- Powered by
- WordPress
-
রুবি আফরোজ
প্রাণের ভিতর মৃত চোখ বুনো শুয়োরের থাবা বিস্তৃতগিলে খেয়েছে মঙ্গলকে ঢোলের শব্দ স্তব্ধ-মুখোশও খসে পড়ে রহস্যঘোর ঝিম ধরে থাকে ভরা দুপুর-রূপসী বিকেলসন্ধ্যারাত পর্যন্ত মস্ত ঘ্যেৎ ঘ্যেৎ বুলিমুক্ত সেতারের লজ্জা করে-জ্যোস্না রাতে সে আড়বাঁশি বাজায়ভ্রম হয় পায়ের চিহ্ন ভুলে যাই সুর হয় বেসুরবাস্তবিক কোন আকার পায় নাঅনেকটা সংগ্রামহীন পায়রাপায়রার ময়ূরকণ্ঠি গায়ে খেলা করে না রোদের বর্ণালিরঙের…
-
শামীম আহমদ
অ্যালগরিদম বহির্ভূত বৃক্ষের জরায়ু ফেটে যে বেরিয়ে এলোতাকে তুমি অপিচ বলছোহোক সে ধুতরার ,তবুওতো ফুলবৃক্ষ জানে পরাগায়নের যন্ত্রণা… মাটির গভীরে আপলোড করা এক পুরোনো স্মৃতিজন্ম বীজ।বৃক্ষ শুধু বৃক্ষ নয়,তার শিকড়ে জড়িয়ে আছে ডেটা-কেবল,রস উঠছে না, উঠছে সংকেত ,পরাগায়ন এখন নোটিফিকেশন,ব্যথা মানে এক অনন্ত লোডিং স্ক্রিন। ধুতরার সাদা বিষ পিক্সেল হয়ে ভেসে ওঠে,তবুও সে ফুল ,কারণ…
-
কামরুন নাহার
পাপ পুণ্য পাপ বলে পুণ্য তুমি কোথায় থাকো?দহন জলের পদ্ম বিলে একলা ভাসো!কাঠ গোলাপের রং সাদাটে, গন্ধে মাতাল;নীল জলেদের পদ্যে তুমি একলা কাঁদো! কৃষ্ণচূড়া লাল হয়ে যায়, শালিখ পাখির কলরবেগ্রীষ্ম হেসে উজান ভুলায়,আর হালকা হাসে তোমার ঠোঁটে!মধ্য রাতে তন্দ্রা ভেঙে হঠাৎ জাগো!জেগে দেখো পাশেই টেবিলকাঁচের গ্লাসে একটুকু জল;যা কিনা তৃষ্ণা জাগা; এই প্রহরের প্রথম দাবী!কাঁচের…
-
অভিমন্যু মাহাত
সারেং ফাগুনে কাঁপন লাগে পলাশ হাওয়ায় হাওয়ায়শালুকের কাতরতা এখন আর নেই, রয়েছে খিলান।এই জেনে পোশাক পাল্টে আহারে বসলাম শাল ফুলের অসামান্য সহ্য, ঋতু সম্মৎস্বরজেগে থাকা ভোরের মণ্ডল, ঘনবন পার হয়ে যাইপানপাত্র হাতে বৃন্দাবনী সারেংএই ফাগুন রাঙা আবহাওয়া দূর্বাদল দোলায় তোমার আগমনে রন্ধনশালা উন্মাদছায়াদের সংসার ভেঙে দু’মুঠো মহাময়ফুলচন্দ্রোদয় এখনো বাকি,সাতটি বর্ণে ক্রীড়ারত পঞ্চপাতার আম্রজল
-
মাশূক ইবনে আনিস
বোশেখের বাণীবন্দনা এসেছে বোশেক নতুনের জাগরণ, প্রাণপণ ছুটছে জীবনের পরম্পরার পায়রাগুলো আনালে-বানালে, আয় ; আমরাও যাই স্বপ্নের ইথারে ভেসে মনের লুকোনো গান প্রকাশিত হই আশ্চর্য হ’য়ে সকলের চোখে সকালের সময়, কী বিষ্ময়! কী দারুণ তুই সাজুগুজু আজ নেই লাজ এতোটুকু, আজ নববর্ষে মনহর্ষে দুজনেই আয় মেতে উঠি খুশির গানে, করি ভিন্দাস নাচনের খেল, বাজুক বাঁশি,…
-
অজয় ভট্টাচার্য
চিঠি প্রিয়তমাষু সুভাষিনী,“পানপাতা”,প্রকৃতির নন্দনে চারিদিকে তোমার পদচারণা খুঁজে বেড়াচ্ছি।কিন্তু না! এই অন্তরীক্ষে কোথাও তোমার গন্ধ পাচ্ছি না।আমার হৃদয় যক্ষ হয়ে মহাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে,কখন তুমি মেঘ হয়ে আছড়ে পরবে আমার বুকে।পানপাতা !তোমার নূপুরের ধ্বনি রনিত হয় বিশ্ব চরাচরে,তোমার শাড়ির আঁচল পাখা মেলে ওড়ে বাতাসে,হরিণ নয়না চোখের চাউনি পরিলক্ষিত হয় আকাশে,এতো কাছে থেকে তবুও তুমি অধরা,পানপাতা।শরতে শিউলি,কাশ…
-
অরূপ পান্তী
দুঃখ একদিন আমার সমস্ত দুঃখগুলিকেপুটুলি বেঁধে রেখে এসেছিলাম এক মৃত বৃক্ষকোঠরে কিছুদিন পরে গিয়ে দেখি বৃক্ষ ভরেছে সবুজ পাতায় দুঃখ পেলে বৃক্ষ বাঁচতে জানে দুঃখ এক অনুভবের ঘরের লুকানো সোনা দুঃখ বাঁচে ও বাঁচায়দুঃখেও ফোটে ফুল, যেমন রক্ত গোলাপ। দুঃখকে মূল্যবান ভেবে দুঃখের পুটলিটিএনে ছড়িয়ে দিলাম সদর দরজায়পুবের বারান্দায়, বৈঠকখানায়, শোবার ঘরে,সেই থেকে দুঃখ সরে…
-
হাফসা নুর
আড়ালের আড়ালে সত্যের খোঁজ কি বলবো—শব্দেরা ঠোঁটের কপাটে এসে পাথর হয়ে যায়,ভাষা ডুবে যায় নিজেরই অনুবাদহীন গহ্বরে,যখন দেখি…আড়াল এক আয়না,যেখানে আলো নয়, প্রতিফলনেরই উৎসব। হিজাব—একসময় ছিল নীরব নক্ষত্রের মতো,আত্মার আকাশে সংযমের ক্ষীণ দীপ্তি,এখন তা ভাসেদৃষ্টির জলে ভাঙা চাঁদের মতোঅস্থির, বহুরূপী, অধরাএক গোপন আগ্নেয়গিরি। মাথায় কাপড়—কিন্তু চোখ দুটি উন্মুক্ত জানালা,যেখানে হাওয়ার সঙ্গে ঢুকে পড়ে অগণিত দৃশ্য,ঢাকার…
-
ধনঞ্জয় পাল
বোস্টমি বোস্টমি, কী প্রেমের সন্ধান পেয়েছো তুমি?রূপ সাগরে খুঁজে ফের কোন অরূপ রতন?শুভ্র তিলক মাঝে ত্রিনয়নে ধরেছো জ্যোতি,কণ্ঠে ধরেছো মহাকাল, অনন্ত অন্তরীক্ষ। বোস্টমি, আমার ভেতরে এক অচিন পাখীতার সন্ধান দেবে কি তুমি?আরশি নগরে আছে পড়শি যে জনতাঁর দেখা পাবো কি কখনো? না হয় তোমার এক তারার সুরে আমাকে বাঁধোপ্রতিদিন তোমাকে সৌরভ দেব আমিআর তোমার প্রেমের…
-
কমল কুজুর
চৈত্রি প্রেমের সাতকাহন দিঘির কালো জলে ডাহুকের ডুব সাঁতারসাঁঝের আঁধারে মুগ্ধ ক্ষণের মায়াজালশূন্যতা ছাড়িয়ে হঠাৎ কোথায় উড়ে যায় সাদা বকশুকনো নদীর চরে চলে গাংচিলের পূর্ণ আবর্তনদ্বিধান্বিত আমাদের বিষণ্ণ সময় দেয় ভুলিয়েকোন সে মায়ায়, মধুমাখা যেন প্রজাপতি ক্ষণবসন্তদিনগুলির পাতাঝরার শ্বাসে ডুবে থাকে চারপাশসহস্রাব্দপুরনো চৈত্রসংক্রান্তির চড়কমেলা আরবোশেখের গোবর নিকোনো আঙিনা আলপনায় রাঙানো ঘরদোরতোমাকে আজও প্রণয়ের ডাক দিয়ে…
-
লুৎফা শাহিন
কোনো এক বৈশাখী ঝড়ে কাল বৈশাখী ঝড়ে উড়ে গেল সমস্ত বাড়ি ঘর,মায়া মমতার স্পর্শ! জরাজীর্ণ জীবন স্রোত হতাশাগুলোহাওয়ায় শুকিয়ে গেল, কিছু যে জীবনের প্রাপ্তিকবেই মুছে গেল কালস্রোতে!ভাবনাগুলো ধূসর হয়ে আবর্জনার স্তূপেলেপটে গেল জীবনের ডাস্টবিনে!এমনই কিছু কলি ফুল হয় না,কিছু ফুল সুবাসিত হয় না-অসময়ের ছোঁয়ায় বিনষ্ট হয়।কতো জীবন এভাবে ভেঙে পড়ে,অগোচরে কতো রঙ শুকিয়ে বিবর্ণ হয়-তবুও…
-
অনার্য শান্ত
জীর্ণ যাপন আমারও তো কিছু লাগে সংক্রান্তি তৈজসবৈশাখের নতুন পিরানতুমি তো উঠোন জুড়ে রোদ পেলে,ধানের শীষে দুলে ওঠো তুমিগরুর ঘণ্টায় সন্ধ্যা নামে ঘরে। তোমার আছে পুকুরঘাট,শালিক এসে বসে, ডাকে-আজ না হোক কালতোমার মেয়ের চুলে জড়িয়ে যাবে শস্যফুলরেণু। তোমার ছেলে নদী চেনে,মাঠ চেনে, হাটের ভিড়েহারিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসে-তোমার দরজার কড়ায় হাত রেখে। আমারও কিছু লাগে-আহার…
-
মোহাম্মদ ইকবাল
নেশার নামগুলো আসলে তোমারই প্রতিশব্দ তোমাকে প্রথম ডেকেছিলামমারলো;নাকি সেটাই ছিল আমার জিভের ভেতরধীরে গলে যাওয়া এক লাল অন্ধকার? শ্যার্দনে;এই নামের ভেতর তুমি কতটা ছিলেআর কতটা ছিল আমার ভুলে যাওয়া শরীরতা আজও নির্ণয় করতে পারিনি। হুইস্কি;আমি এই শব্দটি উচ্চারণ করি না,শুধু গিলে ফেলি,যেমন গিলে ফেলেছিলাম তোমার নীরবতা,এক শীতল আগুনের মতো। শ্যাম্পেন;তোমার হাসি নয়,বরং ভেঙে পড়া কাচের…
-
দিলু নাসের
স্মৃতিকাব্য যতোবার চোখ রাখি স্মৃতি জানালায়কতো মুখ, কতো চোখ, ডাক দিয়ে যায়।স্মৃতির ভেতরে আছে অনেক স্মৃতিকিছুটা রোদেলা আর কিছু ছায়া বীথি।আছে রোদ,আছে মেঘ, আরো আছে ঝড়চন্দ্র তারায় ভরা স্মৃতি চত্বর। আছে আশা, ভালবাসা, আছে বিশ্বাসনানা রঙে ঝলমলে স্মৃতির আকাশ।আছে প্রেম, অভিমান, হতাশা ও ক্ষোভতবু দেই বারবার স্মৃতিজলে ডুব।কারণে অকারণে তাই যায় চলেযখন তখন মন,স্মৃতির অতলে।মুক্তো…
-
আতিকা হাসান
পরন্তপ এক জটিল জাল নকশায় হাবুডুবু খেয়েভাসছিলাম বহুকালসাঁতার জানিনাーতবুও, ডুবে যাইনি।শিকারীর ক্রমাগত নিক্ষিপ্ত পাথর ঢিলেশান্ত দীঘির জলে উদ্বেলিত নীলঢেউপাড় ভাঙা উজান স্রোতে রক্তাক্ত হৃদয়-মন। একজীবন অবিশ্বাস ভাঙচুর করেছেবুকের পাঁজরবিলীন হয়েছে শরীরী অবয়বছায়াহীন ডুবতে ডুবতে শুধুশিরটাকে বাঁচাতে পেরেছিতবে, শিরটাকে যে বাঁচাতে পেরেছি,এই ঢের! মুমূর্ষু দেহে তীরে উঠে দেখি ক্লান্তি ভর করেছেঅরির বিষাক্ত তীরের ডগায়ছড়ানো ছিটানো হাড়গোড়ে…
-
এম মোসাইদ খান
নস্টালজিয়া আমাদের নদী মরে গিয়ে লতা হলো।জলাভূমি দালান বহুজাতিক ।শিকল ছিড়ে ইট পাথর বুকে আমাদের গ্রাম হয়ে গেল শহর।ঘাসের সমুদ্র ঢেকে গেল কালের অলংকার ।আমরাও হয়ে গেলাম শহরীয় । লোডশিডিংয়ের রাতে মারবেলের বারান্দায়গাঢ় অন্ধকার চোখে ঝলকে উঠে গ্রাম, গ্রামের বাড়ি ।যেখান লেপ্টে আছে হলুদ সরষে ফুলে মত শৈশব ।স্নিগ্ধতায় ভরা কৈশরের ভালবাসা ।সোনালী প্রভাতের মত…
-
মাজহারুল ইসলাম সরকার
নববর্ষ রাত বারোটা এক মিনিটএ বছর বছরের প্রথম দিনসবকিছু সম্পূর্ণ প্রস্তুতসময়ের সময় গণনা শুরুকোনো কিছুতে কোনো ছাড় নয়ছাড়া হবে না আর কোনো কিছুআঙ্গুল থেকে ছেড়ে যাওয়া তীরনাছোড় বন্ধুর ইচ্ছার ভিড়বাতিলের তালিকা প্রথমে বাতিলসব কিছুর জানালা খোলাসুর-শব্দ-বর্ণ-গন্ধ-স্পর্শঅসংখ্য অনুভব আনন্দসূর্যোদয় থেকে সূর্যোদয় পর্যন্তপ্রতিদিন প্রত্যেক দিনশক্ত হাতে এক রুটিনসময় স্রোতে ইচ্ছের সাঁতার
-
ফরিদুল আজাদ মিলন
চন্দ্রকুসুমতন্দ্রা আঁজলায় তোলা সমুদ্র গাঁয়ের নোনাসুর মাখামাছেদের নরম গন্ধঘাঁটা পাখার ঝাপোট ওড়েহাওয়াবি মাতাল মনের সুধাময় নির্বেদ—নেংটাচাঁদের কঙ্কালজোনাকে হাঁটে কারুদ্রৌপদীশৈবালি ঠোঁট প্রেমচিত্রে লহুস্নাত অক্ষরেশৌর্যদীপন জৌলুস ছুঁয়ে রাঙ্গা তর্জনী হাঁকে—স্বপ্নলোকের পাখিরা গঙ্গার ধাতবস্রোতে ধুয়ে যায়পিঠালিবনের গুঢ়ছায়া— অনিকেতগ্রীবা ধড় অবসানেক্ষতযাত্রায় নগ্নপায়ের তপ্তসমরত— তবুও কেনোফাগুনের লালনুনে পোড়েনা ভিন যবানের তালুবেণীত নক্ষত্রসারি প্রেমিকার কাতর ঘেনোলাজকাঙ্ক্ষার থিরথির তরল পেশিদার নন্দন স্পন্দনেতপ্তকান্নার…
-
খাতুনে জান্নাত
বিমূর্ত বৈশাখ স্মৃতির কার্নিশে জমে থাকা একলা চৈত্রশেষ বিকেলের দীর্ঘশ্বাসক্যালেন্ডারের জ্যামিতি ভেঙেবৈশাখ ঢুকে পড়ে শহরের ধমনীতে;ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে থাকা মানুষেরাভুলে যায় যান্ত্রিক পরিচয়।আল্পনার বাঁকে কোনো লোকজ নকশা নয়,বরং ফুটে ওঠে শেকড়ে ফেরার তীব্র আকুতি।মাটির সরায় রাখা পান্তা কিংবা ইলিশের ঘ্রাণএখন কেবল খাবার নয়—ওটা আসলে সময়ের বিপরীতে জেগে ওঠা প্রকৃষ্ঠ প্রতিবাদ।কালবৈশাখীর চাবুকে আকাশ যখন চিরে যায়,আমি…
-
আবদুল বাতেন
বিশ্বসন্ত্রাসী নয় তেল। নয় গ্যাস সোনা হীরার খনিসহজ মানুষ সবচেয়ে দামীসে মানুষকে গুলি করে, বোমা মেরেবসতিবসন্ত উজাড় করেহতে চাও ধরণীতে কোন ধনে আরও ধনী? আদিগন্ত শত্রুতার আগুনে পুড়েপ্রাসাদ গড়ে, মহাশ্মশানের সীমানা জুড়েকি লাভ? রক্ত সমুদ্রে ডুবেবিরল কোহিনূর, ময়ূর সিংহাসন কেড়ে চারদিকে ছেয়ে গণতন্ত্রের বিজ্ঞাপনেদখলের দাঙ্গা লাগিয়ে গোপনে গোপনেলাখে লাখেখুন করে মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকেমঞ্চে গাও স্বাধীনতার…
-
ফারজানা শারমিন
এক বৈশাখে অপেক্ষার সরণী বেয়ে প্রতিটি ভালোবাসার মাঝে জড়িয়ে থাকে দূরত্বের,অদেখা অস্পর্শী কিংবা কখনো অনিয়ন্ত্রিত মনের দহন,তবু ভালোবাসি, সকল নিয়মের শৃঙ্খল ভেঙে অতৃপ্ত জ্বালা অসীম শূন্যতায়,এক বৈশাখে চলে এসো সাথে নিয়ে একবুক প্রেম,ছড়িয়ে দিও চন্দ্রমল্লিকার ভালোবাসার উত্তাল শিহরণ,শরীরের ভাঁজে ভাঁজে জড়িয়ে দিও তোমার উষ্ণ অনুভবের একরাশ উন্মাদনা,তোলপাড় সুখে ভাসিয়ে দিও,অপলক চেয়ে থাকা দু’চোখে পড়িয়ে দিও…
-
ওয়াহিদার হোসেন
চেরি চেরি কারো ডাকনাম হতে পারেযে এখন সংসার সামলায়শাড়ির আঁচলে গুঁজে ভোররোমান্টিক জল থেকে উঠেফরজ গোসল সেরে নেয় আর যা যা আছে লক্ষ্মীসোনা হতেবাসি কাপড়ের ঘ্রাণ মুছেকোমল সফেদে আঙুলে অজস্র দাগ স্মৃতি সোহাগেরচুল থেকে ঝরে পড়ে “অঘ্রাণের অনূভুতিমালা”শিউলি কুড়িয়েমালা গাঁথে তাকে বলি “এখনো তোমার হাতে নুনিয়া চালের গন্ধ পাই”ছাদের জোছনায় ঘোর লাগেটবের ভেতর জাগে মোহনীয়স্মৃতি…
-
চৌধুরী মো. তারিক
আমার মানুষ নাই প্রতিদিন বাসায় ফিরেই শুন্যঘরের দিকে চোখ পড়ে জিরো পাওয়ারের আলোয় মুখোমুখি হতে হয় নিশ্বাস হীনস্মৃতির সাথে।অদৃশ্য আড়ালে নিভৃতে শোকউধাও হয়ে যায় সংসারী হয়ে যায় সকলেআমারা কেবল মানুষ হারাইহারানোর পর মর্ম বুঝিনয়ন আমার মানুষ খুঁজে বন্ধ ঘরের মাদুরে শুয়ে আকাশখুঁজিসারা বাড়িতে মানুষ আছেপিতৃ মাতৃ স্নেহের পান্ডুলিপিআছে শুধু আমার মানুষ নাই। নাচে অবিরত-চরবিনাশী নদী আবারদাঁড়ায় নিয়ে ক্ষত।ঝড়ের মেঘে…
-
কামরুজ্জামান গোপন
দ্রোহের পুরাণ ঝড়ের বাতাস আনলো ঘরেজানলা দুয়ার খোলামেঘের পুরাণ বৈশাখ বাণীঢালছে হরবোলা। সাগর পুরাণ স্মৃতির নদীউড়িয়ে নিল চালাঅনেক জন্ম গ্রন্থ পুরাণহয়েছে উতলা। আরণ্যকের নীরব ভাষাসোমপুরিতে মগ্ন-ইতিহাসের সূর্য তারাচেতন-তটে লগ্ন। অনার্যরা রক্তে আমারনাচে অবিরত-চরবিনাশী নদী আবারদাঁড়ায় নিয়ে ক্ষত। ঝড়ের মেঘে চিত্ত ভরেনৃত্য করে কাল-দ্রোহের পুরাণ সত্তা জুড়েকাল হল উত্তাল।
-
দুই পৃথিবী
গল্প কামাল কাদের মানুষের জীবনে যদি কোন আকাঙ্খিত চাহিদা অপ্রত্যাশিত ভাবে হারিয়ে যায় তখন হৃদয়ে সে ব্যথাটা এমনভাবে আঘাত করে যা সহ্য করা অসহনীয় হয়ে পড়ে I এমনিই এক পরিস্থিতে একান্ত অন্তরঙ্গ বন্ধুর মাঝে অঘটন ঘটে যাওয়ার ফলে দুই বন্ধু নাসের এবং মুরাদের বন্ধুত্বের ফাটল চরম আকার ধারণ করে I কাহিনীটির ইতিবৃত্ত খোলসা করেই বলা…
-
মধুমিতা দত্ত
(একটি কল্পগদ্য) ছোট্ট চোখে নভোমন্ডল মধুমিতা দত্ত পনেরোর দোরগোড়ায় সদ্য পা রাখা অয়ন্তীর মনে নিরন্তর ভেসে বেড়ায় প্রশ্নের মেঘ–কখনো তারা কৌতূহলের আলো হয়ে জ্বলে, কখনো নিঃশব্দে জমে ওঠে অচেনা অস্থিরতায়। প্রতিদিন সকালে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে অয়ন্তী। দিগন্তে অসীম নীলাকাশ, কিন্তু তার চোখ আটকে থাকে ছোট্ট স্ক্রিনে। সেখানে পৃথিবী অনেক বড়–কিন্তু নিজের জীবনটা যেন ক্রমশ ছোট…
-
জাহাঙ্গীর আবেদিন
প্রস্থান ভেবেছি,সামনে না এসে দাঁড়ালেও ;পিছন ফিরলে নিশ্চয়ই কেউ ডেকে বলবে, আবার এসো! এমন কিছু বেশি চাওয়া কী!খুব দুষ্প্রাপ্য কিছু! সামান্য একটা শব্দ, ‘ আবার এসো ‘…একটা পিছু ডাক! তবু দ্যাখো, একটা জীবন ফুরিয়ে এলো প্রায়… কেউ ডেকে উঠবে;দুলে উঠবে বাতাস,এইটুকুই তো চেয়েছিলাম! যাচ্ছি বটে, চলেই যাচ্ছি!তবু চাইছি, কেউ তো বলুক –‘চললে…’
-
ফাহমিদুর রহমান
এভাবেই থেকে যাও তারচেয়ে বরং তুমি এভাবেই থেকে যাওএকেবারে না থাকার চেয়ে সামান্যটুকুথাকা ভালো।পথিক চলে গেলে পথ তার নিরেট বুকেযেভাবে আগলে রাখে পদচিহ্ন,আমিও তোমাকে ঠিক সেভাবেই আগলেরাখবো।পঙ্কিলতার মাঝেও ঝিনুক যেমনমুক্তোকে লালন করে সন্তপর্ণে- নাহয় তুমিতেমন করেই বেড়ে উঠো আমার মাঝে।মাছ যেমন জল ভালোবেসে সারাজীবনবেঁচে থাকে,তেমন করে আমিও তোমায় ভালোবেসেপাড়ি দেবো একলা একা একজীবন!চাঁদ কিন্তু স্নিগ্ধ…
-
পিয়াস রশিদ
সামনের রাস্তা পেরোলেই সামনের রাস্তা পেরোলেইতোমার দেহ বল্লরীর ঝনাৎ ঝনাৎ সামনের রাস্তা পেরোলেইখন্ খন্ বেজে উঠবে পাকা ধানের মাঠসমবেত ঘু ঘু ডাক সামনের রাস্তা পেরোলেইগোধূলি নৃত্যজোছনার বানসামনের রাস্তা পেরোলেইসব পাথর ভেঙে খান খানবেজে ওঠে বাউলের গান সামনের রাস্তা পেরোলেইতোমার দেহ বল্লরীর ঝনাৎ ঝনাৎ সামনের রাস্তা পেরোলেইঅড়হ্ শুঁটির নেমন্তন্স্নিগ্ধ পানা ফুল বকুলের গন্ধ পাথর ভাঙতে ভাঙতে…
-
বিশ্বরূপ সিংহ রায়
প্রকৃত শিল্পী শিল্পীরা এখন ভাঙার নেশায় পাগলঝাঁ চকচকে উঠবে মকানক্যানভাস তুলি যার আছে সে ছাগলমল বলো আজ মলিন হয়েছে দোকানএখন আর কারো নেই বাড়ি নেই বাসানেই কোনো বাপ ঠাকুরদাদার ভিটাএখন সব কেতাদুরস্ত ভাষা রনজয় রনি রিতা এখন রিটাল্যান্ড মাফিয়ার হাতে গড়া ক্যানভাস শিল্পীরা সারা আকাশ জুড়ে আঁকবে ইমারতচারিদিক ঘিরে চলবে শুধু ফ্লুরো ডায়োড রাজসূয্যিমামার হারিয়ে যাবে পাটপুরো…
