ঈদ যখন আত্মার সামনে দাঁড়ায়
ঈদের সকাল মানেই
শুধু নতুন কাপড় না,
শুধু সেমাইয়ের গন্ধ না,
শুধু উঠোনে বাঁধা পশুর আতঙ্কিত চোখও না।
ঈদের সকাল মানে
মানুষের বুকের ভেতর জমে থাকা
একটা অদৃশ্য জবাইখানা।
সেখানে বছরের পর বছর
বেঁচে থাকে লোভ,
অহংকার,
ঘৃণা,
মানুষকে ছোট করে দেখার অসুখ,
ক্ষমতার নোংরা ক্ষুধা,
আর অন্যের কান্নার উপর দাঁড়িয়ে হাসতে শেখা পশুত্ব।
আমরা ছুরি ধার দিই,
কিন্তু নিজের ভেতরের হিংস্র দাঁতগুলো
ভাঙতে ভুলে যাই।
আমরা রক্ত দেখি,
কিন্তু দেখি না
কত মানুষের পাতে আজও ভাত নেই,
কত শিশু ঈদের দিনেও
খুদের হাঁড়িতে শুধু পানি ফুটতে দেখে।
কোরবানি শুধু মাংস ভাগ করার নাম না,
এটা ভাগ করে দেওয়ার শিক্ষা।
নিজের অংশ থেকে
অন্যের ক্ষুধাকে একটু জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নাম।
আল্লাহ কখনও রক্ত চাননি,
চেয়েছেন আনুগত্য।
চেয়েছেন,
ইব্রাহিমের মতো মানুষ
নিজের সবচেয়ে প্রিয় অহংকারটাকেও
কাঁপা হাতে কুরবানি দিতে পারে কিনা।
পশু জবাই সহজ,
নিজের ভেতরের জানোয়ার জবাই করা কঠিন।
কারণ মানুষের ভেতরে এমন কিছু নেকড়ে থাকে
যারা নামাজ পড়ে,
তসবিহ গোনে,
তারপরও মানুষের অধিকার খায়।
এমন কিছু শকুন থাকে
যারা ধর্মের কথা বলে,
আবার দুর্বল মানুষ দেখলে
নখ বের করে।
এই ঈদে
তোমার ছুরিটা একটু নিজের দিকেও ফেরাও।
দেখো,
তোমার ভেতরে কোনো নিষ্ঠুরতা এখনও বেঁচে আছে কিনা,
কোনো লোভ এখনও মানুষের ক্ষুধার চেয়ে বড় কিনা,
কোনো ঘৃণা এখনও ভালোবাসাকে হত্যা করছে কিনা।
কারণ কোরবানির আসল রক্ত
মাটিতে না,
ঝরে মানুষের আত্মায়।
আর যে মানুষ
নিজের ভেতরের পশুটাকে হত্যা করতে পারে,
সেই মানুষই
আসল ঈদ দেখে।






Leave a Reply