিক মুখের শাহবাগ চত্বর, রমনা ময়দান বন্ধু বলেছে জনগণ, জন্ম বাংলাদেশঅদৃষ্ট নয়, জনতার আবেগে…

  • প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়

    ৭ই মার্চের আগে বাংলা ছিল বটে, বাংলাদেশ ছিল না অক্ষর ছিল,গরিষ্ঠের জোর ছিল, আঁতের বিক্রম ছিলপার্টিশন,কাঁটাতার,এখতিয়ার– আরো কতশত  বিশ্বস্ত সর্বনামকিন্তু ছিল না আপনাপণ -আত্মনিয়ন্ত্রণেরস্বশাসিত স্বদেশীযাপন, সম-অধিকার ইতিহাসহীন বাঙ্গালিই লিখেছে নয়া ইতিহাস,১৯৭১জয় বাংলা –তেমন এক সামূহিক সামাজিক জ্ঞানবায়ান্নর ভাষা -উতসার ,৬৬-র ছয দফা আরজনসমুদ্রের জোয়ার ,শতশত উদবুদ্ধের  মন্দ্র শ্লোগান,কার্য- পরিণাম– বহুসংখ্যকের মনন উপকরণ,বৌদ্ধিক যোগদান সৃষ্টির প্রথম মন্ত্র…

  • উপেক্ষিৎ শর্মা

    এক পুরুষকার সেটা ছিল আবহমানের কথা ও কাহিনিসেটা ছিল ছন্দপতনের নীল বর্ণমালাযেসব বর্ণমালা বেয়নেটে বিদ্ধ হয়রক্তের ধারাবাহিক অহংকারেযে পতন গালিচার সবুজ রঙে ফিকে হয়ে আছে এই সেই মাটিএ আমার অর্জিত অধিকার, আমার মাসেই মাটি ভিজে লাল স্বপ্নের গুপ্ত কোলাহলেনীল মেঘ আর দুধসাদা পালকের যৌথ সমবায়েসেজে ওঠা বাগানের টবফেটে চৌচিরচুঁয়ে পড়া লাল বিশ্বাসে  দীর্ঘ আপসোসপতাকায় লুকিয়ে…

  • অমিত দে

    কাঁটাতার কাঁটাতারের ওপরপ্রবাদের মতো বসে আছে              একটি কাকপাশে রাস্তা   ব্রীজনীচে জলধারাসীমান্তের ওপারে ভেসে যায়                ছেঁড়া পালক পালকের ভেতর বাতাসপালকের গায়ে জন্মদাগপালকের আঁচড়ে অনন্তরেখারেখাটি গিয়েছেবুকভরা ধানক্ষেতের মাঝবরাবর এরকমই কোন পালকেপঁচিশে মার্চ সন্ধ্যায়শেখ মুজিব লিখেছিলেন             একটি মেঘের গল্প। [সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল সম্পাদিত আগামী মাসে প্রকাশিতব্য ‘ভারতীয় বাঙালি কবিদের কবিতায় বঙ্গবন্ধু’ সংকলন থেকে।]

  • সুমিতা বর্ধন

    বঙ্গবন্ধু ভোরের আলো ফোটার আগেইরক্তের  আবির খেলায়মেতে উঠেছিল রাজাকারের দল,নিস্তদ্ধ  রাতের আকাশকেখান খান করেছিলঅসহায় শিশুর ক্রন্দন।রেহাই পায়নি সেদিনআধফোটা ছোট্ট কলিটিও।তোমার ভালবাসার সোনার বাংলা,মাঠ,ঘাট,নদী,পাহাড় , সমুদ্রসবই যে আপনার জন,কিন্তু, বিশ্বাসঘাতকের বুলেটছিনিয়ে  নিয়েছিল তোমায়-এই বাংলার মাটি থেকে,কত স্বপ্নের,কত সাধেরবাংলা তোমার,তুমি যে গো বঙ্গবন্ধু  ,নিষ্ঠুর বুলেটের গুলিতে ঝাঁঝরাহয়েছিলে সেদিন,যেন, ধরণী মায়ের কোলেতার অসহায় সন্তান।তারপরেও বলি,যতদিন বাঁচবে বাংলাততদিন তুমিও…

  • অভিজিৎ বিশ্বাস

    বঙ্গবন্ধু মাতৃস্তন্যের মতো মাতৃভাষার যে উত্তরাধিকার সঞ্চিত আমার জন্মমুহূর্তে,প্রয়োজনের দোহাই তুলে প্রতিটি মুহূর্তে কী অনায়াসে ভুলেযেতে চাই সেই অর্জন! রাজনীতি তো কবেই উপহার দিয়েছে কাঁটাতার,তবু ও’দেশেরই এক গন্ডগ্রাম…. সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা—-বাপ দাদু শিখিয়েছে বোয়ালি নদীর ধারে ওটাই আমার দেশ, বাংলাদেশ | আজও মনে পড়ে সেইসব দিন | সন্ধ্যে হতে না হতেই  অন্ধকারসমস্ত বাড়ি |…

  • অরিজিৎ ভট্টাচার্য

    বিস্মৃতির ছায়ায় বঙ্গবন্ধু কত রক্তে লেখা হয়েছিল একটি নাম,কত কান্নায় ভিজেছিল স্বাধীনতার ভোর।আজ সেই নামের মূর্তি ভাঙে কিছু হাত,অচেনা মুখের পশুত্বে হাসে ইতিহাসের অন্ধকার। কবি হৃদয় কেঁপে ওঠে—মানুষ কি এভাবে ভুলে যেতে পারে?যে কণ্ঠে জন্ম নিয়েছিল মুক্তির ডাক,যে বুকের স্পন্দনে জেগে উঠেছিল বাংলাদেশ,আজ সেই কণ্ঠকে গালি দেয় কারা? এ কি ইতিহাসের ক্লান্তি?নাকি কৃতঘ্নতার কালো ঝড়?পদ্মা-মেঘনা…