- Powered by
- WordPress
-
ফয়জুল ইসলাম ফয়েজনুর
বাংলা নামের আখ্যান বাংলার আকাশে তার নাম এক অনিঃশেষ নীললিপি,নক্ষত্রের গায়ে লেখা অগ্নিঅক্ষরে মুক্তির বৃত্তান্ত।প্রতিটি বাতাসে সেই নামের গোপন মন্ত্র,নিঃশ্বাসের ভেতরেও জ্বালিয়ে রাখে প্রভাতের সূর্য। বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে, শিউলির শেষ পতনে,শীতের কোমল কুয়াশায় লেখা আছে এই নামমাটির প্রতিটি দানায় তার পদধ্বনির উষ্ণতা,যেন শিকড়ে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন বজ্রনাদ। বিশ্ববাঙালীর হৃদয়ে এক অমলিন দীপশিখা,সে নাম মুছে যাবার…
-
খাতুনে জান্নাত
পিতা এক বিমূর্ত কবিতা(বিনম্র শ্রদ্ধা ও শোক) ছায়ার গভীর থেকে উঠে আসে চিরন্তন আলোর আঙুলমহা-প্রাণ হাতে নেয় স্বদেশের প্রেম উপাখ্যান।মুক্তির মিছিলেসত্তার অপরূপ সৌন্দর্য দর্শনেঅস্তিত্বের সুদৃঢ় বন্ধনেঐতিহ্যের সহজ ও সুন্দরম আয়োজনে এক হয়চাষা, চামার, মুটে, মজুর, মেথর, কুলি, কামারছোট-বড় ও ধর্মের বিভেদ…স্বাধীনতা রক্তে লিখে তারকাখচিত নাম, বাংলাদেশ।নির্যাতিত অধরে হাসি গণতন্ত্র যার পরিণাম…তারপরও ক্ষরণের কালো থাবা…ক্রন্দন…ক্রন্দন…কারবালা…কারবালাবুঝেনি মুঢ়ের…
-
মজিবুল হক মণি
এক আকাশমুখী তর্জনী সেই কবে তর্জনী হয়েছিলো আকাশমুখী নভোচর।মাঠ থেকে মাঠ ছেয়েছিলো দ্রোহের মিছিলে,প্রান থেকে প্রান মিশেছিলো অভিষ্ট প্রনয়ের দ্বিপে,কন্ঠ থেকে কন্ঠে বেজেছিলো মুক্তির অবারিত গান। সেই সুঠাম তর্জনী লক্ষ কোটি চোখে এঁকেছিলো-স্বপ্নিল নক্সীকাঁথার মাঠ, গর্বের শহীদ মিনার,সূর্্য্য সকাল আর সবুজের অপূর্ব মানপত্র,এঁকেছিলো বুকের ভেতর রেশমী সুতার এক নতুন চাদর। মুক্তির পায়রা উড়লো উন্মত্ত সুনামীর…
-
সালমা বেগম
১৫ই আগস্টঃ অগ্নিশপথ পঁচাত্তরের সেই নিশ্ছিদ্র কালো রাতসেই রাতে নিভে গেলো স্বাধীনতার প্রদীপ,তাঁরারা হারিয়েছিলো কৃষ্ণপক্ষের অধরে ,আর চাঁদ, মুখ ঢেকেছিলো বন্ধ্যা অন্ধকারে । সেদিন থেমে গিয়েছিলস্বাধীনতার অগ্নিশিখার জ্বলজ্বলে আলো,স্থবির হয়েছিল পদ্মা-মেঘনার উদ্দাম ঢেউশকুনেরা ছিড়ে খেলো বাংলার হৃদপিণ্ড। বঙ্গবন্ধু, তুমি ছিলে মাটি আর মানুষেরঅদম্য আলোকস্তম্ভ, যার ছায়ায় সাত কোটি প্রাণখুঁজেছিল মুক্তির আকাশ।তোমার বজ্রকন্ঠে জেগেছিল ধানক্ষেত, নদী,…
-
সৈয়দ হিলাল সাইফ
সোনার দেশের সোনার ছেলে টুঙ্গি পাড়ায় একটি ছেলের জন্ম হলো।তার পরে কী?তার পরে কী? বলো বলো।সেই ছেলেটির আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছে হলো।স্বপ্নভরা দু’চোখ ছিলো ঝলোমলো। তার পরে কী?তার পরে সে পদে পদে বাধা পেলো। তার পরে কী?স্বপ্নটা তার উবে গেলো? ধীরে ধীরে বুঝতে শেখেপাক শাসনের ধরন-ধারণ,হাতের মুঠি শক্ত হলোমানতো না সে কোনো বারণ। সেই ছেলেটি তুল্লো…
-
ফারুক আহমেদ রনি
শব্দের আগুন একদিন ভূখণ্ড জেগে উঠেছিল মৃতচাঁদের অন্ধকারেযেন ঘুমন্ত মাটির নিচে হঠাৎ বজ্রধ্বনি।মানুষ তখনো জানত না,একি বজ্রকণ্ঠ নাকি ভূকম্পন!ক্ষুধার্ত শস্যখেত জেগে উঠছে জলজ আলোয়,দূরের আকাশে দোলেওঠে অগ্নিপালকের পতাকা।যা মাটির গন্ধে, ভেজা পাতার নীরবতায়একটি দেশের জন্মবৃত্তান্ত লেখা হয়। তিনি ছিলেন বৃষ্টির আগে গাছের পাতার অস্থিরতা,হাঁটুভাঙ্গা নদীতে জোয়ার,যার স্পর্শে মাঠের ধুলোয় বিশ্বাস জেগেওঠে-সবকিছু সবুজ হয়ে উঠবে।তিনি ছিলেন…
-
শামীম শাহান
কান্না ও শূন্যতার পুনরুত্থান পুরনো রাস্তাটি পেয়েছি, সেই আগের মতোইঘাসযুক্ত প্রান্তব্যুহ পুনরুদ্ধার করা হলো, প্রশস্ত করা হয়নি বরং স্থুল হয়েছেঘাসযুক্ত জায়গাটি গোলাবারুদের বিস্ফোরনে পুড়ে যায়;ঘাসযুক্ত হয়েছে, কান্না থামেনি;ইউনিফর্মের দাগ শুকিয়ে গেছে। বিশেষ মানুষটি আজ আর নেই। তারপর সেই বিশেষ দিনে আমি হাঁটা দিয়েছিলামক্ষুধার্ত লোকদের জাগাতে,নীরব উঠোন পেরিয়ে,অতীতের এক প্রত্ন মিউজিয়ামেযেখানে রক্ষিত লাশের স্তুপ। বাস-স্টপটি আর…
-
শামীম আজাদ
স্বাক্ষর এমনকি আমাকেও অনুবাদের পরশুধু মাত্র একটি নামএসে দাঁড়ায় অনুভূম উর্বরসে আমার অভিজ্ঞানসদা জাগ্রত শুদ্ধতা নিরন্তর।তাই আমার ঠিকুজি খুঁজতে হয়নাহয়নি কখনোবিগত এ পঞ্চাশ বছর।এই বিলেত তো দেশ থেকে বহুদূরতবু যখনি পড়েছিরাতে শীতে দৈন্যে নিভৃতেঅন্যায় অবহেলায় কেঁপেছে অন্তরআমার শক্তি শুষে নিতে বর্ণবাদএ বাদামী ঘাড় লক্ষ্য করেতেড়ে এসে দিয়েছে কামড়আর আমি দেহখানা নিয়েদর দর ঘেমেছিচূড়ান্ত যুদ্ধে হার…
-
আবু মকসুদ
ইতিহাসের একমাত্র পঙক্তি তিনি ছিলেন না শুধু একজন মানুষ, তিনি ছিলেন এক ভাষার জন্ম, এক নদীর উচ্ছ্বাস, এক জাতির প্রথম উচ্চারণ।যখন পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলার নাম ছিল না, তিনি ছিলেন সেই অনুচ্চারিত নাম, যা প্রতিটি নিঃশ্বাসে জেগে উঠত, প্রতিটি বুকের ভেতর আগুন হয়ে জ্বলত।তিনি ছিলেন না কোনো রাজনীতির কৌশলী, তিনি ছিলেন এক অগ্নিস্নাত কবিতা, যার প্রতিটি…
-
শামীম আহমদ
৩২ নাম্বার বাড়ি অকস্মাৎ ৩২ নাম্বার বাড়িটিব্ল্যাকহোলে পড়েছিল স্মৃতিময় নক্ষত্রের মতোসবাই ভেবেছিল চিরতরে হারিয়ে যাবে তাণ্ডবেকিন্তু না,এই ভগ্নাংশজুড়ে শ্রদ্ধা আর অশ্রু জমাহতে দেখে নিজেকে একটু শক্ত করে বেঁধে নেই সময়ের সাথেজমায়িত অশ্রুজল সুনামি হবে একদিন… লেখা হচ্ছে নীরব সংবাদ ধ্বংস স্তূপের প্রতিটি ইটেপায়ে দলা ঘাসের নতুন ডগায় চিকচিক করে উন্মেষসেই পুড়ে যাওয়া কাঁঠাল গাছটিও পুনর্জন্মে…
-
মাশূক ইবনে আনিস
তিনি ইতিহাসে অনিঃশেষ দলিত মথিত মাটির দলাও শিল্প হয়জেগে ওঠে কৃষ্ণাবক্ষের নিগূড় অর্থ,প্রার্থনায় নত হয় অবনত হয় মানুষের নতজানু মুহূর্তসমূহ,বৃত্তাবদ্ধ সৃষ্টি কখনও কখনও জন্মায়নের সীমাভেদ করেশিরদাঁড়া উর্ধ্বমুখি হয় ইতিহাসের আকাশ ফুঁড়ে,তিনি তেমন-ই এক অত্যাশ্চর্য জন্ম-মৃত্যুরজ্যোতিষ পঞ্জিকা,আমরা বার বার খুলে-খুলে পাঠ করিআমাদের ভাগ্যলিপি, তিনি দলিত মথিত হলেওলীন-বিলীন কখন-ই হয়নি তাঁর নাম,তিনি বেঁচে থেকে যাচ্ছেন কিশোর বালকটিরউদ্ধত…
-
দিলু নাসের
শোকগাঁথা আমার সকল ভালোবাসা ভরে সফেদ রঙের খামেপাঠিয়ে দিলাম টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার নামে।বাংলা -বাঙালি যার লাগি হলো বিশ্ব ভুবনে ধন্যবিনম্র প্রাণে শ্রদ্ধা আমার সেই মুজিবের জন্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকোটি বাঙালির হৃদয়ের মাঝে রয়েছেন বহমান।বাংলাদেশের ফুল- পাখি- নদী সবুজ বৃক্ষ পাতাআগস্ট মাসে মুজিবের নামে লিখে যায় শোকগাথা।যার আলোতে বঙ্গ ভূমিতে এলো আলোকিত ভোরতাঁর…
-
আতাউর রহমান মিলাদ
শেখ মুজিবুর রহমান শে-ষ করতে চাইলেই কী আর শেষ হয়ে যায় সবকালের স্রোতে রয়ে যায় কিছু নাম,সময়ের কলরব। খ-রস্রোতা নদীর মতো বহমান তাঁর জীবনের ধারাবাংলার মাঠে ঘাটে রোপিত উজ্জীবনের চারা মু-ক্তির অগ্রদূত,জাতির জনক,বাঙালির আত্মপরিচয়পদ্মা মেঘনার জলে মেশা অভিন্ন হৃদয়,অমর অক্ষয় জি-য়ন কাঠির স্পর্শে মৃত বৃক্ষেও ফুটে ফুলসাহস ও সংগ্রামে পথের ঠিকানা,সঠিক ও নির্ভুল বু-নিয়াদি ভিটায়…
-
আসাদ মান্নান
অন্ধকারে জনকের মুখ আগস্ট শোকের মাস; যদি তুমি রক্তমাংসে হওপ্রকৃত বাঙালি,আমৃত্যু তোমাকে কাঁদতে হবে;যদিমানবীর গর্ভে জন্ম নাও, তোমাকে কাঁদতেই হবেদেখো আমরা কেঁদে কেঁদে দিন দিন অন্ধ হয়ে যাচ্ছি পঞ্চাশ বছর ধরে আমি কাঁদছি,তুমি কাঁদছো;রাম ও রহিম–এই দুই সহোদর কাঁদতে কাঁদতেবেদনার্ত আলিঙ্গনে গোমেজকে জড়িয়ে ধরেছে শ্রাবণের মেঘ থেকে বৃষ্টি নয়, যেন রক্ত ঝরছে।কী যে মর্মন্তুদ এই…
-
ফারহানা ইলিয়াস তুলি
পলিপুত্রের প্রতি একটি চিঠি লিখছি।লিখছি দীর্ঘদিন থেকে কিছু মানুষের নাম।যারা বেঁচে থাকবে এবং যারা বেঁচে নেই- সকলেরসম্মিলিত বংশতালিকা। জানি এই তালিকা সম্পূর্ণ নয়।কারও নাম বাদ পড়তে পারে।যুক্ত হতে পারে নতুন কোনও অচেনা নাম।তবুও লিখে যাচ্ছি, মাটিদাগে-লিখছি একটি পুঁথি,পলিপুত্রের প্রতি। যে পিতা একটি মুক্তিসংগ্রামের ডাকদিয়েছিলেন-যে সন্তানদের হাতে তুলে দিয়েছিলেনএকটি পতাকা-আমি তারই,ছায়াকন্যা হয়ে,তার জন্যে নিবেদন করে যাচ্ছি…
-
ফকির ইলিয়াস
পিতা,অনলে অভিভূত আছি আগুন দেখে কখনও ভয় হয়নিআমার!ভয় ছিল না সমুদ্রেও কোনোকালে।বরং শিখা কিংবা ঢেউকে,জন্মেরশুরু মনে করেছি আজীবন।কিছুটা দ্রোহ পেলে উপড়ে ফেলবোদুষ্টগ্রহের সীমানা –এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছি বহুবার। যুদ্ধকেই পরিত্রাণ ভেবে,আমি শরণার্থী হয়েছি।এমনছবির দিকে তাকিয়েছি বার বার,যে ছবির আঙুল আমাকে দিয়েছেনিমগ্ন স্বদেশ! ভূমিত্যাগ মানেইউপাত্ত ভুলে থাকা নয়-এই সত্যের জানালায় উড়িয়েছি মুক্ত হাওয়া। মূলত মুজিব মানেই…
-
গোলাম কবির
তোমার আমার আমার ছন্দ রুদ্ধ যখনতোমার ফল্গুধারাতোমার বাগান ফুলে ফুলেসুবাস পাগল-পারা!এতো ছিলো তোমার বনেমধুর চাকে ভরাআমায় কেনো সেই ভোমরাদেয়নি মোটেই ধরা!ভালোই থেকো বন্ধু তোমারআপন কুঞ্জবনেইচ্ছে হলে কুড়িয়ে নিওঝরা ফুলটি মনে!তোমার মনের প্রেমের ধারায়সিক্ত থেকেছিলেমকলঙ্কেও হৃদয় ভাঙাআঘাত পেয়েছিলেম!আমিও তোমায় বুঝনি আরতুমিও আমায় নওনতুন নাগর নিয়ে তুমিএবার সুখি হও!
-
আশরাফ চৌধুরী
জন্ম শৈল্পিক সৃষ্টি ইদানীং মাটিকে প্রণাম করিচোখে তীর ছোড়ে জ্বলে যাওয়া আকাশ আলোমৃত রা মাটিকে ঈশ্বর ভাবেহাওয়ার ভেতর ঝড় উগলানো ধোঁয়া বিগ্রহযন্ত্রণা খুললে কিছু পাখি উড়ে যায়উন্মুক্ত ধর্মের সাথে আমি আকাশে স্বপ্ন পুড়াই, অশ্রু বাগানে সাতানব্বই টি গোলাপঢেউ জলে ছায়া,সকাল হেলনার সূর্যবিরক্ত লাগে ;এ-ই যে সৎকার শ্মশান ধোঁয়ার ভারঅনূভুতিহীন ছায়া কেবল নরকালনদীর কাছে বসি,নিঃসঙ্গ একাকীত্ব…
-
সাদিয়া নাজিব
ছায়াসংঘাত শৃঙ্খলে আটকে আছে আত্মার স্বরশেকল ভেঙে ছেড়ে দেবে কে!কোন উদ্যত ফণা রজ্জুর মতো লকলকিয়েস্বরকে জোরালো করবে গাঢ় থেকে গাঢ়তর!যেন এক প্রবল সমুদ্র, কোটিবর্ষের গুমোট হুংকাররুষ্ট ক্ষুব্ধ প্রলয় নিয়েফেনিয়ে ফেনিয়ে বিস্ফোরিত হবে চিৎকারেযদিও জেনো,ক্ষতি হবে জলের, মৃত্তিকার, সুপ্তবীজের।শেকল বাঁধা স্বরযখন হবে সমস্বরইতিহাস লড়বে যখন সাম্প্রতিকের বিপরীততখন ক্ষতিগ্রস্ত হবে মরালীর উঁচু গ্রীবার মতো বর্ণমালা।স্লেটের অক্ষরগুলো মুছে…
-
জাকিয়া রহমান
শ্রাবণের ঝর ঝরো কান্না দূর দুরান্ত দেশে শ্রাবণের ঝর ঝরো কান্না এসে,বলে গেল সে কথা, এসেছিল সে বাংলার নদীর তীরে।ধীর পায়ে হেঁটে হেঁটে অথবা কোন নীলগিরির বুকে-উপচে পড়া মেঘের কান্নায়,নিয়ে এসেছিল কত ছন্দের উল্লাস, কত উপমার রূপকথা!বাংলার প্রাণ জুড়ে,বাংলার মন জুড়ে,দিয়েছিল ছড়িয়ে কত কথার মঞ্জুরি।ভাবনার কত ঘন মেঘে, কি উজ্জ্বল সূর্যের আলোতে,বিরহের কান্না আর প্রেমের…
-
আসাদ মান্নান
আমার রবীন্দ্রনাথ আমার রবীন্দ্রনাথ চিরকাল আলোর প্রপাতআমার ধ্যানের উৎস– দুঃসময়ে বিপদে-আপদেঝড়ে ও ঝঞ্ঝায় তিনি অলৌকিক সূর্যের মতনআমাকে জোগান শক্তি অশুভের মুখোমুখি হতে ;আমার পেছনে নিত্য সাহসের অমিয় বাণীরঅজস্র অস্ত্রের এক অফুরন্ত অস্ত্রাগার তিনি;কুমানুষ কুলাঙ্গার জঙ্গলের অসুর উন্মাদতাঁর দিকে যতই হানুক কুৎসা আর নিন্দাতীর,দুর্জনের অপবাদ কূটতর্ক প্রলাপ বচনআমার রবীন্দ্র প্রেমে কী করে আঁচড় দেবে, বলো!এ প্রাণে…
-
ফয়জুল ইসলাম ফয়েজনুর
তুমি আবার সোনা ফলাও হে মেঘে ঢাকা আকাশ, ঝরাও বৃষ্টি, ধুয়ে দাও ক্লান্তির ক্ষত,নীলের আঁচলে ঢেকে দাও মলিন এই বৈষম্যের শরীর।নির্জীব গাঙ, ফিরিয়ে আনো প্রমত্ত স্রোতের গর্জন,নবযৌবনার ছলকে ভেসে উঠুক প্রাণের উচ্ছ্বাস।ধূসর আঁধার, ভাঙো তোমার মৌনতাআলোয় ভরাও, জ্বলুক গৃহ-প্রান্তর, অন্ধকার পথ। নিঃসাড় বৃক্ষ, মুকুলিত হও,তুমি আবার পত্রপল্লবিত হও পুষ্পিত হওফলে ফুলে ভরাও জননীধরার অন্তঃসার।নিঃস্বর ভূমি,…
-
মৌ মধুবন্তী
সমুদ্রের কালি, পাহাড়ের ডায়েরি, মানবতার শেষ পাতা মৌ মধুবন্তী “মানবজাতির গল্প শেষ হতে পারে এখানেই”* – অ্যান্ডার্স স্যান্ডবার্গ“পৃথিবীর মেয়াদ ফুরনোর আগে, প্রশ্ন জমেছে ডেটার ল্যাবে”* – ডেভিড এডমন্ডস প্রাগৈতিহাসিক পৃষ্ঠা থেকে বলছি,সমুদ্রের জল তখন লিখত ডাইনোসরের গল্প,পাহাড়ের চূড়ায় জমে থাকত আগ্নেয়গিরির রাগ।স্তনদানকারী এক নারী-সূর্যোদয় -mammal dawnজেগে উঠলো ক্রেটেশাসের ধোঁয়াশা ভেদ করে—কিন্তু শেষ হাসি হাসলো গ্রহাণু,…
-
আব্দুর রশিদ
ছুঁয়ে যেও, শব্দের গায় দূর থেকে আসে এক কন্ঠস্বর—ঝরাপাতার মতো নরম,বলে— এসো, বন্ধুরা, বইয়ের স্টলেঘুরে যেও,বই কিনতে হবে না,শুধু ছুঁয়ে যেও শব্দের গায়ে।পাতা খুললেই একটি পিপাসার মুখজল খোঁজে, —একটি কবিতা জেগে থাকেঘুমভাঙা রোদের নিচে,তুমি যদি না পড়ো,সে থাকবে তবুও বৃষ্টির মতো অপেক্ষায়।আমার সাধ্য নাই,তাই প্রতিকণার মতো ছুঁয়ে দিয়েছিছায়ার মতো পাতায় পাতায়,অনুরাগে—যেমন চাঁদ ছুঁয়েছে নদীকে,জল না…
-
গোপা ভট্টাচার্য
শিক্ষিত অনাদি কেবিনের কোণার টেবিলঅফিস ফেরত সমাগমচপ, কাটলেট চুমুর পরতুমি বলে উঠলে –সুখ বড় চঞ্চল, বুঝলিকখন, না থেকেও থাকে,আবার কখন থেকেও থাকে না।দুঃখ ঢের ভালোকখন, আচমকা ছেড়ে যায় নাযেতে যেতেও শিখিয়ে দিয়ে যায় । সেদিনের পর থেকেআয়ুর দীর্ঘ সিঁড়ি বেয়েসুখের থেকেও দুঃখ কেবেশি করে আপন করেছি ।অনুশোচনার তকমা মিটিয়েআমি শিক্ষিত হয়েছি
-
এ কে এম আব্দুল্লাহ
নতুন শহরের গল্প এই নাও হাত। ধরো। এবার চলো হাঁটি। পানের-পিক ফেলা দেওয়ালটা অতিক্রম করলেই— নতুন শহর। জোনাকির ডানা থেকে ঝরে পড়া সোডিয়াম আলোয় ভিজে, আমাদের কিছুক্ষণ চুমো’র গন্ধ মাখা গলি-ঘুপচি দিয়ে হাঁটতে হবে। আর আমাদের সাথে ছায়াবেশে আসতে পারে— কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু সংবাদ। মাঝেমধ্যে ঘামভেজা দরজার ফাঁকে শুনবে—চুড়ি আর বিচিত্র হাসির ব্যাকুল ধ্বনি। ফুটপাতে…
-
সৌম্যজিৎ আচার্য
নুড়ি অনেক অনেক জলপ্রতিদিনএকটা করে নুড়ি ফেলি তাতে সে নুড়ি হয়তো ভেঙে যাবে ঢেউয়ে,পাতায় ওপর বসে ভেসে যাবে দূরে- গভীরে হারাবে…ছোট্ট নুড়ি, যেন এক এক ঋতু,যেন বরফকুচি, প্রেম অনেক অনেক জলতুমি প্রতিদিন একটা করে নুড়িফেলি তোমার ভেতরে
-
নজমুল হেলাল
ফুলচাষী একটা সুবাসিত দুর্লভ ফুল ফোটেবহুদিন পরনিদারুণ দক্ষ হয়ে ওঠে কাঁটা আন্তরিক পরিচর্যা’র আলো জল ব্যর্থ হয়ে যায়স্বপ্নের পাপড়ি একটা একটা করে ঝরে পড়েমোহভঙ্গের কর্কশ চৌচির জমিন জুড়ে আবার কবে ফুটবে ফুল কে জানেকুটিল কীটের ক্যান্সার এখানেও বাসা বাঁধেজন্মের সহজাত সঙ্গী হয়েধনধান্যে ভরা সাহসের সোনার তরীওডুবে মরেশোকের মাতম যেন অরণ্যরোদন ফুলচাষী তবু হাল ছাড়ে নাফলায়…
-
ফিরোজ শহীদ
আমি আছি শেষ ফলাফল রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি দেখোতবু ওরা আসেশিশুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে আসে অন্ধকার।আরশ্বাসকষ্টে ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকে এই বৃক্ষ,এই মানুষেরা, এই নদী, আকাশ, তোমার আমার পরিচয়। রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি দেখো—তবু ওরা আসেরেস্তোরাঁতে কথা হয় টার্মিনাল ছিটকে পড়ে জলেমাথার ভেতর কড়কড় করে বেজে ওঠে বুটের আওয়াজ।ঘুমোতে পারি না আমি ঘুম নেইতন্দ্রায় আচ্ছন্নে…
-
মোহিনী মোহন
আমি আসি আমার নিয়মে আমি কিন্তু খড়কুটো কিংবা কোনো ঝরা পাতা নই,যে ঝড়ে বা দমকা হাওয়াই উড়তে উড়তে দূরে চলে যাবো;না, আমি তেমন কোনো পরজীবী আগন্তুক নই ;আমার অস্তিত্বে আছে একটা বিশাল মহীরুহ,যার মূল অনেক গভীরে,ফুলে ফলে পল্লবিত একশ্যামল আকাশ জুড়ে যার আছে বহু ডালপালা;তার নামে গৌরবের যত কথা যত চিত্রগাথারিসেট বাটন চেপে যে চায়…
