নগ্নবৃত্তের উপাখ্যান

তবু এক নিষিদ্ধ পল্লীর মেয়ে আমায় চেনে,
সে হাসে আমার ক্ষতের ওপর লবন ছড়িয়ে;
বলে—‘তফাত কোথায় তোমার খাতা আর আমার বিছানায়?’
যে মরীচিকার পিছে তুমি রক্তাক্ত, যে সুরের মায়ায়
নেমেছ এই ধুলোবালি আর পঙ্কের নরকে,
যে বিশ্বাসের কথা শোনাচ্ছ এই গলিত গলির মাংসকে—
আকাশের শেষ মৃত নক্ষত্রটিও জানে, তা এক সুচারু মিথ্যে।
আমার গোলার্ধ ঘোরে উল্টো টানে;
আমি তো দুঃখের বিষপান করি না আর,
বরং তার নগ্ন হাতের আঙুল ধরে হাঁটি—যখন তার হাটে খদ্দের জোটে।

আমি দাঁড়িয়ে থাকি কিছুটা তফাতে, কোনো এক কঙ্কালসার ছায়ায়,
সে ফিরে আসে আমারই আদিম আশ্রয়ে।
হেমন্ত আর কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে আমরা পালাই দূর প্রান্তরে,
গ্রীষ্ম আর শ্রাবণে আমাদের ঘর এই ইট-কাঠের নরক-কুঠুরিতে।
বসন্তে যখন সমস্ত জঙ্গল কামনার আগুনে পোড়ে,
আমাদের মনে পড়ে না—শহরে, বনে বা কোনো পরিত্যক্ত গর্ভে
কীভাবে বেড়ে উঠছে আমাদেরই এক বেনামী ভ্রূণ!
আমরা ভুলে যাই কীসের অন্বেষণে জন্মেছিলাম এই অবনীতে।
আমাদের ভাঙা বাসন, তৃষ্ণার পাত্র আর উচ্ছিষ্ট প্রেম—
কেউ কোনোদিন ছুঁয়েও দেখবে না পাপের ভয়ে।
যখনই আমরা মৈথুনের তীব্র বন্যায় দুটি ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ি,
শুকনো ঘাসের বুক থেকে ডেকে ওঠে কোনো অন্ধ কীট;
আমরা নতুন কোনো ধ্বংসের গল্প বলি—
গ্রাম থেকে বন্দর, বন্দর থেকে মহানগর, আবার মহানগরের শ্মশান হওয়া।
উথলে ওঠা বীর্য, অবহেলা আর একমুঠো অবধারিত মৃত্যু—
তবু এক নতুন শিকার এসে আমার দরজায় শুধোয়,
‘তুমি কি এই নরকের সুতোয় বাঁধা আছ আজও?
এভাবে তো অনন্তকাল বেঁচে থাকা যায় না!’
কোনো কোনো রাতে আমরা মদের গেলাসে ভাসিয়ে দিই আমাদের তীব্র চিৎকার,
আবার কোনো দিন কাটে নিরেট পাথরের মতো স্তব্ধতায়।
হঠাৎ এক ভোরে পরস্পরকে হত্যা করার তীব্র বাসনা জাগে বুকে,
আর তখনই আমরা পা বাড়াই অন্য এক অচিন নগরের দিকে,
পেরোতে হয় কত রক্তাক্ত নদী আর গিরিপথ...
জানি, আমাদের এই অনন্ত নরকবাসের কোনো বিনাশ নেই,
এমনকি মৃত্যুও আমাদের মুক্তি দিতে ভুলে গেছে!

Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Trending

Discover more from শিকড় (Shikor)

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading