শ্মশানঘাটে লেখা ভাষার ভূগোল

তৌহিদ শাকীল

শীতল নির্জনতায় সৃষ্ট একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার গল্প বলি শোনো।
গল্পটা তোমারই, তুমি ঠাওর করতে পারোনি কখনো।

প্রথমে ওরা গাছ কাটলো। পরিবেশটাই তো তিতা
দেখে মেজাজও হলো ভীষণ তিক্ত।
বললো, গাছটার ছায়া অতিরিক্ত।
তারপর টেবিলের ওপর থেকে তুলে নিল
তোমার পুরনো কবিতা,
বললো, এসব অচল। আজকের ওয়ালে,
ভাষা এখন সেন্সরের ঘাম মুছে ফেলার তোয়ালে।

তোমার ভেতরের জাহাজটায় আগুন ধরিয়ে
যখন ওরা হাততালি দেয়, জানি না কীসের আশায়
তুমি তখনো অনুবাদ করো সংবিধানের শব্দ,
অজানা এক ছায়া সরকারের ভাষায়।

এখানে ডোমিনো ইফেক্টের গোড়ায় পাপ।
এখানে মনোবল মাপে না কেউ, নির্বাক
কেবল গণনা করে সশস্ত্র ‘শান্তি বাহিনীর’ অপলাপ,
আর পায়রার চোখে ছোপ-ছোপ রক্তের দাগ।

এই যে শ্মশানঘাট
এখানে প্রতিদিন পোড়ানো হয়
স্বপ্ন। পরিকল্পনা।
আর মাঝে মাঝে দু-একটা
বিপ্লবী চিঠি। বাকিটা জল্পনা।

ধোঁয়ার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকে দাউ-দাউ করে
কোনো এক আগ্নেয়গিরির স্মৃতি,
যে-গিরির ঠোঁটে আজকাল মুখোশ পরে
‘উন্নয়ন’, আর ‘সম্প্রীতি’,
নির্ভুল বললে, ‘কম প্রীতি’!

তবু কেউ-কেউ, মাথা নীচু করে নয়,
উঁচিয়েই নেয় ছাই। কেননা ওরা ঠিকই
জানে, আগুন নিভে গেলেও নিশ্চয়
ভেতরে কিছু কণা থাকে ধিকি-ধিকি,
যা দিয়ে লেখা যায়, নিটোল,
নতুন এক দেশের ভূগোল।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Trending

Discover more from শিকড় (Shikor)

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading