পুজোর ডায়েরি

এখন রাত্তিরবেলা। আমার ঘুম আসছে না এক্টুও কাল সোষ্টি যে কাল বাড়ি যাবো আমি আর বাবা। বাবা এখোনো প্যানডেল থেকে নামেনি। ওই যে বাইরে ওই কত উচু প্যানডেলটা ওটাই তো আমার বাবা তৈরি করছে। বাবা তো হেড মিস্‌তিরি। আরো কতো মিস্‌তিরি আছে রুণু কাকু, হরেন জেটু বাবলা কাকু সবাই বাবাকে দাদা বলে অত বড় বড় লোকজন। সবাই মিলে প্যানডেলে উঠেছে আর আমি ক্লাবঘরে বসে আছি। এখানে আমরা এক মাস আছি। কতদিন বাড়িতে যাই না মাএর জন্ন মন খারাপ লাগে। মা তো এখানে থাকে না। পুজোর সময় বাইরে যায় রান্না করতে। আমি ক্লাস থৃ তে পড়ি ইস্কুলে। ওই আড়নঘাটার পশে আমাদের বাড়ি। মা চলে গেলে আমাদের তো অন্য কেউ নেই তাই বাবা আমাকে নিয়ে তখন প্যানডেল তৈরি করতে যায়।
আমার পড়াশুনা করতে ভালো লাগে। বাবা বলে পড়াশুনা করে কত লোকে নাকি কত বড় বড় হয়ে গেছে আমি পড়াশুনো না করলে এই ছোটোই থাকব তখোন বাবা আর আমাকে ফুলপ্যানট কিনে দেবে না। কিন্তু আমি তো এখন ক্লাস থৃ তে পড়ি তাই বাড়িতে একা একা ভুতের ভয় পাই তাই বাবা আমাকে নিয়ে যায় প্রতি বছর। আগে আমার বুড়ো দাদু ছিলো একটা কাশতে কাশতে মরে গেছে। তাই মা তো অনেক দুরে যায় কাজ করতে সেই বোম্বেতে আরো অনেকে যায় আমাদের গ্রামের তাই তাদের সংগে যায়। বিভুতিকাকু নিয়ে যায় সবাইকে আবার লখ্যি পুজোর পরে মাকে দিয়ে যায় এখানে। মা তখন অনেক টাকা নতুন নতুন জামা প্যান্ট কত খেলনা ওই যে ওখানকার বাবুদের তো অনেক পয়সা তাই ওরা আগের বছরের জামাপ্যান্ট পরে না মাকে দিয়ে দেয়। আর বাবা তো কাল দেবে বাজার থেকে কিনে প্রতি বার সোষ্টির দিন বিকাল বেলায় বাবা পেমেন পায় ইনজিনিয়ার কাকুর থেকে। তখন আমাকে নিয়ে বাবা নোতুন জামা প্যান্ট কিনে দেয় আর রাতে ঠাকুর দেখায় আর মোগলাই খাই আমি আর বাবা দুজোনে তখোন খুব মায়ের কথা মনে পড়ে। তারপর গ্রামের বাড়িতে এসে ওই যে পাড়ার বোন্ধু সংঘো আছে ওর ঠাকুরটাই তো এই কদিন আমার মা। সপতোমি থেকে পুজো সুরু হলে তখন বাবা আমাকে আগের বছরের মা সেই এনে দিলো ওই একটা নোতুন জামা আলমারি থেকে পরিয়ে দেয়। আমি আর বাবা তারপর প্রতিদিন সকালে পুজো দেখতে আসি আর রাতে বাড়ি চোলে আসি। তখন তো কাজ কম থাকে বাবার তাই।
মা চোলে আসলে আমি আবার ইস্কুল যাবো ভাইফোটার পর। তারপর তিন্নিকে বোলবো আমি কী কী পুজো দেখেছি। ওর তো বাবা নেই ওর মাকে তাড়িয়ে দিয়েছে তাই মামার কাছে থাকে। ওর মাও আমার মায়ের সংগে বোম্বে যায় আর ও বাড়িতে থাকে। ওর মামী খুব মারে একটুও পড়তে দেয় না জামাও কিনে দেয় না। ওর জোন্নো আমার খুব কষ্ট লাগে। আমি তো ছোটো তাই বাবা আমাকেও নিয়ে যায় আমি অনেক পড়াশুনো কোরে বরো হলে তখোন তিন্নিকেও আমার সংগে রাখবো তখোন তো আর বুড়োদাদুর ভুত আমাকে ভয় দেখাবে না বাড়িতে একা থাকলেও। তিন্নির পুজো দেখাই হয় না আমি তো ছেলে নইলে আমার জামা ওকে দিয়ে দিতাম অনেকগুলো। ওই জোন্নো ইসকুল খুললেই আমি মোন দিয়ে পড়াশুনো করবো আর বাবা কে কাল বোলবো এবার আমাকে ফুলপ্যান কিনে দিতে। বাবা আমাকে খুব ভালোবাসে। খুব ভয়ো দেখায়। ওই যে সেদিন আমাকে নিয়ে ফেনস ক্লাবের ওই উচু প্যানডেলটার কতটা উঠে আমাকে একা ছেড়ে দিলো আর আমি লম্বা বাশটা ধোরে তখোন নীচে দেখে কি ভয় লাগছিলো আর বাবা হরেন কাকুরা সব হি হি কোরে হাসছিলো। বাবা বোলছিলো ওঠ পিকু আরো ওঠ পড়বি না আমি তো আছি। এই প্যানডেলটা জানিস সবচে উচু তুই সবচে উচুতে ওঠ, পড়বি না, আমি তো আছি। শুনে আমার ভয় লাগছিলো না আর কান্না পাচ্ছিলো খুব।
আমাদের পাড়ার বোন্ধু সংঘের পাশে আমি কাল থেকে তিননিকে নিয়ে ক্যাপ ফাটাবো। ওকে ফুচকা কিনে দেবো ওর তো কেউ নেই তাই। আমি জানি দুগগা মায়ের পাশেই সরোস্যোতী ঠাকুর আছে, আমি পরের বছোর অনেক পড়াশুনো করে বড়ো হয়ে গেলে মা যখোন বোম্বে থেকে আসবে তখোন আমি বিরিয়ানী খাওয়াবো। আমি বিরিয়ানীর গনধো পেয়েছি দোকান থেকে কী সুন্দোর গন্ধো। বাবা তো হেড মিসতিরি তাই আমরা সপতাহে একদিন হোটেল থেকে খাসির মাংসো খাই কিনতু বিরিয়ানী খাইনা। আমি বড়ো হলে ওই ইনজিনিয়ারকাকুর মতো হবো কী সুন্দোর নিচে দাঁড়িয়ে দাঁরিয়ে সবাইকে বকা দেয় বাবাকেও বোকে দেয় কতবার। পেমেন চাওয়ার সময় তো দিতেই চায় না আর কত কথা বলে। আমি ওরম কোরবো না বাবারা কত কষ্টো কোরে প্যানডেল বাঁধে যে ইনজিনিয়ার কাকুকে তো আর বাঁধতে হয় না উপোরে উঠে। এবার তাই বোন্ধু সংঘের দুগগা মাকে বোলবো মা আমাকে পরের বছোরই বড়ো করে দাও আমি অনেক পড়াশুনো কোরবো বলছি। আমি বাবাকে প্যান্ডেলের কন্টাকটর আর মাকে হোটেল করে দেবো আর তিন্নিকে বোলবো আমি তো ইনজিনিয়ার তাই বাড়িতে থাকবো না পুজোর সময়। তুই থাকবি পিলিজ?


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Trending

Discover more from শিকড় (Shikor)

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading