এরিনে শরৎ

অনেক দূরের দেশ, বলে থাকি সদাই-     
সাত সমুন্দর তেরো নদীর পারে সবুজের এক ঠাই।
যেথা বর্ষা ঋতু নেই ক্যালেন্ডারের পাতায়,  
মেঘলা সারা বছর, মেঘের খেলা আকাশ জুড়ে-
রঙ বাহারি কত আঁকিবুকি সারা দিন,  
এই বৃষ্টি কিংবা একটু রোদের চমক।

বেলা কেড়ে নিতে পারে যদি শুরু করো কথোপোথন,  

তাদের তুলির ভঙ্গিমার নাচনে।   

সূর্যটা অলস গেঁয়ো! পাঁচ মাস তার মুখ দেখা পাওয়া ভার!  

অ্যাটলান্টিকের পাড়ে প্রসন্ন সবুজ ঘন পল্লবের এই দেশ, এরিনে।  

এই সবুজ-শ্যামল অতলান্তিকের পাড়ের দেশটায়-

বৃষ্টির ঝাপটা চলে সারা বর্ষ ধরে,   

কেউ জানে না ফুরাবে কখন।   

শরতের শুরুতে আসে পাগলা ঝড়ের ঝাপটা,  

গাছের সতেজ পাতা বাতাসের দাপটে-  

নেয় বিদায় অকালে কিছু, মা-বৃক্ষের কাছে বিষন্ন মনে

আর ধেয়ে আসে হিম শীতের কম্পন।

 রঙ নাচনের জ্যাজ শেষ হবার পালা কুঞ্জ পুষ্প বীথিকায়,  

বৃক্ষ লতা গুল্মে লেগেছে তাই বাসন্তী মায়া।  

সাজ সাজ রব চারদিকে, পালা বদলের অঙ্গীকার-  

অন্তরে বিষাদ মন্থন চলে, অতি সন্তর্পণে উঁকি দেয়,    

সাত সম্মুদর তেরো নদীর ওপারের দেশটা–

শিশির ভেজা সকালে বসে আছি এক ঠায়,

যেখানে শেফালীকা লুটিয়ে কাছে মাটির গালিচায়।  

অনেক উত্তপ্ত গ্রীষ্ম দিনের ঘামের গন্ধে বিরক্ত হবার পর আসে শরৎ যেথা,  

নিয়ে আসে কাশফুলের রেশমি পালকের দুলুনি,  

বাতাসের গায় আবছায়া সুবাস।  

দূরের কোথাও কেয়া ফুল হয়তো পাঠায় সম্ভাষণ ভালোবেসে।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Trending

Discover more from শিকড় (Shikor)

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading