Powered by
WordPress
  • আলোর সমাধি

    আসাদ মান্নান কুয়াশা জড়িয়ে আছে ফুলে ফলে;অন্ধকারে তবুএকটা উজ্জ্বল দিন আজ; রক্তমাখা জন্মভিটা ;বিষন্ন আকাশ জুড়ে নক্ষত্রের গোপন সভায়আগুনের মন্ত্র জপে বাস্তুচ্যুত নদীর দুহিতা;বৈঠাহীন মাঝি একা পাড়ি দেবে জলের উজান–তোমার যেখানে ইচ্ছে যাও পাখি অমরতা বুকে। মাটি ও রক্তের গন্ধ ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না;আদিগন্ত খোলা মাঠে এ কেমন রুদ্ধ নীরবতা!অবরুদ্ধ মানচিত্রে গৌরবের চিহ্নগুলো আজপরশ্রীকাতর…

  • মৌনঅসুখ

    শুভদীপ রায় যখন তোমার বুক ভেসে যায় প্রেমখিদেতেআমি তখন একলা যুবা পলাশ কুড়োই, মৌনঅসুখ যখন তুমি ভাবনা ওড়াও কৃপণ চোখেআমি তখন গাইছি দ্যাখো নবীন পথিক, আরশিনগর তোমার কাছেই খুঁজছি আজও চন্দ্রপরাগএবং রসের গহন ভাষা,নেশায় নেশায় কাঁপছে যে ঠোঁট,যৌনদ্যুতি তবুও প্রলাপ সঙ্গী আজও ভুলের বসতএই দ্যাখো এই আঁকছি কিছু ফাগুন আলাপনরম নাভির বলয় ঘিরে ইতস্ততখামচে ধরা…

  • রক্তের রঙ

    পারভীন শাহনাজ যে কাঠুরিয়া সেদিন বোধিবৃক্ষটা কেটেছিলতার সেই কুঠারের দাম এখন কোটি টাকারাষ্ট্রীয় সম্মানেও তাকে সম্মানিত করা হচ্ছে বারবারযুগে যুগে অযোগ্য আর সমাজের জন্য ক্ষতিকরমানুষগুলোর পায়েই এভাবেতথাকথিত সম্মান আছড়ে পড়ে,এটা তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রথম যেদিন তুমি যে ভূমির ওপর দাঁড়িয়ে সূর্যের চোখে চোখ রেখে প্রতিজ্ঞা করেছিলে এই সব অনিয়ম পালটে…

  • ইস্পাত নগরী থেকে নান্দনিকতার নির্মাণ

    শুভ জন্মদিন আজ এক বিশেষ দিন, শব্দের নিবিড় সাধক, নান্দনিক অনুভবের নির্মাতা পিয়াল রায়ের জন্মদিন। জন্মসূত্রে ‘ইস্পাত’ নগরীর মানুষ, যেখানে ধাতব শব্দ, কঠোরতা ও যান্ত্রিকতার ভিড়ে মানুষ প্রায়ই হারিয়ে ফেলে নিজের ভেতরের কোমল সুর। অথচ সেই বাস্তবতার অন্তরালেই পিয়াল রায় নির্মাণ করেছেন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ভুবন যেমন; নীরব, গভীর, নান্দনিক এক সাহিত্যলোক; যেখানে শব্দ শুধু…

  • আমি বাংলাদেশ

    আতিকা হাসান আমার গেরুয়া শরীরে প্রবাহমাননানান জাতির রক্ত , বিবিধ ধর্মীয় বোধবৈচিত্র্যময় দেহে হাজার বছরের আর্য-অনার্য ,মোগল-পাঠান, মঙ্গোলিয়া, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান,মুসলমান ও বিভিন্ন জাতির বাস,মিলেমিশে থাকে আমার চৌষট্টিটি মজবুতহাড়ের বিন্যাসে।আমাকে ছুঁয়ে থাকে ছয় ঋতুর শরীরের ঘ্রাণবুক ভরে শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকি অবলীলায়।কত যুদ্ধ, কত দুর্যোগ, কত তীক্ষ্ণ নখরেররক্তাক্ত থাবা …তবুও হার না মানা লড়াইয়ে বেঁচে থাকিমাথা উঁচু…

  • অন্তিম শ্মশান

    আবু মকসুদ জীবনের শুরুতে যেখানেপিতৃপুরুষের হাড় জমে আছে স্মৃতিস্তূপে,আমি লাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে নামিয়ে আনিধুলোয় মিশে যাওয়া তাদের অভিশাপ“সেতু বাঁধো না, পোড়াও সাঁকো!”কারণ এই সেতুর নিচেকুকুরের মতো পঁচে গেছেমানুষের মুখোশধারী ভালোবাসা। আমার বাবা-মা আজশুধু দুইটি জীর্ণ কবর,যারা শেখাতে চেয়েছিল“মানুষ মঙ্গলচিন্তা করে”।কিন্তু আমি দেখেছি মায়ের বোনকেবাবা-মায়ের সম্পত্তি নিয়েজিহ্বায় বিষ মেখে হাসতে,আর বাবার ভাইকেমিথ্যা সাক্ষ্য দিতে আদালতে।তাই এখন…

  • বিপন্নবিস্ময়

    তৌহিদ শাকীল কে জানে, কোন মায়ায়,বিদিশায় বিদায় জানিয়ে কোন ঊষা রে,কোন ইশারায় নিভে যাবে তার শেষ ছায়া?কোনো এক আদিম শিহরণে, শিরদাঁড়ায় জমে থাকা তুষারেরক্তের প্রতিটি অণু এখন অসম্ভব টানটান, বিভোর,যেন ‘বিস্মৃতির সবচেয়ে গাঢ় অংশমগজের ফেলে আসা কোনো শূন্য গহ্বর’। হয়তো তার ভেতর বুনে দেওয়া হবে কোনো সারাংশ,সহস্র শব্দের তিতীক্ষা, ফুসফুস ফাটা গোঙানির জেদ;আর নয়তো ঠোঁটে…

  • বেলা শেষের দীর্ঘশ্বাস

    গোলাম কবির জানিনা কখন শলতে নি:শেষ হবে-নিভে যাবে জীবন প্রদীপগোধুলির আকাশে মিশে যাবে হলুদ দিগন্তের সীমানায়! বেলা শেষে মেলাও শেষ হবে নিশ্চিত,যেনো ছোট শিশুটির খেয়ালি হাতের মুঠো থেকেসুতো খুলে বেলুনটা উড়ে যাবে উপরে আকাশে-কোথায় কতদূর চলে গেলো রঙিন বেলুনটি-কে আর দেখবে কতক্ষণ!সাদাকালো মেঘের ধোঁয়াশায় মিলে যাবে নিশ্চিত:শেষ কথা হয়তো বলাই হবেনা! না বলা কথাগুলো হয়তো…

  • আগুনের ভিতর জন্মের দিন

    কাজল রশীদ ২৬শে মার্চ—একটি ক্ষত, যা মানচিত্র হতে শিখেছে।রক্তের ব্যাকরণে লেখা ছিল ভোর,আর অন্ধকার ছিল বন্দুকের নিঃশ্বাসে ভরা।কিছু চিৎকার আজও ঘুমোতে পারেনি,তারা পতাকার ভাঁজে ভাঁজে শুয়ে আছে।স্বাধীনতা কোনো শব্দ নয়,এটি একটি দীর্ঘ হাঁটাপা ভেজে যায় মাটির কান্নায়।মায়ের চোখে জমে থাকা নীরবতাসেদিন রাষ্ট্র হয়ে উঠেছিল।২৬শে মার্চ—আমরা জন্ম নিয়েছিলাম আগুনের ভিতর দিয়ে।

  • স্বাধীনতাহীনতায়

    মাশূক ইবনে আনিস স্বাধীনতা আজ লজ্জিত বড়বাঙালির হাতে পড়িয়া,স্বাধীনতা আজো আসেনি-কো-দেশেতিরিশ লক্ষ মরিয়া। শত্রু সকলে চানতারা চায়পতাকা’র মাঝে দেখতে,হুমকি দিচ্ছে রাজাকার সবেদেশটাকে নিয়ে লেখতে। হারামজাদা’রা বদরের পালআল শামসে’র বাচ্চা,সংসদে ব’সে খাচ্ছে সকলে পাকিস্তানে’র লাচ্ছা। এইসব দেখে ঘৃণা-ও-লজ্জায়কোথায় লুকাই মুখ,স্বাধীনতা তাই আমার কাছেস্বজন হারানো শোক। বাংলাদেশে’তে পাকিস্তানে’র পতাকা উড়ায় যারা,আবারও যুদ্ধে বংশসুদ্ধপরাজিত হবে তারা।

  • এতিমখানা থেকে লেখা চিঠি

    ফারহানা ইলিয়াস তুলি মা,সারা রাত আমাকে মশায় কামড়ায় !আমি ঘুমোতে পারি না। তুমি আমাকেদেখতে এলে একটি মশারী নিয়ে এসো!সাথে এক প্যাকেট শাদা খই। ওইদিনপাশের রুমে সাবেরকে খই খেতে দেখেছিআমি! তার মামা নিয়ে এসেছিলেন।শুনেছি- আমার কোনো মামা নেই। তাই;তুমি মনে রেখে আমার জন্য খই এনো! মা,ওরা আমাকে বার বার বলেন, তুমি আসবে!মা আসবে শুনলেই আমি কাঁদি!…

  • দাঁড়িকমার ভূমিকা

    ফকির ইলিয়াস শেষ পর্যন্ত আমার হাতের তালুতেই স্থিতহয়ে রইলো আগুনের ফুলকি।আমি দেখলামদখল হয়ে যাচ্ছে গ্রাম,শহর,কামানের গোলা,কামারের হাতের লৌহখণ্ড। কুমোরের হাড়িজবরদখল করে কেউ ভেঙে ফেলছে খোলা মাঠে!দেখলাম;শিশুরা কাঁদছে পিতার ভাস্কর্যের পাশে বসে,যাদুঘরের রক্ষণকারী,প্রাণভয়ে ছুটে যাচ্ছেন অন্যকোনো গন্তব্যে! পাখিরা বন্ধ করে দিচ্ছে,সুললিত সুর! একাত্তরে,ঠিক এভাবেই এক নগ্নকাল নেমে এসেছিলএই বদ্বীপে! অজানার উদ্দেশ্যে ছুটে চলেছিলেন বয়স্কপিতা ! একহারা…

  • শব্দের কাদা ছোড়া

    মোল্লাহ্ শরীফ কান বেয়ে ভেসে যায় ভাষার শব্দভাসতে ভাসতে ভাষা যেন জলজজল গলে যায়, ভাঙতে ভাঙতে ধুলাধুলি ছিটিয়ে দেয় সম্প্রদায়দায় নেই সব শব্দের, অর্থ নেই অভিধান খুলেখোলা দিকবিদিক শূন্য মচ্ছব রচেভ্রান্ত রচনা চেতনা পাল্টে ফেলে যাবতীয়ডান-বাম পূর্ব-পশ্চিম কাঁটাতারহাহাকার করে ফেরা সেই ঘোরের ভেতরঘরে ফিরে খাসা স্বপ্ন বোনাকচুরীপানা ভেসে যাবার জায়গা পায় না।

  • তপোবনে মারণাস্ত্র

    দিলারা হাফিজ আমার প্রতিটি বসন্ত রাত অসমাপ্ত থেকে যায়…পরবর্তী ভোর এসে থেমে যায় এ তল্লাটে,হিরোশিমা ও নাগাশাকির কথা মনে পড়েশিশুদের সেই ভাঙাচোরা রক্তাক্ত মুখ ভেসে ওঠেযুদ্ধের আঘাতে কোটর থেকে ঝুলে পড়েছিলো চোখএকাশি বছর পরে পুনরায় আমি দেখছি তাদেরকে তেহরানের স্কুলে…ক্রুজ মিসাইলে ছিন্ন হলো দেহপাখিপোড়া শরীরের অভিশাপ লেখা রইলো পাঠ‍্যবইয়ে!দুধসাদা পাথরের সেই আংটি হারানোরকথা—মনে পড়তেইআমি তাকে…

  • অগ্নিজল

    ফারুক আহমেদ রনি জলের শরীরে আগুণ জ্বলে,মধ্যাহ্নের ভস্ম সময়আয়নার ওপারে ঢাকা পড়েছে স্মৃতিস্বপ্নের ভেতরে সুখের কুসুমরক্তেবুনে আদিম সখ্যতা,নষ্ট ভ্রূণের ঘ্রাণ। নিষ্ক্রিয় আফিমের দানায় পিঁপড়ের ডিমজন্ম নিচ্ছে মৃত মানুষের ক্লান্তচোখফাঁকা আকাশে ঝুলে আছে কুয়াশার রুপালীজল,শূন্যতার ভেতর আত্মহত্যার মানচিত্রআরেক নিস্পৃহা আধারের গল্প। জ্যোৎস্নার ধ্বংসস্তূপে শুকায় নিষিদ্ধ আলো,অন্ধকারের ভেতরেই আবার কেউবুনন করে অনাদি শ্বাসের উষ্ণতাভোরের ভাঙনের মধ্য দিয়ে…

  • বৃষ্টি ও ব্যকুলতা

    শামীম আজাদ বর্ষায় বেড়াভেঙে স্বপ্নরা পালাচ্ছে,জল ককটেলের শব্দে বেদনাও ভেঙে যাচ্ছে ,অনির্ধারিত এ উত্তেজনায়তির তির করে কাঁপছে মৃত্যুমুখী মন। ‘মহা চিন্তায় আছি বন্ধুরেএখনো যে ডোনার কার্ড এলো না’! বৃষ্টি বাগানে বর্ষাপথে বালিকা বিহারে ছিলাম-বাতাসে হাঁসের সাঁতার ছিলো,কান্তিময়ী ইচ্ছা ছিলো,সবকিছুতেই সামগ্রিক সমতা আনতেএকটু দূরে সরেনিরলে নখ কেটে সমান করতে গিয়েনার্ভাস হয়ে দিলাম রেশ কেটে! আর যাই…

  • আশ্রয়

    মাসুদ খান যেইখানে তুমি নেই একেবারে, সেখানেও খুঁজে পাইমাতাল যেমন রোদের মধ্যে মদিরার ঘ্রাণ পায়।অনশনকারী কায়মনোদরে প্রতীক্ষা করে তাইসেই লোকটির, যিনি এসে শেষে ভাঙাবেন অনশন।আমিও তেমনই তোমার আবির্ভাবের প্রতীক্ষায়নিবিষ্ট থাকি, মেলে রেখে ফুল-চন্দন আয়োজন। হয়তো ভাববে সবকিছু মেকি, সবটাই প্রহসন। প্রহার করবে, পকেটমারকে যেভাবে প্রহার করে।ভয়ে, বিস্ময়ে, অভয়াশ্রয়ে তোমাকেই তবু আমিজড়িয়ে ধরব। ভক্ত, তাই তো…

  • দূরত্ব

    রাশিদা তিথি আমি ছটফট করি, সে উল্লাস করে।যেই চোখ বন্ধ করি, সে কাত হয়ে শোয়।দিনরাত জেগে আছি— রক্তের গভীরে রৌদ্রস্নানে পুড়ছি আমি,আর জ্যোৎস্নার অমৃতধারায় গা ধোয় সে।তরঙ্গায়িত ধারা নাভি থেকেঅন্তরাল স্পন্দনে মিশে যাচ্ছে তার। চিটা ধানের হৃৎপিণ্ডে প্রাণ সঁপেআজ কানাকড়িহীন —উড়ে যাই সম্মোহিত দিগন্তের দিকে,সূর্যের তরফ থেকে পাতা জাগানোর টানে।কিন্তু তার তীক্ষ্ণ ফলাএলোমেলো ছিদ্র করে…

  • মর্ম

    পিয়াস মজিদ সন্ধ্যা হতে না হতেডুবেছে শরীরসূর্যের আগে।নিজ নিজছায়া তুলে রাখোআজকের মতো,তারাক্ষতে ছাওয়া আকাশআমাদের ঠোঁটের চেয়েনয় বেশি অধরা।দুনিয়া গরাদখানা,কোথাও তোদেখি না কোনওপ্রেমখাটা আসামী।সকাল হতে না হতেভালো করে গুনে দেখিপাখি ডাকছে ঝাঁকে ঝাঁকেনাকি অনন্ত একাকী?

  • নীরব রাতের শহর

    কাজল রশীদ নিঃশব্দে থমকে আছে লন্ডনের রাত,ব্রিজের ছায়া জলে খেলছে চুপচাপ।ফুটপথে লুকানো গল্প গুলোর হাসি,কোনো বাতি ঝলমল করে স্বপ্নের ছাপ।ছায়ামূর্তি হেঁটে যায় হালকা পায়ে,প্রতিটি কোণে জমে সংগ্রামের চিত্র।শহরের আকাশে নীরবতার কণ্ঠ শোনা যায়,প্রতিটি বাতি যেন জীবনের কথা বলে।রাতের নিঃশ্বাসে শক্তি জাগে ভিতরে,অন্ধকারেও আলো ঝলমল করে চারপাশে।শহরের নিঃশব্দ গান হৃদয়ে বাজে,প্রত্যেক মুহূর্ত যেন আলো আর ছায়ার…

  • তোমার চিবুকে তার ছায়া

    মুস্তাফিজ শফি তোমার খোপা খোলা এলোচুলের মতো শ্রাবণ হাওয়ায়দুলছে নদী, শঙ্খ নাকি সাঙ্গু—প্রশ্ন করি কী তোমার নাম,নামে কী বা আসে যায়, নদীতো সব সময় নারীর মাদকতায়বয়ে চলে—শুধু আজ তোমার চিবুকে তার ছায়া রাখলাম। যতোবার বলি নদীর গল্প—সেতো বন্দনা তোমারই নামেটের কি পাও, নদীতে বিলীন আজ সেইসব দেহের ভাষাজলেশ্বরী, তোমার গভীরে তাই ডুবে যাই কামে ও…

  • বাজপাখির ডানা

    তনময় শাহরিয়ার ভালোবাসা এক অথৈ বাজপাখিতোমার মেঘে টইটম্বুর আকাশেউন্মীলিত তার বিশাল ডানাবুক পেতে নেয় ঝটিকা ব্জ্রবাণ।সামন্ত নগর ঘিরে থাকা দূর্গ যেনএকাত্ম হয়ে জেগে থাকে পরম সতর্কতায়।এক অকথ্য কবিতার নাম ভালোবাসাসুরম্য, সুরভিতপ্রাসাদোপম মায়ামাখা অভিলাষআমার আগুনঝরা পথেঅগ্নিনির্বাপক দলের মতো তৎপর বোধ।আমরা এক অকুতোভয় প্রচেষ্টায়পর্যবসিত ক্রমাগতপারস্পরিক প্রকাশে সর্বত উন্মোচনে দায়বদ্ধমনন উপচে ওঠা প্রেমেশরীরের চেয়েও গভীরে আরোসুপ্ত-সুক্ষ্ম উপভোগে।একদিন উধাও…

  • আত্মজা, তোমাকে

    ময়নুর রহমান বাবুল তুমি এখন অনেক বড় হয়েছ মা-নিজেকে নিজেই এবার দেখে রাখো,সামনে যতকিছুই আসুক তোমারকষ্টের বোয়মটা ঢেকে রেখো। ছোটো ছিলে, মায়ের কোলে কাঁখেবাপের পাঁজর মাঝে নিরাপদ ছিলে,শীত তাপ, ঝড় বৃষ্টি ছুঁয়নি তোমায়মাথার উপর ছাতা ছিল মা বাবার।এখন হয়েছ বড় তুমিনিজের পায়ে হাঁটতে শেখো। সেই ছোটো থেকে বড় হতে হতেতুমি দেখেছ আমাদের তেলচিটেআর কর্মট প্রান্তিক…

  • সব নিয়ে যাও

    কাবেরী মূখার্জী আমার যত মঙ্গলময় উদারতা আর বিশ্বাস,সবটুকু নিয়ে নাও,অবিশ্বাসে পূর্ণ করো অন্তর নির্দ্বিধায়,নিয়ে নাও অন্ধকারের লুকানো আলোটুকু,গভীর সমুদ্রে ডুবিয়ে দাও রক্তিম আত্মঘাতী সূর্যটাকেওনাও, সব নিয়ে নাও! নিয়ে যাও উদাসীন আশীর্বাদ আর প্রস্ফুটিত পুষ্পগুলো,শীতের স্পর্শকাতর কুয়াশার ম্লান আঁচল,নাও, সবটুকু নিয়ে যাও,আমার জন্য রেখে যাও কেবল কণ্টকময় প্রান্তরআর রহস্যময় বিকলাঙ্গ স্মৃতিগুলো। ছিনিয়ে নাও মাটির স্নিগ্ধ কোমল…

  • জল জোছনায় ডাহুক সাঁতার

    নীরঞ্জন হীরা জীবিকা সমুদ্র সাঁতরে ক্লান্ত আমিতৃষ্ণায় কন্ঠ কাঠচারিদিকে এত জলতবুও অন্তরে মরুভূমির রুক্ষ্মতাশুধু নিশীথে জোছনা পান করে শীতল হয় মন আবার সমুদ্রে দেই ডাহুক সাঁতার।

  • বিম্বিত দর্পনে

    সাদিয়া নাজিব আমার কাছে আসলে কিছুই থাকে নাশেষ বিকেলের আলোমন্দ্রীত ক্যানভাসশেষ পাড়ানির গানকিংবা নিম হীজল তুলসী!মায়াবতী জ্যোৎস্না ফিঁকে হতে হতেযখন ধুসরতখন বুড়ো শালিক ডানা ঝাপ্টায় বারান্দায়এইসব আজগুবি ভাষা, বেহিসাবি প্রেমমুলত আদিমগন্ধ মাখাএদের কিছুই আমি ধরে রাখতে পারিনিবাতাস বের হয়ে যাওয়া বেলুনের মতোকিছু পথ উড়ে মুখথুবড়ে পড়া এক বুড়োবৃক্ষ ছাড়াআদতে আমি কিছুই নাএকটি শূন্য গর্ভএকটি ব্যর্থ…

  • নিঃশ্বাসের ফুল

    শামীম আহমদ এখানেই বসেছিল ছিল সে ,ক্ষুধার দুয়ারে ।মনে হয় ঐ দূরে তাক করা ছিল রাইফেল মাথার উপরে বিশাল মেঘের পুকুর ! তবুও এক ফোঁটা জল যেনফোরাতের মতো হাজার মাইল দূরে মনে হয় সেহরির শেষে জীবনের সাথে রফাদফা হয়ে গেলেবৃক্ষের বেদীতে জমে নিঃশ্বাসের ফুল! হায়রে জীবন…

  • মাটির প্রাণী

    সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল একদিন ঠমক-চমক থাকবেনা।চোখের ভাষা, আঙুলের ভাষা-শামুকের মতো, কচ্ছপের মতো নিজের ভেতর আত্মগোপন করবেঘুমঘর হাউজেপালাবে ক‍্যাঙ্গারুর পাউচে! খুঁজবে দিনের গুহা, মধ্যাহ্নের যোনিগর্ত-খুঁজবে রাতের গন্ধঘাম, ভেজা-ভেজা ছায়া,আদ্রতা, মেয়াদোত্তীর্ণ সেঁতেসেঁতে শ‍্যাওলায় সংসার পাতবেইঁদুরের অস্থিতায়তেলাপোকার মতো, কেঁচুর মতো, বিচ্ছুর মতো,শতপদীর চরিত্রেধীরে ধীরে মাটির প্রাণী হবে। মিশে যাবে মাটিতে। পাতার আড়ালেগাছের কোটরেপেঁচা বা বাদুড়ের অঅনুদিত জীবনযাপন করবে…

  • ঈদের প্রত্যাশা

    মাশূক ইবনে আনিস কীসের এমন ঈদ আয়োজনগাজারশিশু ইরানশিশু ভূখা,যুদ্ধে এখন মানবতা ভূলুণ্ঠিতধর্ম যেনো মারণাস্ত্র—ধর্ম-এখন যুদ্ধ-নামের ধোঁকা। সৌদিনামে’র দেশের-বৌদিখাচ্ছে যখন দুম্বা-পোড়া মনের মতো,মার্কিনী’রা মারছে মানুষদুনিয়া-জোড়ে অবিরত। এই’টা কীসের ঈদের উৎসব দুনিয়াতে আজ,মরছে শিশু-সন্তানেরা অনাহারেনেই-যে কারো’র লাজ!কোথাও নেই প্রতিবাদের মিছিল মিটিং,নিউজ করে মিডিয়ারা মিথ্যে সবই— করছে চিটিং। ঈদকে আমি ঈদ ভাবি’নে তাই,জাগুক বিবেক মানুষগুলোর চাই…

  • সবুজের ভেতর রক্ত

    আবু মকসুদ এই মাটির রং সবুজ,তবু তার শিরায় শিরায় রক্তের স্মৃতিচুপিচুপি বয়ে যায় নদীর মতোইঅশ্রু, ত্যাগ, মায়ের অপেক্ষা। ফিরে আসে না যে সন্তান,তার জন্য খোলা থাকে প্রতিটি জানালা,ভাঙা ঘরের দেওয়ালে দেওয়ালে জমে থাকেএক অনন্ত শোকের জোছনা। একদিন এক মানুষ দাঁড়িয়ে বলেছিলেন“মাথা নত নয়, এ দেশের মানুষ মাথা নত করবে না।”তার কণ্ঠে ছিল পাহাড়ী নদীর জোয়ার,চোখে…